২০৯: হুনায়েন যুদ্ধ-৮: নবী মুহাম্মদের উদারতা- আবারও!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

হুনায়েন যুদ্ধের আলোচনা কালে ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা গর্বভরে যা বয়ান করেন, তা হলো: হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এই যুদ্ধকালে নারী ও শিশুদের প্রতি অতুলনীয় উদারতা ও সহানুভূতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বাস্তবিকই, আদি উৎসের প্রায় সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকই তাঁদের নিজ নিজ ‘সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে’ এ বিষয়ের বর্ণনা বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁদের সেই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, এই যুদ্ধের প্রাক্কালে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর অনুসারীদের প্রতি এই নির্দেশ জারী করেছিলেন যে, তারা যেন, “নারী ও শিশুদের হত্যা ও গর্ভবতী যুদ্ধ-বন্দিনীদের সাথে যৌনকর্ম না করে।” তাঁদের বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, এই যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ তাঁর পালিত বোনের (Foster sister) প্রতি অত্যন্ত সদয় ব্যবহার করেছিলেন। শুধু তাইই নয়, তিনি তাঁর এই পালিত বোনের ‘বিজাদ (Bijad)’ নামের এক ভাই-কে ও ক্ষমা করে দিয়েছিলেন! যে ভাই-টি এক মুসলমান-কে শুধু যে হত্যা করেছিলেন তাইই নয়; তাকে হত্যার পর বিজাদ তার লাশ-টি টুকরো-টুকরো করে কেটে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন!

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার: [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২০৮) পর:

‘আমাদের সহচরদের একজন আমাদের যা বলেছে, তা হলো: আল্লাহর নবী সেদিন এক স্ত্রীলোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার চারিপাশে লোকজন জড়ো হয়েছিল ও যাকে হত্যা করেছিল খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ। ঘটনা-টি জানার পর তিনি খালিদের কাছে এক বার্তা পাঠান, এই বলে যে,

সে যেন কোন শিশু, কিংবা নারী, কিংবা ভাড়াটে দাস-কে হত্যা না করে।

বানু সা’দ বিন বকর গোত্রের এক লোক আমাকে বলেছে:
‘সেদিন আল্লাহর নবী বলেছিলেন, “যদি তোমরা বানু সা’দ বিন বকর গোত্রের বিজাদ-কে (Bijad) ধরতে পারো, তবে যেন তাকে তোমরা তোমাদের কাছ থেকে পালাতে দিও না,” কারণ সে ভীষণ অন্যায় কাজ করেছে। মুসলমানরা তাকে ধরে ফেলে ও তারা তাকে তার পরিবারের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। তার সাথে ছিল (তাবারী: ‘তার বোন’), আল্লাহর নবীর পালিত বোন আল সেইমা বিনতে আল-হারিথ (তাবারী: ‘বিন আবদুল্লাহ) বিন আবদুল উজ্জা। [4]

তাকে [সেইমা-কে] তারা তার সাথে ধরে নিয়ে আসার সময় তার প্রতি কঠোর আচরণ করে। সে মুসলিমদের বলে যে সে আল্লাহর নবীর পালিত বোন, কিন্তু তারা তাকে আল্লাহর নবীর কাছে ধরে নিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাকে বিশ্বাস করে না।

ইয়াযিদ বিন উবায়েদ আল-সাদি [মৃত্যু: ৭৪৭-৭৪৮ সাল] আমাকে যা বলেছে, তা হলো:

‘আল্লাহর নবীর কাছে তাকে ধরে নিয়ে আসার পর সে দাবী করে যে, সে তাঁর পালিত বোন। যখন তিনি তাকে তার প্রমাণ হাজির করতে বলেন, তখন সে বলে যে, “তোমাকে কোলে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তুমি আমার পিঠে যে কামড় দিয়েছিলে তার দাগ।” আল্লাহর নবী সেই প্রমাণের সত্যতা স্বীকার করেন ও তার বসার জন্য তাঁর পোশাকটি প্রসারিত করে দেন ও তার সাথে সদয় আচরণ করেন। তিনি তাকে স্নেহ ও সম্মানের সাথে তাঁর সাথে থেকে যাওয়া, কিংবা উপঢৌকন সহ তার লোকদের কাছে ফিরে যাওয়া প্রস্তাবের যে কোন একটি বেছে নিতে বলেন। সে পরের প্রস্তাব-টি বেছে নেয়। বানু সা’দ গোত্রের লোকদের দাবী এই যে তিনি তাকে মাখুল (Makhul) নামের এক ক্রীতদাস ও এক ক্রীতদাসী প্রদান করেন; তারা একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, যাদের বংশধররা এখনও বিদ্যমান।’

