২০৭: হুনায়েন যুদ্ধ-৬: নবীর সন্ত্রাস ও অবিশ্বাসীদের আতঙ্ক!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, হুনায়েন যুদ্ধের প্রাক্কালে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে দু’টি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ত্রাস ও অমানুষিক নৃশংসতার নয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তার প্রথম-টি হলো, ধৃত বন্দিদের হত্যার নির্দেশ; আর দ্বিতীয়-টি হলো, মৃত-ব্যক্তির যাবতীয় সম্পদ হত্যাকারী-অনুসারী কে প্রদান! প্রথম ঘটনাটির আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় ঘটনাটির বর্ণনা আদি উৎসের প্রায় সকল মুসলিম ঐতিহাসিকই তাঁদের নিজ নিজ ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থে বিভিন্ন ভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। এ বিষয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি ও ইমাম বুখারী। তবে নবী মুহাম্মদ তাঁর এই প্রলোভন-টি ঠিক কখন তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, সে বিষয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতানৈক্য আছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার: [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২০৬) পর:

‘আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে আবু কাতাদা আল-আনসারী হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে; এবং আমাদের সহচরদের একজন যার ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই আমাকে < বানু গিফার আবু মুহাম্মদ গোত্রের মক্কেল নাফি হইতে < আবু কাতাদা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যা বলেছেন, তা হলো, পরের ব্যক্তি-টি বলেছেন:

হুনায়েনের দিনটি-তে আমি দুই জন লোক-কে যুদ্ধরত অবস্থায় দেখেছি, যাদের একজন ছিল মুসলমান ও অন্যজন ছিল মুশরিক (polytheist)। পরের লোকটির এক বন্ধু তাকে মুসলমান-টির বিরুদ্ধে সাহায্য করার চেষ্টা করছিল, তাই আমি তার কাছে যাই ও তার এক হাতে আঘাত করি, আর সে তার অন্য হাত-টি দিয়ে আমার টুটি চেপে ধরে। আল্লাহর কসম, সে আমাকে ছেড়ে দেয় না যতক্ষণে না আমি রক্তের বোটকা গন্ধ পাই। সে আমাকে মেরেই ফেলেছিল; যদি তার রক্তক্ষরণ তাকে দুর্বল করে না দিতো, তবে সে হয়তো আমাকে তাইই করতো। পরন্তু, সে মাটিতে পড়ে যায় ও আমি তাকে আঘাত করি ও হত্যা করি। আমি লড়াইয়ে এত বেশী ব্যাপৃত ছিলাম যে আমি তার প্রতি আরও বেশী মনোনিবেশ করতে পারি নাই। মক্কাবাসীদের একজন তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার মালামাল ছিনতাই করে।

অতঃপর, লড়াই যখন শেষ হয় ও আমরা শত্রুদের সাথে মোকাবেলা শেষ করি, তখন আল্লাহর নবী এই ঘোষণা দেন যে:

“যে কেউ কোন শত্রু-কে হত্যা করবে, সে তার সম্পদ লুটের মালের অংশ হিসাবে প্রাপ্ত হবে।”

