কে এই প্যারিস চাকমা এবং তার মূল আদর্শ!

১) প্যারিস চাকমা’র পূর্বপুরুষদের আদিবসতিনিবাস ছিলো একসময় রাঙ্গামাটির কর্ণফুলীর বাঁধের কারনে বিলীন হয়ে যাওয়া বিখ্যাত সেই মহাপুরম নামক গ্রামে। যে গ্রামে পাহাড়ের অবিসংবাদিত মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা এবং বর্তমান পাহাড়ের অন্যতম নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা’র (ওরফে সন্তু লারমা) জম্ম এবং শৈশবে বেড়ে ওঠা। আর প্যারিস চাকমাও লারমা গোজা। এমনকি লারমা’দের রক্তসম্পর্কীয় ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। কাপ্তাই বাঁধের ফলে তার পূর্বপুরুষরা বাধ্যত একসময় উদ্বাস্তু হয়ে খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় বসতি গড়ে তোলে। যাক সেটা বড় বিষয় নয়।

(২) আসুন একটু কষ্ট করে জেনে নিই তার সম্পর্কে:
প্যারিস চাকমা জম্ম গ্রহন করেন ১৯৮০ সালে মিইনী নদীর অববাহিকায় পাবলাখালি শান্তিপুর নামক পাহাড়ের এক দুর্গম গ্রামে। তিনি যখন জম্মগ্রহন করেন তখন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জুম্ম জনগণের মুক্তির আন্দোলনে শান্তিবাহিনী নামে দুর্বার গেরিলা যুদ্ধে অবতীর্ণ। তার শৈশবকাল বাড়ন্ত অবস্থায় তিনি দেখেছেন দীঘিনালায় আর্মির সাথে শান্তিবাহিনীর গোলাগুলী ছিল যেন নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। পাহাড়ে চলছে তখন জুম্মজনগণের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী গেরিলা সংগঠন শান্তিবাহিনীর লড়াই সংগ্রাম, যে সংগ্রাম ছিলো বেশ তুঙ্গে। এছাড়া পুরো পাহাড় জনপদ জুড়ে তখন পরিস্থিতি ছিলো সর্বদা যুদ্ধরত এবং মৌলিক পাহাড়ি মানুষ আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ে বেশ স্বোচ্ছার ছিলেন।

(৩) পরিবারের মা-বাবার কাছেই প্যারিস চাকমা’র পড়াশুনার প্রাথমিক হাতেখড়ি। ছোটবেলা থেকেই তার মেধা ছিলো অত্যন্ত প্রকট, এক কথায় প্যারিস ছিলেন মেধাবী। যারকারনে প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকরা ভর্তির সময় তার মেধা মূল্যায়ণ করে ক্লাশ ওয়ান বাদ দিয়ে ডাইরেক্ট দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তির সুপারিশ করেন। পড়াশুনা এবং এলাকার থমথমে পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকে তার শৈশবের দিনগুলো। অত:পর ১৯৮৬ সালে তাদের গ্রামে সশ্রস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের ইন্ধনে সেটেলার বাঙালিরা দিনে দুপুরে আক্রমণ করে বসে। অনেক বসতবাড়ি লুন্ঠন করে আগুনে ভস্মিভূত করে দেয়া হয়। কোনরকম জীবন বাজি রেখে পুরো পরিবার ভারতের শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। শরনার্থী জীবন ছিলো সে এক দুর্বিষহ। জীবন কেটেছে অনেকটা অনাহারে অর্ধাহারে খুবই অনিশ্চয়তায় ভরা জীবন। তখন তার পড়াশুনা কিছুটা মন্থর হয়। তবু থেমে থাকে না জীবন, সেই ভারতের শরনার্থী শিবিরে তার পড়াশুনা আবার চালাতে থাকেন। কিন্তু বিধিবাম দুর্ভোগ যেন তার জীবনের বাঁকে বাঁকে, শরনার্থী শিবিরেই তার বাবা কঠিন অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। একসময় বাবাকে চিকিৎসার অভাবে তাদের চোখের সামনে অসুস্থ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়। পিতৃহীন মা’কে নিয়ে আবার শুরু হয় তার নতুন এক অনিশ্চিত জীবনের ডালপালা। তার মা আরো কয়েকজন আত্মীয় মিলে সিদ্ধান্ত নেন জীবন থাক আর না থাক নিজের বাপভিটায় খাগড়াছড়িতে যেকরে হোক ফিরে আসতে হবে। পুরো পরিবার একদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরে আসেন খাগড়াছড়িতে। ফিরে এসে প্যারিস’ আবার পড়াশুনা শুরু করেন নতুন উদ্যমে খাগড়াছড়ি গভর্নমেন্ট স্কুলে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যায়ন করেন। জীবনক্ষণে যা ঘটুক তার মেধার যেন অপূর্ণতা নেই। হাইস্কুলে পড়াকালীন তার মেধায় সকল শিক্ষক একসময় অভিভূত হন। মূলত হাইস্কুলে পড়াকালীন থেকেই এলাকার জুম্ম শিক্ষক, মুরব্বীদের নিকট তিনি সমাজের নানা অসংগতি, রাজনীতি, সমাজ নৈতিকতা, সামন্তিক চিন্তা, ধর্ম, অধিকার এবং অন্যান্য সচেতনতামূলক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও মনযোগী হতেন। এলাকায় তাকে হুক্কো নামে একনামে সকলে চিনেন। কারন তার আদর্শীয় মননশীলতা ছিলো সবসময় মৈত্রীময় এবং সুস্থ্য সমাজ বিনির্মাণ ও জুম্ম জনগণের মুক্তির জন্য আলোকপাত করা। এগুলো নিয়েই তার চিন্তা চেতনায় এতটায় নাছোড়বান্দা ও মশগুল ছিলেন, যার কারনে সবার কাছে “হুক্কো” নামেই সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। ‘হুক্কো’ মানে হচ্ছে “আল বা নোঙর”। যে নোঙর স্রোতে প্রায় ডুবন্ত নৌকা বা জাহাজকে তীরের পাড়ে ভাসিয়ে থাকতে সহযোগিতা করে।

