শ্রাবণের মেলা

আজকের আকাশ টা রৌদ্রজ্বল। আকাশে মেঘ নেই। সকালে সুর্যি মামার ঘুমা ভাঙ্গার পর পর ই জানালা দিয়ে সূর্যের কিরণ শ্রাবণের চোখের উপর পরল। কিছু ক্ষণ পর ই ঘুম ভেঙ্গে গেল ওর। ঘুম ভাঙ্গতেই এক রহস্যময় হাসি ওর মুখে। এক মৃদু হাসি। কি যেন মনে করে খুশি হচ্ছে ও । রৌদ্রজ্বল দিন হলেও পরিবেশ টা ভালই ছিল। জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছে ও। সব কিছু শান্ত , পরিষ্কার ও স্নিগ্ধ ছিল। গত কাল রাতে হয়তো বৃষ্টি হয়েছিল। বলা হয়নি তো আজ শ্রাবণ কেন এত খুশি। আজ শ্রাব্ণ মাসের এক তারিখ। ওদের গায়ের দিঘীটির পারে মেলা বসে এই দিনে। প্রতিবছরই হয়। গত বার ওর বাবা ওকে দুই টাকা দিয়েছিল তাতেই ও বেজায় খুশী। এবার ওর বাবা বলেছে চার টাকা দিবে। ও সেই কথা মনে করেই হাসছিল আর ভাবছিল কি কি করবে চার টাকা দিয়ে।
দশ এগার বছরের বালক শ্রাবণ। ঘুম থেকে উঠেই ওর মার কাছে জানতে চাইল ওর বাবা ফিরেছে কিনা। মার কাছে বলল সেই চার টাকার কথা। ওর মা ওকে আশ্বাস দিল। ওর বাবা ফিরে আসবে বলে। ওর বাবা গত তিন দিন ধরে নিঁখোজ ,বাজারে গিয়েছিল আর আসে নি। মন টা একটু খারাপ হল ওর। তবুও সেই চার টাকার কথা মনে করল আর ভাবতে লাগল কি কি করবে ও। ও ভাবতে ভাবতে সেই দিঘীর পাড়ে চলে গেল। আশ্চর্য! এখন ও একটা তাবুও গাথে নি কেউ। দিঘীতে একটা নৌকা ও নেই। কি হল সবার! কেউ কি আসবে না, এবার মেলা কি হবে না? গায়ের মানুষ গুলোও তো দেখা যাচ্ছে না । কোথায় সবাই। মেলা হবে না এই ভেবে ওর সকল পূর্বপরিকল্পনা ধূলিসাৎ হল। গত কাল আবার করিম শেখের সাথে দেখা হয়েছিল শ্রাবণের , করিম শেখ খুব ভাল ঝালমুড়ি বানায়।গত বার মেলায় শ্রাবণ এক টাকার মূড়ি খেয়েছিল।তাকে শ্রাবণ জিজ্ঞাসা করল – “কাকা কই যাও ,কাল মেলা তো তোমার দোকানের সব মুড়ি আমি শেষ করে দেব। “ কিন্তু জবাব এ করিম শেখ কিছু বলল না। শ্রাবনের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল কোথায় যেন । করিম শেখের সাথে তার পরিবার , মাখন লাল ঘোষ ও মাখনের পরিবার ও ছিল। আর দেখেনি ওদের।
কিন্তু তার চেয়ে আশ্চর্য ব্যপার দিঘীর পাড়ের মাঠটার উপর এগুলো লাল লাল কি যেন জমে রয়েছে। পচা গন্ধ বের হচ্ছে সেগুলো থেকে। শ্রাবন যখন ওখানে গেল পা পিছলে চিত পটাং হয়ে পড়ে গেল দিঘীর ভিতর, কিন্তু এগুলো কি? মানুষের মত দেখাচ্ছে। জামা কাপড় পড়া। লাল লাল কি যেন জামার উপর। এগুলো থেকে আবার দুর্গন্ধও বের হচ্ছে।
শ্রাবণ লাল সবুজ রং এর একটি শার্ট দেখল ঠিক ওর বাবার শার্ট টার মত। সেই শার্ট পরা বস্তুটি টেনে তুলল, দেখল এ যে ওর ই বাবা। কিন্তু এমন হল কি করে! বুকে যায়গায় যায়গায় কি যেন দাগ হয়ে আছে। হাত বাধা। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল ও। ভুলে গেল সেই মেলার কথা। কিন্তু কি করে হল ওর বাবার এই অবস্থা? তিন দিন আগে যখন বাজারে গিয়েছিল তখন তার বাবাকে ও আরো কয়েক জন কে ধরে নিয়ে গিয়েছিল কয়েক জন মিলিটারি। ওরা এই নিরহ বাঙ্গালি গুলোকে বেয়ানেট দিয়ে খুচিয়েছে। গুলি করে মেরে এই দিঘীর পারে ফেলে রেখে গেছে। অবুঝ শ্রাবণ তো আর সেই কথা বোঝে না।

**এভাবেই অনেক অবুঝ বালক তার বাবাকে হারিয়েছে,অনেক স্ত্রী বিধবা হয়েছে কিন্তু সে জানেই না। হ্যা এমন টিই হয়েছে এদেশে ৭১ রে। কিন্তু সেই হায়না যারা শ্রাবণের মত অবুঝ শিশুকে করেছে এতিম,আর মা দের করেছে বিধবা ,তারা এখন ও এই দেশে মুক্ত বাতাস নিচ্ছে,বিচার হয় নি এখন ও। হবে,এই নতুন প্রজন্ম করবে এই হায়নাদের বিচার। এর ই প্রতিক্ষায় রইলাম**

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “শ্রাবণের মেলা

  1. ভাল লাগল… এইটা কি
    ভাল লাগল… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: এইটা কি সত্য ঘটনা?
    যাইহোক! অপেক্ষায় থাকলাম এইসব হায়েনাদের ঝুলতে দেখব বলে…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 + = 57