সকলে বলেন আমিন !

ভারতে যদি অদূর ভবিষ্যতে কখনও দার-উল-ইসলাম কায়েম করতে সক্ষম হয় কুলাঙ্গার ইসলামিস্টরা, তবে সেটা সফলভাবে কায়েম করতে তাদের প্রধান সহযোগী হবে ভারতীয়, বিশেষ করে বাঙালি তথাকথিত সেকুলার বিদ্বজনেরা। এই কথাটা শুনেই নিশ্চই ভুঁরু কুঁচকে ফেলেছেন, আপনাদের অনেকেই ? কোনো কিছু অনুধাবন এবং সেটা যাচাই না করে, কোনো স্টেটমেন্ট করিনা। উপরক্ত বক্তব্যটা লেখার পেছনে অনেক কারণ আছে। আজকের এই দিন পর্যন্ত এই আপাত সেকুলার থুড়ি, সেকুলাঙ্গার বিদ্বজনেরা এই ভারতে দার-উল-ইসলাম কায়েমের প্রচেষ্টায়, ইসলামিস্টদের হাত অনেকটাই শক্ত করে ফেলেছে সেকুলারিসিমের ভণ্ডামি এবং যথেচ্ছা নষ্টামি করে। আমি বলি, আপনারাই মিলিয়ে দেখুন :

১৯৭১ সালে যুগান্তর পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায় ‘এই প্লেগ’ নামে একটি প্রবন্ধে লিখেছিলেন : “এ দেশে মুসলমান বিদ্বেষ এপিডেমিক হয়ে গেছে। এখানে এমন একটি দল আছে যারা পারলে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেবে, না পারলে ভারত সংস্কৃতির আওতায় আনবে।” আমি একজন ভারতের স্বাধারণ নাগরিক, আমি দল টল বুঝি কম, কিন্তু আমার এই স্বল্প বুদ্ধিতে আমার মস্তিষ্কে একটা রূপরেখা একদম স্পষ্ট : জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে ‘ভারত সংস্কৃতি’ কেই আত্বিক করে নিতে হবে। এই অন্নদাশঙ্কর রায়ই আবার ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের আষাঢ় মাসের ‘বুলবুল’পত্রিকায় তার লেখা ‘অবাঞ্ছিত ব্যবধান’ লেখায় বলেছেন : ‘ঐক্য জিনিসটা organic;হাড়ের সঙ্গে মাংস জুড়লে যেমন মানুষ হয়না, তেমনি হিন্দুর সঙ্গে মুসলমান জুড়লে বাঙালি হয়না, ভারতীয় হয়না।’ অন্নদাশঙ্করের মত প্রখ্যাত সেকুলার বিদ্বজনের এই দ্বিচারিতা কেন ? এটা কি ভারতের গন্ডির বাইরে বেরিয়ে বিশ্ব বাঙালির দরবারে জনপ্রিয় হওয়ার তাগিদ থেকে ? ভারতের গন্ডির বাইরে একচেটিয়া বাঙালিয়ানার ঠেকা তো আবার বাঙালি মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ নিয়ে রেখেছে ! তারা ভারতের বাঙালি এই সেকুলার বিদ্বজন অন্নদাশঙ্কর রায়কে কি চোখে দেখেছিল ? ‘মাহেনও’নামে তখনের ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানের পবিত্র বাসভূমি পাকিস্তানের একটি সরকারী পত্রিকায় জুলাই ১৯৫০ সালের একটি সংখ্যায় করাচি শহরে বাঙালিরা নজরুল জয়ন্তীর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত করে। প্রতিবেদনে নজরুলের ছবির পাশে অনুদাশঙ্কর রায়ের একটি ছড়া ছাপানাে হয় :
“ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
আর সব কিছু ভাগ হয়ে গেছে
ভাগ হয়নিকো নজরুল। ”
ব্যাস ! অধুনা স্বাধীন বাংলাদেশ তথা সেদিনের পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি মুসলমান বুদ্ধিজীবীরা তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ফেঁটে পরলো। ১৩৫৭ বঙ্গাব্দের ‘তাহজীব’ পত্রিকার শ্রাবন সংখ্যায় পাকিস্তানের প্রতি ব্যাঙ্গোক্তিচিত ছড়া প্রকাশ করে কোনো হিন্দুরা লেখা প্রকাশ করার জন্য মাহেনও’ পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে, সরকারী অর্থ ধ্বংস করার জন্য, তুলোধুনা করা হলো। রবীন্দ্রনাথ কোরান-হাদিস পড়েছিলেন কিনা বা পরে জেনেছিলেন কিনা যে, মুসলমানের কাছে বিধর্মীরা কেবল ঘৃণার পাত্র, সে কথা আমার জানা নেই, তবে অনুদাশঙ্কর যা বুঝতে পারেননি, রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন : মুসলমানের ভৌগোলিক সীমানায় দেশাত্ববােধ নেই আর এই মনোভাব তিনি প্রকাশও করেছিলেন- ”হিন্দু-মুসলমানের মিলন অসম্ভব-প্রায় করে তুলছে আর একটি প্রধান ব্যাপার, তা হচ্ছে এই যে, মুসলমানের ভৌগােলিক সীমাবদ্ধ দেশাত্ববােধ নেই।”থাকবে কি করে ? কোরান যে মুসলমানকে শেখায় পৃথিবী দুভাগে বিভক্ত- মুসলমানের ভূমি এবং অমুসলমানের ভূমিতে।

