হিন্দুদের গুরুবাদ, জাত্যাভিমান ও ঐক্যের ব্যবচ্ছেদ!

আমাদের হিন্দু সমাজে অসংখ্য নমস্য গুরুদেব আছেন। একেকজন শ্রদ্ধেয় গুরুর হাজার হাজার শিষ্যও আছেন। আবার কোনো গুরু বা ব্রম্মচারীর কয়েক লক্ষ শিষ্যও থাকেন। আমাদের বলা হয় যে, একমাত্র সৎ গুরুর মাধ্যমেই ভগবানের কৃপা লাভ করা যায়। তাই আমরা পরম গুরদেবের সান্নিধ্যে এসে দীক্ষা নিয়ে তাঁর শিষ্যত্ব লাভ করে দীক্ষামন্ত্র জব করি। আমরা আমাদের শ্রদ্ধেয় গুরুদেবকে ব্রম্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর জ্ঞানে ভজনা করি। তাই গুরু বন্দনায় বলা হয়, -গুরু ব্রম্মা, গুরু বিষ্ণু, গুরুদেব মহেশ্বর, গুরুরেব পরমব্রম্ম তৎমত শ্রী গুরুবেই নমো। নিশ্চয় এ গুরুদেবরা আত্মার অধিক (আধ্যাত্মিক) জ্ঞাণের অধিকারি, না হলে তাঁদের এতো ভক্ত সংখ্যা কেন? নাকি এটা বংশ পরম্পরা থেকে পেয়ে আসা গুরুর পদতল আঁকড়ে ধরে থাকার প্রজন্মগত অভ্যাস? তবে একটা ব্যাপার দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, গুরুদেবরা আমাদের হিন্দু সমাজে কোনো কাজেই আসেন না। তাঁরা শুধু নিজেদের কথায় ভাবেন, শুধু নিজের মুক্তি জন্য গভীর ধ্যানে মগ্ন থেকে ঈশ্বরের আরাধনা করতে থাকেন। কিন্তু ভক্তদের কথা মোটেও ভাবেন না। তাঁরা বোধ হয় আমাদের হিন্দু জাতির ঐক্য কখনো চাননি। একেকজন গুরুদেবের শিষ্যরা তাদের পরম গুরুর জন্য কিনা করে থাকেন? গুরুর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ডোনেট করে মন্দির নির্মাণ করেন দেন, দামী দামী আসভাবে সাজিয়ে শয়ন কক্ষ তৈরি করে দেন, সুন্দর পাথরে খোদায় করে সমাধি শোধ নির্মান করে দেন। গুরুদেবের আবির্ভাব-তিরোধান দিবসে মহা সমারোহে মহোৎসব পালন করেন। বিনিময়ে আমাদের মহাপুরুষ গুরুদেবরা হিন্দু সমাজকে অনৈক্য ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। যদিও ভাঙ্গা রেকর্ডের মতো বলা হয়, গুরু নিন্দা মহাপাপ। কিন্তু এই মহাপাপটাই আমাদের সমাজে স্তরে স্তরে চর্চিত হয় খুবই বেশি। সবাই যে যার সাধ্যমতো গুরুদেবকে নিয়ে ভক্তিতে গদগদ হয়ে মেতে আছেন। দেখা যায় প্রতিটি গুরুর শিষ্যদের এক চেইনে বাধা থাকার একটি সারকেল থাকে। যার সম্বোধন হল গুরুভাই। এক গুরুভাই আরেক গুরুভাইকে জয়গুরু বলে সম্বোধন করেন। এই গুরুভাইরা স্বগুরু ছাড়া ভুলেও অন্য গুরুর পথ মাড়ান না। তাদের স্বজাতির অন্য শিষ্যরা কোথায় মার খাচ্ছে, কাদের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে, কাদের ঘরবাড়ি লুট হয়ে যাচ্ছে, অন্য গুরু বা শিষ্যরা মাথায় ঘামান না। হ্যাঁ হ্যাঁ এখানেই আপনাদের হিন্দুত্বের ঐক্যের ফাটল স্পষ্ট।

আমাদের এই মহান গুরুদেবদের আবার থাকে একেকটি সুসজ্জিত আশ্রম। আবার অনেক গুরুর থাকে জেলায় জেলায় একেকটি আশ্রমের শাখা। কোনো কোনো গুরুর থাকে ভারত-বাংলাদেশে আশ্রম। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে আশ্রম-মন্দিরের উন্নতি করবে। কিন্তু এদেশে অস্তিত্বের সংকটে পড়া গোটা হিন্দু জাতির অস্তিত্বের ভিত্তি শক্ত করার জন্য কোনো উন্নতি করবে না। এদেশে অত্যাচারিত হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য আমাদের গুরুদেবগন কখনো কোনো কালেই মাথা ঘামাননি। তাঁরা শুধু ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাবার লক্ষ্যে নিজের মুক্তির জন্য নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। যারা শুধু নিজ ও নিজের আশ্রমের উন্নতির কথা ভাবে, গোটা হিন্দু জাতির অস্তিত্ব কোথায় সংকটে পড়ছে, তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা নেই, সেইসব পরম পুজনীয় গুরুদেবদের নিয়ে আমরা কি করবো?