হুনায়েন যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিল, তারা হলো:

(১) কুরাইশদের বানু হাশিম [মুহাম্মদের গোত্র] গোত্রের: ‘আয়মান বিন উবায়েদ।’ (আল-ওয়াকিদি: ‘আয়মান বিন উবায়েদ ছিল উম্মে আয়মানের পুত্র-সন্তান। সে ছিল নবীর কাছে আশ্রিত’ এক আনসার; বাল হারিথ বিন আল-খাযরাজদের অন্তর্ভুক্ত [পর্ব: ২০৩])।

(২) বানু আসাদ বিন আবদুল-উজ্জা গোত্রের: ইয়াযিদ বিন যা’মা বিন আল-আসওয়াদ বিন আল-মুত্তালিব। ‘আল-জানাহ’ নামের তার এক ঘোড়া তাকে ফেলে দেয় ও হত্যা করে। [আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় এই নাম-টি অনুপস্থিত; পরিবর্তে তিনি রুকায়াম বিন থাবিত বিন থালাবা বিন যায়েদ বিন লাওধান (Ruqaym b. Thābit b. Tha‛laba b. Zayd b. Lawdhān) নামের এক আনসারের নাম উদ্ধৃত করেছেন (পৃষ্ঠা: ৪৫২)]

(৩) আনসারদের মধ্যে: বানু আজলান গোত্রের ‘সুরাকা বিন আল-হারিথ বিন আদি’।

(৪) আশারিয়ানদের মধ্যে: আবু আমির আল-আশারি। [5]

হুনায়েনের যুদ্ধ-বন্দী ও তাদের সম্পদ-গুলো আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসা হয়। মাসুদ বিন আমর আল-ঘিফারি (আল-তাবারী: ‘মাসুদ বিন আমর আল-কারী’; আল-ওয়াকিদি: ‘বুদায়েল বিন ওয়ারাকা আল-খুযায়ি’) ছিল লুণ্ঠিত মালগুলোর তত্ত্বাবধানে। অতঃপর আল্লাহর নবী এই আদেশ জারী করেন যে, যুদ্ধ-বন্দী ও পশুগুলো-কে যেন ‘আল-জিরানা’ নামক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ও সেখানে তাদের পাহারা দিয়ে রাখা হয়। [6]

আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা: [2]

‘ইবনে হুমায়েদ <সালামাহ < ইবনে ইশাক হইতে বর্ণিত:
পরাজিত থাকিফের লোকেরা আল-তায়েফে গমন করার পর তারা তাদের শহরের দরজা-টি বন্ধ করে দেয় ও যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। উরওয়া বিন মাসুদ (‘Urwah b. Mas’ud) ও ঘায়েলান বিনা সালামা (Ghaylan b. Salamah), এই দুই জনের কেহই হুনায়েন যুদ্ধ ও তায়েফ দখল প্রত্যক্ষ করে নাই। (কারণ) তারা তখন জুরাশ নামক স্থানে Testudo (‘আল-দাববাদ ও আল-দুবুর’) ও Catapult (‘আল-মাজানিক’) যন্ত্রের ব্যবহার শিক্ষা করছিল। [7] [8] [9]

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

ইবনে আবি সাবরা আমাকে যা বর্ণনা করেছে, তা হলো, সে বলেছে:
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবি সা’সা আমাকে জানিয়েছে যে, সা’দ বিন উবাদা তখন খাযরাজ গোত্রের লোকদের চিৎকার করে ডাকছিল, “হে আল-খাযরাজ! হে আল খাযরাজ!” আর, উসায়েদ বিন হুদায়ের [ডাকছিল], “হে আল-আউস,” তিনবার। তারা চতুর্দিক থেকে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করছিল যে, মনে হয়েছিল তারা হলো মৌমাছি যারা তাদের নেত্রীর (রানী) কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছে। সে বলেছে: মুসলমানরা তাদের প্রতি ছিল ক্রুদ্ধ; তারা তাদের হত্যা করে ও শত্রুর শিশু-সন্তানদের হত্যার জন্য দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়। এটি আল্লাহর নবীর কাছে পৌঁছে ও তিনি বলেন:

