‘চিপ্পা’ ; স্বপ্ন ফেরি করা বিস্ময় বালকদের আখ্যান

চিপ্পা’ সিনেমার একটি দৃশ্য

প্রত্যেকটা বাবা-ই সন্তানকে সঠিক পথে চলতে শেখায়। কিন্তু এমনো অনেক বাবা আছেন যারা কেবল একটি শব্দের সঙ্গেই সন্তানকে পরিচয় করাতে চান। যে শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান; ভালবাসা।
ছোটবেলায় আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই রোমাঞ্চকর স্বপ্ন থাকে। যে স্বপ্নে ভর করে আমাদের শিশু মন ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে। কখনো নদীতে পাল তোলা নৌকা দেখে মাঝি হওয়ার ইচ্ছে হয় তো কখনো আকাশের বুকে উড়ে যাওয়া উড়োজাহাজ দেখে মনে হয় তার পেটে চেপে ঘুরে বেড়াতে। সে ইচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে গেলেও তার মধ্যে যে রোমাঞ্চকর ব্যাপার, তাতে ফাটল ধরে না একটুখানিও।
এমনই এক রোমাঞ্চের কাঁধে চেপে কলকাতা শহরের রাতকে তুলে ধরা হয়েছে ‘চিপ্পা’ নামক সিনেমায়। চিপ্পা, সদ্য দশ বছরে ঘরে পা রাখলো। এমন সময় বাবার চিঠি হাতে পায় সে। কিন্তু সে চিঠি উর্দুতে লেখা! কি লেখা সে চিঠিতে? খুঁজতে বের হলো চিপ্পা; একজন উর্দু ভাষা জানা লোকের উদ্দেশ্যে। এরপর থেকেই চিপ্পার জাগন্ত চোখের সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টির পাতা মেলে City of Joy. একে একে ডানা মেলে কোমল শিশু মনের সীমাহীন স্বপ্ন। পিচঢালা পথে বৃষ্টির জলে পাল তুলে চলতে থাকে নৌকার দল। শহরময় ঘুরে স্বপ্নের বীজ মননে বপন করে শেষটায় চিপ্পাকে শহরের ভালোবাসাহীনতার মুখোমুখি হতে হয় এবং পুনরায় ফিরে আসতে হয় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের কাছের ফুটপথটায়। যেখানে তার বেড়ে উঠা এবং কিছুক্ষণ আগেই যেখান থেকে গন্তব্যহীন যাত্রা শুরু হয়েছিলো।
সিনেমার ক্লাইম্যাক্সটা খুব জরুরী ছিলো। এ বিষয় নিয়ে বলতে গেলে ভিন্ন একটি বিষয়কে নিয়ে বলতে হয়। তাহলো, যে শহরে সস্তায় বিরিয়ানী পাওয়া যায়, সে শহরে উর্দু ভাষা জানা মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। এবং আমরা যতই গ্লোবালাইজড হই না কেনো আমাদের ঠিক ফিরে যেতে হয় শিকড়ের কাছে।

সিনেমার একটি দৃশ্যে সানি পাওয়ার

সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সাফদার রহমান। লিখেছেনও তিনি নিজেই। অবশ্য সিনেমাটি নিয়ে সাফদার রহমানের স্মৃতি রয়েছে। তার ছোটবেলা কেটেছে কলকাতার পার্ক সার্কাস অঞ্চলে। সে সময় অনেক বাচ্চাকেই দেখেছেন ফুটপথে বড় হয়ে উঠতে। তাদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই তার বন্ধুত্বও হয়। চিপ্পার ছবিটা সেখান থেকেই খুঁজে পেয়েছেন সাফদার। এক কথায় সাফদার সে সব চিপ্পার রাত জাগা চোখে শহর হাঁটা কচি পায়ে ভর করে বড় থেকে অনেক বড় হওয়া স্বপ্নটাকে চিপ্পা’য় নিখুঁত হাতে রং-তুলি দিয়ে এঁকেছেন। আর সে অঙ্কনের সৌন্দর্য বাড়িছে সিনেমাটোগ্রাফি। রামানুজ দত্ত যেনো এ সিনেমায় চিত্র ধারন করতে গিয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ছোটবেলায়, চিপ্পা হয়ে তিনিও বোধয় দেখেছেন তার শহরটাকে। আর মিউজিক? প্রতিটা দর্শকের চোখে স্বপ্নের জ্বলজ্বল করা তারাগুলোকে বসিয়ে দিয়েছেন সিরিল ডি হেস।
সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্র রয়েছে। কিন্তু সব চরিত্রগুলোকে ছাপিয়ে সানি পাওয়ার তার অভিনয় দক্ষতা দিয়ে আবারো বলে দিলেন, তিনি সিনেমার ভবিষ্যৎ তারকা। অবশ্য ইতোমধ্যেই সে খ্যাতি তার গায়ে লেগেছে। লায়ন সিনেমায় সারোর ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করে দেব প্যাটেলের কাঁধে চড়ে অস্কারের আসর থেকে ঘুরে এসেছেন।

লেখার ইতি টানতে এসে আবারো ফিরে যেতে হলো ভালোবাসায়। পৃথিবীতে ভালোবাসা ছাড়া আর এমন কিছু নেই যা আমাদের সৌন্দর্যের স্বাদ, ঘ্রাণ দিতে পারে। তাই পৃথিবীটা হোক ভালোবাসাময়। কচি মনের স্বপ্নে ভরে উঠুক চারপাশ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 53 = 54