উত্তর বাংলার এক পাবলিকের চোখে শাহবাগ মুভমেন্ট : সম্ভাবনার অপমৃত্যু

আমি লেখক নই, নেতা বা নিদেনপক্ষে ব্লগ বা ফেসবুকে জনপ্রিয় কেউও নই, আমি শাহবাগ থেকে চারশো কিমি দূরের এক মফস্বল শহরের সাধারণ পাবলিক। তাও অনেক দিন থেকেই শাহবাগ এবং গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে কিছু লিখতে চাই, লেখা হয় না। আসলে ইচ্ছা করেই লিখি নাই। নিজ জ্ঞানে এটুকু বুঝে নিয়েছি যে এসব লেখালেখির সময় এখন না। এখন সময় প্রজন্মের জাগরণকে সামনে এগিয়ে নেয়ার, চূড়ান্ত রূপ দেয়ার। কিন্তু আজকে একটু লেখার চেষ্টা করবো। কারণ, যে সম্ভাবনা নিয়ে পাঁচ ফেব্রুয়ারী নজিরবিহীন ভাবে গর্জে উঠেছিল তরুণ প্রজন্ম, আজ চার পাঁচ মাসের মাথায় এসে সেই সম্ভাবনাময় জাগরণ নখ দন্তহীন বাঘে পরিণত হয়েছে। তাই এখন আর এই ভয় নেই যে, আমার লেখার কারণে না আবার এই মুভমেন্ট সামান্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি। এটা একদমই আমার নিজস্ব মতামত। এই মুভমেন্ট মুখ থুবড়ে পড়ার পিছনে যে কারণগুলো কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে –

একটা গণ আন্দোলন পরিচালনার যে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন তা ছিলনা এই আন্দোলনের নেতৃত্বের মধ্যে। মঞ্চের মূল নেতৃত্বের অনেকেরই ছাত্র রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা থাকলেও এই ধরণের একটা মাস মুভমেন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে সেই অভিজ্ঞতা ছিল নিতান্তই অপ্রতুল। এর সাথে যোগ হয়েছিল কিছু উপদেষ্টার উপদেশ বা মতামত চাপিয়ে দেয়া। আন্দোলন শুরুর প্রথম আট দশ দিন সব ঠিক ঠাক চললেও পরে মঞ্চের নেতৃত্ব চলে যায় সরকারী দলের নিয়ন্ত্রণে। সরকার একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মঞ্চকে আগলে রাখলো আবার সময় বুঝে ছুঁড়ে ফেলে দিলো। এক দিকে মঞ্চের উপদেষ্টা অনলাইন জগতের রথী মহারথীদের বাচ্চা মানুষের মতো আচরণ এবং বিভেদ সৃষ্টিতে ইন্ধন দিয়ে যাওয়া অন্য দিকে সরকারের নেক নজর থেকে বঞ্চিত হওয়া, সব মিলিয়ে মঞ্চ হারাতে থাকে হাজারো তরুণের আস্থা।

সবচেয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে যে বিষয়টা তা হচ্ছে – কিছু অপ্রয়োজনীয় ইস্যুকে হাইলাইট করার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টি। গণজাগরণ মঞ্চের এই মুভমেন্ট শুরু হওয়ার পরে ফেসবুকে বা ব্লগে এমন কিছু ইস্যু নিয়ে বেশ মাতামাতি হয়েছে যেসব আদৌ এই আন্দোলনের জন্য ভালো কোন ফল বয়ে আনতো না বা আনবে না, কিন্তু তারপরেও আমরা ঐ সব “গুড ফর নাথিং ইস্যু” বা “আন প্রডাক্টিভ ইস্যু” নিয়ে মাতামাতিটা এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গেলাম যাতে করে আন্দোলনকারীদের মূল্য লক্ষ্য যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা থেকে খানিকটা দূরে সরে আসলো। এমন কয়েকটা ইস্যু হচ্ছে, নাস্তিক আস্তিক ইস্যু, জয় বাংলার পরে জয় বঙ্গবন্ধু না বললে তাঁর চেতনাতেই গলদ আছে, চীনপন্থি বামদের নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি। মূল্য নাস্তিক আস্তিক ইস্যু এবং চায়না বামদের নিয়ে তর্ক বিতর্ক এমন এক অবস্থায় চলে গেলো যে আমরা মূল দাবী ভুলে ঐ সব নিয়েই ব্যস্ত হয়ে উঠলাম।