আমি আল্লাহর নবী-কে বলি যে: আমি এক ব্যক্তি-কে হত্যা করেছি, যার কাছে ছিল সম্পদ। আমি সেই সময় লড়াইয়ে এতই মগ্ন ছিলাম যে আমি জানি না কে তার মালামাল লুণ্ঠন করেছে। মক্কাবাসীদের একজন স্বীকার করে যে আমি সত্য বলেছি ও মালামালগুলো তার দখলে আছে। “অতএব, তার সন্তুষ্টির জন্য আমার পক্ষ থেকে তার লুণ্ঠিত মালামালের অংশ আমি তাকে প্রদান করবো।” আবু বকর বলে, “আল্লাহর কসম, না; তার মালামাল থেকে কোন অংশই তুমি ‘তার সন্তুষ্টির জন্য’ প্রদান করবে না। তুমি কী আল্লাহর সিংহ-দের একজন-কে, যে তার ধর্মের জন্য যুদ্ধ করেছে, তার মালামালের অংশ থেকে তোমাকে হিস্যা দিতে বাধ্য করবে? যে লোকটিকে সে হত্যা করেছে, সে লোকটির মালামাল তাকে প্রদান করো।” আল্লাহর নবী আবু বকরের কথা অনুমোদন করেন। এইভাবে, আমি সেই লুণ্ঠিত মালামাল তার কাছ থেকে গ্রহণ করি ও তা বিক্রি করি; অতঃপর সেই টাকাপয়সা দিয়ে এক ছোট খেজুরের বাগান কিনি। সেটিই ছিল আমার সর্ব-প্রথম সম্পত্তি, যার মালিক ছিলাম আমি।’

আমি সন্দেহ করি না এমন একজন ব্যক্তি <আবু সালামা হইতে < ইশাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবু তালহা হইতে < আনাস বিন মালিক হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছে: [4] [5]

“আবু তালহা একাই বিশ জন লোকের মালামাল লুণ্ঠন করেছিল (আল তাবারী: ‘যাদের-কে সে হত্যা করেছিল’)।”‘ —-

যখন হাওয়াজিনরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, থাকিফ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু মালিক গোত্রের লোকদের-কে হত্যার তীব্রতা বেড়ে যায়। তাদের পতাকার নীচে সত্তর জন (আল-ওয়াকিদি: ‘প্রায় একশত জন’) লোক-কে হত্যা করা হয়; যাদের মধ্যে ছিল উসমান বিন আবদুল্লাহ বিন রাবিয়া বিন আল-হারিথ বিন হাবিব। তাদের পতাকা-টি ছিল ধুল-খিমারের (Dhu’l-Khimar) নিকট। সে খুন হওয়ার পর, উসমান বিন আবদুল্লাহ তা গ্রহণ করে তা নিয়ে যুদ্ধ করে যতক্ষণে না তাকে হত্যা করা হয়। —-

আমির বিন ওহাব বিন আল-আসওয়াদ আমাকে যা বলেছেন, তা হলো: যখন তার মৃত্যুর খবর-টি আল্লাহর নবীর কাছে এসে পৌঁছে, তিনি বলেন, “আল্লাহ, তাকে অভিশাপ বর্ষণ করো! সে কুরাইশদের ঘৃণা করত।”—– [6]

আহলাফ-দের (Ahlaf) পতাকা-টি ছিল কারিব বিন আল-আসওয়াদের নিকট। যখন লোকেরা পলায়ন করছিল, তখন সে সেটি এক গাছের সাথে হেলান দিয়ে রাখে ও অতঃপর সে তার কাজিনদের ও তার লোকদের সাথে পলায়ন করে। আহলাফ-দের মাত্র দুইজন লোক-কে হত্যা করা হয়; যাদের একজন ছিল বানু ঘিয়ারা (Ghiyara) গোত্রের ওহাব নামের এক ব্যক্তি ও অন্যজন বানু কুববা (Kubba) গোত্রের আল-জুলাহ (আল ওয়াকিদি: ‘আল-লাজলিজ [Al-Lajlij]’) নামের এক লোক। যখন আল্লাহর নবী আল-জুলাহর (al-Julah) হত্যার খবর-টি শুনতে পান, তিনি বলেন, “থাকিফ গোত্রের যুবক নেতাদের আজ হত্যা করা হয়েছে; ব্যতিক্রম ইবনে হুনায়দা, এর দ্বারা তিনি আল-হারিথ বিন উয়ায়েস (al-Harith b. Uways) কে বুঝিয়েছিলেন।”’

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন আমর বিন যুহায়ের আমাকে < উমর বিন আবদুল্লাহ আল-আবসি হইতে < রাবিয়া হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে, সে বলেছে: ‘আমাদের সম্প্রদায়ের একদল লোক যারা সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিল, আমাকে যা বলেছে, তা হলো: —-