“লোকদের কী হয়েছে যে তারা এমনকি শিশুদের ও হত্যা করতে যায়! নিশ্চিতই শিশুদের কখনই হত্যা করা উচিত নয়!” তিনবার বলেন।

উসায়েদ বিন হুদায়ের বলে, “হে আল্লাহর নবী, নিশ্চিতই তারা মুশরিকদের সন্তান?” আল্লাহর নবী জবাবে বলেন:

“তোমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে উত্তম তারা কী মুশরিকদের সন্তান নয়? প্রতিটি জীবন্ত প্রাণীর স্বভাবই সহজাত, যে পর্যন্ত না তার জিহ্বা তার অভিপ্রায় প্রকাশ করতে পারে। তাদের পিতৃপুরুষরাই তাদের ইহুদী বা খ্রিস্টান করে তোলে।” [পৃষ্ঠা ৪৪৫]। —

আল্লাহর নবী সুলায়েম গোত্রের লোকদের সম্মুখে প্রেরণ করেন, তাদের নেতৃত্বে ছিল খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ। আল্লাহর নবী এক মৃত মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার চারিপাশে লোকেরা সমবেত হয়েছিল। তিনি বলেন, “এটা কী?” তারা বলে, “একজন নারী, খালিদ যাকে হত্যা করেছে।” আল্লাহর নবী এক ব্যক্তি-কে হুকুম করেন যে সে যেন খালিদের নাগাল ধরে ফেলে ও তাকে বলে:

“আল্লাহর নবী তোমাকে অবশ্যই নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন।”

আল্লাহর নবী অন্য একজন মহিলা-কে দেখতে পান ও তার সম্বন্ধে জানতে চান। এক লোক বলে: “হে আল্লাহর নবী, আমি তাকে হত্যা করেছি। আমি তাকে আমার পিছনে বসিয়েছিলাম, সে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল; তাই আমি তাকে হত্যা করেছি।” আল্লাহর নবী বলেন যে, তাকে যেন কবর দেওয়া হয়।

তারা বলেছে: আল্লাহ যখন হাওয়াযিনদের পরাজিত করে, মুসলমানরা তাদের ধাওয়া করে ও হত্যা করে। —- আল্লাহর নবী সেই অঞ্চলে খানাতল্লাশি চালানোর হুকুম জারী করেন। অতঃপর তিনি তার অশ্বারোহী সেনাদল-কে বলেন, “যদি তোমারা বিজাদ-কে পাকড়াও করতে পারো, তবে তাকে পালাতে দিও না! সে এক মারাত্মক অপকর্ম করেছে!”

বিজাদ ছিল বানু সা’দ গোত্রের এক লোক। তার কাছে এসেছিল এক মুসলমান। বিজাদ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।

সে তার অপরাধ জানতো, সে পালিয়ে যায়। অশ্বারোহী বাহিনীর লোকেরা তাকে ধরে ফেলে। তার সাথে ছিল আল্লাহর নবীর পালিত বোন, সেইমা বিনতে আল-হারিথ বিন আবদ আল-উজ্জা। — [অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনে ইশাকের ওপরে বর্ণিত বর্ণনারই অনুরূপ]।

সে [সেইমা] ধর্মান্তরিত হয়।

আল্লাহর নবী তাকে তিন-টি ক্রীতদাস ও একটি ক্রীতদাসী প্রদান করেন। তাদের একজন-কে ডাকা হতো ‘মাখুল’ নামে। ক্রীতদাসী-টি এই ক্রীতদাস-কে বিবাহ করে।

আবদ আল-সামাদ বলেছে: আমার পিতা আমাকে জানিয়েছে যে, সে তার [সেইমার] সন্তান ও বানু সা’দ গোত্রের নাগাল পেয়েছিলেন। আল-সেইমা তার বাড়ি ফিরে আসে ও সেখানের মহিলারা তার সাথে বিজাদ সম্বন্ধে কথা বলে। তাই সে আল্লাহর নবীর কাছে প্রত্যাবর্তন করে ও তাঁর কাছে এই আর্জি করে যে, তিনি যেন বিজাদ-কে ক্ষমা করেন ও তাকে উপহার স্বরূপ বিজাদ-কে প্রদান করেন। তিনি তাই করেন।