প্রথমে আসে নাস্তিকতা এবং আস্তিকতা প্রসঙ্গ। জাতীয় রাজনীতিতে হটাৎ করে হেফাজতে ইসলামের উত্থানের জন্য অনেকেই অভিযোগ বা দোষারোপ করছেন কিছু কিছু ব্লগারের ধর্ম বিদ্বেষী লেখালেখিকে। এই সব ব্লগার এ্যাথিজমের পক্ষে লেখালেখি করে নাকি ধর্ম বিদ্বেষী লেখালেখি করে সেই বিতর্কে যাবো না। শুধু একটা কথা বলবো, যারা হেফাজতের উত্থানের জন্য এই ব্লগারদের বিশেষ করে নাস্তিকতাবাদদের লেখালেখিকে দায়ী করছেন, তাদের আসলেই রাজনীতির পাঠশালায় নার্সারিতে ভর্তি হওয়া উচিৎ। রাজনীতির গণিত নতুন করে শেখা উচিৎ। বিশেষ করে যাদেরকে জ্ঞানী, মেধাবী লেখক-ব্লগার হিসেবে আমরা চিনি তাঁদের মধ্যে কেউ যখন এমন হাস্যকর কথা বলেন, তখন খারাপ লাগে।

রাজীবের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই লক্ষ্য করলাম অনলাইনে একটা বড় অংশ নিজেদেরকে আস্তিক প্রমাণে হাস্যকর সব কাজ শুরু করলেন। পিছিয়ে থাকলেন না গণজাগরণ মঞ্চের নেতারাও। যেই হেফাজত চট্টগ্রামে তাঁদের সভা করতে দিলো না, সেই হেফাজতের সাথে আলোচনায় বসার এবং নিজেদেরকে আস্তিক প্রমাণে মঞ্চের মরীয়া প্রচেষ্টা আমরা লক্ষ্য করেছি সব্বাই। মঞ্চের সংগঠকদের এটা মাথায় আসা উচিৎ ছিল যে, হেফাজত এবং পরবর্তীতে বিএনপি পর্যন্ত পুরো মঞ্চকেই অভিযুক্ত করছে নাস্তিকদের মঞ্চ হিসেবে। মঞ্চের সামনে দিন রাত শ্লোগান না দিয়ে যদি তাঁরা জিকির করতেন তাও তাদেরকে নাস্তিকই বলা হতো, কারও ঐটা হচ্ছে ইস্যু। তাই সেই চেষ্টা না করে রাজীবকে কর্নার না করে নিজেদের অবস্থানেই অটল থাকা উচিৎ ছিল। কিন্তু তা না করে আমরা উঠে পড়ে লাগলাম নিজেদের আস্তিক এবং কয়েকজনকে নাস্তিক প্রমাণ করতে। সুযোগ করে দিলাম প্রতিপক্ষকে, আমি নাম উল্লেখ করবো না, কিন্তু রাজীবের মৃত্যুর পরে বেশ কয়েকজনের স্ট্যাটাস আমি ফলো করেছি। এতে করে আমার যে উপলব্ধি তা হচ্ছে, বেশ কয়েকজন ফ্রন্ট লাইনার এক্টিভিস্ট আসলেই ভীত হয়েছেন। তাই তাঁদের মধ্যে অন্যদেরকে নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে নিজেদেরকে রক্ষার মরিয়া চেষ্টা চালাতে দেখা গেছে। আর এটা করে হেফাজতিদের অবস্থান আরও সংহত করাই হয়েছে।

এটা খুবই পরিষ্কার যে, হেফাজতের উত্থান বা আবির্ভাব যা ই বলি না কেন, তা হতোই। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় তাদের নামাতো জামাত। আজকে হেফাজতকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটেছে বা ঘটছে তার সবই জামাতের পরিকল্পনার একটি অংশ। এই সহজ বিষয়টা না বুঝার তো কিছু দেখি না। বিশেষ করে যারা রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ বা যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে লেখালেখি করে আসছেন দীর্ঘ দিন ধরে, তারা যখন হেফাজত ইস্যুতে আসিফ, রাজীবদের অভিযুক্ত করেন তখন একটু ভিন্নভাবে ভাবতে বাধ্য হই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে কিছুটা ব্যাক ফুটে চলে যাওয়া রাজাকার, আল বদর, যুদ্ধাপরাধীদের দল জামাতের পক্ষেই এই বিচার প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার বিশেষ মিশন নিয়েই যে তারা আবির্ভূত হয়েছে সেটা খুবই পরিষ্কার। দুই আর দুই চার এর মতো সহজ ক্যালকুলেশন। তবে হ্যাঁ, এটাও স্বীকার করছি যে এক্ষেত্রে গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক রাজীব হায়দার শোভন, আসিফ মহিউদ্দিনসহ কিছু ব্লগারের নাস্তিকতার পক্ষে বা ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে লেখালেখি করার বিষয়টা একটা ট্রাম্প কার্ড হিসেবে পেয়ে যায় জামাত। যা তারা খুব পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগায় হেফাজতকে মাঠে নামিয়ে। এখানে জামাতের রাজনৈতিক কৌশল একশত ভাগ সফল হয়েছে। তবে এই সফলতার পিছনে আমাদের অবদানও কোন অংশে কম না।

