২১১: হুনায়েন যুদ্ধ-১০: অতর্কিত আগ্রাসী আক্রমণ – যুদ্ধ নয়!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

“মহাকালের পরিক্রমায় এক নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের ইতিহাস হলো সেই নির্দিষ্ট স্থান ও কালের পারিপার্শ্বিক অসংখ্য ধারাবাহিক ঘটনা পরস্পরা ও কর্ম-কাণ্ডের সমষ্টি। ঘটনা পরস্পরার এই ধারাবাহিকতা-কে উপেক্ষা করে কোন বিশেষ সময়ের ইতিহাসের স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব নয়; বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।” সে কারণেই মুহাম্মদের নবী জীবনের সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ‘হুনায়েন যুদ্ধের’ কারণ ও প্রেক্ষাপট বিষয়ের স্বচ্ছ ধারণা পাওয়ার জন্য মদিনা হিজরতের (সেপ্টেম্বর ২৪, ৬২২ সাল) পর থেকে হুনায়েন যুদ্ধ পর্যন্ত (মার্চ-এপ্রিল, ৬৩০ সাল) মুহাম্মদের সাড়ে সাত বছরের মদিনা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের আলোকপাত আর একবার করা যাক:

হিজরতের মাস সাতেক পরেই রাতের অন্ধকারে বাণিজ্য-ফেরত কুরাইশ কাফেলার উপর অতর্কিত হামলা ও মালামাল লুণ্ঠন অভিযানের সূত্রপাত। প্রথম অভিযান, “সিফ-আল বদর”, যা ছিল ব্যর্থ (পর্ব: ২৮)! অতঃপর মুহাম্মদ ও তাঁর আদি মক্কাবাসী অনুসারীদের (মুহাজির) পর পর সাতটি অনুরূপ ব্যর্থ ডাকাতি চেষ্টা ও অষ্টম বারের হামলায় সফলতা; ইসলামের ইতিহাসে যা “নাখলা অভিযান” নামে অবিহিত (জানুয়ারি, ৬২৪ সাল)। আবদুল্লাহ বিন জাহাশ নামের মুহাম্মদের এক অনুসারীর নেতৃত্বে নিরীহ বাণিজ্য ফেরত কাফেলায় সফল ডাকাতি। এই হামলায় আমর বিন আল-হাদরামী নামের এক নিরপরাধ কুরাইশ কাফেলা-যাত্রী-কে নৃশংস ভাবে খুন এবং ওসমান বিন আবদ-আল্লাহ ও আল হাকাম বিন কেউসুন নামের দুই নিরপরাধ কুরাইশ কাফেলা যাত্রী-কে বন্দি করে ধরে নিয়ে এসে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে সহিংস যাত্রার সূচনা। মুহাম্মদ ও কুরাইশদের মধ্যে পরবর্তী যাবতীয় সহিংস সংঘর্ষের আদি কারণ হলো নাখলায় এই বাণিজ্য কাফেলা ডাকাতি ও সহিংসতা (পর্ব: ২৯)

এরই ধারাবাহিকতায়, নাখলা আক্রমণের প্রায় দুই মাস পর (মার্চ, ৬২৪ সাল) ইসলামের ইতিহাসের প্রথম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, “বদর যুদ্ধ!” অমানুষিক নৃশংসতায় মোট ৭২ জন (দুইজন-কে বন্দি অবস্থাতেই পথিমধ্যে) কুরাইশ-কে হত্যা, ৬৮ জন-কে বন্দি করে ধরে নিয়ে এসে ৬৫ জনের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে মুক্তি প্রদান (পর্ব: ৩০-৪৩)। ধর্মের নামে “ক্ষমতা-প্রতিপত্তি ও পার্থিব মুনাফা অর্জনের” সর্ব-প্রথম বৃহৎ সাফল্য। অতঃপর, বদর যুদ্ধের অব্যবহিত পরেই মুহাম্মদের আদেশে মদিনায় বেশ কিছু ‘বুদ্ধিজীবী’ হত্যা, যাদের একমাত্র অপরাধ ছিল এই যে তাঁরা তাঁদের লিখিত কবিতার মাধ্যমে মুহাম্মদের নৃশংস কর্ম-কাণ্ডের “মৌখিক প্রতিবাদ” করেছিলেন। আবু আফাক নামের এক অতি-বৃদ্ধ, আসমা-বিনতে মারওয়ান নামের এক পাঁচ সন্তানের জননী ও ক্বাব বিন আল-আশরাফ নামের এক কবি – যাকে হত্যা করা হয়েছিল প্রতারণার আশ্রয়ে। অতঃপর মদিনার ইহুদীদের “যাকে পারো তাকেই হত্যা” ঘোষণা (পর্ব: ৪৬-৪৯)!

