জয়িঃ ০৪

আজ শুভ্র আসবে, রাতে থাকবেও। সীমা মাসী এই বাসাটা ঠিক করে দিয়েছিলেন, এখানে কোন ছেলে বন্ধু এলেও অনায়াসে রাতটা কাটাতে পারে। তখন আরেকটা রুম তার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়। প্রথমবার যেদিন অনন্ত এসেছিল, সেদিন সবাই তাকে খুব সহজভাবেই নিয়েছিলো। অবশ্য সেদিন মাসিও ছিলেন। মজার বিষয় মাসির মাধ্যমেই অনন্তের সাথে পরিচয়। সমাজ বিজ্ঞানে ফাইনাল ইয়ার, চাপা স্বভাব, দেখতেও খারাপ না। বাড়িতে অনন্তকে নিয়ে অনেকে আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন। কিন্তু শরীরই যার কাল, তার তো ঘর বাধা হয় না, ঘরের স্বপ্ন তাকে মানায় না।

তবে, লো প্রেশারের কারনে বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের সাথে অভিজ্ঞতাটা জয়ির আজীবন মনে থাকবে। তাদের বাড়িতে উঠার মাস তিনেক পরের ঘটনা। ততদিনে অনন্ত বেশ কয়েকবার এসে বেড়িয়ে গেছে, বাসায় অনন্ত বেশ পরিচিত ও কাছের মানুষ হয়ে গেছে। সেদিন সন্ধায় দিকে বাসায় কেউ নেই, শুধু আঙ্কেল আর জয়ি। শরীরটা বিকেল থেকেই ভাল লাগছিল না, দুপুরে তেমন কিছু খাওয়াও হয়নি। সন্ধ্যার আগে আগে আন্টি আর মিতা বাইরে গেলেন কিছু কেনা কাটার জন্য। বলে গেলেন, দরকার মনে করলে আঙ্কেলকে জানাতে, আঙ্কেলকেও বলে গেছেন খেয়াল রাখতে।

সন্ধ্যার পর শরীর খারাপের দিকেই যাচ্ছিলো, তাই ইচ্ছা না হলেও আঙ্কেলকে ডাকে জয়ি। অবস্থা দেখে অয়েল ম্যাসেজ করে দিচ্ছিলেন আঙ্কেল, জয়ির বেশ বিব্রত লাগছিলো, কিন্তু, প্রায় সংজ্ঞাহীন থাকার ফলে কিছুই করার ছিলো না। একটা সময় বেশ ঘোরে পড়েও যায়, নীথর শরীরে চেতন নেই, হাত-পাগুলোও অবশ, নাড়ানো যাচ্ছে না। এক সময় ঘুমিয়েই পড়ে জয়ি। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলো ঠিক মনে নেই, তবে মিনিট বিশেকের বেশি হবে না। জেগেও উঠেছে, ততক্ষণে জয়ি নিরাভরণ। শরীরের আনাচে কানাচে আঙ্কেলের হাত আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো অন্য খেলায় মেতে উঠেছে। অবশ্য এজন্য জয়ির কোন ভাবনা নেই। রোগীর সেবার বিনিময়ে এইটুকুন খেলা তো খেলতেই পারেন।

শুভ্র খুব পাংচুয়াল ছেলে। কাটায় কাটায় নটায় আসবে। রাতে খাবে, খাবার দাবার শেষে জয়ির একচিলতে ব্যলকনিতে গল্প করবে সারারাত। জীবনকে জানার জন্য ছেলেটার আগ্রহ খুব। জয়ি বলেছে গল্প করে জীবনকে জানা যায় না, তবু জয়ির জীবনের গল্প শোনার খুব খায়েশ তার। হাহ, গল্প যে কি তা ভাল করেই জানে জয়ি। সেই তো ঘুরেফিরে শরীর; নারি শরীর।
আসুক রাতে, গল্প হোক, কথা হোক। শুভ্রকে মন্দ লাগে না জয়ির, একটু স্বপ্ন কি তাকে নিয়ে বোনা যায়?

(আবারো চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “জয়িঃ ০৪

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 55 = 64