Delhi Crime : ধর্ষণের মনস্তত্ত্ব না বোঝা জাস্টিস

সকল প্রকার অপরাধের সঙ্গেই সামাজিক প্রেক্ষাপট কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তবে ধর্ষণ, খুনকে আমরা সামাজিক বিশ্লেষন না করে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, যার বা যাদের দ্বারা অপরাধ সংগঠিত হয় তাদেরকেই শাস্তির আওতায় নিয়ে আসি। এই যেমন ধরুন, মফিজ উদ্দিন বাস কন্ডাক্টর। গতকাল রাতে বাসে একটি মেয়েকে একা পেয়ে তার কামুকতা তীব্রতর হয় এবং সে তীব্রতার ছোঁয়ায় মনস্তাত্ত্বিকভাবি তার সঙ্গে থাকা ড্রাইভার আবুলকে কুপোকাত করে। এরপর তারা দুজন মিলে মেয়েটির সঙ্গে সেক্সুয়াল সম্পর্ক গড়তে চায়। স্বভাবতই মেয়েটি এ সম্পর্কে ইচ্ছুক নয়। ফলে মফিজ আর আবুল জোরপূর্বক মেয়েটির সঙ্গে সেক্সুয়াল সম্পর্ক করতে চায় এবং এক পর্যায়ে সেটা হয়। যেহেতু জোর করে, মেয়েটির অনিচ্ছায় এটি হয় তাই এটিকে সামাজিক ভাষায় ধর্ষণ বলে। এটি আইনের চোখে, সমাজের চোখে অপরাধ – ঘৃণিত কর্ম৷ ফলে ওই দুই অপকর্ম সংগঠক – মফিজ আর আবুলকে আইনের আওতায় এনে – প্রমাণাদির ভিত্তিতে শাস্তির আওতায় আনা হয়। কিন্তু ক্রিমিনাল সাইকোলজি বা সামাজিক মনস্তত্ত্ব কি এ অপরাধের জন্য এককভাবে মফিজ আর আবুলকে দায়ী করতে পারে? এ প্রশ্নের বিস্তারিত আলাপ হয়তো ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে পড়া কেউই বলতে পারবে। তবে সাধারণ জ্ঞান থেকে আমার মনে হয় না এই অপরাধে কেবল মফিজ আর আবুলই দায়ী। এখানে তাদের সমান অপরাধে অপরাধি সামাজিক সংস্কৃতি, শিক্ষা। কোনো অপরাধকে খোলা চোখে দেখা হয়তো সাধারণ মানুষের কাজ। কিন্তু আপনি যখন সে অপরাধ নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে যাবেন এবং সে সিদ্ধান্ত সমাজে একটা প্রভাব ফেলে। তাই আপনি উপর উপর অপরাধ দেখে কোনো সিদ্ধান্তেই আসতে পারেন না।

উপরোক্ত এতগুলো কথা বলার কারণ কয়েকদিন আগে ‘ Delhi Crime’ নামক একটি ওয়েব সিরিজ দেখলাম৷ সেখানে ৬ জন বাস সংশ্লিষ্টদের দ্বারা একজন মেয়ে গ্যাং রেপ এর শিকার হয়। রেপ এর ভয়াবহতা বর্ণনায় মারাত্মকভাবে ফুটে উঠে। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ধর্ষকদের ধরার জন্য হন্যে হয়ে যায়। বিশেষ করে ডিসিপি ভারতিকা। এদিকে পুরো দেশের জনগণ বিশেষ করে মেমবাতি হাতে দাঁড়ানো যাদের দায় তাদের আন্দোলন, উপর মহলের চাপে শেষমেশ সাতদিনের মধ্যে ধর্ষকদের গ্রেফতার কার হয়। সিরিজটি দিল্লিতে ঘটে যাওয়া একটি ধর্ষণকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ঘটে যাওয়া ঘটনায় যেভাবে তৎপর হয়ে ওই ছয়জন ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়, পোক্ত মামলা দায়ের করা হয় তা কি আদতে সমাজের অন্যস্তরের ধর্ষকদের জন্য প্রযোজ্য? নাকি ওই ছয়জন নিচুস্তরের বলেই সম্ভব হয়েছে? এমন প্রশ্ন থাকবে। কিন্তু আমার বক্তব্য সে সব নিয়ে নয়। আমার প্রশ্ন হলো আজকে একজন বা একাধিক লোক ধর্ষণ করলো, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়া হলো এতেই কি ধর্ষণ কমে যাবে? যাবে না তো! তাহলে কি করলে ধর্ষণকে শেঁকড় থেকে নির্মূল করা যায়? আমি বলছি না ধর্ষকদের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকতে। আবার এও বলছি না কেবল ধর্ষকদের শাস্তি দিলেই ধর্ষণ কমে যাবে বা নাই হয়ে যাবে। ধর্ষণ বা খুনের মত সামাজিক অপরাধগুলো আজকাল, দু/একদিনে হয়ে যায় না। ধীরে ধীরে সমাজে ক্যান্সারের মত ছড়ায়। আমাদের দেশে প্রকাশ্যে সেক্সুয়াল বা নারী-পুরুষের শরীরের অংগ নিয়ে আলোচনা হলে লজ্জায় আমাদের মুখ লাল হয়ে যায়৷ অথচ আমরাই মোবাইলে ফ্রি পর্ণ দেখি এবং তা দেখে কামুকতা অনুভব করে হস্তমৈথুন করি! এটাকেও পরোক্ষভাবে ধর্ষণ বলা যায় বা ধর্ষণের মানসিকতা গড়তে পর্ণ এবং হস্তমৈথুন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে এ ধরণের অপরাধকে নির্মূল করতে সামাজিক শিক্ষার প্রচুর প্রয়োজন৷ বিশেষ করে ছোটবেলা থেকে এসব বিষয়গুলো নিয়ে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে। যেমন নারীর স্তন, যোনী সহ গোপনাঙ্গগুলো শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতই। এছাড়া কিশোর বয়সে শরীরে যে পরিবর্তনগুলো দেখা দেয় তা নিয়ে বন্ধুর মত বাবা-মা সহ পরিবারের বড়দের উচিত আলোচনা করা। যাতে তারা এ বিষয়গুলোকে সাধারণ বিষয়ের মত নিতে পারে৷ এই বিষয়গুলো আপনি আজকালই সমাজে প্রয়োগ করে ফল পাবেন না৷ বিষয়গুলো প্রয়োগ হবে একটি প্রজন্মের উপর৷ তারা এটি গ্রহন করবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম আসার পর থেকে ফল পাওয়া যাবে। সুতরাং ধর্ষকদের ফাঁসি দাও, লিঙ্গ কেটে ফেলো টাইপের কথাবার্তা বলা কোনো সমাধাণ নয়। হয়তো ফাঁসির বা লিঙ্গ কর্তনের সংস্কৃতি চালু হয়ে গেলে ভয়ে কেউ ধর্ষণ করবে না৷ কিন্তু এমন একটি প্রজন্ম জন্মাবে যারা কল্পনাতে প্রতি নিয়ত ধর্ষক হয়ে গড়ে উঠবে৷ ফলে এটা কোনো জাতির জন্যই সুখকর হবে বলে মনে হয় না। তাই অপরাধকে গভীর থেকে গভীরতর জায়গায় গিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বিবেচনায় ক্রিমিনাল সাইকোলজি, সমাজ বিজ্ঞান ইত্যাদির সমন্বয়ে অপরাধকে মূল থেকে নির্মূল করতে সচেষ্ট হতে হবে৷

