সুবিধাবাদী মুসলমান | ইকরামুল শামীম

হায় মুসলমান….!!!

ঈমান-আকীদা বিকৃত করে চলি তবুও আমরা নিজেদের মুসলমান দাবী করি। যা ফেতনার অন্তর্ভুক্ত। আর ইসলাম ধর্ম অনুসারে ফেতনা হচ্ছে কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ।

বাংলাদেশের মুসলমানদের সুবিধাবাদী বললে দোষের কিছু নেই। আমরা নিজ স্বার্থের জন্য ধর্মতো যথাতথা, নিজ চরিত্র বিসর্জন দিতেও দ্বিধাবোধ করি না।

ইসলাম ধর্মে গান-বাজনা সম্পূর্ণ হারাম। তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি দাখিল মাদ্রাসাগুলো শুরু হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত দিয়ে। আর ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক তথা আলেমরা মসজিদের ঈমাম হোন, জুমাবারে বয়ান করেন ” আমরা মুসলমান “। যদি তাদের প্রশ্ন করেন, কেন আপনারা লাইনে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইবেন? আপনারাতো মুসলিম! তাহলে একজন মুসলিম হয়ে কিভাবে মুশরিকের রচিত গান গেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুরু করেন? উত্তরে বলবে রাষ্ট্রীয় আইন, মানতে বাধ্য। একজন মুশরিকের গানও তাহলে ইসলামে জায়েজ হয়ে গেল। ইসলাম ধর্মে কোথায় লেখা আছে মুশরিকদের রচিত গান যদি সরকার বাধ্য করে তা মানতে হবে?

আমরা যদি বোরকা প্রথা সংস্কারের কথা বললে হয়ে যাই নাস্তিক অথচ অমুসলিমদের রচিত বই পড়ে আমরা আজ বিজ্ঞানী, সমাজসেবক, পন্ডিত এবং বৃটিশদের আইনে অনুগত।

আমরা দুর্নীতিবাজ মুসলমান, ঘুষখোর নামাজী, সুদখোর নামাজী, যেনাকারী নামাজী, মিথ্যাবাদী-ভন্ড প্রতারক নামাজী এবং গীবতকারী নামাজী। অন্যের অনিষ্ঠকারী তবে নামে আমি মুসলমান।

পৃথিবীতে একটি মাত্র ধর্ম, যে ধর্ম পুরোপুরি কুসংস্কারে ভরপুর। আর তা হচ্ছে হিন্দু ধর্ম। আর এই হিন্দু ধর্মের সংস্কৃতির প্রায়ভাগ আমাদের মুসলমান ভাই-বোন পালন করে থাকেন। নিজ পরিবার, নিজ সমাজের দিকে তাকিয়ে দেখেন দেখতে পাবেন তাদের সংস্কৃতির আসনে আপনি অধিষ্ঠিত।

এইদেশের মুসলমানদের জন্য সব জায়েজ তবে যদি আপনি মুক্তমনা হয়ে বলেন বা করেন তাহলে তাদের দৃষ্টিতে আপনি নাস্তিক।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − 5 =