আবু কাতাদা যা বলতো, তা হলো: ‘আমরা যখন মুখোমুখি হয়েছিলাম, তখন মুসলমানরা পরাজিত হচ্ছিল। আমি দু’জন লোক-কে যুদ্ধরত অবস্থায় দেখি, একজন ছিল মুসলমান ও অপরজন মুশরিক। মুশরিক লোক-টি ছিল মুসলমান লোকটির ওপর। আমি তার চারপাশে যাই ও পিছন দিক থেকে তার ঘাড় ও কাঁধের মাঝখানের মাংসপেশির ওপর আঘাত করি। সে আমার কাছে আসে ও আমাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরে যে আমি তার নিঃশ্বাসে মৃত্যুর গন্ধ পাই। সে আমাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল, কিন্তু তার শরীর থেকে রক্ত নিঃসৃত হচ্ছিল। সে ভূপতিত হয়; আমি তাকে হত্যা করি ও তার মালামাল লুণ্ঠন না করেই ফিরে আসি। আমি উমরের সাক্ষাত পাই ও তাকে বলি, “কী ব্যাপার লোকজনদের?” সে জবাবে বলে, “এটি আল্লাহর নির্দেশ।”

অতঃপর লোকজন সত্যিই ফিরে আসে ও আল্লাহর নবী ঘোষণা করেন:

“যে ব্যক্তি কোন শত্রু-কে হত্যা ও তার প্রমাণ উপস্থিত করতে পারবে, সেইই হবে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত লুণ্ঠিত সম্পদের স্বত্বাধিকারী।”

তাই আমি উঠে দাঁড়াই ও বলি, “কে আছে এমন যে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে?” অতঃপর আমি বসে পড়ি। অতঃপর, তিনি বলেন:”যে ব্যক্তি কোন শত্রু-কে হত্যা ও তার প্রমাণ উপস্থিত করতে পারবে, সেইই হবে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত লুণ্ঠিত সম্পদের স্বত্বাধিকারী।” তাই আমি উঠে দাঁড়াই ও বলি, “কে হবে আমার পক্ষের সাক্ষী?” অতঃপর আমি বসে পড়ি। অতঃপর আল্লাহর নবী বলেন: “যে ব্যক্তি কোন শত্রু-কে হত্যা করবে ও তার প্রমাণ উপস্থিত করতে পারবে, সেইই হবে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত লুণ্ঠিত সম্পদের স্বত্বাধিকারী।”

আবদুল্লাহ বিন উনায়েস আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। অতঃপর, আমি আল-আসওয়াদ বিন আল-খুযায়ির সাথে সাক্ষাত করি ও সে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। তারপর, হঠাৎ করেই, আমার যে সঙ্গী-টি সেই লুটের মালগুলো নিয়েছিল আর অস্বীকার করতে পারে না যে আমি সেই মুশরিক-টিকে হত্যা করেছিলাম। আমি আল্লাহর নবীর কাছে ঘটনা-টি বর্ণনা করি – আর সে বলে, “হে আল্লাহর নবী, সেই মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত লুণ্ঠিত সম্পদগুলো আমার কাছে আছে; আর আমি তা থেকে তাকে সন্তুষ্ট করবো।” আবু বকর বলে, “আল্লাহর কসম, এটি কখনও হবে না। আল্লাহর সিংহদের একজনের কাছে, যে আল্লাহ ও তার রসুলের কারণে যুদ্ধ করে, কোন প্রস্তাব দিতে যেও না। সে তার লুণ্ঠিত মালামাল সামগ্রী তোমাকে হস্তান্তর করবে।” আল্লাহর নবী বলেন, “সে সত্য বলেছে। সেগুলো তাকে দিয়ে দাও।”