(৪) প্যারিস’ হাইস্কুলে পড়াকালীন একসময় বুদ্ধ দর্শনে প্রবলভাবে আকৃষ্ট হন। বিশেষত পাহাড়ে খুবই জনপ্রিয় শ্রদ্ধেয় বনভান্তের আদর্শ ও ধর্মীয় দেশনা তাকে চরমভাবে অনুপ্রাণিত করে, যার জন্য পড়াশোনা কিছুটা ব্যাঘাত ঘটিয়ে ধর্মীয় ধ্যান ধারনায় জড়িয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় তার মা তাকে জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে একজন সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিজেকে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে অনুনয় করেন। তার মায়ের একান্ত কথাতে প্যারিস চাকমা আবার স্বগৌরবে পড়াশুনায় ফেরত আসেন, যেখানে তার জম্মস্থান সেই এলাকায় শান্তিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। আর তখন ছিলো প্রসিত, সঞ্চয়, কে এস মং দের নেতৃত্বে অভিভক্ত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ। সকল পাহাড়ি ছাত্র সমাজ প্রয়াত মহান নেতা লারমা’র আদর্শে ছিলো উজ্জীবিত। ছাত্রাবস্থায় অভিবক্ত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের জুম্ম জনগণের দাবি আদায়ের সমবেত মিছিলে ছিলো প্যারিসের নিয়মিত পদচারণা। এছাড়া রাজপথে ছাত্র পরিষদের গগণ কাপানো প্রতিটি স্লোগান তার মুখস্থ। বিশেষত তার হৃদয়ে অমূল্য হয়ে গেথে থাকে, “আমরা সবাই পাহাড়ী ছাত্র, কলম আমাদের রণক্ষেত্র”। ৯৮’ এ পার্বত্য চুক্তি পরবর্তী পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ বিভক্ত হলে তিনি এরপর আর কোনো বিভক্ত কর্মসূচিতে নিজেকে জড়াননি। কারন ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি, বিবাদ, দ্বন্দ, তার মনকে রাজনীতিতে জড়াতে দ্বিধাদন্ডে ফেলে দেয়। তবে তিনি সবসময় পাহাড়ে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার রাজনীতিকে সম্মান করে চলেছেন। তার মননে ও চিন্তায় নতুন করে বাসা বাঁধতে থাকে কলমের লিখনীতে হলেও বৈষম্য দূর করে পাহাড়ে সমাজ উন্নয়ন, রাজনীতির মধ্যে ভ্রাতৃদ্বন্দ নিরসন, জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারসহ প্রভূতি বিষয়ে রাজনৈতিক আত্মসচেতন হয়ে যেভাবে হোক সমস্যার সমাধানগুলো প্রকাশ্যে তুলে ধরবেন।

