সুইডেনে মুসলমানদের সহিংসতা ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

সুইডেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর মালমোতে কোরান পোড়ানোর এক ঘটনার জেরে শহরের ক্ষুব্ধ মুসলিমরা সহিংস বিক্ষোভ করেছে। গত রাতে এই বিক্ষোভের সময় কিছু তরুণ গাড়িতে আগুন দেয় এবং পুলিশের দিকে ইট পাটকেল ছোড়ে। পুলিশ জানায় প্রায় শ তিনেক মানুষ, যাদের অধিকাংশই তরুণ, তারা ঐ বিক্ষোভে অংশ নেয়। প্রায় ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। মালমোর অভিবাসী অধ্যুষিত রোজেনগার্ড শহরতলীতে কোরান পোড়ানোর এই ঘটনা ঘটে।

এক শ্রেণীর লিবারালরা দেখলাম, মুসলমানদের এই সহিংসতার নিন্দা না করে কোরান পোড়ানোর ঘটনার নিন্দা করছে! আমি তো অবাক হয়ে যাচ্ছি এই তথাকথিত লিবারালদের কর্মকাণ্ড দেখে!

ইসলাম যে একটা সন্ত্রাসী মতবাদ তা দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের কর্মকাণ্ড দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু আপনি যদি ইসলামের ও মুসলমানদের সমালোচনা করেন তাহলে লিবারালরা আপনাকে মুসলিম বিদ্বেষী ট্যাগ দেবে। মুহম্মদের সময় যারা মুহম্মদের সমালোচনা করেছিলো মুহম্মদ তাদের নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেছিলো। মুহম্মদ তার উম্মতদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন কেউ যদি ইসলামের সমালোচনা করে তাকে এ পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে। মুসলমানরা ১৪০০ বছর ধরে সেটাই করে আসছে। হিটলার যদি একজন সন্ত্রাসী হয় তবে মুহম্মদ কেন সন্ত্রাসী হবে না? মুহম্মদ হিটলারের চেয়েও বেশি মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছে। নাৎসিবাদ যদি সারা পৃথিবীতে নিষিদ্ধ হয় তাহলে ইসলাম কেন নিষিদ্ধ হবে না?

মুসলমানরা কিছুদিন আগে ব্যাঙ্গালোরেও সহিংসতা করেছে। আপনি একটা গীতা পুড়িয়ে দেখুন তো হিন্দুরা রাস্তায় নেমে সহিংসতা করে কিনা! আপনি একটা বাইবেল পুড়িয়ে দেখুন তো খ্রিস্টানরা রাস্তায় নেমে গাড়িতে আগুন দেয় কিনা? দেবে না। কারন হিন্দু বা খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থে এমন কোনও কন্টেন্ট নেই যা সহিংসতাকে উস্কে দেয়! অথচ আপনি কোরান হাদিস পড়ে দেখুন সেখানে পাতায় পাতায় ইহুদি, খ্রিস্টান, কাফের ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে, তাদেরকে সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব বলা হয়েছে, তাদেরকে হত্যা করতে বলা হয়েছে! ইসলাম মানেই সন্ত্রাসবাদ, ইসলাম মানেই জঙ্গিবাদ।

আমি যদি বলি মুসলমান মাত্রই জঙ্গি সন্ত্রাসী তাহলে অনেক তথাকথিত লিবারালই তেড়ে আসবেন! আপনি একবার ভেবে দেখুন তো যে সব মুসলিমরা সহিংসতা করে না, আত্মঘাতী বোমা হামলা করে না, বিধর্মীদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারা কি আসলে মুসলিম? তাদের কি মুসলিম বলা যাবে? কোরান হাদিসে তো স্পষ্ট বলা হয়েছে সমগ্র পৃথিবীতে আল্লাহর রাজত্ব কায়েম করার জন্য কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর, অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব কর না! কেউ যদি কোরানের একটা শব্দও অস্বীকার করে তাহলেই তো সে খারিজ হয়ে যায়! জাকির নায়েক তো বলেছেনই, মুসলমানদের অবশ্যই সন্ত্রাসী হতে হবে! তাহলে কেউ যদি বলে, মুসলমান মাত্রই জঙ্গি সন্ত্রাসী তাহলে কি খুব ভুল বলা যাবে?

আজ হোক, কাল হোক সারা পৃথিবীতে ইসলাম নিষিদ্ধ হবেই। মানব জাতিকে রক্ষার স্বার্থেই ইসলামকে নিষিদ্ধ করতে হবে। জঙ্গিবাদকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। বেশি বেশি করে কোরান পোড়াতে হবে, কোরান দিয়ে ফুটবল খেলতে হবে, যাতে বেশি করে মুসলমানদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগে। অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে দিয়ে মুসলমানদের অনুভুতিকে ভোঁতা করতে হবে। এ পৃথিবীটা মানুষের, মুসলমানের না! কোনও সন্ত্রাসী মতাদর্শের অনুসারী হওয়ার অধিকার কারো নেই। কয়দিন পর মুসলমানরা হয়ত দাবি করে বসবে, বোমা মেরে মানুষ মারা আমাদের ধর্মীয় অধিকার! তথাকথিত সেকুলার লিবারালরাও হয়তো সেই দাবিকে আমেরিকার সম্রাজ্যবাদের দোহাই দিয়ে সমর্থন করবে। কিন্তু তাতে আমাদের দমে গেলে চলবে না। পৃথিবীর মানুষের সামনে আমরা ইসলামকে আরও ভালভাবে এক্সপোজ করব।

একজন মানুষ নিজের টাকায় কোরান কিনে সেটা পোড়াবে। এটা তার ব্যাক্তি স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। কিন্তু তা বলে রাস্তায় নেমে গাড়ি ভাংচুর করা, গাড়িতে আগুন লাগানোর কোনও অধিকার মুসলমানদের নেই। মুসলমানরা বড়োজোর মুখ দিয়ে নিন্দা করতে পারে, কিন্তু এর বেশি কিছু করলে মুসলমানদের অবশ্যই শক্ত হাতে দমন করতে হবে। সেক্ষেত্রে মুসলমানদের প্রতি বিন্দু মাত্র সহানুভুতি দেখানোর অর্থ হচ্ছে পরোক্ষভাবে জঙ্গিবাদকে সমর্থন করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 + = 98