এই যে কয়েক বছর আগে নাসিরনগরে ৯০%রা দলবেঁধে অত্যাচার করেছে, গোটা তিনশ হিন্দু পরিবারের বাড়ি-ভিটে জ্বালিয়ে ঘর ছাড়া করেছে। গোবিন্দগঞ্জে হিন্দুদের বাড়ি ঘর মন্দির পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, আরো কয়েক বছর আগে পাবনার সাঁথিয়ায় ৯০%রা সংঘবদ্ধ মিলে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক আক্রমন চালিয়েছে, প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গায় এদেশের হিন্দুরা মুসলিম দ্বারা সহিংস আক্রমনের শিকার হচ্ছেন, নিগৃহীত হচ্ছেন, দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। এই নিয়ে আজ পর্যন্ত আমি কোনো গুরুদেবকে দেখলাম না, তার শিষ্যদের প্রতিবাদ করার কোনো নির্দেশ দিতে। আজ পর্যন্ত কোনো গুরুদেবকে দেখলাম না অত্যাচারিত হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় বরাবর একটি প্রতিবাদের স্মারকলিপি দিতে। দেখলাম না, সংহতি প্রকাশ করতে। একটা প্রতিবাদী ভাষন দিতে। একটা জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকলে তবেই তার ধর্ম টিকে থাকবে। মানুষগুলো বাঁচলেই ধর্মও বড় পরিসরে বেঁচে থাকবে। দেশ থেকে সেই জাতির মানুষেরই যদি অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়, তাহলে ধর্মটি কারা পালন করবেন? দিন দিন আপনার শিষ্যদের অস্তিত্ব যদি মুছে যায়, তাহলে আগামীতে আমাদের শ্রদ্ধেয় গুরুদেবগন ঠিক কাদের উপর গুরুত্বের মহিমা প্রকাশ করবেন? বলতে গেলে আজ হিন্দুরা শতভাগে বিভক্ত, তার দায় যে এই গুরুদেবরও নেই, এটা অস্বীকার করা যায়? শত শত বছর আগের ব্রাম্মণ্যবাদের মতোই আজকের গুরুবাদ যে হিন্দু জাতিস্বত্তার মধ্যে শত শত অনৈক্য ও বিভাজন সৃষ্টি করে রেখেছে এই দায় কি এড়ানো যায়? গোটা হিন্দু জাতিকে আমাদের শ্রদ্ধেয় গুরুরা ভক্ত বানিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গৌষ্ঠিতে পরিনত করেছে। শুধু তাই নয় এই গুরুবাদ, গুরুনিন্দা নিয়ে আমাদের হিন্দুদের মাঝে অনেক মারামারি হানাহানি পর্যন্ত দেখেছি। এক গুরুকে হেয় করে আরেক গুরুকে শ্রেষ্ঠ করতে গিয়ে দুই গুরুর শিষ্যের মাঝে বাঁধে কলহ, ঝগড়া মারামারি, কখনো দখলের লড়াই, কখনো নেতৃত্বের লড়াই। আমি অবাক হই তখন, যখন দেখি আমাদের শ্রদ্ধেয় গুরুদেবরা মিলেমিশে এসব মীমাংসা না করে নির্বিকার থাকেন। তাঁরা তাঁদের ভক্তদের সম্মুখ বিবাদের সারকাস দেখেন।


