সফিকদের মত অসহায়ের জন্য যুগে যুগে জন্ম নিয়েছেন আতিক সাহেবরা-

প্রতিদিন ই মসজিদে নামাজের জন্য প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে, অন্তত মাগরিবের নামাজের সময়। কিন্তু আজ খুব কম মানুষ এসেছে। হয়তো বৃষ্টি হচ্ছে তাই।মাগরিবের নামাজ শেষে বের হচ্ছেন আতিক সাহেব,হঠাৎ তার কানে একটি বাচ্চার কান্নার আওয়াজ এল। তিনি একটু অবাক হলেন কারণ নামাজ পড়ার পর তিনি খেয়াল করেছেন যেই ২০-২৫ জন এসেছে তাদের মধ্যে কোন বাচ্চা ছিল না। আতিক সাহেব জুতো খুলে রাখলেন এবং সেই আওয়াজের খোজ করতে লাগলেন। অবশেষে অজুঘরের পাশে, ছাদে উঠার সিড়ির নিচে খুজে পেলেন এক শিশুকে। কান্না করছে সে।শিশুটির কান্না থামাতে চেষ্টা করলেন তিনি।কিন্তু পাড়লেন না। এই ফুট ফুটে শিশুটিকে কে এভাবে ফেলে রেখে গেল ভাবছেন তিনি । শিশু টিকে ফেলে কি করেই যাবেন তিনি! এক পর্যায়ে মসজিদের ইমাম সাহেব কে জানালেন।ইমাম সাহেব মসজিদের মাইক দিয়ে শিশুটি প্রাপ্তির সংবাদ ঘোষণা করলেন। ঘন্টা খানেক সময় পাড় হয়েছে কেউ এখনও খোজ নিতে আসে নি শিশুটির।
বৃষ্টি থেমে গেছে,কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে নবজাতক শিশুটিও।আতিক সাহেব এখনও ভাবছেন কি করে একটি শিশুকে কেউ ফেলে রেখে যেতে পাড়ে।কতটুকু নির্দয় হলে এমন করা যায়।মসজিদের আজানের শব্দে ঘোর ভাঙ্গল তার। এশার নামাজের সময় হয়ে গেছে,মসজিদে লোক সমাগম ঘটছে।কিন্তু বাচ্চাটি নেবার জন্য কেউ আসছে না।বাচ্চা টিকে রেখে নামাজ শেরে নিলেন তিনি। ইমাম সাহেব নামাজের আগেই সবাই কে থাকার জন্য ঘোষণা দিয়েছিলেন,বাচ্চাটিকে নিয়ে আলোচনা হবে তাই। নামাজ শেষ। অনেকেই চলে যাচ্ছে , কারো জন্য কারো সময় নেই, ব্যস্ত এই জীবন। মহল্লার কিছু মুরব্বী ও কিছু মধ্য ও ছোট বয়সী দর্শক রয়ে গেছে। ইতি মধ্যে এই নবজাতক নিস্পাপ শিশুটি অবৈধ স্বীকৃতি পেয়ে গেছে।আসলে অন্যের সম্বন্ধে খারাপ কথা ছড়াতে আমরা খুব ভালবাসি তো।
আলোচনা শুরু হল। কি করা হবে শিশুটির। কে রেখে গিয়েছে,কেউ কিছু বলতে পারছে না।অনেকে আবার বলছে এইটি অন্য কারো পাপের ফল।কেউ আবার তার প্রতিবাদ করে বলছে দরিদ্র পিতা-মাতা তার সন্তানের ভার বহন করতে পারবে না তাই হয়তো এখানে রেখে গেছে। তার জবাবে একজন বয়স্ক লোক বলে উঠলেন– এই অবৈধ শিশুর ভার কে নেবে আপনি নিবেন? নেন না। এর মধ্যে সুযোগ পেয়ে কেউ নারীর সম্বন্ধে কিছু বলে ফেলল।কেউ নারীদের পড়া লিখা করতে বিভিন্ন স্থানে পাঠান সেটাকে দায়ী করল এর জন্য।কিন্তু সেই শিশুটির দায় কেউ নিচ্ছেন না।
আতিক সাহেব শুনছে কথা গুলো আর সেই দিন গুলোর কথা ভাবছেন, আজ থকে ত্রিশ বছর পূর্বেও হয়তো এমনই হয়েছিল যখন তাকে মসজিদে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন।মনে মনে ধন্যবাদ দিচ্ছেন রাহাত সাহেব কে,তিনি না থাকলে হয়তো তাকে আজ পথ শিশু হয়ে থাকতে হত।এই সুন্দর জীবনের জন্য রাহাত সাহেব কে ধন্যবাদ দিলেন তিনি।
এক পর্যায়ে মুরব্বীরা সিদ্ধান্ত নিলেন শিশুটিকে অনাথ আশ্রমে পাঠানো হবে,আতিক সাহেবের কাছে মতামত জানতে চাইলেন মসজিদের ইমাম। ইমাম সাহেবের ডাকে তিনি বাস্তবতায় ফিরে এলেন। আতিক সাহেব এর আপত্তি করলেন, শিশুটিকে নিজের কাছে রাখবেন এ কথা জানালেন। ইমাম সাহেব সবার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন এতে কারো আপত্তি আছে কিনা। না কেউ আপত্তি জানালেন না।
আতিক সাহেব বাচ্চা টিকে বাসায় নিয়ে গেলেন।তার স্ত্রী ভীষণ খুশি হলেন কারণ একজন নিঃসন্তান নারী বুঝেন মাতৃত্বের স্বাদ কি! বাচ্চাটির নাম দিলেন সফিক।
সফিকের এখন পাচ বছর বয়স।নিজের সন্তানের মতই সফিককে পালন করে আতিক সাহেব ও আতিক সাহেবের স্ত্রী।এ কাজের জন্য অনেকেই তাদের প্রশংসা করেন ।আবার তাদের অবর্তমানে অনেক লোকেই অনেক কথা বলেন,উপহাস করেন,ঠাট্টা করেন।কিন্তু এদের পড়োয়া করেন না মি. এন্ড মিসেস আতিক।দুই বছর হল তাদের একটি কন্যা সন্তান ভুমিষঠ হয়েছে। দুই সন্তানকে নিয়ে এভাবেই প্রশংসা ও সমালোচনার মধ্যে দিয়ে চলছে তাদের জীবন। এর নামই তো মনুষ্যত্ব এটাই তো মানবতা।