অতঃপর তিনি তার জন্য এক কিংবা দুইটি উট নিয়ে আসার আদেশ দেন ও তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চান যে, তাদের মধ্যে আর কারা অবশিষ্ট আছে। সে তাঁকে তার বোন, তার ভাই ও তাদের আন্কেল আবু বারকান সম্বন্ধে অবহিত করায়। সে আল্লাহর নবীর সাথে তাদের সম্প্রদায় সম্বন্ধে কথা বলে। অতঃপর আল্লাহর নবী তাকে বলেন, “আল-জিরানায় ফিরে যাও, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে থাকবে; কারণ আমি আল-তায়েফ যাচ্ছি।” তাই সে আল-জিরানায় প্রত্যাবর্তন করে। আল্লাহর নবী আল-জিরানায় তার কাছে এসেছিলেন ও তার নিজের ও তার পরিবারের অন্যান্য অবশিষ্ট সদস্যদের জন্য প্রদান করেছিলেন গবাদি পশু ও ভেড়া। [পৃষ্ঠা: ৪৪৮-৪৪৪৯] —-

তারা বলেছে: সেই সময় মুসলমানরা দুইজন মহিলা-কে বন্দী করে। তারা তাদের সাথে সহবাস করতে দারুণ অপছন্দ করে এই জন্য যে তারা ছিল বিবাহিতা মহিলা। তারা এ বিষয়ে আল্লাহর নবী-কে জিজ্ঞাসা করে।

তখন আল্লাহ নাজিল করেন:
(তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ) বিবাহিত মহিলারা, ব্যতিক্রম হলো তারা যারা তোমাদের দক্ষিণ হস্তের অধিকারী [যুদ্ধ-বন্দিনী/দাসী; কুরআন: ৪:২৪]।

সেই সময় আল্লাহর নবী বলেন:
বন্দিনীদের মধ্যে যারা গর্ভবতী, তাদের-কে “মাড়ানো (trampled)” উচিৎ নয় যতক্ষণে না তারা সন্তান-প্রসব করে। বন্দিনীদের মধ্যে যারা গর্ভবতী নয়, তাদের ব্যাপারে তোমরা তার ঋতুস্রাব পর্যন্ত অপেক্ষা করো। [অনুরূপ বর্ণনা: সুন্নাহ আবু দাউদ, বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২১৫৩।] [10]

সেই সময় তারা নবীকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি জবাবে বলেন,
“গর্ভবতী হওয়ার জন্য সমস্ত ‘জল’ প্রয়োজনীয় নয়; আর যখন আল্লাহ তা ইচ্ছা করে, কোন কিছুই তাকে এড়াতে পারবে না।” [পৃষ্ঠা: ৪৫১]।

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো, হুনায়েন যুদ্ধের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ নিশ্চিতই “যুদ্ধ-বন্দি নারী ও শিশুদের হত্যার নিষেধাজ্ঞা” জারী করেছিলেন। আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনা ছাড়াও, আমরা মুয়াত্তা ইমাম মালিকের (৭১১-৭৯৫ সাল) বর্ণিত কমপক্ষে দুই-টি (বই নম্বর ২১, হাদিস নম্বর ৯ ও ১১); ও ইমাম মুসলিমের বর্ণিত কমপক্ষে পাঁচ-টি (বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর: ৪৩১৯, ৪৩২০; ৪৪৫৬; ৪৪৬০; ৪৪৬১) হাদিসে অনুরূপ বর্ণনা দেখতে পাই। [11]

প্রশ্ন হলো:
“অতর্কিত আগ্রাসী আক্রমণে যুদ্ধ-বন্দি নারী ও শিশুদের বাবা, চাচা-ফুপা, দাদা-নানা, ভাই, স্বামী ও অন্যান্য সকল প্রাপ্ত বয়সের পুরুষ আত্মীয় স্বজনদের অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করার পর; এইসব হতভাগ্য নারী শিশুদের হত্যা না করার নির্দেশ-কে কী মুহাম্মদের উদারতা ও মহানুভবতার দৃষ্টান্ত বলে আখ্যায়িত করা যায়?