আবু কাতাদা বলেছে, “সে আমাকে সেগুলো দেয়।” হাতিব বিন আবু বালতা আমাকে জিজ্ঞাসা করে, “হে আবু কাতাদা, তুমি কী আমাকে অস্ত্রগুলো বিক্রি করবে?” তাই আমি তার কাছে সেগুলো সাত আওয়াকের [one Awāq = চল্লিশ দিরহাম] বিনিময়ে বিক্রি করি। অতঃপর আমি মদিনায় আগমন করি ও বানু সালামা গোত্রের কাছ থেকে আমি এক খেজুরের বাগান ক্রয় করি, যা ছিল ‘আল-রুদায়েনি’ নামে পরিচিত। এটিই ছিল আমার সর্বপ্রথম সম্পত্তি, যা আমি ইসলামে দীক্ষিত হয়ে পেয়েছি। এর অর্থে আজ অবধি আমরা আমাদের জীবনযাত্রা অব্যাহত রেখেছি।’–[7]

তারা বলেছে: বানু নাসর ও তারপর বানু রিবাব গোত্রের লোকদের ওপর হত্যাকাণ্ডের তীব্রতা বৃদ্ধি-প্রাপ্ত হয়। আবদুল্লাহ বিন কায়েস নামের এক মুসলমান বলতে শুরু করে, “হে আল্লাহর নবী, বানু রিবাব গোত্র ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে।” সে বলেছে: আল্লাহর নবী বলেন, “হে আল্লাহ, তাদের দুর্দশা দূর করো!” —

তিনি বলেছেন: উসামা বিন যায়েদ আমাকে < আল যুহরি হইতে < আবদুর রহমান বিন আযহার হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে যে, সে বলেছে: ‘আমি আল্লাহর নবী কে লোকজন-দের ভিতর দিয়ে যেতে দেখেছি। তিনি তাদের-কে খালিদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন, আমি তখন তাঁর সাথেই ছিলাম।

সেই সময় এক যুবক-কে ধরে আনা হয়। আল্লাহর নবী তাঁর সঙ্গের লোকদের এই আদেশ করেন যে তারা যেন তাদের হাতে যা কিছু আছে তাই দিয়ে লোক-টি কে আঘাত করে! আর, আল্লাহর নবী তার ওপর ধুলা নিক্ষেপ করেন।” [পৃষ্ঠা: ৪৫২]

সহি বুখারি. ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৬১০: [7] [8]

আবু কাতাদা হইতে বর্ণিত: ‘আমারা হুনাইন (যুদ্ধের) বছর-টিতে আল্লাহর নবীর সাথে গমন করি। অতঃপর আমরা যখন শত্রুর মুখোমুখি হই, তখন মুসলমানরা (আল্লাহর নবী ও তাঁর কিছু সাহাবী ব্যতীত) পিছু হটে (শত্রুর কাছ থেকে)। আমি দেখতে পাই যে, পৌত্তলিকদের এক লোক মুসলমানদের এক লোক-কে পরাভূত করেছে। তাই আমি পৌত্তলিক-টিকে তার গলার পেছন দিক থেকে আঘাত করি, যার ফলে তাঁর বর্মটি কেটে যায়। পৌত্তলিক-টি আমার দিকে অগ্রসর হয় ও আমাকে এমন ভাবে চেপে ধরে যে, আমার মনে হয় যে আমি যেন মারা যাচ্ছি। অতঃপর, মৃত্যু তাকে গ্রাস করে ও সে আমাকে ছেড়ে দেয়। অতঃপর, আমি উমর-কে অনুসরণ করি ও তাকে বলি, “লোকগুলোর সমস্যা কী?” সে বলে, “এটি আল্লাহর আদেশ।”

অতঃপর, মুসলমানরা (তাদের পলায়নের পর যুদ্ধ ক্ষেত্রে) ফিরে আসে ও (শত্রুদের পরাস্ত করার পর) আল্লাহর নবী বসে পড়েন ও বলেন:

