জয়িঃ ০৩

ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে ধোয়াটে হয়ে গেছে জয়ির কাছে। সেই রাত, বিচ্ছিন্ন সময়টুকুও কেমন অস্ফুটভাবে কোথায় হারিয়ে গেছে। আজকাল মিঠুনের মুখটা, আবয়বটাও মনে নেই, জীবন বড় অদ্ভুত!! নিরন্তর সময়ের সাথে বসবাস আর অভিযোযনের নামই জীবন। এই তো, শুভ্রের সাথে দেখা না হলেও কি মিঠুনের কথা আজ মনে পড়তো?

শুভ্র, একটা ভাইভা পরীক্ষায় পরিচয় হয়েছিলো। বেশ স্মার্ট ছেলে, গুছিয়ে কথা বলে। তবু প্রথম পরিচয়ের সংকোচ কাটাতে বেশ সময় নিয়েছে ছেলেটা। তার সাথে অনেক কথা হয়ে গেছে, হয় আজকাল। ঘন্টার পর ঘন্টা আবোল তাবোল কত কিছুই। একটা সময় জয়ি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারতো না; মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা কোন প্রয়োজন ছাড়াই কথা বলতে পারে। কিন্তু, এখন মনে হয় সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়, যদি আরেকটু সময় পাওয়া যেতো! বড় অদ্ভুত জীবনের এই সমীকরণ। শুভ্র জয়িকে ভালবেসে ফেলেছে। জয়িও তাই কোন কিছুই বলতে বাদ রাখেনি তার কাছে।

সে রাতের কথা শুনে তো শুভ্রের ভিড়মি খাবার দশা। কিভাবে উদ্ভ্রান্তের মত রাস্তায় হাটছে, হাটছে, কতক্ষণ হেটেছিল, কোথায় যাচ্ছিলো, মনে নেই। এক সময় একটা রিক্সা এসে জানতে চাইলো কোথায় যাবে, দম দেয়া পুতুলের মত বলেছিল শেখেরটেকঃ আশৈশব শুভাকাংখি একজন আঙ্কেলের বাসা। বাবা মারা যাবার পর থেকে তিনিই জয়িদের খুজ খবরটা নিয়েছেন, দুঃসময়ের অভিভাভক। আঙ্কেলের বাসায় কখন পৌছেছিল মনে নেই, রিক্সাতেই জ্ঞান হারিয়েছিল জয়ি। সকালে জ্ঞান ফেরার পর বুঝতে পারে আঙ্কেলের বাসা।

বাড়ি থেকে মা আসলো। মজার বিষয়, কি হয়েছে এ নিয়ে কেউ জয়িকে প্রশ্ন করেনি। কেমন অদ্ভুতভাবে বুঝে গেছে সবাই, তার ছিড়ে গেছে, ছেড়া তার আর জোড়া দেয়া যাবে না, দিতে চাইলে হয়ে যাবে গেড়ো। গেড়ো বারবার মনে করিয়ে দেয়, এক সময় তার ছিড়ে গেছিলো। মাসখানেক পর মিঠুনের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলো।

কোর্ট-কাচারী, মামলা কিছুই হয় নি। মিঠুন কোন অভিযোগ করেনি। হয়তো সে মুক্তি চেয়েছে, অথবা ধরেই নিয়েছে মন্ত্রী মহোদয়েরা জয়িদেরকে তাদের অংকশায়িনি করেই ছাড়েন। হয়ত মিঠুনও কোন একদিন বড় নেতা হয়ে যাবে, কোন এক রাতে অন্য কোন জয়িকে তার বিছানায় নেবে।

– আচ্চা শুভ্র, পুরুষের কাছে নারীর শরীর ছাড়া কি আর কোন সম্পদ নেই? নারী কি শুধুই শরীর সর্বস্ব একটা জিনিস? নারীর কি স্বকিয়তা বলে কিছু নেই?
– আমি কি করে বলব? আমি তো নিজেকে একজন নারীবাদী বলে দাবী করি। আমার কাছে নারী পুরুষ আলাদা কোন কিছু বিষয় না, মানুষ।
– তবে যে ঘন্টার পর ঘন্টা আমার সাথে আছো, একি শুধুই মানুষকে জানার জন্য? আমার নারীত্বের কোন প্রভাব নেই? শুভ্র, মিথ্যে বলো না, জীবনকে আমি তোমার থেকে একটু হলেও বেশি জানি।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১৪ thoughts on “জয়িঃ ০৩

  1. পৃথুদার গল্প আজ প্রথম পড়লাম।
    পৃথুদার গল্প আজ প্রথম পড়লাম। অসাধারণ বচনভঙ্গী
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. অনেকদিন পর ইস্টিশনে এসেই
    অনেকদিন পর ইস্টিশনে এসেই আপ্নার গল্প পেলাম, ভাল হয়েছে পৃথুদা! আতিক ভাই এর মত আমারো একি চাওয়া-নদীটারে সাগরে পরিণত করেন।

    1. ইদানিং খুব ব্যস্ত থাকি। আমি
      ইদানিং খুব ব্যস্ত থাকি। আমি পরিণত করার কেউ না, সময়ই বলে দেবে নদী সাগর হবে? না কি মোহনাতেই নদীর অস্তিত্ব বিলীন হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 7 =