২১২: তায়েফ যুদ্ধ -১: কে ছিল আক্রমণকারী?

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

অতর্কিত আক্রমণে মক্কা বিজয় ও তার দুই সপ্তাহ পর ‘হুনায়েন’ নামক স্থানে সমবেত হাওয়াজিন ও অন্যান্য আরব গোত্রের লোকদের অমানুষিক নৃশংসতায় পরাস্ত করার পর, নবী মুহাম্মদের পরবর্তী সশস্ত্র আগ্রাসন-টি ছিল, “আল-তায়েফ আক্রমণ!” ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গ সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী) ও হাদিস গ্রন্থে এই হামলা-টির বর্ণনা বিভিন্ন ভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন, আল-ওয়াকিদি (৭৪৭ -৮২৩ সাল); তাঁর “কিতাব আল-মাঘাজি” গ্রন্থে।

মানব সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, যুগে যুগে মানুষ তার প্রয়োজনে মতবাদ ও সমাজ-ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে; ‘ঈশ্বরের নাম’ ব্যবহার করে কিংবা তা না করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই মতবাদ-গুলোর কোনটিই চিরস্থায়ী নয়। এর মুখ্য কারণ হলো: মানুষের চিন্তা-চেতনা, চাহিদা, প্রয়োজন, পরিস্থিতি, পারিপার্শ্বিক সমাজ ও সভ্যতা – ইত্যাদি বিষয়গুলো সর্বদায় পরিবর্তনশীল (Dynamic)। আজকের একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক মানুষের চিন্তা-ভাবনা, চাহিদা, প্রয়োজন, পরিস্থিতি ও তার পারিপার্শ্বিক সমাজ ও সভ্যতা নিঃসন্দেহে শতাব্দী প্রাচীন মানুষদের তুলনায় ভিন্ন প্রকৃতির। পরিবর্তনশীল এই সমস্ত বিষয়কে ‘অপরিবর্তনশীল’ কোন মতবাদের অধীনে ‘অনন্তকাল’ টিকিয়ে রাখা কখনোই সম্ভব নয়।

প্রায় প্রতিটি মতবাদেরই এক একান্ত অপরিহার্য ও প্রাথমিক (fundamental) শিক্ষা থাকে, যার ভিত্তিতে সেই মতবাদের অনুসারীরা তাঁদের চিন্তা-চেতনা, কর্মকাণ্ড ও রীতি-নীতি অনুশীলনের চেষ্টা করেন। ইসলাম ও তার ব্যতিক্রম নয়। কোন নির্দিষ্ট পরিস্থিতি-তে কোন নির্দিষ্ট মতবাদের অনুসারীরা কী ধরনের চিন্তা-ভাবনা, আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারেন, তা বহুলাংশেই নির্ভর করে সেই মতবাদের একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা পদ্ধতির ওপর।

‘ইসলামের’ একান্ত অপরিহার্য প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষা ও নির্দেশ অনুযায়ী জগতের সকল ‘মুমিন’ মুসলমানদের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হলো, “সর্বাবস্থায়” তাঁদের স্ব-ঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রশংসা করা, তাঁর সকল আদেশ-নির্দেশ যথাযথ পালন করা ও যাবতীয় কসরতের মাধ্যমে মুহাম্মদের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বৈধতা প্রদান করা। ‘ইসলামের’ এই একান্ত প্রাথমিক ও মৌলিক শর্ত অনুযায়ী, জগতের কোন ‘মুমিন’ মুসলমানই কোন অবস্থাতেই তাঁদের নবী মুহাম্মদের বানী ও কর্ম-কাণ্ডের বৈধতার প্রশ্নে কোনরূপ সন্দেহ-পোষণ করতে পারেন না। “পরোক্ষ ভাবেও নয়!” যদি তাঁরা তা করেন, তবে ইসলামের প্রাথমিক শর্ত অনুযায়ী তাঁদের-কে আর মুসলমান হিসাবে আখ্যায়িত করা যায় না। সেক্ষেত্রে, সন্দেহকারী এ সমস্ত মানুষদের ‘ইসলাম-বিচ্যুত (মুনাফিক বা মুরতাদ)’ ব্যক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। এমতাবস্থায়, তাঁরা যদি নবী মুহাম্মদের বাণী ও কর্মকাণ্ডের “কোনরূপ সমালোচনা” করেন, তবে তাঁদের-কে হত্যা করায় হলো ইসলামের নির্ধারিত বিধান। এই প্রক্রিয়ার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হলো:

“সত্যের সমাধি রচনা, ভণ্ডতার অনুশীলন ও মুহাম্মদের চাটুকারিতার প্রসার!”