“যে কেহ কোন অবিশ্বাসী-কে হত্যা করবে ও এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ উপস্থিত করতে পারবে, সেইই হবে তার ‘সালব’ (অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির সম্পদ, যেমন: পোশাক-পরিচ্ছদ, অস্ত্র-শস্ত্র, ঘোড়া, ইত্যাদি)।”

আমি (উঠে দাঁড়াই ও) বলি, “কে আমার সাক্ষী হবে?” ও অতঃপর আমি বসে পড়ি। অতঃপর আল্লাহর নবী তাঁর প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করেন। অতঃপর তিনি একই কথা বলেন (তৃতীয় বার)। আমি উঠে দাঁড়াই ও বলি, “কে হবে আমার সাক্ষী?” ও অতঃপর আমি বসে পড়ি। আল্লাহর নবী আবারও তাঁর পূর্বের প্রশ্ন-টি করেন। তাই আমি উঠে দাঁড়াই। আল্লাহর নবী বলেন, “হে আবু কাতাদা, কী ব্যাপার?” তাই আমি তাঁকে সম্পূর্ণ ঘটনা-টি বর্ণনা করি। এক লোক বলে, “আবু কাতাদা সত্য বলেছে ও মৃত ব্যক্তি-টির ‘সালব (Salb)’ আমার কাছে আছে; সুতরাং অনুগ্রহ পূর্বক আবু কাতাদা-কে আমার পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের অনুমতি দিন।” আবু বকর বলে, “না! আল্লাহর কসম, এটি কখনই হবে না যে আল্লাহর নবী আল্লাহর সিংহদের একজন-কে, যে আল্লাহ ও তার রসুলের কারণে যুদ্ধ করে, বঞ্চিত করে তার ভাগের লুণ্ঠিত-সম্পদগুলো তোমাকে দান করবেন।” আল্লাহর নবী বলেন, “আবু বকর সত্য বলেছে। (এই যে লোকটা) তাকে সেগুলো (লুণ্ঠিত-সম্পদ) ফেরত দাও।” অতএব, সে আমাকে সেগুলো প্রদান করে ও তার মাধ্যমে (অর্থাৎ, লুণ্ঠিত সম্পদ) আমি বানু সালামা গোত্রের (জমি-তে) একটি বাগান খরিদ করি। আর সেটিই ছিল আমার প্রথম সম্পত্তি যা আমি ইসলাম গ্রহণের পর পেয়েছি।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ও আল-তাবারী), আল-ওয়াকিদি ও ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, হুনায়েন যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ যে অমানুষিক নৃশংসতার “সর্বপ্রথম দৃষ্টান্ত” স্থাপন করেছিলেন, তা হলো, “মানুষ হত্যায় নগদ-গনিমত প্রদান!” ইতিপূর্বে যুদ্ধ-জয়ের পর মুহাম্মদ গনিমতের যে ভাগাভাগি করতেন, তা ছিল, “তাঁর হিস্যায় প্রথমেই এক-পঞ্চমাংশ ও অতঃপর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের বাকি চার-পঞ্চমাংশ সমভাবে বণ্টন (কুরআন: ৮:৪১)! তা তাঁর কোন অনুসারী যুদ্ধক্ষেত্রে একজন লোক-কে হত্যা করুন, কিংবা দশজন, কিংবা কাউকেই নয়। হুনায়েন যুদ্ধে “গণিমতের বণ্টন” ছিল তার এই নিয়মের ব্যতিক্রম। অনুসারীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিশেষ প্রলোভন, “যে যত বেশী মানুষ খুন করতে পারবে, সে তত বেশী নগদ-গণিমত প্রাপ্ত হবে।” হুনায়েন যুদ্ধে তাঁর অনুসারীরা এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছিলেন। আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, আবু তালহা নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী একাই “বিশ জন” লোকের মালামাল লুণ্ঠন করেছিলেন, যাদের-কে তিনি হত্যা করেছিলেন।