ভুললে চলবে না, মুহাম্মদের আবিষ্কৃত মতবাদে এই সব যুদ্ধ-বন্দী নারী ও শিশুরা হলো, “মুসলমানদের অর্জিত সম্পদ; গনিমতের মাল!” যা তারা ব্যবহার করতে পারেন দাস ও যৌন-দাসী রূপে! বিতরণ করতে পারেন বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-অনাত্মীয় স্বজনদের মধ্যে! তাদের বিক্রয় করতে পারেন ও সেই বিক্রয় লব্ধ সম্পদে ধনী হতে পারেন অতি অল্প সময়ে! কোন সাধারণ বুদ্ধির মানুষও কী তাঁর অর্জিত এই মহামূল্যবান “গণিমত” ধ্বংস করে? যদি তারা তা না করে, তবে কী তাদের-কে “উদার ও মহানুভব” ব্যক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করা যায়?

সত্য হলো, ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতদের আরোপিত মুহাম্মদের এই সকল মহানুভবতার দাবী একান্তই হাস্যকর; যার আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে, মুহাম্মদের খায়বার আগ্রাসন (পর্ব: ১৪২); বানু আল-মুসতালিক আগ্রাসন (পর্ব: ১০১) ও তাঁর মদিনার নবী জীবনের বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা কালে। আদি উৎসের উপরে বর্ণিত যা সুস্পষ্ট হয়, তা হলো, “মুহাম্মদ ছিলেন ধীর-স্থির ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধির এক মানুষ!” তাঁর অনুসারীরা যখন উত্তেজিত হয়ে তাঁদের নিজেদেরই অর্জিত সম্পদ (গনিমত) ধ্বংস করা শুরু করেছিলেন, তখন মুহাম্মদ তা প্রতিহত করেছিলেন তাঁর নির্দেশের মাধ্যমে। এই সত্যতার প্রমাণ হলো, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিমের নিম্ন-বর্ণিত হাদিস-গুলো:

সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ২৫৬: [12]

‘আস-সা’ব বিন জাথথামা হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী আল-আবওয়া বা ওয়াদদান নামক স্থানে আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন ও তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, রাতের বেলায় পৌত্তলিক যোদ্ধাদের ওপর হামলার সময় যদি এই সম্ভাবনা থাকে যে তাদের স্ত্রী ও শিশুরা বিপদের কবলে আছে তবে তাদের ওপর আক্রমণ করা জায়েয কি না। আল্লাহর নবী জবাবে বলেন, “তারা (অর্থাৎ, নারী ও শিশুরা) তাদের (অর্থাৎ পৌত্তলিকদের) অন্তর্ভুক্ত।” —-
(অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই-১৯, হাদিস: ৪৩২১; ৪৩২২ ও ৪৩২৩।) [13]

অর্থাৎ, অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে হামলা-কালে যদি “নারী ও শিশুরা” তাঁদের মধ্যেই অবস্থান করে, তবে তাদের বিপদের সম্ভাবনা যত বেশীই থাকুক না কেন, তাদের-কে সহ হামলা করতে হবে। কারণ, তারা, “অবিশ্বাসীদেরই অন্তর্ভুক্ত!”

তালেবান, ইসলামিক স্টেট, বোকো-হারাম সহ প্রায় সকল ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনের ইসলামে নিবেদিত-প্রাণ সদস্যরা শিশুদের স্কুল সহ অন্যান্য জনসমাগমস্থল-গুলোতে বাছবিচারহীন (indiscriminate) হামলা পরিচালনা করে সাধারণ নিরীহ মানুষদের ওপর যে হত্যা যজ্ঞ চালান, তার আদি উৎস হলো মুহাম্মদের এই শিক্ষা!

পালিত বোন সেইমা বিনতে আল-হারিথ বিন আবদুল উজ্জার প্রতি নবী মুহাম্মদের উদারতা ও সহানুভূতির ওপরে বর্ণিত উপাখ্যানের বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারী যে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” তথ্যের কোন উল্লেখই করেন নাই তা হলো,

“সেইমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ!”