এর পরে বলা যায় জয় বাংলার পরে জয় বঙ্গবন্ধু না বললে তাঁর চেতনায় গলদ আছে ইস্যুর কথা। এখানে আমার বক্তব্য খুব পরিষ্কার, নিজের একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস এখানে হুবহু তুলে দিলাম। ভাগ্যিস শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বেঁচে নেই! বেঁচে থাকলে তাঁর চেতনার স্বচ্ছতা নিয়েও চেতনা ব্যবসায়ী এজেন্টরা প্রশ্ন তুলতো। কেন বললাম? বললাম এই কারণে যে, বেশ কিছু বড় বড় রথী মহারথী বা ফেসবুক সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে জুম্মায় জুম্মায় আট দিন বয়সের চেতনাবিদদের ‘ফতোয়া’ হচ্ছে, জয় বাংলা বললে সাথে জয় বঙ্গবন্ধু বলতেই হবে! যারা এভাবে বলেন না, তাদের চেতনা কখনই স্বচ্ছ নয়! তার মানে বঙ্গবন্ধু‬ শেখ মুজিবর রহমান, যিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, যিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি; তার জন্য জোর করে সম্মান আদায় করতে হবে! এতে কি বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করা হচ্ছে না অসম্মান? তাও অনেকেই এই গুড ফর নাথিং ইস্যুটাকে হাইলাইট করে একটা বিতর্কের সৃষ্টি করা হলো। বাহ, ভালো তো, ভালো না? আমি সেই সব চেতনা ধারীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভাইজানেরা শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তো কোন বক্তৃতার শেষেই তেমন করে বলতেন না। তাহলে তাঁর চেতনাও অস্বচ্ছ! তাই না? কয়েকজন সেক্টর কম্যান্ডার ওইভাবে বলেন না। তাহলে তারাও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ধারণ করেন না! বাহ!! বর্তমান মন্ত্রীসভায় কমপক্ষে তিন জন মন্ত্রী ওইভাবে বলেন না। তাহলে তাদের চেতনাও অস্বচ্ছ, তাই তো? মানলাম, কিন্তু ঐ সব অস্বচ্ছ চেতনা ধারীদের মন্ত্রীসভায় যারা রেখেছেন তাঁরা তাহলে কি? ভাবতে লজ্জা লাগে যারা আমাদেরকে একটা স্বাধীন মাতৃভূমি দেয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদেরই কিনা চেতনার পরীক্ষা নেয়ার মতো দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে। কে দেখাচ্ছে এই দুঃসাহস? উত্তর খুব সহজ। বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রোফাইল ফটো করে যারা রীতি মতো অনলাইন ধর্ষণে মেতে থাকেন রাত দিন তারাই।

এই প্রজন্মের তরুণদের একটা বড় অংশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ও তাতে লাইক দেওয়ার কাজটাই জানে শুধু। আর জানে অন্ধের মতো অন্যকে অনুসরণ করতে। নিজের মেধা-বুদ্ধি খাটিয়ে কোন কিছু খতিয়ে দেখার দরকার মনে করে না অনলাইন এক্টিভিস্ট তরুণদের একটা বড় অংশ। উত্তর বাংলা ভাই বলেছে ডাঃ ইমরান সুবিধাবাদী? ওকে, আসলেই ইমরান সুবিধাবাদী। দেখা গেলো উত্তর বাংলা ভাই শুধু সুবিধাবাদী বলেছে, কিন্তু বাঙ্গালীর কোন মন্তব্যের যেমন শাখা প্রশাখা গজায়, তেমনি ভাইয়ের মন্তব্যও ডাল পালা বিস্তার করলো। সুবিধাবাদী থেকে এই অন্ধ নির্বোধ অনলাইন ভোঁদাইরা ইমরানকে চোর, বাটপার, দালাল, লম্পট সব বানিয়ে ফেললো। শুরু হয়ে গেলো ইমরানের বিরোধিতা করা। আর এতে মহা আনন্দে এসে যোগ দিলো জামাত শিবিরের সমর্থকরা। শুরু হয়ে গেলো নোংরামি। আর এই নোংরামি কিভাবে বন্ধ করা যায় তা না ভেবে অনলাইন জগতের ‘‘খলিফাগণ’’ কেউ পপ কর্ণ নিয়ে গ্যালারীতে বসে মজা নিলেন, কেউ বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখলেন। নোংরামি চলতেই থাকলো। যদিও বা একটু ক্লান্ত হয়ে যায় উভয় পক্ষই, তখন দেখা যায় ‘‘বান্দর প্রজাতির কিছু অশরীরী খলিফা’’ নোংরামির অনলে ঘি ঢালার কাজটা করে গেলো। আর সেই অনলে দগ্ধ হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী বাংলার আবাল বৃদ্ধ বণিতাদের সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখানো শাহবাগ মোহনার সেই মঞ্চ।

