*তরিক কেন এমন হয়েছিল*

তরিক খুবই মেধাবী ছাত্র। পঞ্চম শ্রনীতে ট্যলেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে সে। এখন সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে তরিক।রোল চার। গত বার্ষিক পরিক্ষায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে সপ্তম শ্রেনীতে উত্তীর্ন হয়েছিল।কিন্তু হঠাৎ কি যেন হল ৫-৭ মাস ধরে পড়া লেখার প্রতি মনোযোগ নেই তার।কেমন যেন উদাসীন! স্কুলে আসে জানালার কাছে একটি সিটে বসে থাকে,সারা দিন বাইরে তাকিয়ে কি যেন দেখে। কারো কোনো কথার জবাব দেয় না। একঘরে লোকের মত ক্লাসের এক কোনে বসে থাকে আর বাইরের দিকে দেখে। তরিক এখন সবার হাসির পাত্র। ওকে নিয়ে উপহাস করে সবাই। তরিকের সেই দিকে কোন মনোযোগ নেই,কোনো প্রতিবাদ ও করে না সে। এই পাঁচ-সাত মাস আগে যেই শিক্ষকেরা তরিকের প্রশংসায় ব্যস্ত থাকত তরিক আজ তাদের ই দুই চোখের বিষ!এমন কোন দিন বাদ যায় না যে তরিককে অপমান করে না কেউ।সবার মাথা ব্যথার কারণ এই ছেলে।প্রতিক্লাসে স্যার ম্যডামরা আসে আর ওকে অপমান করে,কত কিছু বলে। আর বলবেই না কেন বলুন এক ছেলে কে যদি কোন কথা জিজ্ঞাসা করা হয় আর সে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকে কেই বা তাকে আদর করবে।স্কুলে এসে কারো সাথেই কথা বলে না তরিক, ইদানিং আবার সিগারেট খাওয়া শুরু করেছে সে। শিক্ষকদের কানে এ কথাও এসেছে।এ নিয়েও উপহাস করেন তারা।যেই ছেলে সারা ক্লাস কে মাতিয়ে রাখতো,দুষ্টমি করত আবার পড়া লেখাতেও এগিয়ে থাকত সবার থেকে। কেন এমন হল সেই ছেল,সবার ই জানার আগ্রহ।কিন্তু কেউ স্নেহভরে হাত বাড়িয়ে দেয় না।সবাই শুধু শাসন করতে ই পারে।দিন দিন তরিক যেন আরো বেপোরোয়া হয়ে যাচ্ছে ক্লাস টাইমেও বাইরে তাকিয়ে থাকে,পড়ায় মনোযোগ নেই তার।জামা কাপড় প্রায়ই ময়লা থাকে।চুল এলোমেলো থাকে।

স্কুলে নতুন এক শিক্ষিকা এসেছেন। ক্লাস নেবার জন্য আজ সে তরিক দের ক্লাসে এসেছেন। প্রথমেই সবার সাথে পরিচিত হলেন তিনি।একে একে সবার নাম জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন।আর মজা করতে লাগলেন।পুরোক্লাস মাতিয়ে রাখলেন তিনি।পালাবদলে তরিক কে তার নাম জিজ্ঞাসা করলেন ম্যডাম। তরিকের কোন খবর নেই ম্যডাম যে তাকে ডাকছে।সে তার মত বাইরেই তাকিয়ে আছে।পাশে বসা ছেলেটি তরিক কে ডাকল দুই বার ডাক দেবার পর সে তাকাল। ছেলেটি বলল, “ম্যডাম তোকে ডাকছে” ম্যডাম তরিকে বলল , “কি এত দেখছ” আর মিষ্টি একটা হাসি দিল। ম্যডাম আবার তরিকের নাম জিজ্ঞাসা করল। কোন উত্তর নেই তরিকের। চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে সে।এদিকে ছেলেরা এই নিয়েও মজা করা শুরু করল,তারা বলল, “এ কথা বলে না ম্যডাম”! আরেক জন বলল ম্যডাম এটা আমাদের রোবট কিছু বলে না শুধু শুনে।তরিকের কোন পরিবর্তন নেই,নিশ্চল যন্ত্রের মত দাঁড়িয়ে আছে।এর মধ্যেই ঘন্টা বেজে উঠল ক্লাস টাইম শেষ।ম্যডাম বলল থাক তোমার নাম আরেক দিন জানব,চলে গেলেন তিনি।