“নবী মুহাম্মদ ছিলেন দু’টি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী চরম মানসিকতার অধিকারী” এক ব্যক্তি। একদিকে অবিশ্বাসীদের প্রতি যেমন ছিল তাঁর সীমাহীন ঘৃণা, ত্রাস-হত্যা, আগ্রাসী হামলা, নৃশংসতা ও অমানবিকতা; অন্যদিকে অনুসারীদের প্রতি ছিল তাঁর অকৃত্রিম সহমর্মিতা, দায়িত্বজ্ঞান ও মানবিকতা” – মুহাম্মদের সাফল্যের চাবি-কাঠি ছিল এখানেই, যার বিস্তারিত আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব:১৭৯)। সুতরাং, ধর্মান্তরিত সেইমার প্রতি মুহাম্মদের এই অকৃত্রিম সহমর্মিতা, দায়িত্বজ্ঞান ও মানবিকতায় অবাক হওয়ার কোনই কারণ নেই। যদিও আদি উৎসের বর্ণনায় উল্লেখিত হয় নাই, তবুও প্রায় নিশ্চিত রূপেই ধারণা করা যায় যে, সেইমার ভাই বিজাদ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পরেই মুহাম্মদের কবল থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলেন।

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, হুনায়েন যুদ্ধে “মাত্র চার জন” মুহাম্মদ অনুসারী নিহত হয়েছিলেন, যার একজন তাঁর ঘোড়ার ওপর থেকে মাটিতে পড়ে (ইবনে ইশাকের বর্ণনা)। অর্থাৎ, “মাত্র তিন জন” মুহাম্মদ অনুসারী খুন হয়েছিলেন। অন্যদিকে এই যুদ্ধে ঠিক কতজন অবিশ্বাসী প্রাণ হারিয়েছিলেন তার সঠিক সংখ্যা আদি উৎসের বর্ণনায় কোথাও স্পষ্ট নয়। তবে বিভিন্ন উৎসের রেফারেন্সে ওপরে বর্ণিত বর্ণনা ও গত দুটি পর্বের বিস্তারিত আলোচনায়, আমার এ বিষয়ের কিছুটা ধারণা পেতে পারি।

“যখন হাওয়াজিনরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, থাকিফ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু মালিক গোত্রের লোকদের-কে পতাকার নীচে সত্তর জন (আল-ওয়াকিদি: ‘প্রায় একশত জন’) লোক-কে হত্যা করা হয়; আহলাফ-দের মাত্র দুইজন লোক-কে হত্যা করা হয়; বানু নাসর ও তারপর বানু রিবাব গোত্রের লোকদের ওপর হত্যাকাণ্ডের তীব্রতা বৃদ্ধি-প্রাপ্ত হয় ও আবদুল্লাহ বিন কায়েস নামের এক মুসলমান বলতে শুরু করে যে, বানু রিবাব গোত্র ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে; — সেই সময় এক যুবক-কে ধরে আনা হয়, মুহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গের অনুসারীরা তাকে হত্যা করে (পর্ব: ২০৭)। অতঃপর, অতি-বৃদ্ধ দুরায়েদ বিন আল-সিমমা-কে হত্যা; সালামা বিন আল-আকওয়া কর্তৃক গুপ্তচর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে হত্যা; আওতাসে আবু আমির কর্তৃক দশ জন লোক-কে হত্যা; অতঃপর আবু মুসা কর্তৃক আবু আমিরের হত্যাকারী-কে হত্যা (পর্ব:২০৮)। আর, ওপরে বর্ণিত বর্ণনায়, খালিদ বিন ওয়ালিদ কর্তৃক এক মহিলা-কে হত্যা ও অন্য একজন মুহাম্মদ অনুসারী কর্তৃক অপর এক মহিলা-কে হত্যা।”

অর্থাৎ, হাওয়াজিনদের নিহতের আনুমানিক সংখ্যা:

বানু মালিক গোত্রের = ৭০-১০০জন
বানু আহলাফ গোত্রের = ২ জন
বানু নাসর গোত্রের নিহতের সংখ্যা = ? (তীব্র আক্রমণ)
বানু রিবাব গোত্র নিহতের সংখ্যা = ? (ধ্বংস প্রাপ্ত)
এক যুবক-কে হত্যা = ১ জন
দুরায়েদ বিন আল-সিমমা হত্যা = ১ জন
সালামা বিন আল-আকওয়া কর্তৃক = ১জন
আওতাসে আবু আমির ও আবু মুসা কর্তৃক = ১১ জন
খালিদ বিন ওয়ালিদ কর্তৃক এক মহিলা = ১ জন
অন্য এক মুহাম্মদ অনুসারী কর্তৃক এক মহিলা = ১ জন
—————————–
মোট সংখ্যা = ৮৮-১১৮ জন+ বানু নাসর ? জন + বানু রিবাব গোত্র ধ্বংস!