(৫) ১৯৯৮ সালে স্কুলের গন্ডী কৃতিত্বের সাথে শেষ করে ভর্তি হন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে এবং ২০০০ সালেও খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকেই কৃতিত্বের সহিত এইচএসসি পাশ করেন। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকার পরও পাহাড়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিলতার কারনে মনস্থির করেন শ্রীলংকাতে উচ্চতর ডিগ্রী নেওয়ার জন্য পারি জমাবেন। তার ইচ্ছা ছিল আইন বিষয়ে অধ্যায়ন করা। ঠিক যেদিন উচ্চশিক্ষার জন্য শ্রীলংকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন সেদিন তার আপন বড় ভাইকে আঞ্চলিক রাজনীতির সমর্থনের তকমা লেপন করে দিয়ে একপক্ষ কর্তৃক কিছু অতি উৎসাহী কর্মী দ্বারা প্রতিপক্ষভেবে হত্যা করা হয়। শ্রীলংকাতে পৌঁছার কিছুক্ষণপর সেদিন ভাই হত্যার শিকার হওয়ার কথা জানতে পারলেন। যেন তখন তার মাথার উপর একটা আকাশ থেকে বাজ পড়লো। অনেক্ষণ চুপ থাকার পর ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস নিতে থাকলেন। আর চিন্তায় মগ্ন হলেন শ্রীলংকায় থাকবেন নাকি দেশে পাহড়ে ফেরত যাবেন। অত:পর নিজেকে বুজ দিলেন লংকায় এসে যখন গিয়েছি পড়াশুনা ভালোভাবে শেষ করেই তবে দেশে ফিরবো তার আগে নয়। এভাবে ভাই হত্যার শিকার হওয়া কষ্ট যাতনা নিয়েই তার পড়াশুনা এগিয়ে নিতে থাকেন। পড়াশুনার পাশাপাশি তার চলতে থাকে পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের খোঁজখবর নেয়া এবং আঞ্চলিক রাজনীতির নিয়মিত আদ্যপান্ত জানা। এদিকে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতি দিন দিন খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকেই পরিণতি লাভ করতে থাকে। দৃষ্টিগোচর হয় দ্বন্দ রাজনীতির রোষানলে পড়ে ভবিষ্যত সম্ভাবনাময় অনেক মেধাবী জাত ভাইয়ের করুন মৃত্যু। অহেতুক অনেকের জীবন প্রদীপ মৃত্যুর অপ-শিকার হচ্ছে। অনেকে জীবন বাঁচার তাগিদে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন একস্থান হতে অন্যস্থানে অজানা শংকায়। অনেক পরিচিত মুখগুলো শোষিতের স্বার্থানেষীর ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত এলাকায় নিজেদের মধ্যে বৃহৎস্বার্থ ব্যতিরেকে নানারূপী ব্যক্তি স্বার্থের লোভে অপরাজনীতি চর্চা করে চলেছেন অনিচ্ছা স্বত্তেও। যেগুলো তার মনকে সবসময় ভাবায় ও নাড়া দিয়ে উঠে।

(৬) অত:পর একসময় লংকায় আইন বিষয়ে পড়া অনেক ব্যায়বহুল হওয়ায় সেটা না করে তিনি বুদ্ধ দর্শন বিষয়ে তার উচ্চতর পড়াশুনা শেষ করেন। তিনি বুদ্ধ দর্শন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নিলেও তার নিয়মিত অধ্যায়ন ছিলো বিশ্ব রাজনীতি বিজ্ঞান, সমাজতন্ত্রনীতি, অর্থনীতি, কমিউনিজম, নানান দেশের আইন, শিল্প-সাহিত্য এবং বহির্বিশ্বের নানান দেশের শান্তি-সংঘর্ষ বিষয় ও কলাকৌশল সবিশেষ জানা। শ্রীলংকায় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিনগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদে নেমে পড়লে সেখানকার মিডিয়াতে হইচই পড়ে যায়। মিডিয়া, একাডেমিক ব্যক্তিত্ব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সাথে গড়ে উঠে তার গভীর সম্পর্ক। ফল স্বরুপ ২০০৪ সালে শ্রীলংকার সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। মূলত শ্রীলংকাতে পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, অলোচনা সভা ও প্রতিবাদ সমাবেশ চালিয়ে যান. এমনকি Tamil National Alliance’র সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখতে তামিল টাইগারদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং জাপনায় ভ্রমন করতে যান।
এভাবে একদা সিদ্ধান্ত নেন দেশে ফিরবেন পাহাড়ের টানে, কিন্তু তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন এবং শুভাকাঙ্খীরা প্রতিনিয়ত বলতে থাকেন জীবন যদি বাঁচাতে চাও, আপাতত দেশে আসার জন্য মুখে নাম নিও। কারন তোমার এক ভাই অলরেডি হত্যার শিকার হয়েছে। আর তোমাকেও যদি এই হানাহানি রাজনীতির শিকার হয়ে হত্যার শিকার হতে হয় তোমার মা কিভাবে জীবন বাঁচাবেন? মূলত একমাত্র মা’র কথা চিন্তা করে প্যারিস’ তার পাহাড়ে ফেরার সিদ্ধান্ত মনের অনিচ্ছা স্বত্তেও পাল্টাতে বাধ্য হন।