বাঙালিকে যতই বলো আর যতই লেখো, মাথায় যতক্ষণ না হ্যামার মারবে, সে কিছুতেই সহজ সত্য বুঝতে পারবেনা। লেখাটার এই পর্যন্ত পড়ে, আমাকে ট্যাগের হিড়িক পরে গেছে : ‘চাড্ডি’, ‘হিন্দু নাস্তিক’ ইত্যাদি। বলি, থামরে ! এইবারে একটা সত্য তুলে ধরি মাথায় হ্যামার মারতে : এপার বাংলার আরেক সেকুলাঙ্গার বিদ্বজন, গৌরকিশাের ঘােষ ‘৯২সালে বিহারের ভাগলপুরে গিয়েছিল, ‘৮৯-‘৯০ সালে ঘটে যাওয়া হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার অন্তর্ভদন্তমূলক প্রতিবেদন লেখার রসদ জোগাড় করতে আর রবিবাসরীয় আনন্দবাজারে লিখেছিল : “হিন্দুরা কি নির্মম, নৃশংস, শিশু হত্যা করেছে, একটি মুসলমান মেয়ের পা কেটে নিয়েছে।” আরেক সেকুলাঙ্গার বিদ্বজন শৈলেশ বন্দ্যোপাধ্যায় তার লেখা ‘দাঙ্গার ইতিহাস’ বইতে একই বক্তব্য রিপিট করলো অথচ কারুর লেখাতেই ভাগলপুরের দাঙ্গাতে মুসলমানদের সহিংসতার ছিঁটে ফোঁটার উল্লেখ নেই ! এইবার আসল মজা সত্যের, ২রা এপ্রিল, ২০০৩-এর আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘দাঙ্গা-অভিযুক্ত খুন’ শিরােনামে সংবাদে লেখা হলাে :“বিহারের ভাগলপুরের ৮৯ দাঙ্গার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ এনায়েতুল্লা আনসারি খুন হলেন বেনিয়াপুকুরে।” হ্যা, কলকাতার বেনিয়াপুকুরে। ২০০৫ সালে প্রকাশ পেয়েছিল দাঙ্গার সময়ে বিহারের প্রাক্তন কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্রনারায়ণ সিংহের আত্মকথা। সত্যেন্দ্রনারায়ণ তার লেখায় ভাগলপুর দাঙ্গার জন্য কংগ্রেসের দুই নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভগৎ ঝা আজাদ ও বিধানসভার স্পীকার শিবচন্দ্র ঝাকে দায়ী করেছিল।

কি মাথায় হ্যামার পরেছে, বোঝা যাচ্ছে কি বলতে চাইছি ? এই সেকুলাঙ্গারদের দ্বিচারিতা, মিথ্যাচার কিভাবে ইসলামিস্টদের হাতকে মজবুত করছে দিনের পর দিন ? সাথে তো ভাই বেরাদারদের আজমল কাশভরা আছেই ! আর ভারতের বাংলারই পাশের ফ্ল্যাটের তারেক জিয়াদের ইগনোর করি কিভাবে ? আমাদের বাংলার রাজনীতিতে বিশ্ববঙ্গের নেত্রীর মাথায় কাপড় আর সাথে হাত তুলে মোনাজাত দুয়া তো কমন চিত্র, তাই না ? তাহলে এবারে আপনারা ঠিক করুন, দার-উল-ইসলাম কায়েম করতে হাত বাড়াবেন না প্রতিরোধ করবেন…..

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 5