নিজেদের মধ্যে এই কামড়া কামড়ির ফলাফল কি দাঁড়ালো? আমরা একটু একটু করে এই মুভমেন্ট থেকে দূরে সরে গেলাম। যেখানে কথা ছিল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বাংলাকে রাজাকার যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার, সেখানে আমরা উদয় অস্ত নিজেদের ব্যস্ত রাখলাম বিবাদে, বিতর্কে। একটু মতপার্থক্য হলেই কেউ রাতারাতি হয়ে যাচ্ছি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী, কেউ আওয়ামীলীগের দালাল, কেউ নাস্তিক, মুক্তমনা বা মৌলবাদী। তুচ্ছ ইস্যু নিয়ে অকারণে বিতর্ক করে আমরা নিজেদের মধ্যে একটা পরিষ্কার বিভাজন সৃষ্টি করলাম। এরই ধারাবাহিকতায় বা সাইড ইফেক্ট হিসেবে দীর্ঘ সময় অনশনকারী রুমী স্কোয়াডের তরুণরা হয়ে গেলো প্রতিবিপ্লবী, আন্দোলনের পিঠে ছুঁড়ি বসানো রাজাকারের এজেন্ট। বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থকরা, বাম দলের নেতা কর্মীরা, বাম ঘরানার সাংস্কৃতিক কর্মীরা, দিনের পর দিন অনলাইনে জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসা ব্লগার বা অনলাইন এক্টিভিস্টরা হয়ে গেলো চিংকু বাম, চাইনিজ বাম, ঝান্ডু বাম এবং সর্বোপরি রাজাকারের দালাল, রিভার্স খেলা এজেন্ট। প্রজন্মের তরুণ অনলাইন এক্টিভিস্টদের একটা বড় অংশ খোঁজ নেয়ারও দরকার মনে করলো না রুমী স্কোয়াডের ছেলেগুলো বা দিনের পর দিন মৌলবাদের বিরুদ্ধে কাজ করে আসা অনলাইন এক্টিভিস্টরা কি আসলেই আন্দোলনের শত্রু?? কি করছে তারা, কেনই বা করছে? দরকার নেই তো তাদের এই সব খুঁজে দেখার বা যাচাই করার। যেহেতু উত্তর বাংলা ভাই বলেছে ‘‘চিংকু বামের মুক্তিযুদ্ধের সময় বলেছিল দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি’’, তাই সেটাই চূড়ান্ত সত্যি। তারা একটু কষ্ট করে মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাসটা ঘেঁটে দেখার দরকার মনে করলো না। তাদের কাছে বাম মাত্রই হয়ে গেলো মুক্তিযুদ্ধকে ‘দুই কুকুরের কামড়া কামড়ি’ বলা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির দালাল। উত্তর বাংলা ভাই বলেছে বলে কথা!! জয় উত্তরবাংলা ভাই। জয় গুরু।

লেখা এলোমেলো হয়ে গেলো হয়তো, তবে সে যাই হোক, আমার কাছে যা মনে হয়েছে আমি তাই বলেছি। শেষে এই মুহূর্তে কি করা যায় সেই বিষয়েও নিজের মতামতটা জানিয়ে দেই। যদি কেউ সত্যিকার অর্থেই রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায় তো একটা কথা সব্বার মাথায় রাখা উচিৎ, বর্তমান সময়টা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। আগামী কালের বাংলাদেশ কেমন হবে তাও নির্ভর করছে বর্তমান সময়ে যা চলছে তার ফলাফলের উপরে। তাই সময়টা এখন সব কিছু ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যুদ্ধাপরাধী মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করে যাওয়ার, নিজেদের মধ্যে বিভেদের নয়। (অসমাপ্ত। আরও কিছু কারণ আছে যা অন্য একটা পোস্টে লিখবো।)