(৭) মনকে দৃঢ় করেন তাহলে তিনি শ্রীলংকা থেকে আমেরিকা পাড়ি জমাবেন। যেখানে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। যেই ভাবা সেই কাজ একদিন সত্যি পারি জমালেন আমেরিকাতে। সাধ্যের মধ্যে আরাম আয়েশের জীবন পরিত্যাগ করে এখানে বসেই প্রতিনিয়ত লিখতে বসলেন কলমকে “রণক্ষেত্র” হিসেবে ধারন করে পাহাড়ে শাসকগোষ্ঠীর জুম্মজনগণের উপর অযাচিত নিপীড়ন নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এছাড়া পাহাড়ে জুম্মদের কিঞ্চিৎ ভুলে ভরা রাজনীতি, সমাজে উন্নয়নের রূপরেখা, প্রতিটি ঘুণে ধরা জুম্ম জাতিবৃন্দের কল্যাণকর দিকনির্দেশনা, অসহায় পাহাড়িদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহবান, পাহাড়ি উদ্যোক্তা সৃষ্টির উৎসাহ ও উদ্দীপনা, পাহাড়ে নিত্যনতুন সমস্যাসহ অতীত ভুল থেকে কিভাবে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে সামনের পথে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে অনবরত স্বোচ্ছার হতে থাকেন। সর্বোপরি জুম্মজনগণের মুক্তির জন্য যে আশুপ্রয়োজন ঐক্যমত সৃষ্টি করা তা তার লেখায় তিনি তুলে ধরতে যেন অনড়। এমনকি আমেরিকায় বসবাসরত জুম্মদের একই প্লাটফর্মে নিয়ে এসে জুম্ম জাত চেতনায় কাজ করার মানসে উদ্বুদ্ধ করতে অনবরত সামনে এগিয়ে এলেন এই প্যারিস চাকমা।

সর্বশেষ তার Facebook স্ট্যাটাসে কিয়ৎঅংশে তিনি লিখেন, “আমি পরিবর্তনের বিশ্বাসী। তাই আমেরিকার শত ব্যস্ত জীবনেও ব্যক্তি, চিন্তা-চেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একটি আদর্শিক ব্যক্তিত্ব, পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় ব্যবস্থা, অর্থনীতি, নেতৃত্ব ও জাতি গড়তে বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি শুরু করি। আজ যা ঘটছে এবং ভবিষ্যতে যা ঘটবে সবই সম্যকভাবে জানা। তাই জাতির মহাবিপর্যয় ঠেকাতে অবিরাম লিখে যেতে থাকি। বিগত অর্ধ দশকের অধিক প্রধান দুই দলের যে বোঝাপড়া এবং সংযমটা জাতির জন্যে খুবই ইতিবাচক। কিন্তু আমার অনেক লেখাকে কেন্দ্র করে বার বার ইউপিডিএফ’কে জড়ানোটা চরম আত্মঘাতী। তাই উভয় দলের স্বার্থে আমি অনির্দিষ্ট কালের জন্য লেখালেখি থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমার এ চলে যাওয়াটা দূর্বল ভাবার কোন কারণ নেই। তবে, কালের আবর্তে সব কিছুর জবাব দিতে আবার ফিরে আসবো।”

প্যারিস’ পাহাড়কে ভালোবাসেন বলে সবসময় পাহাড়কে নিয়েই চিন্তা করেন এবং পাহাড়কে ঘিরেই তার মৌলিক আদর্শীয় চেতনা। হয়তো কোনো একদিন পাহাড়ে ফিরবেন, রুগ্ন পাহাড়কে মুক্তির আলোক বর্তিকা আদায় করে দেওয়ার জন্য। এমনকি আমরা আশারাখি তার পাহাড় সম্পর্কীয় ফেসবুকে নিত্য লেখনীতে আবার খুব শ্রীঘ্রই ফিরে আসবেন। এছাড়া আমরা এটাও বিশ্বাস রাখতে চায় সবার কাছে “কলমের জবাব কলমেই দিতে হয়, কোন জোরজবরদস্তিতে নয়”।

কিন্তু কিছু বিভ্রান্তকারী হটকারী সিদ্ধান্তে অতল থেকে ব্যক্তিস্বার্থে তার সেইসব বিষয়গুলো আমলে না নিয়ে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে চলেছেন। গায়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রলেপন দাঁড় করিয়ে রাজনীতির তকমাও লাগিয়ে দিতে চান তারা। যা কোনমতেই কাম্য নয়। তাই সেইসব মানসিকতা পরিহার করে সকলকে যথাসাধ্য পজিটিভ চিন্তা গ্রহন করে সঠিক পথ দর্শনকরত: পাহাড়ের মুক্তির জন্য ঐক্যমত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে সামনের পথে এগোতে হবে। তবেই অদূর ভবিষ্যতে পাহাড়ে জনমানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − 35 =