সৌদি আরব প্রথমবারের মতো পবিত্র কুরআন-এর ভুল স্বীকার করেছে।

এদেশের একশ্রেণীর মুসলমান ভাই বোনেদের ধারনা তাদের প্রচলিত পবিত্র কুরআন শরীফ আল্লাহর প্রদত্ত আসমানী কিতাব যাতে কোন প্রকারের ভুল নেই এবং ভুল থাকার কোন কথাও না। তারা তাদের মনে প্রাণে সৌদি আরবকে ভালোবাসেন। নিজেকে বাঙালী পরিচয় দেবার আগে তারা মুসলমান পরিচয় দিয়ে থাকেন, নিজ দেশকে ভালোবাসার আগে তারা একবার হলেও মদীনায় যাবার স্বপ্ন দেখে থাকেন, কিন্তু সেই মদীনার বাসিন্দারা তাদেরকে কোন চোখে দেখেন তা তাদের আজও অজানা। কিছুদিন আগেও সৌদি আরবের এক বাদশা প্রকাশ্যে বলেছিলেন সৌদি আরব ব্যতিত পৃথিবীতে যত মুসলমান আছেন তারা কেউ প্রকৃত মুসলমান নয়। কিন্তু তাতে কি, এদেশের মুসলমান সৌদি আরবের মুসলমানদের থেকেও বেশি জানেন এবং বোঝেন বলে মনে হয়। তারা নানান অজুহাতে এই মুসলিম এবং প্রকৃত মুসলিম বিষয়টিকে বিতর্কিত করেছিলেন। আজ আবারও নতুন করে তাদের জন্য আরেকটি বিতর্ক তৈরি করেছে সৌদি আরব। এখন খোদ সৌদি আরবই বলছে মুসলমানদের বর্তমান প্রচলিত কুরআন শরীফে ভুল রয়েছে যা পাঠযোগ্য নয়। এই বিষয়ে এদেশের সহি মুসলিম জনগোষ্ঠী কি বলতে চাই সেটা আমার খুব জানার আগ্রহ রয়েছে।

চলতি বছরে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইটে কমপক্ষে দুইটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। যেসমস্ত আর্টিকেল পড়ে সমালোচকদের মাঝে নানা প্রশ্নের সুত্রপাত ঘটেছে। এই আর্টিকেল দুইটিতে বলা হয়েছে কুরআন-এর বিভিন্ন আয়াত বা স্ক্রিপ্ট-এ বেশ কিছু ভুল রয়েছে যার সংশোধন প্রয়োজন রয়েছে এবং সেই ভুল কুরআন-এর আয়াতগুলোকে আধুনিক সময়ের মুসলিম জনগোষ্ঠির অনুভূতির আলোকে আবারও পূনরায় পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকেরই দাবী কুরআন-এর এসব ভুল আয়াত বর্তমান সময়ের সাথে কখনই পাঠযোগ্য হতে পারেনা। সেই সাথে এই প্রচলিত কুরআনকে পবিত্র বলে মনে না করার কথাও উল্লেখ করেছেন।

এবছর জানুয়ারী মাসের ১০ তারিখে সৌদি আরবের বিখ্যাত একটি ওয়েবসাইট যার নাম “Saudi Opinions”-এ সৌদি আরবের একজন সাংবাদিক যার নাম “আহমদ হাশেম” তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, “বর্তমান সময়ে পঠিত কুরআন শরীফ তৃতীয় খলিফা “উসমান ইবনে আফফান” এর যুগে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পরে রচিত হয়েছিলো। “আহমদ হাশেম” আরো বলেন, ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খলিফা “উসমান ইবনে আফফান”-এর রাজত্বকালে তিনি তার মনগড়া বিভিন্ন স্ক্রিপ্ট বর্তমানে প্রচলিত কুরআন-এ যুক্ত করেছিলেন যা পরবর্তিতে উসমানের মৃত্যুর পরে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নামে প্রচার করা হয়েছিলো। এছাড়াও সাংবাদিক “আহমদ হাশিম” আরো উপস্থাপন করেন, যেহেতু বর্তমান যুগে প্রচলিত পবিত্র কুরআন শরীফ একজন মানুষের মনের ইচ্ছা অনুযায়ী আয়াত বা স্ক্রিপ্ট দিয়ে সাজানো এবং রচিত হয়েছে তাই সেটাকে পবিত্র মনে করার কোন কারণ নেই, যতক্ষন না সেটাকে সংশোধন করে আবার নতুন রুপে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে “আহমদ হাশেম” প্রায় ২৫০০ টি কুরআন-এর ভুল তুলে ধরেছেন তার লেখাতে এবং সেগুলো সংশোধনের দাবী জানিয়েছেন। তিনি আরো দাবী জানিয়েছেন বর্তমান কুরআন সংশোধন না করা হলে তা কখনই বর্তমান সময়ের মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য পাঠযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

এরপরে গত জুলাই মাসের ২০ তারিখে সৌদি আরবের আরেকটি বিখ্যাত ওয়য়েবসাইট “Elaph”-এ এই বিষয়ে আরেকটি মতামত প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে একজন ইরাকি বংশোদ্ভুত লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক যার নাম “Jarjis Gulizada” (জার্জিস গুলিজাদা) জানিয়েছেন বর্তমান করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে প্রথমবারের মতো ইসলামী ইতিহাসে বিরাট এক পরিবর্তন এসেছে বলে আমাদের মনে হয়। পবিত্র কুরআন-এর উল্লেখিত অনেক নিয়মেই আমরা এই পরিবর্তন লক্ষন করতে পেরেছি। অর্থাৎ আমরা দেখেছি নামাজে দাড়াবার যে নিয়ম সেই নিয়মে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের জন্য নামাজিদের ফাঁকা ফাঁকা হয়ে দাড়াবার কথা বলা হয়েছে যেটা ছিলো ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন। এই থেকেই আমরা বুঝতে পারি ইসলাম ধর্মে প্রয়োজনে অথবা মানব সভ্যতা রক্ষার মতো বৃহৎ স্বার্থে তা পরিবর্তন করা যেতে পারে।

এবছরের জানুয়া্রি মাসে প্রকাশিত “আহমদ হাশেমের” নিবন্ধটি উল্লেখ করে তিনিও যুক্তি দিয়েছিলেন যে কুরআনের উসমানী লিপিটিকে পবিত্র হিসাবে বিবেচনা করা যুক্তিহীন এবং “আহমদ হাশেমের” উপস্থাপনাগুলি ছাড়াও কুরআনে যে আরো ভুল ত্রুটি রয়েছে তার আরও উদাহরণ এই ”জার্জিস গুলিজাদা” উপস্থাপন করেছেন। এছাড়াও তিনি এই বিষয়ে আধুনিক বানান ব্যবহার করে কুরআনের একটি সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ বর্তমান প্রচলিত কুরআন শরীফ আধুনিক বিশ্বের মুসলিম জাতির জন্য এবং বিশেষত অ-আরব মুসলমানদের পক্ষে উপযুক্ত নয় বলেও তিনি তার মতামত ব্যক্ত করেছেন।

 

তথ্যসূত্র : The Middle East Media Research Institute 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 37 = 41