এর পর দিন আবার আসলেন তিনি, তরিকের দিকে নজর পড়ল তার।আগের কথা মনে পড়ল।তরিক কে ডাকল নাম জিজ্ঞাসা করল তার এবার ও নিশ্চুপ তরিক! ম্যাডাম তরিক কে সিটে পাঠিয়ে দিলেন। সুন্দর একটা গল্প বলতে লাগলেন সারা ক্লাস নিশ্চুপ।সবাই ম্যডামের গল্প শুনছে মনোযোগের সাথে। কিন্তু তরিক বাইরে তাকিয়েই আছে।এই দিকে মনোযোগ নেই তার। যথারীতি ঘন্টা বাজল,ম্যডাম চলে গেলেন। টিচার্স রুমে সবার সাথে কথা বলতে বলতে তরিকের কথা বললেন। সব শিক্ষক শিক্ষিকারা অভিযোগের মেলা জুড়ে বসল ।

ম্যডাম এর পর দিন আবার ক্লাসে। তরিক কে আবার ডাকলেন , সেই চির চেনা নীরবতা । তরিক কে এবার প্রথম সারিতে বসালেন তিনি।এর পর সবাইকে পড়াতে লাগলেন একটূ পর পর তরিক কে পড়া নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন ।ম্যডাম একটু লক্ষ্য করলেন তরিকের চুল এলোমেলো। তরিক কে দাঁড়াতে বললেন নিজের ব্যাগ থেকে চিঁরুনী বের করে তরিকের চুল আচরে দিলেন।ক্লাস শেষ।
দুই দিন পর আবার ম্যডাম ক্লাসে আসলেন তরিককে আবার স্নেহের সাথে নাম জিজ্ঞাসা করলেন। বলল না সে।এবার ও নিশ্চুপ। টিফিন টাইমে তরিকে ডাকলেন ম্যডাম, ডেকে জিজ্ঞাসা করল টিফিন এনেছে কি না? কোন উত্তর নেই। এবার ম্যডাম নিজের টিফিন বক্স টা এগিয়ে দিয়ে খেতে দিল তরিক কে। তারিক খাচ্ছে না। ম্যডাম নিজেই তরিকের মুখে তুলে দিল খাবার। খাবার মুখে নিল তরিক। আর তরিকের চোখের কোন কেন জানি জল আসল! ম্যডাম তরিক কে জিজ্ঞাসা করলে কিরে কাঁদছিস কেন।তরিক কোন জবাব দিল না।চলে গেল তরিক।

এর পর দিন আবার তরিকদের ক্লাসে ম্যডাম আসল, আবার নাম জিজ্ঞাসা করল, তরিক এবার উত্তর দিল। তরিকের কথা শুনে সবাই অবাক, সবাই যেন ভুলেই গেছে যে তরিক কথা বলতে পারে। আজ তরিক আর বাইরের দিকে তাকিয়ে নেই। ম্যডামের দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছে সে।
ম্যডাম চলে গেলেন,সবাই এ নিয়েও উপহাস করলেন। তরিক হেসে দিল! অনেক দিন পর তরিকে হাসতে দেখল সবাই , অবাক সবাই – আজ তরিক হেসেছে!! আজ তরিক কথা বলেছে!!