Delhi Crime ওয়েব সিরিজের একটি দৃশ্য

 

মোমবাতি হাতে দাঁড়াবার দায় হয়তো আপনার, আমার আছে৷ বা কি মানুষের থাকবে বা থাকতে হবে এমন দস্তখত কেউ দেয় নাই। ফলে সামাজিকতার শিক্ষায় যদি ধাক্কা দিতে না পারেন এসব মেমবাতি হাতে দাঁড়াবার দায়, ধর্ষকের ফাঁসি, লিঙ্গ কর্তন সংস্কৃতি থেকে বের হওয়া সম্ভব নয় এবং একটি ধর্ষক প্রজন্ম গড়ে উঠা এসব করে আঁটকানো যাবে না।

এই যে ‘Delhi Crime’ কেবল একটি ঘটনাকে প্রাধান্য দিলো। এতে কোনো লাভ হলো? আমরা দর্শকরা টানটান উত্তেজনা, শ্বাসরুদ্ধকর কয়েক ঘন্টা সময় অতিবাহিত করলাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধর্ষিত হওয়া দীপিকা মেয়েটির জন্য ‘আহারে!’ শব্দ নিক্ষেপ করলাম। কি হবে? শেখার বা ভাবার মত কোনো খোঁড়াক এ সিরিজ থেকে পেয়েছি? পাই নি৷ কিন্তু এই সিরিজটিই একটি উৎকৃষ্টমানের সিরিজ হতো যদি ক্রিমিনাল সাইকোলজি নিয়ে বিস্তর আলাপচারিতা হতো। মানুষের সামনে সামাজিক শিক্ষার একটি দ্বার উন্মোচিত হলেই বরং সিরিজটি নিয়প আরো ভালো ভাবে ভাবা যেতো এবং এটিই হয়তো হতো এই শতাব্দির অগ্রপথিক!
এখন সিনেমা, নাটক আপনি কেনো করবেন তা আপনার দায়৷ আমি দর্শক হিসেবে এ নিয়ে আলাপ করতেই পারি৷ আমার মতামত, পরামর্শ দিতেই পারি৷ সে জায়গা থেকে আমার ভাবনার প্রকাশ ঘটিয়পছি এ লেখায়। আমি কাউকে ওথ বাতলে দিতে চাই না, সে দায়ও আমার নেই। বরং আপনারা ভাবুন। কিভাবে সমাধাণ আসবে। ভাবতে চেষ্টা করলেই বরং আমার লেখার স্বার্থকতা।
আজ তবে ইতি টানলাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “Delhi Crime : ধর্ষণের মনস্তত্ত্ব না বোঝা জাস্টিস

  1. The cleansing firm executes cleaning of spaces of numerous dimensions and setups.

    We offer professional maid service midtown for private customers. Utilizing European tools as well as accredited devices, we attain maximum results and also provide cleansing quickly.

    The business’s experts provide cleaning with the help of modern technologies, have unique equipment, and also have certified cleaning agents in their toolbox. Along with the above benefits, red wines use: beneficial prices; cleaning quickly; premium quality results; more than 100 positive evaluations. Cleaning workplaces will certainly help maintain your office in order for the most productive job. Any kind of firm is extremely vital atmosphere in the team. Cleaning solutions that can be purchased cheaply currently can assist to prepare it and provide a comfortable room for labor.

    If required, we leave cleaning the kitchen 2-3 hrs after putting the order. You obtain cleaning up as soon as possible.

    We provide discount rates for those that use the service for the very first time, along with favorable regards to participation for routine clients.

    We supply top notch cleaning for large enterprises as well as tiny firms of different instructions, with a discount rate of up to 25%.

    Our friendly group uses you to obtain accustomed with desirable terms of teamwork for corporate clients. We sensibly approach our activities, clean utilizing expert cleaning items and also customized tools. Our workers are educated, have medical books as well as recognize with the subtleties of eliminating complex as well as hard-to-remove dust from surfaces.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 92