(যে যেভাবে পারেন সমালোচনা করবেন কোন সমস্যা নাই। কিন্তু সবার কাছে করজোড়ে অনুরোধ, আমাদের ভাষায় যেন শালীলতা বজায় থাকে।)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৩ thoughts on “উত্তর বাংলার এক পাবলিকের চোখে শাহবাগ মুভমেন্ট : সম্ভাবনার অপমৃত্যু

  1. ভাল বলেছেন ।
    [একটু মতপার্থক্য

    ভাল বলেছেন ।

    [একটু মতপার্থক্য হলেই কেউ রাতারাতি হয়ে যাচ্ছি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী, কেউ আওয়ামীলীগের দালাল,কেউ নাস্তিক, মুক্তমনা বা মৌলবাদী।]
    — ঠিক বলেছেন ।

  2. আপনি যেসব কথা বলেছেন সেগুলো
    আপনি যেসব কথা বলেছেন সেগুলো কমবেশি সবাই জানে বলেই আমার বিশ্বাস। কিন্তু কি এক অদ্ভুত কারনে সবাই যেন পন করেছে, নিজের মতের সাথে সামান্য অমিল হলেই সে বিরুদ্ধ পক্ষের লোক হয়ে যায়। বিভাজন সৃষ্টির এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে জামাত-শিবির।
    এর থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে কিছু লিখলে ভালো লাগবে।

    1. রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় একটা
      রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় একটা কথা আছে – “মুই না বুঝলে মোক বুঝায় কাই”। ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই। ঐ যে বলেছেন ‘সবাই যেন পন করেছে, নিজের মতের সাথে সামান্য অমিল হলেই সে বিরুদ্ধ পক্ষের লোক হয়ে যায়।’ – তো এমন ভাবে কেউ যদি পন করে বসে থাকে তাহলে হাজারো উত্তরণের পথ বাতলে দিলেও কি কোন লাভ হবে? মনে হয় না। তাও চেষ্টা করবো লিখতে। যদিও এই মুহূর্তে মূল দাবীতে ঐক্যবদ্ধ থাকাই সব সমস্যার সমাধান হতে পারে। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকাটা যে কতো কঠিন করে ফেলেছি আমরাই তা তো দেখছেনই। ধন্যবাদ ভাই।

    1. দেখেন এরশাদের বিরুদ্ধে আট
      দেখেন এরশাদের বিরুদ্ধে আট বছরের রাজপথের আন্দোলনে কিন্তু এই সব মত ও পথের মানুষরাই ছিলেন, গণআদালত এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী যে আন্দোলন সেখানেও এই সব বিভিন্ন মতের ব্যক্তিরাই ছিলেন, তাতে কিন্তু মূল মুভমেন্টের কোন সমস্যা হয়নি। এখন হচ্ছে। কারণ, আমাদের মধ্যেই অনেকে বিষয়টাকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। আর যারা এটা করছে তাঁরা মোটামুটি একটা প্রতিষ্ঠিত শক্তি, অন্তত অনলাইনে। তবে যত শক্তিশালিই হোক না কেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে সেটা ফেস করি তাহলে তারা বানের পানির মতো ভেসে যাবে। যেমন নব্বই সালে অভি-নীরু গংরা ভেসে গিয়েছিল।

    1. ধন্যবাদ। এই কথাগুলা নতুন কিছু
      ধন্যবাদ। এই কথাগুলা নতুন কিছু না। আপনার আমার মতো যারা রাজাকারমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দেখতে চায় এই সব তাদের সকলেরই মনের কথা।

  3. আপনার কথাগুলো খুব ভালো
    আপনার কথাগুলো খুব ভালো লাগল,আসলে “একতাই বল” কথাটা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারলেও কোন এক অজ্ঞাত কারণ হতে পারে দলীয় বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে খারাপ লাগায় একত্ব হতে পারছেনা সবাই.|
    যুদ্ধবর্তীকালীন রাজাকারব্যতীত সবাই যেভাবে দলমত,ধর্ম নির্বিশেষে এক হয়ে লড়াই করেছিল ঠিক আজও দলমত,ধর্ম,আস্তিক-নাস্তিক সব বিভেদ ভুলে সবার কতিপয় যুদ্ধাপরাধীদের গলাবাজির রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও সব রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে এক হবার আবার সময় এসেছে.|

    1. ধন্যবাদ। তবে আমি হতাশ নই।
      ধন্যবাদ। তবে আমি হতাশ নই। এখনও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি একদিন এই দেশ রাজাকারমুক্ত হবে। হয়তো আমরা থাকবো না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 58 = 64