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনায় মুহাম্মদ তাঁর এই সিদ্ধান্ত-টি জারী করেছিলেন, “যখন লড়াই শেষ হয়।”

ইমাম বুখারীর বর্ণনায় তা, “মুসলমানরা (তাদের পলায়নের পর যুদ্ধ ক্ষেত্রে) ফিরে আসে ও (শত্রুদের পরাস্ত করার পর)।” অর্থাৎ, ইমাম বুখারী তাঁর মূল বর্ণনায় “যখন লড়াই শেষ হয়” তথ্য-টি উদ্ধৃত না করে তা তিনি উল্লেখ করেছেন “ব্রাকেটে”, বোধকরি তার ব্যক্তিগত মন্তব্য হিসাবে।

অন্যদিকে, আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, মুহাম্মদ তাঁর এই সিদ্ধান্ত-টি জারী করেছিলেন, “যখন লোকজন পলায়নের পর ফিরে আসে।”

এখন প্রশ্ন হলো, আদি উৎসের এই তিন-টি বর্ণনার কোন-টি যৌক্তিক? লড়াই শেষ হওয়ার পর মুহাম্মদ কী কারণে তাঁর অনুসারীদের এই “বিশেষ প্রলোভন” জারী করবেন? কী উদ্দেশ্যে? তার চেয়ে এটিই কী বেশী যৌক্তিক নয় যে, মুসলমানরা পলায়নের পর যখন ফিরে আসেন তখন মুহাম্মদ তাঁদের উদ্দেশ্যে এই ঘোষণাটি দিয়েছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে তাঁরা “গনিমতের লোভে” মরণ-পণ যুদ্ধ করবেন?” – যা আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

হুনায়েনের যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ অমানুষিক নৃশংসতায় ধৃত-বন্দিদের বন্দি অবস্থাতেই “যুদ্ধের ময়দানে” বন্দি-হত্যার নৃশংসতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ইতিপূর্বে, বদর যুদ্ধে তিনি যে দুই জন ধৃত-বন্দিদের বন্দি অবস্থাতেই হত্যার নির্দেশ জারী করেছিলেন, তা ছিল যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রত্যাবর্তন কালে (পর্ব: ৩৫); ওহুদ যুদ্ধের পর তিনি যে তিনজন বন্দি-কে হত্যার নির্দেশ জারী করেছিলেন, তা ছিল যুদ্ধের ময়দান থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর (পর্ব: ৭১); খন্দক যুদ্ধের পর তিনি বন্দি অবস্থাতেই “বানু কুরাইজা গোত্রের লোকদের ওপর যে গণহত্যা চালিয়েছেন”, তা কোন যুদ্ধ ছিল না, ছিল প্রহসন (পর্ব: ৮৭-৯৫); খায়বার আক্রমণের পর তিনি বন্দি অবস্থাতেই সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাবের (পর্ব: ১৪২-১৪৪) স্বামী কিনানা বিন আল-রাবি বিন আবুল হুকায়েক-কে অমানুষিক নৃশংসতায় যে নিপীড়ন ও হত্যার নির্দেশ জারী করেছিলেন, তা ছিল যুদ্ধের পর তাঁদের পরিবারের ধন-ভাণ্ডারের সন্ধান জানার অভিপ্রায়ে (পর্ব: ১৪১)