এভাবে আস্তে আস্তে তরিক আবার আগের মত হয়ে গেল,এই মাত্র সে রেজাল্ট নিল প্রধান শিক্ষকের হাত থেকে ।তরিক আবার প্রথম হয়েছে মেধাতালিকায়।

গত বার্ষিক পরীক্ষার সময় তার মা অসুস্থ ছিল,ক্যন্সার হয়েছিল তার।তাই পড়ায় অতটা মন বসে নি তরিকের।তাই চতুর্থ হয়েছিল। এর কিছু দিন পর তরিকের মা মারা যায়। মারা যাবার আগে বলে গিয়েছিলেন – তরিক আমার জন্য চিন্তা করিস না, আমি আবার তোর কাছে আসব।তোর চুল আচরে দেব তোকে খাইয়ে দেব।আমি আসব।আর আমার কথা মনে পড়লে আকাশের দিকে তাকবি আমি সেখাইনেই থাকব।
তরিক এর জন্যেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত।যখন নতুন ম্যডাম তার দিকে স্নেহের হাত বাড়িয়ে দিলেন তরিক যেন তার মধ্যে নিজের সেই মা কে খুঁজে পেল।ম্যডামের স্নেহে তরিক আবার পূর্বের অবস্থা ফিরে আসতে সক্ষম হয়।

আমাদের স্কুল কলেজে এমন শিক্ষকদের ই অভাব। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার এই খারাপ অবস্থা,স্কুল কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপস্থিতি!গল্পটি আমি আমার প্রিয় শিক্ষিকা রাফাত ফেরদৌস ম্যডাম কে উৎসর্গ করলাম।উনিও গল্পের ম্যডাম টির মত।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩৫ thoughts on “*তরিক কেন এমন হয়েছিল*

    1. আপনার নাম চেঞ্জ হইল কেম্নে
      আপনার নাম চেঞ্জ হইল কেম্নে আমি তো জানতাম তরিক!! আপনাকে গত কাল বলেছিলাম আপনার নাম দেব তাই এই নাম …

      যাক ঠিক করে দেব

      1. মানে কি? কয় কি? আমারে
        মানে কি? কয় কি? আমারে ফাসাইলেন কেন? :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই: :আমারকুনোদোষনাই:
        জন্মের ৭ম দিন থেকেই আমার নাম তারিক লিংকন… 🙁

  1. লেখাটা নিঃসন্দেহে ভালো।
    লেখাটা নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু গল্পের স্টাইল মনে হলনা। মনে হচ্ছিলো আপনি কোন সামাজিক সমস্যা নিয়ে প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে তরিকের প্রসঙ্গ এনেছেন। ডকু ড্রামাতে যেমনটা হয় আরকি। আপনি ভালো গল্প লিখতে চাইলে প্রচুর গল্প পড়ুন। কাজে দেবে। ম্যাডাম বানান ভুল হয়েছে সবখানে। তরিক অনেক জায়গাতেই তরি হয়ে গেছে। গল্পের মূল চরিত্রের নামের বানান ভুল হইলে হবে?
    অনেক মাস্টারগিরি করলাম। এবার আসল কথা কই- আপনার লেখায় ধীরে ধীরে হলেও উন্নতি হচ্ছে। (উফফ আবারও মাস্টারগিরি… :মাথানষ্ট: )

    1. আমার একজন মাস্টার প্রয়োজন .।
      আমার একজন মাস্টার প্রয়োজন .। অনেক সমস্যা হয়! আমি নিজে আরেক জনকে দিয়ে রিভিউ করে তার পর দিয়েছি তারপর ও ভুল আসলে ভুল থেকেই যায় .। ভাই ধন্যবাদ বলার জন্য কিছু দিনের মধ্যে ঠিক করে দেব .।

      আগের গুলো ঠিক করে দিয়েছি .। ভাই ইদানং কেমন যেন মাথায় গল্প আসতেছে না!!! আইডিয়া আর টপিক দেন কিছু

  2. ভালোই তো লাগল পড়তে! তবে আতিক
    ভালোই তো লাগল পড়তে! তবে আতিক ভাই যেটা বলেছেন সে বিষয়টার প্রতি লক্ষ্য রাখার কথা আমিও বলবো।
    Keep up the good work!

