মুসলিম বিদ্বেষ কতোখানি সত্য

আজকাল মুসলিমরা তো বটেই, একশ্রেনির বামপন্থিরাও দেখি ‘ইসলাম বিদ্বেষ! ইসলাম বিদ্বেষ’ বলে নাকে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে। আমি বুঝি না ইসলাম বিদ্বেষ তথা মুসলিম বিদ্বেষ বলতে তারা কি বোঝায়! আর সেকুলারিজম বলতেই বা তারা কি বোঝায়! আচ্ছা, আমাকে একটা কথা বলুন তো মুসলিমদের এমন কি আছে যে তাদের দেখে লোকে হিংসা-বিদ্বেষ করবে! ভারতীয়দের ওপর ইউরোপিয়ান, আমেরিকানদের বিদ্বেষ থাকা স্বাভাবিক। কারণ ইউরোপ-আমেরিকায় গুগলের মতো যেসব টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই সিইও ভারতীয়, এমনকি সে সব প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভারতীয়। ভারতীয়রা ইউরোপ-আমেরিকায় গিয়ে বড় বড় চাকরি করছে, ইউরোপিয়ান-আমেরিকানদের সাথে টেক্কা দিচ্ছে। তাই ভারতীয়দের প্রতি ইউরোপিয়ান-আমেরিকানদের বিদ্বেষ থাকতে পারে। বিশ্বের সব বড় বড় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক ইহুদিরা। আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে ইহুদিরা। ইহুদিরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে অন্যান্য জাতি থেকে অনেক এগিয়ে। তাই ইহুদিদের ওপর বিশ্বের মানুষের বিদ্বেষ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মুসলিমদের কি আছে? মুসলিমরা কি পৃথিবীর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে? মুসলিমরা কি বিজ্ঞানের কোনও শাখায় বড় কোনও অবদান রেখেছে? মুসলিমরা কি শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীতে কোনও অবদান রেখেছে? এসব কিছুই মুসলিমরা করে নি। বরং মুসলিমদের মাঝে আছে দারিদ্র্য, অশিক্ষা, ধর্মীয় উগ্রতা ও বিভিন্ন কুসংস্কার। মুসলিম দেশগুলোতে না আছে গনতন্ত্র, না আছে বাক-স্বাধীনতা, না আছে ধর্ম নিরপেক্ষতা! মুসলিমদের জন্য বিশ্ববাসীর শুধু করুণা থাকা সম্ভব, বিদ্বেষ থাকার তো প্রশ্নই ওঠে না।

বলিউডের বিভিন্ন সিনেমায় দেখি তথাকথিত মুসলিম বিদ্বেষকে খুব হাইলাইট করা হয়। একটা সিনেমার কথা বলি – ‘মাই নেম ইজ খান’। শাহরুখ খানের সিনেমা, আপনারা সবাই হয়ত দেখে থাকবেন। সেখানে দেখানো হয়েছে, নাইন ইলেভেনের পর থেকে নাকি আমেরিকায় মুসলিমরা মুসলিম বিদ্বেষের শিকার! এয়ারপোর্টে নাকি মুসলিমদের অপমানিত করা হয় এবং খুব কড়াভাবে চেক করা হয়। আমেরিকায় নাকি মুসলিমরা অপমান ও আক্রমনের শিকার হয়! আচ্ছা, আপনারাই বলুন, আমেরিকা তো একটা সেকুলার রাষ্ট্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা তো উন্নত জীবনযাপনের আশায় আমেরিকাতেই যায়। আমেরিকায় যদি মুসলিমদের জীবনের নিরাপত্তাই না থাকে, তাহলে মুসলমানরা কেন আমেরিকার ভিসার জন্য পাগল? কিন্তু মহান দেশ আমেরিকা, যে দেশ মুসলিমদের আশ্রয় দিল, মুসলিমদের খাওয়া-পরার ব্যাবস্থা করল, সে আমেরিকা বিনিময়ে মুসলিমদের কাছ থেকে কি পেল? শুধু ঘৃণা আর অভিশাপ!

ওয়াফা সুলতানের একটা বই –‘যে ঈশ্বর ঘৃণা করে’ বইটিতে আমেরিকার মুসলিমদের মনস্তত্ত্ব খুব চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, আমেরিকায় যে সব মুসলিমরা বাস করে তারা আমেরিকাকে ভীষণ ঘৃণা করে। আমেরিকার মুসলিম মা-বাবারা মনে করে, আমেরিকার সংস্কৃতি ইসলাম থেকে তাদের সন্তানদের দূরে নিয়ে যায়। তাই আমেরিকার মুসলিম মা-বাবারা তাদের পরিবারে খুব কঠোরভাবে ইসলামি পরিবেশ বজায় রাখতে চেষ্টা করেন এবং তাদের সন্তানের মাঝে আমেরিকানদের সম্পর্কে ঘৃণা-বিদ্বেষের বীজ ঢুকিয়ে দেন। আমেরিকার মুসলিমরা আমেরিকায় মসজিদে বসে আমেরিকাকে গালাগাল করেন, আমেরিকাকে অভিশাপ দেন যেন আমেরিকা ধ্বংস হয়ে যায়! আমেরিকার বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে জিনিসপত্র নষ্ট করেন, গোপনে জিনিসপত্রের প্যাকেট কেটে দেন যাতে করে আমেরিকানদের ব্যাবসায়ে ক্ষতি হয়। এরকম একটা ঘটনা ওয়াফা সুলতানের বই ‘যে ইশ্বর ঘৃণা করেন’তেও উল্লেখ আছে। মাঝে মাঝে আবার মুসলমানরা আমেরিকার কোনও অনুষ্ঠানে ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে চাপা দিয়ে মানুষ মেরে ফেলে আবার কখনও কখনও বন্দুক নিয়ে বাচ্চাদের স্কুলে বা মার্কেটে হামলা চালায়। তো এখন আপনারাই বলুন, আমেরিকানরা যদি মুসলমানদেরকে এড়িয়ে চলে কিংবা বিশ্বাস করতে না চায় তাহলে কি আমেরিকানদের খুব বেশি দোষ দেওয়া যাবে? আমেরিকার মুসলমানরা তো সবসময় আমেরিকানদের ক্ষতি করার জন্য মুখিয়ে থাকে, আমেরিকাকে সবসময় অভিশাপ দেয়।

বলিউডের আরেকটা সিনেমার কথা বলি, সিনেমাটার নাম ‘মুল্ক’ (mulk), ঋষি কাপুর অভিনীত। সেখানে দেখা যায়, ঋষি কাপুর একজন মুসলমানের ভুমিকায় অভিনয় করেন সেখানে, তার চরিত্রের নাম মুরাদ আলি মুহম্মদ। তার ভাইয়ের ছেলে একটা বাসে বোমা হামলা ঘটায়। এর ফলে মুরাদ আলি মুহম্মদের পুরো পরিবারকে তার প্রতিবেশীরা দোষারোপ করেন এবং তার প্রতিবেশীরা মুরাদ আলি মুহম্মদের পুরো পরিবারকে এড়িয়ে চলে এবং তাদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করে। আদালতে মুরাদ আলি মুহম্মদকে কাঠগড়ায় দাড় করানো হয় এই সন্দেহে যে সেই বোমা হামলায় হয়ত সেও জড়িত। মুরাদ আলির পুত্রবধু আরতি (যে একটি হিন্দু পরিবারের মেয়ে) সেই মামলা লড়েন মুরাদ আলির উকিল হিসেবে। তিনি বিপক্ষ উকিলের সমস্ত যুক্তি খণ্ডন করেন এবং মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে ছোটোখাটো একটা বক্তৃতা দেন আদালতে।

কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে ভারতে কি সত্যিই মুসলিমরা বিদ্বেষের শিকার। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, ভারতে মুসলিমরা তো বিদ্বেষের শিকার নয়ই, বরং ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো একতরফা মুসলিম তোষণ করে। উদাহরন দিচ্ছি, ভারতের হিন্দুদের মন্দিরের তীর্থকর দেওয়া লাগে, কিন্তু ভারতে মুসলিমদের মসজিদের জন্য কোনও ট্যাক্স দেওয়া লাগে না। উলটো হজ্বের জন্য ভারত সরকার মুসলিমদের আর্থিক অনুদান দেয়। ভারতের মাদ্রাসাগুলো সরকারি অনুদান পায়। অথচ ভারতের মুসলিমরা ভারতকে প্রতিদানে কি দিয়েছে?

কাশ্মিরে মুসলিমরা নানা ধরনের জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। তারা ভারতীয় সেনাদের ওপর চোরাগুপ্তা হামলা চালায়। ব্যাঙ্গালোরে ফেসবুক পোস্টের জেরে সহিংসতা চালায়, রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করে, পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গাজওয়াএ হিন্দের হাদিস পড়ে ভারত দখলের স্বপ্ন দেখে, ভারতের হিন্দু নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকে। তাহলে আপনারাই বলুন, ভারতীয়রা যদি মুসলমানদের এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়, তাদের ঘৃণা করে, তাহলে কি ভারতীয়দের খুব বেশি দোষ দেওয়া যায়।

জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম! এইসব জায়গায় কি মুসলমানরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় নি? বোমা হামলা করে নি? ট্রাক উঠিয়ে দেয় নি? যদি তারা এসব করে থাকে তাহলে মুসলমানদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা কেন মুসলিম বিদ্বেষ হবে?

মডারেট মুসলিম আর এক শ্রেণির বামপন্থিরা দেখি মুসলিমদের এসব জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা না করে আমেরিকার সম্রাজ্যবাদ আর ইসলাম বিদ্বেষের ধোঁয়া তুলে মুসলমানদের এইসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে জাসটিফাই করেন।

অথচ কোরান হাদিসের পাতায় পাতায় ইহুদি বিদ্বেষ, সমকামি বিদ্বেষ, নারী বিদ্বেষ, পশুবিদ্বেষের কথা লেখা আছে। সে সব নিয়ে কিন্তু তথাকথিত সেকুলার বুদ্ধিজীবীদের কোনও কথা বলতে শুনি না! কোরান হাদিস কি তারা পড়ে দেখেন নি? তারা অবশ্যই পড়েছেন, তারা খুব ভাল করেই এগুলো জানেন। কিন্তু মুসলমানদের বাহবা পাবার আশায় তারা এগুলো বলেন না, পাছে ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ ট্যাগ লেগে যায়। মনে হয় যেন, এখন মুসলিম তোষণ করাই সেকুলার সাজার একমাত্র উপায়।

আমার মনে হয়, ইউরোপিয়ান, আমেরিকান আর ভারতীয়দের এখনই ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। তা না হলে এই ইসলাম ইউরোপ আমেরিকা আর ভারতকে ধ্বংস করে দেবে, যেমন ধ্বংস করে দিয়েছে পাকিস্তান, আফগানস্তান আর সিরিয়াকে।

পার্থ দাশ

২২/০৮/২০

ঢাকা, বাংলাদেশ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 6 =