সফিকের মত এমন নিস্পাপ অসহায়ের জন্য যুগে যুগে এই আতিকেরা জন্মগহণ করেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৩ thoughts on “সফিকদের মত অসহায়ের জন্য যুগে যুগে জন্ম নিয়েছেন আতিক সাহেবরা-

  1. লেখায় আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে।
    লেখায় আগের চেয়ে উন্নতি হচ্ছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: তবে বানান ভুল এখনও গেলো না। :মাথাঠুকি:
    গল্পে নিজের নাম দেইখা :দেখুমনা:

    1. আতিক ভাই নাম পাই নাই, কি আর
      আতিক ভাই নাম পাই নাই, কি আর কারার আপনার নাম ই চালিয়ে দিলাম!! 😀 :নৃত্য: :নৃত্য: আর আমি আজ এত বার রিভিউ করলাম তাউ ভুল :কানতেছি: :কানতেছি: তাহলে আমি বানান ই জানি না ঐ শব্দ গুলোর, এক টূ ধরিয়ে দিয়েন
      আর কষট করে পড়েছেন তাই ধন্য বাদ

    2. আতিক ভাই, আপনার কাছ থেকে
      আতিক ভাই, আপনার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আপনি যে মনুষ্যত্ব দেখালেন তা আমাকে আবেগ আপ্লুত করে ফেলেছে। ভাবীকেও ধন্যবাদ আপনার সাথে সাথে একইভাবে মনুষ্যত্বের তরী এগিয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য। 😀 😀 😀

  2. বানান ভুল ছাড়াও আরেকটা জিনিস
    বানান ভুল ছাড়াও আরেকটা জিনিস আছে,গল্পের মাঝামাঝি সময়ে আতিক সাহেব হঠাত্‍ করে ‘তিনি’ থেকে ‘সে’ হয়ে গেছেন

    1. আপনাকে ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে
      আপনাকে ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য। দেখুন ঠিক করেছি। আরোও কোথাও থাকলে বলুন
      পড়ার জন্য ধন্যবাদ

  3. কোন কাহিনী বর্ণনা করেছেন এমন
    কোন কাহিনী বর্ণনা করেছেন এমন মনে হল। সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত গল্প নয় এটি।
    আর বানান তো আছেই…
    লেখার জন্য বেশি করে পড়তে হয়।
    আপনি মনে হয় পড়েন না?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

99 − 95 =