  3. আলোচনা সমালোচনা পোস্ট এর
    আলোচনা সমালোচনা পোস্ট এর রিভিউ সব হইয়া গেছে গা । আমি লেট পাবলিক । তাই আর কি কমু – ভাল্লাগছে কিন্তু ! 😀 😀 😀 😀

      1. আমি ফাঁকিবাজ!!!!
        আমি ফাঁকিবাজ!!!! :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :শয়তান: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য: :নৃত্য:

        1. ব্রহ্মপুত্র কই? উনি অবশ্যই
          ব্রহ্মপুত্র কই? উনি অবশ্যই এখন মুখ খুলেছেন…
          :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
          :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি: :পার্টি:
          মোশফেক ভাই… অসুস্থতার পর স্বরুপে আবির্ভূত হতে আর কতদিন?

          1. আসলে লিঙ্কন ভাই এই মাসে আমি
            আসলে লিঙ্কন ভাই এই মাসে আমি কোন মন্তব্য করছি নাহ । খেয়াল করে দেখেছেন নিশ্চয় । এই মাসে আমি মাত্র ৩১ টা মন্তব্য করেছি তার বেশিরভাগ নিজের পোস্ট এর প্রতিমন্তব্য ।

  4. গল্পটা ভাল হ​য়েছে। কিন্তু
    গল্পটা ভাল হ​য়েছে। কিন্তু প​ড়তে গিয়ে ক্লাস ফাইভ বা সিক্সের টেক্স্টবুকের একতা গল্পের কথা মনে প​ড়ে গেল আর সঙ্গে সঙ্গে মনে হল যে টেক্স্টবুক প​ড়ছি। ওমনি আগ্রহ গায়েব হ​য়ে গেল​। তাই পুরাটা প​ড়িনাই ভ​য়ে যদি আবার গল্পের উপর বেস করে প্রশ্ন থাকে!! রাগ কইরেন না।

    1. প্রশ্ন থাকলে করবেন তাতে
      প্রশ্ন থাকলে করবেন তাতে সমস্যা কি?
      আর আপনি কোন গল্পের কথা বলছেন আমি জানি না ., এটা আমার নিজের লেখা সম্পূর্ন নিজের লেখা নিজের চিন্তা -কল্পনা থেকে লেখা

      1. প্রশ্ন আমার করার কথা বলিনাই।
        প্রশ্ন আমার করার কথা বলিনাই। আমার মনে হল যে গল্প শেষে পাঠ্যবইয়ের মত প্রশ্ন, অবজেকটিভ, ব্যাখা থাকবে। পরে নাই দেখে মহা খুশি হইয়াছি।

    2. প্রশ্ন থাকলে করবেন তাতে
      প্রশ্ন থাকলে করবেন তাতে সমস্যা কি?
      আর আপনি কোন গল্পের কথা বলছেন আমি জানি না ., এটা আমার নিজের লেখা সম্পূর্ন নিজের লেখা নিজের চিন্তা -কল্পনা থেকে লেখা

  5. যথা সম্ভব এটাই আপনার লেখার
    যথা সম্ভব এটাই আপনার লেখার স্টাইল। গল্প আকারে সামাজিক ব্যাপারগুলো উপস্থাপন করতে চান।
    লিখতে থাকুন। এক সময় আশা করি ভালো হয়ে যাবে।
    তাড়াহুড়ো করবেন না। ভেবে চিনতে লিখুন। :গোলাপ:

    1. হ্যা আমি বাস্তবতা তুলে ধরার
      হ্যা আমি বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা নিয়ে লিখি .,

      কারণ গল্পের মাধ্যমে যেমন ধারণ সৃষ্ট করা যায় প্রতিবেদনের মাধ্যমে তেমন হয় না.।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − 34 =