আমরা এখনো জাতপাত নিয়ে নিজেদের মনে এমন নোংরা মানসিকতা পুষে রাখি যে, যার রুপ হিন্দু সমাজের অস্তিত্বের গোড়ায় ভয়াবহ রকম প্রভাব পড়ে। ভারতের উঁচুবর্ণের হিন্দুরা এখনো দলিত হিন্দুদের কোনো মানুষই মনে করেনা। উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী অস্কার বিজয়ী এ আর রহমান ছিলেন একজন দলিত হিন্দু। সেই নিচু জাত বলে তাকে মন্দির প্রবেশ করতে দেয়া হতো না। নিচু জাত বলে এ আর রহমান সমাজের প্রতিটি পদে পদে লাঞ্চনা আর বঞ্চনার শিকার হয়েছিল। উপমহাদেশের হিন্দুদের জন্য আরেকটি চরম অভিশাপ ছিল ব্রাম্মন্যবাদ। যার প্রভাব আগের চেয়ে ম্রিয়মাণ হয়ে এলেও এটা এখনো নির্মুল হয়নি। এই অপদার্থ ব্রাম্মন্যবাদী পুরোহিতরা ছোঁয়াছুঁয়ি’র এত ফতোয়া জারি রেখেছিল যে, কারো পান থেকে চুন খসলেই জাত গেল বলে ফতোয়া জারি করে দিত। এই গন্ডমুর্খ অশিক্ষিত ব্রাম্মনদের জন্য উপমহাদেশে আরব্য সংস্কৃতির অনুগামীদের বাম্পার ফলন হয়েছে। আপনি কি ভাবছেন ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সব মুসলমান আরব থেকে আসা? আরে না! এখানে ১০%ও আরব থেকে আসেনি। উপমহাদেশের ৯০ভাগ মুসলমান হিন্দু থেকে কনভার্ট হওয়া। এখনো তো আপনাদের উচ্চবর্নীয় জাতপাতের হিংসা, ঘৃণা ও শত্রুতা থেকে নিস্তার পেতে বছরে গড়ে কয়েক লক্ষ হিন্দু মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মে কনভার্ট হয়ে যাচ্ছেন। তো আপনি উঁচু জাতের হয়ে এতকাল করেছেনটা কি?

এখনো আমাদের সমাজে এটা খুব প্রকটভাবে প্রচলন আছে যে, কোনো উঁচুবর্ণের পরিবারই নিচু জাত থেকে মেয়ে আনতে চায় না। আমাদের বনিক (ব্যাইন্যা) সম্প্রদায়ের কথায় যদি বলি, এখানেও আছে ছোট বনিক আর বড় বনিক। আগেকার সময়ে তো বড় বনিকরা ছোট বনিকদের সাথে সম্বন্ধ তো দুরের কথা, তাঁদের ছোঁয়া পর্যন্ত স্পর্শ করতেন না। স্বামী বিবেকানন্দ একটি কথা বলেছিলেন, যে শাস্ত্র এই সময়ের জন্য অনুপোযোগি, সেই শাস্ত্র আমাদের পালন করার কোনো মানেই হয়না। বহুযুগ আগে এই অঞ্চলে সিন্দু নদের তীরে প্রায় ৫-৬ হাজার ধরে গড়ে উঠা আর্য হিন্দুদের সমাজটাকে অনেকাংশে তিলে তিলে ধবংস করেছেন এসেছেন আমাদের পুরোহিত ব্রাম্মণরা।

আমাদের সমাজে হিন্দুদের ধর্মানুরাগীর চেয়ে জাত্যাভিমান খুবই প্রকট। আমাদের জাত্যভিমান এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে, যার কারণে এই উপমহাদেশে আরব্য সংস্কৃতির উপাসকদের বিস্তারের পথটি খুব সহজ হয়ে যায়। হিন্দুদের অতি মাত্রায় জাতপাতের ফলে অষ্টম শতকে মুহম্মদ বিন কাশেম, দ্বাদশ শতকে মুহম্মদ ঘুরি, ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে বখতিয়ার খিলজিদের বাংলা জয় করতে তেমন বেগ পেতে হয়নি। ভুলে কোনো ভীনধর্মীর সংস্পর্শ লাগলেও তখন আমাদের পুর্বপুরুষদের জাত মারা যেত, ভীনধর্মীরা দখলের উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়ি বাড়ি এসে এসে গরুর রক্ত ছিটিয়ে গেল, তা দেখে আপনি জাত বাঁচানোর জন্য বাড়ি ভিটে বাড়ি ছেড়ে চিরতরে পালিয়ে গেছেন।সর্বস্ব দেব, মাগার জাত দেব না! আর তার জন্য মোটা দাগে দায়ী ছিলেন পুরোহিত ব্রাম্মনরা। সেই সময় একবার কারো জাত গেলে তার আর স্বধর্মে ফেরার কোনো ছিলো না। তখনকার সমাজে আমাদের পুরোহিত ব্রাম্মনরা ছিলেন সমাজের শিরোমনি। এরা যা বলতো পুরো সমাজ ব্যবস্থাটাকে মাথা নুইয়ে তাই শুনতে হতো। এদের অতি শাস্ত্রীয় নির্মমতার শিকার হয়ে সেই সময় কত লক্ষ লক্ষ হিন্দু ধর্মান্তরিত হয়েছিল তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এই ব্রাম্মনরা নিজেদের স্বার্থের জন্য জাতপ্রথার প্রচলন খুব কুৎসিতভাবে জারি রেখেছিলেন। না হলে শুধুমাত্র ১৭ জন অর্শ্বারোহী নিয়ে খিলজি কিভাবে বাংলা জয় করেছিলে? সেই সময় কয়েক কোটি মানুষ দাঁড়িয়ে যদি মুত্রত্যাগ ত্যাগ করতো, সেই মুতের বানে ভেসে যেতো আরব-পারস্য থেকে আগ্রাসন চালাতে আসা বিন কাশেম, ঘুরি ও বখতিয়ার খিলজিরা। আসলে খিলজিরা জানতো, এই উপমহাদেশের হিন্দুদের জাতপাতের কুসংস্কারীয় পালস ঠিক কতোটা দুর্বল ছিলো! এরা জানতো, হিন্দুদের জাতিস্বত্বার ব্যবচ্ছেদটা ঠিক কতোটা খন্ডে খন্ডিত।