মুহাম্মদ তাঁর স্ব-রচিত জবানবন্দি কুরআনে, সুনির্দিষ্ট ভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, ‘হুনায়েন যুদ্ধে তাঁর আল্লাহ, তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের সাহায্য ও সান্ত্বনার নিমিত্তে এমন এক অলৌকিক সেনাবাহিনী অবতীর্ণ করেছিলেন, “যাদের তোমরা দেখতে পাওনি (কুরান: ৯:২৬)।” অন্যদিকে, আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের সিরাত ও হাদিস গ্রন্থের বর্ণনায় আমারা জানতে পারি: হুনায়েন যুদ্ধের দিন-টিতে নবী মুহাম্মদের কিছু অনুসারী এই দাবী করেছেন যে, “তাঁরা এই অলৌকিক সেনাবাহিনী স্বচক্ষে দেখেছেন (পর্ব: ২০৫)!” নিশ্চিতরূপেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের এই সম্পূর্ণ বিপরীত-ধর্মী দাবী একই সাথে কখনোই সত্য হতে পারে না! মুহাম্মদের “৯:২৬-বানীটি” সত্য হলে হুনায়েন যুদ্ধে “ফেরেশতা-বাহিনী আগমনের” কোন চাক্ষুষ সাক্ষ্য থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং, হুনায়েন যুদ্ধে “ফেরেশতা-বাহিনী আগমনের” যিনি দাবীদার, তিনিই একমাত্র সাক্ষী-দাতা। তাই তা মুহাম্মদের সত্যবাদিতার “প্রমাণ” হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

সর্বোপরি, মুহাম্মদ যদি সত্যিই বিশ্বাস করতেন যে তাঁর আল্লাহ আসমান থেকে ফেরেশতা-বাহিনী প্রেরণ করেছেন, তবে কোন তিনি তাঁর অনুসারীদের “বন্দি হত্যা ও নয়া নগদ-গনিমতের প্রলোভনের” নির্দেশ জারী করবেন?

নিশ্চিতরূপেই মুহাম্মদের এই নয়া বন্দি হত্যা ও নগদ-গনিমত প্রলোভনের অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হলো, “অবিশ্বাসীদের নির্বিচারে হত্যা ও তাদের অন্তরে ত্রাস-সৃষ্টি!” হুনায়েন যুদ্ধে এই ঘটনা-টিই ঘটেছিল! অর্থাৎ, হুনায়েন যুদ্ধে মুহাম্মদ বিজয়ের প্রকৃত কারণ হলো, “তাঁর সন্ত্রাস!”

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই):]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

‘He said: ‛Abdullah b. ‛Amr b. Zuhayr related to me from ‛Umar b. ‛Abdullah al-‛Absī from Rabī‛a, who said: A group of our community who attended, at that time, related to me saying: —-
Abū Qatāda used to relate: When we met, the Muslims were being defeated. I saw two men fight, a Muslim and a polytheist, and the polytheist was above the Muslim. I went around him until I came to him from behind and struck him on the sinew between his neck and shoulder. He came to me and embraced me such that I smelled on him the breath of death. He almost killed me but that the blood drained from him. He fell, and I killed him and departed, leaving his booty. I met ‛Umar b. al-Khaṭṭāb, and said, “What is the matter with the people?” He replied, “It is the command of God.” Then indeed the people returned, and the Messenger of God said, “Whoever kills an enemy and has proof, his booty belongs to him.” So I stood up and said, “Who will give evidence for me?” Then I sat down. Then he said, “Whoever makes a killing and he has proof, to him belongs his booty.” So I stood up and said, “Who will be my witness?” Then I sat down. Then the Messenger of God said, “Whoever makes a killing and has proof, to him belongs his booty.”

‛Abdullah b. Unays testified for me. Then I met al-Aswad b. al-Khuzā‛ī and he testified for me. And all of a sudden, my companion who took the booty no longer denied that I had killed the polytheist. I narrated the story to the Prophet—and he said, “O Messenger of God, the booty of that dead is with me and so I will satisfy him.” And Abū Bakr said, “This, by God, will never be. [Page 909] Do not approach one of the lions of God who fight about God and His messenger. He will hand over to you his booty.” The Messenger of God said, “He is honest. Give it to him.” Abū Qatāda said, “He gave it to me.” Ḥāṭib b. Abī Balta‛a said, “O Abū Qatāda, will you sell me the weapons?” So I sold them to him for seven Awāq. Then I came to Medina and purchased an orchard of date palms from the Banū Salama with it called al-Rudaynī. It was the first property that I obtained in Islam. We continue living from it to this day of ours.—–
They said: the killing of the Banū Naṣr and then of the Banū Ribāb intensified. ‛Abdullah b. Qays—he was a Muslim—began saying, “O Messenger of God, the Banū Ribāb are destroyed.” He said: The Messenger of God said, “O God, relieve their misery!” —-