আদি উৎসের প্রায় সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে, হুনায়েন যুদ্ধে অবিশ্বাসীরা আওতাস প্রান্তরে সমবেত হয়েছিলেন মুহাম্মদও তাঁর অনুসারীদের “আক্রমণের উদ্দেশ্যে”; আর তাঁদের সংখ্যা ছিল আনুমানিক বিশ হাাজার। অন্যদিকে মুহাম্মদের সঙ্গে ছিল ১২০০০ সশস্ত্র অনুসারী! এটি ছিল সম্মুখ যুদ্ধ! আর এই সম্মুখ যুদ্ধে ২০,০০০ সশস্ত্র অবিশ্বাসীদের একটি দল, ১২,০০০ সশস্ত্র মুসলমানের সাথে যুদ্ধ করে মাত্র “তিন-চার জন” মুসলমান-কে হত্যা করেছিলেন! অন্যদিকে, প্রথমাবস্থায় পলায়নের পর নবীর আর্তনাদে সাড়া দিয়ে, মাত্র ১০০জন মুহাম্মদ অনুসারী ফিরে এসে ২০,০০০ সশস্ত্র অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কমপক্ষে ১১৮জন অবিশ্বাসী-কে হত্যা করেছিলেন!

“এমন একটি উপাখ্যান ‘আরব্য উপন্যাসের’ সবচেয়ে উদ্ভট ঘটনা-কেও হার মানাতে বাধ্য!”

সুতরাং, ওহুদ-যুদ্ধের ঘটনা প্রবাহের মতই (পর্ব: ৬৯), আবারও প্রশ্ন: “কী ঘটেছিল তখন?” The Devil is in the Detail (পর্ব: ১১৩)!

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই):]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

‘Ibn Abī Sabra related to me and said: Muḥammad b. ‛Abdullah b. Abī Ṣa‛ṣa‛a related to me that Sa‛d b. ‛Ubāda was shouting at that time to the Khazraj, “O al-Khazraj! O al-Khazraj!” And Usayd b. Ḥuḍayr, “O al-Aws,” three times. They returned from every region as if they were bees seeking refuge with their leader (Queen). He said: The Muslims were angry at them and killed them until [Page 905] they hastened in killing children of the enemy. That reached the Messenger of God and he said, “What is the matter with people that they go killing even the children! Indeed, children should never be killed!” Three times. Usayd b. Ḥuḍayr said, “O Messenger of God, surely they are the children of polytheists?” The Messenger of God replied, “Are not the best of you children of polytheists? Every living creature has a natural disposition until his tongue can express his intentions. It is their fathers who make them Jews or Christians.” ——

The Messenger of God dispatched the Sulaym with his vanguard led by Khālid b. al-Walīd. The Messenger of God passed a dead woman, and the people gathered to it. He said, “What is this?” They said, “A woman whom Khālid killed.” The Messenger of God commanded a man to overtake Khālid and say, “Surely the Messenger of God forbade you to kill women and old men.” The Messenger of God saw another woman and asked about her, and a man said: I killed her, O Messenger of God. I seated her behind me, and she tried to kill me, so I killed her. The Messenger of God commanded that she be buried.

They said: When God defeated the Hawāzin the Muslims followed them and killed them. —- The Messenger of God ordered the search for the community. Then he said to his cavalry, “If you catch Bijād do not let him escape! He committed a grave misdeed.”

Bijād was from the Banū Sa‛d. A Muslim had come to him, and Bijād took him and cut him part by part and burned him in the fire. He knew his crime and he fled. The cavalry caught him attached to Shaymā bt. al-Ḥārith b. ‛Abd al-‛Uzzā, the foster-sister of the Messenger of God. ——She converted and the Messenger of God gave her three slaves and a slave girl. One of them was called Makḥūl. The slave girl married the slave.