এখনো কি আমাদের জাতপ্রথা সমূলে নির্মুল হয়েছে? না হয়নি। এখনো কি আমরা এক গৌত্র আরেক গৌত্র হারিয়ে দেয়ার জন্য একজনের পেছনে আরেকজন লাটি দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকি না? আমরা জাত মারাই এইভাবে,
–শালার নাপিত! ছোটলোকের বাচ্চা আমাকেই শাঁসিয়ে গেল!
–শালা কুমোরের বাচ্চা কুমোর, তাঁতির বাচ্চা তাঁতি! তোরা হলি গে নিচু জাত। সব সময় নিচে থাকবি।
–দেখ দেখ ধোপার বাচ্ছাটা বলে কিনা আমার কাপড় কাচবে না। শালার নিচু জাতের স্পর্দা কতো দেখ।
–শালা ডোমের বাচ্চা ডোম ছোট লোক পতাকার! যেমন বলব তেমন শুনবি।
–এমা! আমার ছেলে চৌধুরী বংশের, তাকে নিম্ম বর্ণের মেয়ে বিয়ে করাবো নাকি?
–ওমা! এটা কি বলো আমার মেয়ে রায় পরিবারের সন্তান! তাকে ধোপার পরিবারের ছেলের সাথে বিয়ে দেব নাকি? হোক ছেলেটা উচ্চশিক্ষিত!
–এই শালা আমরা সেন পরিবার! খুব উচ্চ বর্ণের। আমাদের সাথে কথা বললে খুব মাথা নিচু করে কথা বলবি।
–এই এই আমরা দত্ত পরিবারের লোক সাবধানে কথা বলবি!
–শালার বাইন্যা। শালার পাল। শালার মুহুরি। শালার মুচি।

উপরে উল্লিখিত গালিগুলো আমার না। এসব গালি হিন্দুরা হিন্দুদেরই দেয়। খুব গর্ব করে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা নিম্ম বর্ণের হিন্দুদের এসব গালিগুলো ধনুর তীরের মতো নিক্ষেপ করে। এবার বুঝলেন তো হিন্দুদের অনৈক্যের কারণ কি? কোনো নাপিত গৌষ্ঠি মুসলমানদের হাতে মার খেলে, আরেক হিন্দুর পাল গৌষ্ঠি বলবে, মার খেলে শালা নাপিত গৌষ্টি খাচ্ছে, আমাদের কি? শালাদের আরো মারুক। মুসলিমদের হাতে জেলে মার খাইলে, আরেক হিন্দু উচ্চ বর্ণের গৌষ্টি বলবে, মার খেলে জেলেরা খাচ্ছে, তাতে আমাদের কি? শুধু তায় নয়, একজনকে ঘায়েল করার জন্য আরেক জন পাশের পাড়ার ভীনধর্মী গুন্ডাদের ভাড়া করে আনে। এই হল আমাদের হিন্দু জাতি। একজনের পেছনে আরেক জন বাঁশ দেয়ার জন্য সবসময় তৈরি থাকা জাতি! এই হল হিন্দুদের হীন, স্থুল মানসিকতা। জাতপাতের গর্ব ভালোই করতে পারো, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সমাজ বিনির্মানে কিছুই তো দেখি ছিঁড়তে পারো না।

—হিন্দুরা যতদিন না হাজার হাজার গুরুকে পাশ কাটিয়ে না যাচ্ছে, হিন্দুরা যতদিন না জাত-পাতের অহমিকা থেকে নিজেকে মুক্ত না করছেন, হিন্দুরা যতদিন না জাত-পাত ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ না হচ্ছে, হিন্দুরা যতদিন না এক বৃত্তে এসে প্রতিরোধ গড়ে না তুলছে, ততদিন এদেশ থেকে হিন্দু হ্রাস পেতেই থাকবে। স্বয়ং ভগবানও এই হ্রাস রুখতে পারবে না! একমাত্র হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই পারে এদেশ থেকে হিন্দুর দেশ ত্যাগ (হ্রাস) কমানোর। আশা করি হিন্দুরা একদিন বেঘোর ঘুম থেকে জেগে উঠে অস্তিত্ব লড়াইয়ের জন্য মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবে……

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 − 36 =