অতঃপর, বদর যুদ্ধের অল্প কিছুদিন পর মদিনার “বনি কেইনুকা” নামের এক ইহুদি গোত্র-কে তাঁদের শত শত বছরের আবাস-ভূমি থেকে প্রায় এক বস্ত্রে বিতাড়িত করে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন ও ভাগাভাগি (মার্চ ২৭, ৬২৪ সাল)। সন্ত্রাসী কায়দায়, ধর্মের নামে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের “দ্বিতীয় বৃহৎ উপার্জন (পর্ব- ৫১)!” তাঁদের জীবন রক্ষা পেয়েছিল আবদুল্লাহ বিন উবাই নামের এক আদি মদিনা-বাসী অনুসারীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে, যাকে মুহাম্মদ মুনাফিক নামে আখ্যায়িত করেছিলেন।

অতঃপর ওহুদ যুদ্ধ, বদর যুদ্ধের ঠিক এক বছর পর (মার্চ ২৩, ৬২৫ সাল)। এই যুদ্ধে মুহাম্মদের চরম ব্যর্থতা (পর্ব: ৫৪-৭১)। অতঃপর এই যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে মুহাম্মদের আরও কিছু ব্যর্থতা ও অবিশ্বাসীদের দ্বারা তাঁর অনুসারীদের হত্যা (পর্ব: ৭২-৭৪)। ওহুদ যুদ্ধ ও এই যুদ্ধ পরবর্তীর ব্যর্থতার পর, নিজের হৃতগৌরব ও নেতৃত্ব পুন:প্রতিষ্ঠা ও সর্বোপরি “গনিমতের মাল” নিশ্চিত করার প্রয়োজনে মুহাম্মদের পরবর্তী নৃশংসতা, “বনি নাদির গোত্র উচ্ছেদ” ও তাদের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন (মে, ৬২৫ সাল)! বনি কেইনুকা গোত্রের লোকদের মতই, বনি নাদির গোত্রের লোকদেরও জীবন রক্ষা পেয়েছিল সেই একই আবদুল্লাহ বিন উবাইের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে (পর্ব: ৫২ ও ৭৫)।

অতঃপর “খন্দক যুদ্ধ!” ওহুদ যুদ্ধের দুই বছর পর (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ৬২৭ সাল)। আবারও মুহাম্মদের চরম ব্যর্থতা (পর্ব: ৭৭-৮৬)। খন্দক যুদ্ধের চরম ব্যর্থতার পর, যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে আসার পরপরই সংঘটিত হয় বনি কুরাইজা গোত্র আক্রমণ ও গণহত্যা (মার্চ-এপ্রিল, ৬২৭ সাল)! মুহাম্মদ তাঁর ৬২ বছরের (৫৭০-৬৩২ খৃষ্টাব্দ) জীবদ্দশায় যে সকল মানবতা বিরোধী নৃশংস অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তার সবচেয়ে জঘন্যটি হলো এই “বনি কুরাইজা গণহত্যা”! মুহাম্মদের নেতৃত্বে এই গোত্রের সমস্ত প্রাপ্ত-বয়স্ক পুরুষদের একটা একটা করে গলা কেটে করা হয় খুন; তাঁদের মা-বোন-স্ত্রী-কন্যাদের ভাগাভাগি করে করা হয় যৌন-দাসীতে রূপান্তর ও ধর্ষণ; তাঁদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের করা হয় দাসে পরিবর্তন ও ভাগাভাগি; তাঁদের সমস্ত সম্পত্তি করা হয় লুণ্ঠন এবং পরবর্তীতে এই দাসীদের অনেককে নাজাদ অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে করা হয় বিক্রি ও সেই উপার্জিত অর্থে ক্রয় করা হয় যুদ্ধের জন্য অস্ত্র-শস্ত্র ও ঘোড়া। মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের কাছে নিজের শক্তিমত্তার প্রমাণ উপস্থাপন করতে, অনুসারীদের “পার্থিব সুযোগ সুবিধার জোগান (গণিমত)” নিশ্চিত করতে ও প্রয়োজনে ‘তিনি’ কতটা নিষ্ঠুর হতে পারেন” এই বার্তা প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে এই গণহত্যা-টি সংঘটিত করেছিলেন (পর্ব: ৮৭-৯৫)

বনি কুরাইজা গণহত্যার ছয় মাস পর বানু লিহায়েন (লিহিয়ান) গোত্রের লোকদেরকে প্রতারণার আশ্রয়ে বিভ্রান্ত করে অতর্কিত আক্রমণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, “বানু আল-মুসতালিক” গোত্রের ওপর অতর্কিত হামলা (ডিসেম্বর, ৬২৭ সাল)। মুহাম্মদের পরবর্তী “বৃহৎ গনিমত” অর্জন (পর্ব: ৯৭-১০১)। এটি ছিল মুহাম্মদের ‘হুদাইবিয়া সন্ধি (মার্চ, ৬২৮ সাল)’ পূর্ববর্তী সাত মাসে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নিরপরাধ অবিশ্বাসী জনপদের উপর চৌদ্দটি আগ্রাসী হামলার একটি (পর্ব- ১০৯)। এই হামলাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ আর একটি হলো, “উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড,” যেখানে উম্মে কিরফা নামের এক অতি-বৃদ্ধা সম্ভ্রান্ত মহিলা-কে হত্যা করা হয় অমানুষিক নৃশংসতায় (পর্ব-১১০):

“তাঁর পা আলাদা আলাদা করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় ও অতঃপর সেই দড়িগুলো দু’টি উটের সাথে বেঁধে তাদের উল্টো দিকে পরিচালনা করা হয় যতক্ষণে না তাঁর শরীর দুই ভাগে বিভক্ত হে যায়!”

অতঃপর, মুহাম্মদের “হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি!” বানু আল-মুসতালিক হামলার তিন মাস পর (মার্চ-এপ্রিল, ৬২৮ সাল)। আবারও চরম ব্যর্থতা ও অনুসারীদের অত্যন্ত হতাশা-জনক প্রতিক্রিয়া। অনুসারীদের এহেন হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, তাঁদের মনোবল চাঙ্গা করা ও সর্বোপরি তাঁর নিজের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার ও নেতৃত্ব পুন:প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে সন্ধি-চুক্তি শেষে মক্কা থেকে মদিনায় ফিরে আসার প্রাক্কালে পথিমধ্যেই “সুরা আল-ফাতহ (সুরা নম্বর ৪৮)” এর অবতারণার মাধ্যমে অনুসারীদের “লুটের মালের ওয়াদা প্রদান (পর্ব: ১১১-১২৩)। অতঃপর, পরবর্তী বাইশ মাস সময়ে, হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির পর থেকে মক্কা বিজয়ের সময় (জানুয়ারি, ৬৩০ সাল) পর্যন্ত, বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের উপর মুহাম্মদ কমপক্ষে আঠার-টি আগ্রাসী হামলা সংঘটিত করেন (পর্ব: ১২৪)। সেই হামলাগুলো হলো, যথাক্রমে:

খায়বার হামলা (মে, ৬২৮ সাল)”, “অতর্কিত আক্রমণে” এই জনপদ-বাসীর ওপর অমানুষিক নৃশংসতা ও হত্যাকাণ্ড, তাদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ লুণ্ঠন ও যৌন-দাসী হস্তগতকরণ (পর্ব: ১৩০-১৫২); অতঃপর,”ফাদাক’ আগ্রাসন”, ফাদাক-বাসী মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে পেরেছিলেন “তাঁকে” তাদের যাবতীয় ভূখণ্ডের অর্ধেক মালিকানা প্রদানের মাধ্যমে (পর্ব: ১৫৩-১৫৮); অতঃপর অতর্কিত ওয়াদি আল-কুরা হামলা (পর্ব: ১৫৯); অতঃপর অতর্কিত তুরাবা হামলা ও নাজাদ আক্রমণ (পর্ব-১৬০); অতর্কিত বানু মুরাহ আক্রমণ; অতর্কিত আবদ বিন থালাবা আক্রমণ; অতর্কিত আল-জিনাব আক্রমণ; বানু সুলায়েম হামলা; অতর্কিত আল-কাদিদ হামলা (পর্ব: ১৭৫); অতর্কিত আল-গাবা হামলা (পর্ব: ১৭৬); অতর্কিত আল মুনধির বিন সাওয়া আল-আবদি ও তাঁর গোত্রের লোকদের ওপর হামলা; অতর্কিত বানু আমির গোত্রের ওপর হামলা; অতর্কিত ধাত আতলাহ আক্রমণ; অতঃপর ব্যর্থ মুতা হামলা (পর্ব: ১৮৪-১৮৬)!

অতঃপর, মুহাম্মদের মক্কা আক্রমণ ও বিজয়! মুতা হামলার (আগস্ট-সেপ্টেম্বর, ৬২৯ সাল) চার মাস ও হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির বাইশ মাস পর; ৬৩০ সালের জানুয়ারি মাসে “অতর্কিত আক্রমণে” মুহাম্মদের মক্কা বিজয়’, হত্যাকাণ্ড-নৃশংসতা ও ‘প্রতিমা’ ধ্বংসের মহোৎসব (পর্ব: ১৮৭-১৯৭)।

এই আঠারটি হামলা ছাড়াও মক্কা থেকে পালিয়ে আসা আবু বসির নামের মুহাম্মদের আর এক অনুসারীর নেতৃত্বে কুরাইশ বাণিজ্য বহরের ওপর হামলা, তাঁদেরকে খুন ও তাঁদের যাবতীয় মালামাল লুণ্ঠন ছিল পুরা-দমে অব্যাহত।

অতঃপর, বানু জাধিমা গোত্রের মানুষদের ওপর অমানুষিক হত্যাকাণ্ড (পর্ব: ১৯৮-২০১); নেতৃত্বে খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ। অতঃপর “হুনায়েন যুদ্ধ”, যার বিশদ আলোচনা গত নয়টি পর্বে করা হয়েছে। প্রশ্ন ছিল, “কী ঘটেছিল তখন?”

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের প্রায় সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকই ‘হুনায়েন যুদ্ধ’ উপাখ্যানের বর্ণনায় এই যুদ্ধের যে কারণ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, তা হলো (পর্ব-২০২):

‘হাওয়াজিনের লোকেরা যখন শুনতে পায় যে নবী মুহাম্মদ ‘মক্কা বিজয়’ সম্পন্ন করেছেন, তখন বানু নাসর গোত্রের মালিক বিন আউফ নামের এক ৩০ বছর বয়সী যুবক তাদের একত্রিত করে। থাকিফ, নাসর ও জুশাম গোত্রের সমস্ত লোক এবং সা’দ বিন বকর ও বানু হিলাল গোত্রের কিছু লোক তার সাথে মিলিত হয়; কায়েস আইলান গোত্রের অন্য আর কেহই তার সাথে যুক্ত ছিল না; আর কাব ও কিলাব গোত্রের কোনই লোকই সেখানে উপস্থিত ছিল না। তাঁদের আনুমানিক সংখ্যা ছিল প্রায় বিশ হাজার! হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা মক্কার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এই কারণে যে,

“তারা ভীত ছিল এই ভেবে যে, মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ তাদের আক্রমণ করতে পারে।”

সে কারণেই তারা একত্রিত হয়, সৈন্যসমাবেশ, বিদ্রোহ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ও বলে, “– তোমরা তোমাদের মনস্থির করো ও ‘সে তোমাদের কাছে আসার আগে’ তার দিকে যাত্রা শুরু করো।” অতঃপর তারা যাত্রা শুরু করে ও হুনায়েনের ‘আওতাস’ নামক স্থানে শিবির স্থাপন করে।

মুহাম্মদ যখন এই খবর-টি শুনতে পান, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবু হাদরাদ আল-আসলামি কে তাদের কাছে পাঠান ও তাকে এই নির্দেশ দেন যে সে যেন সেখানে তাদের মধ্যে যায় ও তাদের সাথে বসবাস করে ও তাদের সমস্ত খবরাখবর নিয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে। আবদুল্লাহ প্রস্থান করে ও সেখানে গিয়ে তাদের সাথে অবস্থান করে ও জানতে পারে যে তারা আল্লাহর নবীর সাথে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতঃপর আবদুল্লাহ ফিরে এসে মুহাম্মদ-কে সেই খবর-টি অবহিত করায়। অতঃপর মুহাম্মদ উমর বিন আল-খাত্তাব-কে ডেকে পাঠান ও আবদুল্লাহ তাঁকে যা বলেছে তা তাকে অবহিত করান। কিন্তু,

আবদুল্লাহ বিন আবু হাদরাদের এই খবর উমর সম্পূর্ণরূপে অবিশ্বাস করে ও বলে: “সে মিথ্যা বলেছে।

অতঃপর, আবদুল্লাহ বিন আবু হাদরাদ ও উমরের মধ্যে বচসা শুরু হয়। স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আবদুল্লাহ বিন আবু হাদরাদ-কে সমর্থন করেন। অতঃপর, মুহাম্মদ তাঁর মক্কা বিজয় সম্পন্ন করার মাত্র ১৫দিন পর তাঁর প্রায় বারো হাজার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের সেই আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে রওনা হোন ও তাদের আক্রমণ ও পরাস্ত করেন।

অর্থাৎ, আদি উৎসের এই বর্ণনায় আপাতদৃষ্টিতে সাধারণভাবে এই ধারণা-টিই পাওয়া যায় যে: “হাওয়াজিন, থাকিফ ও অন্যান্য আরব গোত্রের ‘সম্ভাব্য আক্রমণ’ প্রতিহত করার লক্ষ্যেই আত্মরক্ষার প্রয়োজনে মুহাম্মদ তাদের-কে আক্রমণ করেছিলেন!”

কিন্তু, আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে “কমপক্ষে চার-টি অসংগতি” অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যা এই ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত সাক্ষ্য-বাহী। সেই অসংগতিগুলো হলো এই:

প্রথম অসংগতি:
“হাওয়াজিন ও থাকিফ গোত্রের লোকেরা তাঁদের নারী, শিশু, পরিবার-পরিজন, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও তাদের গাধা-উট-ভেড়া জাতীয় গবাদি পশু ও তাদের সম্পদ-গুলো সঙ্গে এনেছিলেন! এর কারণ হিসাবে উল্লেখিত আছে যে, ‘তাদের দলনেতা মালিক বিন আউফের উদ্দেশ্য ছিল এই যে, তাহলে পুরুষরা তাদের রক্ষায় মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত থাকবে’।”

সুতরাং প্রশ্ন হলো:
মুহাম্মদের মদিনা জীবনের গত সাড়ে সাত বছরের ওপরে বর্ণিত আগ্রাসী আক্রমণ ও নৃশংসতার ইতিহাস; মাত্র ১৫দিন আগে অতর্কিত আক্রমণে মুহাম্মদের ‘মক্কা বিজয়’, হত্যাকাণ্ড-নৃশংসতা, ‘প্রতিমা’ ধ্বংস ও অতঃপর বানু জাধিমা গোত্রের মানুষদের ওপর হত্যাকাণ্ডের বিষয়-টি জানা থাকা সত্বেও হাওয়াজিনরা কোন ভরসায় তাদের নারী-শিশু-উট-গাধা ভেড়া নিয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের মত এমন এক দুর্ধর্ষ সশস্ত্র বাহিনী-কে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন? তারা কী এতটাই নির্বোধ ছিলেন?

মুহাম্মদের প্রেরিত গুপ্তচর আবদুল্লাহ বিন আবু হাদরাদের আনা খবরগুলো উমর ইবনে খাত্তাব কী কারণে বাতিল ও তাকে “মিথ্যাবাদী রূপে” দোষারোপ করেছিলেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা আদি উৎসের বর্ণনায় অনুপস্থিত। কিন্তু আদি উৎসের বর্ণনায় আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, “তারা ভীত ছিল এই ভেবে যে, মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ তাদের আক্রমণ করতে পারে।”

কোন শক্তিশালী আগ্রাসী নৃশংস বাহিনীর আক্রমণের কবল থেকে পরিবারের নারী-শিশু-বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা নিকট-আত্মীয়দের জীবন ও কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষায় মানুষ দলে দলে নিরাপদ আশ্রয়ে “পলায়নের চেষ্টা” করে! পথিমধ্যে আক্রান্ত হলে হয়তো নিজেদের প্রাণ ও সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনে “তৎক্ষণাৎ” শত্রুর মোকাবেলাও করে! কিন্তু নিজেদের নারী-শিশু পরিবার পরিজন, উট-ভেড়া-গাধা-ছাগল (গবাদি পশু) ও সম্পদ বগলে নিয়ে কোন গুষ্টি “আগ বাড়িয়ে” শক্তিশালী আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এগিয়ে আসে, এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য?

আদি উৎসের বর্ণনায় ‘হুনায়েন যুদ্ধের’ এই ঘটনা-টি পাঠের সময় ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের কিছু স্মৃতি মানস-পটে ভেসে উঠে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়টিতে আমরা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সম্ভাব্য অতর্কিত আক্রমণ ও নৃশংসতার কবল থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় নিজেদের গচ্ছিত সম্পদ ও নারী-শিশু-বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পিতা-মাতা সহ সকল পরিবার সদস্যদের-কে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ধাবিত হয়েছিলাম। সেই একই দৃশ্য আমরা দেখতে পাই বর্তমান সময়েও। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর আক্রমণ ও নৃশংসতার কবল থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় রোহিঙ্গারাও দলে দলে বাংলাদেশে আগমন করেছিল সেই একইভাবে। ইসলামিক স্টেট ও সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর আক্রমণের কবল থেকে বাঁচার প্রত্যাশায় যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইরাক-সিরিয়া থেকে তুরস্ক ও ইউরোপ অসংখ্য মানুষ পাড়ি দিয়েছে সেই একই প্রক্রিয়ায়।

দ্বিতীয় অসংগতি:
“এই যুদ্ধের শুরুতে মুহাম্মদ ও তাঁকে রক্ষায় নিয়োজিত অতি অল্প সংখ্যক অনুসারী ছাড়া বাঁকি সমস্ত অনুসারীরা যখন পলায়ন করেছিলেন, ও অতঃপর যখন তাঁর ও তাঁর চাচা আল-আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিবের আর্ত-চিৎকারে “সর্বোচ্চ একশত জন মুহাম্মদ অনুসারী ফিরে এসেছিলেন”, তখন বিশ হাজারের অধিক সংখ্যক হাওয়াজিন যোদ্ধারা অনায়াসেই এই অল্প কিছু মুসলমানদের ঘেরাও ও হত্যা করতে পারতেন! কিন্তু তারা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর কোন-রূপ আক্রমণ চালিয়েছিলেন, এমন ইতিহাস আদি উৎসের কোথাও বর্ণিত হয় নাই!”

সুতরাং প্রশ্ন হলো:
“হাওয়াজিনরা যদি তাদের নারী-শিশু, উট-গাধা-ডেড়া-ছাগল নিয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের “আক্রমণের উদ্দেশ্যেই” হুনায়েনের আওতাস নামক স্থানে এসে সমবেত হোন, তবে কোন তারা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের এই চরম দুর্বল মুহূর্তে আক্রমণ করেন নাই? কেন তারা এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন নাই? তবে কী তারা ‘আওতাস প্রান্তরে’ সমবেত হয়েছিলেন মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে ‘বাঁচার প্রচেষ্টায়, যুদ্ধের নিমিত্তে নয়’?”

তৃতীয় অসংগতি:
“যুদ্ধের প্রথমাবস্থায় মুহাম্মদ ও আল-আব্বাসের আর্তনাদে সাড়া দিয়ে সর্বোচ্চ মাত্র ১০০জন মুহাম্মদ অনুসারী ফিরে এসে ২০,০০০ সশস্ত্র হাওয়াজিন সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করে “অতি অল্প-সময়ের মধ্যে” তদের-কে পরাজিত করে! বর্ণিত হয়েছে, তা ছিল এতটায় অল্প-সময় যে, অন্য মুসলমানরা ফিরে এসে দেখে যে, ‘হাওয়াজিনরা পরাজিত হয়েছে ও না কোন তরোয়াল মুসলমানদের আঘাত করেছিল কিংবা না কোন বর্শা মুসলমানদের করেছিল বিদ্ধ’!” (পর্ব: ২০৬)!

কী আশ্চর্য! সে কারণেই এই যুদ্ধের বর্ণনায় আল্লাহর নামে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ (কুরআন: ৯:২৫) ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর নামে তার অনুসারীরা “অলৌকিক ও বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনীর (মোজেজা)” অবতারণার মাধ্যমে গোঁজামিল প্রদান করতে বাধ্য হয়েছে; যার কোন বাস্তব ও যৌক্তিক ভিত্তি নেই (পর্ব:২০৫)!

সুতরাং আবারও প্রশ্ন:
“হাওয়াজিনরা যদি তাদের নারী-শিশু, উট-গাধা-ডেড়া-ছাগল নিয়ে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের “আক্রমণের উদ্দেশ্যেই” হুনায়েন প্রান্তরে সমবেত হয়ে থাকে, তবে কী ভাবে সর্বোচ্চ মাত্র ১০০জন মুহাম্মদ অনুসারী “অতি অল্প সময়ে” তাদের এই বিশাল বাহিনী-কে পরাজিত করতে পারে? তবে কী তারা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে “শুধুমাত্র” বাঁচার প্রচেষ্টায়, যুদ্ধের নিমিত্তে নয়?”

চতুর্থ অসংগতি:
“এই যুদ্ধে ‘মাত্র চার-জন’ মুহাম্মদ অনুসারী নিহত হয়েছিলেন, যার একজন নিহিত হয়েছিলেন তাঁর ঘোড়ার ওপর থেকে মাটিতে পড়ে (পর্ব: ২০৯) ও আবু আমির আল-আশারি নামের অন্য একজন অনুসারী নিহত হয়েছিলেন যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার পর, হাওয়াজিনদের সাথে তার দশম দ্বন্দ্ব-যুদ্ধের সময়টি-তে (পর্ব: ২০৮)। অর্থাৎ, ২০,০০০ সশস্ত্র হাওয়াজিন সৈন্য সর্বোচ্চ একশত জন মুহাম্মদ অনুসারীর সাথে (কিংবা ‘বারো হাজার মুহাম্মদ অনুসারীর সাথে’, আল-তিরমিজির ব্যাখ্যা মতে (পর্ব: ২১০) যুদ্ধ করে “মাত্র দুই-জন” মুহাম্মদ অনুসারী-কে হত্যা করেছিলেন! অন্যদিকে প্রথম অবস্থায় পলায়নের পর সর্বোচ্চ একশত জন মুহাম্মদ অনুসারী ফিরে এসে এই বিশাল সংখ্যক হাওয়াজিন সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করে কমপক্ষে ১১৮জন অবিশ্বাসী-কে হত্যা করেছিলেন!”

কী তেলেসমাতি কাণ্ড! আবারও সেই একই প্রশ্ন:
“এই অত্যন্ত অসম হতাহতের সংখ্যায় কী নিশ্চিতরূপে এটাই প্রতীয়মান হয় না যে, হাওয়াজিনরা তাদের নারী-শিশু, উট-গাধা-ডেড়া-ছাগল নিয়ে আওতাস প্রান্তরে সমবেত হয়েছিলেন মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে “শুধুমাত্র” বাঁচার প্রচেষ্টায়, যুদ্ধের নিমিত্তে নয়?”

সুতরাং, “কী ঘটেছিল” প্রশ্নটির জবাব হলো:

“হুনায়েন হামলার” সেই সময়টি-তে সত্যিই কী ঘটেছিল, তা সঠিকভাবে জানা কখনোই সম্ভব নয়। তবে, ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের ‘হুনায়েন যুদ্ধ’ উপাখ্যানের বর্ণনায় ওপরে বর্ণিত অসঙ্গতিগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে যা প্রতীয়মান হয়, তা হলো:

‘হাওয়াজিনরা আওতাস প্রান্তরে সমবেত হয়েছিলেন মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে বাঁচার প্রত্যাশায়, যুদ্ধের নিমিত্তে নয়! আর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের-কে আক্রমণ করেছিলেন, “অতর্কিতে!” অতি প্রত্যুষে! হাওয়াজিনরা তা টের পেয়ে তৎক্ষণাৎ বাঁচার তাগিদে তাদের প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের ওপর থেকে ‘তীর নিক্ষেপ’ শুরু করে। যেহেতু মুহাম্মদের এই আক্রমণ-টি ছিল অতর্কিত, মুহাম্মদ অনুসারীদের কাছে হাওয়াজিনদের পক্ষ থেকে এই প্রতিরোধ তাদের জন্য ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। হাওয়াজিনরা যে তাদের নারী-শিশু ও গবাদি-পশুগুলো সঙ্গে নিয়ে এসেছে, এই তথ্য-টি মুহাম্মদ অনুসারীদের জানা ছিল না, যা আমরা জানতে পারি আল-ওয়াকিদি ও ইমাম মুসলিমের বর্ণনায়। অতি প্রত্যুষের সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে মুহাম্মদ অনুসারীরা ধারণা করেছিলেন যে, “এদের সবাই ছিল পুরুষ, বিশাল জনতার ঢল (পর্ব: ২০৬)।” তাই তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়ন করেছিলেন দিগ্বিদিকে।

অন্যদিকে, হাওয়াজিনরা যেহেতু সেখানে সমবেত হয়েছিলেন, “শুধুমাত্র” মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে! সে কারণেই তৎক্ষণাৎ মোকাবিলায় তারা মুহাম্মদের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারলেও তারা তাদের নিজেদের ও তাদের নারী-শিশু-পরিবার পরিজনদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার প্রাণপণ প্রচেষ্টায় ঊর্ধ্বশ্বাসে পলায়ন শুরু করে। তারা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর কখনোই ‘আগ্রাসী আক্রমণ’ চালানোর চিন্তাও করে নাই। সে কারণেই সংখ্যায় তারা বিশাল হওয়া সত্বেও ‘মাত্র দুইজন’ মুহাম্মদ অনুসারী নিহত হয়েছিল। মুহাম্মদ ও আল-আব্বাসের আর্ত-চিৎকারে সর্বোচচ একশত জন মুহাম্মদ অনুসারী যখন ফিরে আসে, তখন মুহাম্মদ তদের-কে “এই পলায়নরত হাওয়াজিনদের” বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয় ও ঘোষণা করে যে, “যে কেউ কোন শত্রু-কে হত্যা করবে, সে তার সম্পদ লুটের মালের অংশ হিসাবে প্রাপ্ত হবে (পর্ব: ২০৭)।” গণিমতের লোভে তাঁর এই অনুসারীরা পলায়ন-রত এই হাওয়াজিনদের হত্যার হোলি-খেলায় মেতে উঠে। সে কারণেই সংখ্যায় মাত্র একশত জন হওয়া সত্বেও “অতি অল্প সময়ে তারা তাদের-কে পরাজিত করে।” অমানুষিক নৃশংসতায় তারা ১১৮ জনেরও অধিক সংখ্যক হাওয়াজিনদের হত্যা করে! তাঁদের নারী-শিশু ও পরিবার পরিজনদের বন্দি করে ও বিশাল পরিমাণ গনিমত লুণ্ঠন করে। অন্যান্য মুহাম্মদ অনুসারীরা ফিরে এসে দেখতে পায় যে, “হাওয়াজিনরা পরাজিত হয়েছে ও না কোন তরোয়াল মুসলমানদের আঘাত করেছিল কিংবা না কোন বর্শা মুসলমানদের করেছিল বিদ্ধ’!”

আদি উৎসের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, ‘মুতা যুদ্ধে’ চরম ব্যর্থতায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ছিলেন মনক্ষুন্ন ও ‘গনিমত-বঞ্চিত!’ মক্কা বিজয়ে চরম সাফল্য, তথাপি ‘গনিমত বঞ্চিত।’ মুহাম্মদের সাফল্যের চাবিকাঠি হলো, “ওহী নাজিল ও অনুসারীদের গনিমত জোগান!” অনুসারীদের গনিমতের জোগান নিশ্চিত করার প্রয়োজনেই মুহাম্মদ আওতাসে সমবেত হাওয়াজিনদের ওপর এই “অতর্কিত আক্রমণ” চালিয়েছিলেন।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 54 = 58