নীতিবান পুরুষ ও দুষ্টু নারী

বাঙলাদেশের পুরুষদের মতন সৎ, নীতিবান, আদর্শবান, চরিত্রবান পুরুষ আর কোন মহাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। পৃথিবীর একমাত্র দেশ- বাঙলাদেশ, যে-দেশের পুরুষদের কোনো দোষ নেই। কোনো ভুল নেই। কোনো অপরাধ নেই। কোনো ত্রুটি নেই। সকল প্রশংসা একমাত্র অদৃশ্যশক্তিশালী পুরুষের নামের মতই। আর সকল দোষ ও অপরাধ এবং চরিত্রহীনতা নারীর ক্ষেত্রেই সপে। যেন পুরুষেরা কথিত তুলসী পাতার মতোই পবিত্র কিংবা জমজমের পানির মতোই বিশুদ্ধ
এমন শুদ্ধ পুরুষদের সান্নিধ্য পাওয়ার কারণে নারীদের আজীবন চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত। কিন্তু না, কিছু কিছু নারী অনেক দুষ্টু। তারা পৌরাণিক কাহিনীর মত অমন বিশুদ্ধ মহামানবরূপী পুরুষদের কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলার দুঃসাহস দেখায়। অবলা পুরুষদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, সরল ও হাবাগবা পুরুষদের সোনার মুকুট নিয়ে প্রশ্ন তোলে, ছলাকলাহীন পুরুষদের চরিত্র নিয়ে মশকরা করে। শিশুর মতন নিষ্পাপ হৃদয়ের অধিকারী পুরুষদের আত্মবিশ্বাসে অগ্নিসংযোগ করে
পুরুষেরা যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্যান্টের চেইন খুলে দুই ইঞ্চির লিঙ্গটি বের করে মুত্র বিসর্জন করে তা খুবই শোভনীয় কিন্তু দুষ্টু নারীরা ভ্র কুঁচকে বিরক্তি প্রকাশ করে। পুরুষেরা যখন রাস্তায় লিঙ্গ, নিতম্ব, বগল চুলকিয়ে বীরদর্পে হন্টন করে তা খুবই শালীন অথচ দুষ্টু নারীরা পুরুষের খোস, পাঁচড়া চুলকানির স্বাধীনতা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পুরুষেরা যখন রাস্তাঘাটে উচ্চস্বরে কথাবার্তা বলে থাকে তা খুবই মার্জিত কিন্তু দুষ্টু নারীরা পুরুষের বাকস্বাধীনতা কেঁড়ে নিতে চায়
পুরুষেরা যখন ধূমপান করে তখন তা হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও স্বাভাবিক কিন্তু দুষ্টু নারীরা যখন ধূমপান করে তখন তা হয়ে যায় অস্বাস্থ্যকর ও চরিত্রহীনতা। পুরুষেরা যখন মদ পান করে তখন পুরুষত্ব উদ্ধতরূপ ধারণ করে কিন্তু নারীরা মদ পান করলে মাগী হয়ে ওঠে। পুরুষেরা মোটর সাইকেল চালালে বিন্দাস আর নারীরা মোটর সাইকেল চালালে উশৃংখল জীবনযাপনের রচনাবলী। পুরুষেরা জামা খুলে রাস্তায় হাঁটলে কোন সমস্যা নেই কিন্তু নারীর কোমর দেখা গেলেই বেশ্যা মাগী। পুরুষেরা ঝগড়া, মারামারি করলে ক্ষমতা আর নারী ঝগড়া করলে কুটনামি ও হিংসা। পুরুষের ভুঁড়ি হাতি সমতুল্য হলেও সমস্যা নেই কিন্তু নারী স্বাস্থ্যবতী হলেই খাদকের তকমা।
তথাকথিত তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষিত সোচ্চার নারীরাও পদেপদে পুরুষের দ্বারা, পুরুষের বানানো সিস্টেমের দ্বারা, সমাজের দ্বারা, ধর্মের দ্বারা ও রাষ্ট্রের দ্বারা বৈষম্যের শিকার হতে হতে ধীরে ধীরে পুরুষের মস্তিষ্ক ধারণ করতে শুরু করে। যার ফলে একটা সময়ের পর- পুত্রের অযৌক্তিক, উদ্ধত, বেপরোয়া জীবনকেও মেনে নিতে পারে। কিন্তু কন্যার ক্ষেত্রে ঘটনা বিপরীত।
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1