কবে মুক্ত হবেন সাংবাদিক কাজল ?

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল সম্পর্কে নিশ্চয়ই সবাই অবগত রয়েছেন,তার পরেও একটি প্রশ্ন রইল কখনো কি ভেবে দেখেছেন একজন সাংবাদিক আসলে কি চাই ? এর সহজ উত্তর হচ্ছে একজন সাংবাদিক আসলে চাই মৌলিক কিছু করে দেখাতে, মৌলিক কাজ করতে আর এই মৌলিক কাজ করে দেখানোর জন্যই তারা এই পেশায় যুক্ত হয়ে থাকেন। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয় তিনিও মৌলিক কিছু করে দেখাবার জন্য এই সাংবাদিকতা পেশাকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তার দিন, রাত, সপ্তাহ, মাস পার হচ্ছে জেলখানার চার দেয়ালের মাঝে বন্দী হয়ে। তিনি সাংবাদিকতার মতো এই মৌলিক কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘ দুই মাস ছিলেন একেবারে নিখোঁজ। সরকারদলীয় একজন এমপি এবং সরকারদলীয় বেশ কয়েকজন নেত্রীর দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাঁকে আটক দেখানো হয়।

এই সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল-এর রয়েছে ২০ বছর বয়সী একটি সন্তান, যারা নাম পলক। বর্তমানে সেই পলকের সময় কাটছে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাবার মুক্তি চেয়ে। কিন্তু তার জানা নেই তার বাবা সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল কবে মুক্ত হয়ে আবারো তাদের মাঝে ফিরবেন। আমরা সকলেই কমবেশি জানি সাংবাদিকতার মতন মৌলিক কাজ করতে হলে প্রয়োজন হয় কঠোর মনোভাব এবং কঠোর অভ্যাসের। সাংবাদিকতার মতো মৌলিক কাজের জন্য প্রয়োজন মনোযোগ এবং পরিশ্রমের। এখানে দায়সারা গোছের কিছু করলে চলে না। কৌতুহল নিয়ে প্রতিটি কর্মশালায় যুক্ত হতে হয় প্রতিনিয়ত। এখানে প্রশ্ন করতে হয় কেন এবং তারপরে কেন না। শফিকুল ইসলাম কাজলের পূর্বের রেকর্ড গুলো একটু ঘাটাঘাটি করলেই খুব সহজেই জানা যায় যে তিনি এ ধরনেরই একজন কর্মঠ এবং পরিশ্রমী ফটো সাংবাদিক ছিলেন। সর্বপ্রথম তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ঘটে ১০ই মার্চ সন্ধ্যায়। তিনি “পক্ষকাল” নামক সংবাদপত্রের অফিস থেকে সন্ধ্যায় বের হন কিন্তু তারপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল ১০ই মার্চ সন্ধ্যায় পক্ষকালের অফিস থেকে বের হন এরপর থেকে তার কোন সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১১ই মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রীর জুলিয়া ফেরদৌসী নয়ন। এছাড়াও ১৩ই মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল ইসলাম কাজল কে সুস্থ অবস্থায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় তার পরিবার। ১৮ই মার্চ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক কাজল এর সন্ধান যাওয়া হয়। পরে ১৮ই মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক। সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিক সহকর্মী ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর ২ই মে তিনি ফিরে আসলেন, যে ফিরে আসাটা মন্দের ভালো বলে একটি কথা আছে ঠিক তার সাথে মিলে যায়। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের ফিরে আসাটা অনেকেই দেখেছেন এই মন্দের ভালো হিসেবে।

নিখোঁজের প্রায় ৪৫ দিন পর কাজলের সন্ধান যেদিন পাওয়া গেল সেদিন বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ছিল। এখানেই রয়েছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল ১০ই মার্চ নিখোঁজ হয়েছিলেন আর তার নিখোঁজের ঠিক পরের দিন ১১ই মার্চ যুব মহিলা লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শামীমা রহমান তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কাজলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে রেখেছিলেন। এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে হাজারীবাগ থানায় তৃতীয় মামলাটি করে রাখেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী ইয়াসমিন আরা বেলি। সাংবাদিকরা এভাবেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর দ্বারা যদি নিয়মিত হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন তাহলে তারা এই মৌলিক কাজ কিভাবে করবেন ? এ দেশে প্রতিনিয়ত এরকম অহরহ নমুনা দেখানো যায় যা সাংবাদিক কাজল এর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে একদম মিলে যায়। সাংবাদিক কাজল কে একজন কুখ্যাত অপরাধীর মত হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে আসার ব্যাপারেও অনেক আলোচনা ও বিতর্ক চলেছিল। সেই সাথে উঠে এসেছিল হাতকড়া পরানোর ব্যাপারে পুলিশের নানা ধরনের সমালোচনা। মূলত হাতকড়া পরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে কিছু বাধ্যবাধকতা যা তারা অনেক সময় ভুলে যায়।

আমরা জানি না সাংবাদিকতার মত এরকম মৌলিক একটি পেশা কে কবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো একটি কালো আইন দ্বারা বেঁধে রাখা বন্ধ হবে। সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল এর মত এরকম যত সাংবাদিক রয়েছেন যারা এই মৌলিক কাজ করতে গিয়ে পরিবার পরিজন ছেড়ে জেলখানার চার দেয়ালের মাঝে বন্দী আছেন বা ছিলেন তাদের সাথে সরকার কবে মানবিক আচরণ করবেন। কবে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল এর ২০ বছর বয়সী সন্তান তার বাবাকে কাছে ফিরে পাবেন। আবারো কবে সাংবাদিক কাজল মুক্ত হয়ে তার পেশায় যুক্ত হতে পারবেন।

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =