বিষফোঁড়াঃ কওমি মাদরাসার শিশু ধর্ষণ উপাখ্যান!

কওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় এক অন্ধকার অধ্যায়ের নাম সমকামিতা। ঠিক সমকামিতা বলা চলে না, কারণ জোর পূর্বক শিশুদের সাথে সহবাসকে শিশু ধর্ষণ বলা হয়। বইয়ের লেখক এই অজানা অধ্যায়ের পোস্টমর্টেম করেছেন কলমের কালি দিয়ে। যৌন অবদমনের এই অধ্যায় প্রকাশ্যে অাসে না ধর্মীয় ভয়ে। কিন্তু ধর্মীয় ভীতি গুড়িয়ে যায় যৌন চাহিদার কাছে। মানুষের এই বিকৃত যৌন চাহিদার শিকার হয় কওমি মাদরাসায় পড়া ছোট্ট শিশুরা। কারণ কওমি শিক্ষা ব্যবস্থায় অাবাসিক থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা হয়। তখন সদ্য যৌবন প্রাপ্ত যুবকের কাছে অথবা যৌন উত্তেজক শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয় মাদরাসায় পড়তে অাসা ছোট শিশুরা। সাইফুল বাটেন টিটু এই অধ্যায়কে সবার সামনে এনেছেন বিষফোঁড়া বইয়ের মাধ্যমে।

 

সর্বপ্রথম কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু হয় ১৮৬৬ সালে ভারতে। এটি কোন সরকার প্রচলিত শিক্ষা কাঠামো নয়। সাধারণত স্থানীয় মুসলমানদের অর্থে পরিচালিত হয় কওমি মাদরাসা। হযরত মোহাম্মদও কোন ধর্মীয় শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলে যাননি। কিন্তু বর্তমান সময়ে ধনী মুসলিমেরা প্রচুর পরিমাণে অর্থ দান করছেন মসজিদ মাদরাসায়। সাধারণত দেখা যায়, যে সমস্ত মানুষ অন্যায় পথে টাকা উপার্জন করেছেন তারা শেষ বয়সে অাত্মগ্লানিতে ভোগে। অার শেষ বয়সে পাপ ক্ষয় করতে সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হয়। অার গড়ে তোলে মসজিদ মাদরাসা। কওমি মাদরাসা গুলো অনেকটা এভাবে গড়ে উঠেছে, ঐ সব মানুষের টাকায় চলে। লেখক এসব বিষয়ের খুব চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন এই বইয়ে। বইটি পাঠে অাপনার এমন বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা হবে।

কওমি মাদরাসায় এই যে শিশু ধর্ষণ হয় এগুলোর কারণ অন্মেষণ করেছেন লেখক। মানুষের যৌন চাহিদা পূরণের কোন সুযোগ না থাকায় যে এমন হয় তার কারণ সুস্পষ্ট। পরিবার থেকে দূরে একজন মাদ্রাসা শিক্ষকের বসবাস। ধর্মীয় বিধিতে কারণে হস্তমৈথুন কিংবা পতিতালয় গমন নিষেধ। হাজার বছর অাগে অরবে যেমন শিশুদের সাথে সহবাস করা হতো তেমনি পথ বেঁছে নিচ্ছেন তারা। কিন্তু বইয়ের শিশু ধর্ষণ বর্ণনা যৌন উত্তেজক নয়। এই সাবলীল বর্ণনার কারণে লেখক প্রসংশা পাওয়ার যোগ্য।

কওমি মাদরাসায় এমন ঘটনা ঘটে অহরহ। কিন্তু সাহস করে বলতে পারে ক জন। টুকটাক শুনেছি কিন্তু এমন বিষদ বিষয়ে জানার অাগ্রহ ছিলো প্রবল। লেখক এই উপন্যাস সেইসব ঘটনা ব্যাখ্যা করে যা ধর্মীয় অাড়ালে ঢাকা। ধর্মীয় অধ্যায় যেন কলুষিত না হয় সে জন্য এ সকল বিষয় সামনে অাসা প্রয়োজন বলে মনে করি। যেন সমস্যার সমাধান ঘটে। কিন্তু লেখক এই বইয়ে সমস্যার কোন সমাধান টানেনি। তাই এই সমস্যার সমাধান অবশ্যই অাপনাদের কাছে।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2