He said: Usāma b. Zayd related to me from al-Zuhrī from ‛Abd al-Raḥmān b. Azhar, who said: I saw the Prophet in Ḥunayn pass through the men, asking them about the situation of Khālid b. al-Walīd, while I was with him. At that time a youth was brought and the Prophet commanded those who were with him to strike him with whatever was in their hands, and he scattered dust on him.’—

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৭১-৫৭৫
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] অনুরূপ বর্ণনা-আল-তাবারী, ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ১৩- ১৬
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৯০৬-৯১০ ও ৯২২; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৪৫-৪৪৬ ও ৪৫২:
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] ইশাক বিন আবি তালহা ছিলেন একজন আদি মদিনা-বাসী মুসলমান (আনসার)। তিনি ৭৪৯-৭৫০ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

[5] আনাস বিন মালিক ছিলেন একজন সাহাবী ও সর্বাধিক পরিচিত মুহাদ্দিসদের একজন। তিনি ৭০৯-৭১১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দশ বছর বয়সের সময়, মুহাম্মদের হিজরতের পর, তাঁর মা তাঁকে ভৃত্য হিসাবে নবী মুহাম্মদ-কে প্রদান করেন।

[6] নবী মুহাম্মদ তাঁর স্ব-রচিত জবান-বন্দি কুরানের অসংখ্য বাক্যে আল্লাহর নামে তাঁর প্রতিপক্ষ-কে “অভিশাপ বর্ষণ” করেছেন। এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা – পর্ব: ১১-১২:
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOejFmTXhTdk5zNDA/view

[7] অনুরূপ বর্ণনা – সহি বুখারি. ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৬১০:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-610/

Narrated By Abu Qatada: We set out along with the Prophet during the year of (the battle of) Hunain, and when we faced the enemy, the Muslims (with the exception of the Prophet and some of his companions) retreated (before the enemy). I saw one of the pagans over-powering one of the Muslims, so I struck the pagan from behind his neck causing his armor to be cut off. The pagan headed towards me and pressed me so forcibly that I felt as if I was dying. Then death took him over and he released me. Afterwards I followed ‘Umar and said to him, “What is wrong with the people?” He said, “It is the Order of Allah.” Then the Muslims returned (to the battle after the flight) and (after overcoming the enemy) the Prophet sat and said, “Whoever had killed an Infidel and has an evidence to this issue, will have the Salb (i.e. the belonging of the deceased e.g. clothes, arms, horse, etc).” I (stood up) and said, “Who will be my witness?” and then sat down. Then the Prophet repeated his question. Then the Prophet said the same (for the third time). I got up and said, “Who will be my witness?” and then sat down. The Prophet asked his former question again. So I got up. The Prophet said, What is the matter, O Abu Qatada?” So I narrated the whole story; A man said, “Abu Qatada has spoken the truth, and the Salb of the deceased is with me, so please compensate Abu Qatada on my behalf.” Abu Bakr said, “No! By Allah, it will never happen that the Prophet will leave a Lion of Allah who fights for the Sake of Allah and His Apostle and give his spoils to you.” The Prophet said, “Abu Bakr has spoken the truth. Give it (the spoils) back to him (O man)!” So he gave it to me and I bought a garden in (the land of) Banu Salama with it (i.e. the spoils) and that was the first property I got after embracing Islam.

[8] অনুরূপ বর্ণনা – সহি বুখারি. ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৬১১
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-611/

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1