‛Abd al-Ṣamad said: My father informed me that he reached her children with the Banū Sa‛d. Al-Shaymā’ returned to her home, and the women spoke to her about Bijād. So she returned to the Messenger of God and asked him to gift Bijād to her and to forgive him. He did. Then he ordered a camel or two for her and asked her who was left among them. She informed him about her sister and her brother and their uncle Abū Burqān. She told the Messenger of God about the community. Then the Messenger of God said to her, “Return to al-Ji‛irrāna and you will be with your community, for I am going to al-Tā’if.” So she returned to al-Ji‛irrāna. The Messenger of God came to her in al-Ji‛irrāna and gave her cattle and sheep, for herself, and for those who remained from the people of her house. —-

They said: The Muslims took two female prisoners at that time. They detested taking them for they were married women. They asked the Prophet about that, and God revealed: (Forbidden to you) are married women except those whom your right hand possesses. The Messenger of God said at that time: Pregnant women among the prisoners may not be “trampled” until they are delivered. As for a prisoner who is not pregnant, wait until she menstruates. They asked the Prophet at that time about birth control. He replied, “Pregnancy does not require all the ‘water,’ and when God desires it, nothing will prevent it.”

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৭৬
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] অনুরূপ বর্ণনা-আল-তাবারী, ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ১৮-২০
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩: পৃষ্ঠা ৯০৪- ৯০৫, ৯১২-৯১৪, ৯১৯ ও ৯২২; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা – যথাক্রমে ৪৪৫; ৪৪৮-৪৪৯; ৪৫১ ও ৪৫২:
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] আল-তাবারী: নোট নম্বর-১৩২: সেইমা বিনতে আল-হারিথ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল উজ্জা – ‘নবীর শিশুকালে সে তাঁকে কোলে নিয়ে থাকতো ও তাঁর দেখা-শোনা করতো।’

[5] আল-তাবারী: নোট নম্বর ১৪০: আশারিয়ান: ‘দক্ষিণ আরবের একটি গোত্র, যারা ছিলেন আল-আশার এর বংশধর; যার আসল নাম ছিল নাবিত বিন উবায়েদ বিন যায়েদ বিন ইয়াশজুব (Nabt b. Udad b. Zayd b. Yashjub)।

[6] ‘আল-জিরানা’: মক্কা থেকে ২৪ কিলো-মিটার দূরবর্তী তায়েফের রাস্তায় পাশে অবস্থিত একটি কুপ।

[7] উরওয়া বিন মাসুদ: ‘তিনি ছিলেন মুঘিরা বন শুবার আন্কেল ও তিনি বিবাহ করেছিলেন আবু সুফিয়ানের এক কন্যা-কে।’

[8] জুরাশ (Jurash): ‘আবহা (Abha) থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি স্থান।’

[9] Testudo: কাঠ ও চামড়া দিয়ে তৈরি এক ধরণের প্রতিরক্ষা যন্ত্র]; Catapult: দূরবর্তী স্থানে পাথর ও বর্শা নিক্ষেপে ব্যবহৃত এক ধরণের যুদ্ধাস্ত্র।

[10] অনুরূপ বর্ণনা: সুন্নাহ আবু দাউদ, বই নম্বর ১১, হাদিস নম্বর ২১৫৩:
https://quranx.com/hadith/AbuDawud/Hasan/Hadith-2153/

[11] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর: ৪৩১৯, ৪৩২০; ৪৪৫৬; ৪৪৬০; ৪৪৬১; মুয়াত্তা মালিক: বই নম্বর ২১, হাদিস নম্বর ৯ ও ১১:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-19/Hadith-4319/
https://quranx.com/hadith/Malik/USC-MSA/Book-21/Hadith-9/

[12] সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ২৫৬:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-52/Hadith-256/

Narrated As-Sab bin Jaththama: The Prophet passed by me at a place called Al-Abwa or Waddan, and was asked whether it was permissible to attack the pagan warriors at night with the probability of exposing their women and children to danger. The Prophet replied, “They (i.e. women and children) are from them (i.e. pagans).” —-.”

[13] অনুরূপ বর্ণনা: সহি মুসলিম: বই নম্বর ১৯, হাদিস নম্বর: ৪৩২১; ৪৩২২ ও ৪৩২৩:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-19/Hadith-4321/

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 − = 84