৯০%দের বাংলাদেশ কোন দিক দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ?

 

গত বছর কলকাতার এক দুর্গাপুজা মন্ডপের থিম ছিল আরতির সময় আযান দেয়া। দুর্গাপুজার মন্ডপে আযান, শুনতে কেমন অবাক লাগে না? না না অবাক হবেন না। এটা হল ঐতিহাসিক সহিষ্ণু হিন্দুর জাতির সম্প্রীতির বার্তা। সেই সময় খবরটি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ জুড়ে খুব আলোচিত হয়েছিল। কলকাতার যেই পুজো মন্ডবে আযান দেয়া হয়েছিল, সেই পূজো কমিটি থেকে বলা হয়েছিল যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বার্তা দিতেই তাঁরা এই আয়োজন করেছে। তখন পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের এমন সম্প্রীতির বার্তা দেখে দুই দেশের বুদ্ধিজীবীরা দারুন দারুন বলে বাহবা দিয়েছিল। সেই তো গেল। বছর ঘুরে গত মাসে রমজান শেষে ২৫ই মে আবার ঈদ এল, এই বছর করোনা মহামারীর লকডাউনে মুসলিম ভাইরা সেইভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। তবুও একটা প্রশ্ন জাগে, কই এবারের বাংলাদেশের কোনো মসজিদে তো দেখলাম না চণ্ডীপাঠ বা গীতার শ্লোক পাঠ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপন করতে! দেখলাম না কোনো ঈমাম সাহেবকে মসজিদের মাইকে হিন্দুদের প্রতি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে। উলটো বাংলাদেশে দেখা যায় জেলায় জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়ি ঘর দখল করে, মন্দিরে আগুন দিয়ে, মুর্তি ভাঙচুর করে সাম্প্রদায়িক আক্রমণ করতে। করোনা ভাইরাসের মহামারিতেও থেমে নেই মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক আক্রমণ। এসব দেখেও বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিবেশ্যারা প্রতিবাদ তো করেনই না, মুখে কুলুপ এঁটে চুপ থাকেন।

এই পর্যন্ত বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মের অধিকারকে কি রাষ্ট্রীয়, কি সামাজিক, কোন দিক থেকেই গুরুত্ব দেয়া হয় না। মসজিদে দৈনিক ৫ ওয়াক্ত আযানের সময় বাংলাদেশের হিন্দুদের যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা দুর্গাপুজোর আরতির মাইক বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। তার কারণ হিসেবে দেখানো হয়, এতে মুসলিমদের আযানের পবিত্রতায় নাকি ব্যাঘাত ঘটে। যেদেশে একই সাথে মাইকে আযান ও পুজোর আরতি চলতে পারে না, সেই দেশ কোন দিক দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ? সম্প্রীতিই যদি হয়, তাহলে একই সাথে মাইকে আযান ও পুজোর আরতি চলতে আপত্তিটা ঠিক কোথায়? বাংলাদেশ গনপ্রজাতন্ত্রী এক দেশ, এক রাষ্ট্রে কেন এই দুই রকম বৈষম্য নীতি? আসলে এদেশের মুসলমানদের দৃষ্টিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির হলো এখনো যে গোটা দেশটা অমুসলিম শুন্য হয় নাই, এখনো যে গোটা দেশটা শত ভাগ মুসলিমের দেশ হয় নাই, এর চেয়ে ভাল সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির নজির আর কি হতে পারে!!!

–যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি মূল্য দিতে জানে না বা বোঝার যোগ্যতা রাখেনা, তাদের সাথে যেচে গিয়ে সম্প্রীতি দেখানো মানে এটা মোটা দাগে আঁতলামিটা ছাড়া আর কিছুই নয়। যাদের ধর্ম শেখায় যেকোনো অমুসলিম মানেই বিধর্মী, বেজাতি, কাফের, তাদের কাছে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি আশা করাটাই তো এক বোকামি!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 + = 43