এমত পরিস্থিতিতে, মুহাম্মদের মৃত্যুর কয়েক শত বছর পর তাঁর গুণগ্রাহী অনুসারীদের বর্ণিত (যাদের বর্ণনার ভিত্তিতে লেখকগণ উপাখ্যান-গুলো লিপিবদ্ধ করেছেন) ও লিখিত ইতিহাস থেকে সত্য-কে খুঁজে বের করা অত্যন্ত দুরূহ ও গবেষণা-ধর্মী বিষয়। তাঁদের রচিত এই ইতিহাসগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে ‘সত্য-কে’ খুঁজে বের করা কখনোই সম্ভব নয়।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের প্রায় সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের ‘হুনায়েন যুদ্ধ’ উপাখ্যানের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিত-রূপে জানি তা হলো: “হাওয়াজিন ও অন্যান্য আরব গোত্র ও উপ-গোত্রের লোকেরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর কোনরূপ আগ্রাসী আক্রমণ চালান নাই। বরাবরের মতই, আক্রমণকারী দল-টি ছিল মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা (পর্ব: ২০২-২০৯)! আর, আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনার “অসঙ্গতিগুলোর” পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে যা প্রায় নিশ্চিত-রূপেই প্রতীয়মান হয়, তা হলো:

“মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে (জানুয়ারি, ৬৩০ সাল) তারা সেখানে সমবেত হয়েছিলেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের করাল গ্রাস থেকে “বাঁচার প্রত্যাশায়”, যুদ্ধের নিমিত্তে নয়! আর মুহাম্মদ তাঁদের-কে আক্রমণ করেছিলেন অতর্কিতে! এটি কোন যুদ্ধ ছিল না! এটি ছিল অমুসলিমদের প্রতি মুহাম্মদের বহু অতর্কিত আগ্রাসী হামলার আর একটি উদাহরণ মাত্র (পর্ব: ২১১)!

বানু থাকিফ গোত্রের যে সমস্ত লোকেরা হুনায়েনে সমবেত হয়েছিলেন ও মুহাম্মদের আগ্রাসী নৃশংস আক্রমণ থেকে তাঁদের জীবন নিয়ে পালাতে পেরেছিলেন, তাঁরা পালিয়ে আল-তায়েফে আশ্রয় নেই। “হুনায়েন হামলা” সম্পন্ন করার পর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা সেখান থেকে সরাসরি আল-তায়েফ গমন করেন ও তার অধিবাসীদের ওপর আক্রমণ চালান! তায়েফ-বাসী তাঁদের নগরীর দুর্গের দু’টি দরজাই বন্ধ করে দেয় ও প্রাচীরের ওপার থেকে তাঁরা মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেয়। তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে তীর নিক্ষেপ শুরু করে।

 

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ (কবিতা পঙক্তি পরিহার): [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২০৯) পর:

‘থাকিফের পলাতক লোকেরা আল-তায়েফ গমন করে ও শহরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। উরওয়া বিন মাসুদ [পর্ব: ১১৫] ও ঘায়েলান বিন সালামা এই দুইজনের কেহই হুনায়েন কিংবা আল-তায়েফ অবরোধ কালে উপস্থিত ছিল না; তারা তখন জুরাশ নামক স্থানে Testudo (‘আল-দাববাদ), Catapult ও অন্যান্য যন্ত্রের (‘দুবুর’- এক ধরনের Testudo) ব্যবহার শিক্ষা করছিল। হুনায়েনের বিষয়-টি সমাপ্ত করার পর আল্লাহর নবী ‘আল-তায়েফ’ গমন করেন। — [4]

আল্লাহর নবী নাখলাতুল-ইয়েমেনিয়া, কাড়ন (Qarn), আল-মুলায়াহ ও লিয়ার (Liya) বাহরাতুল রুঘার পাশ দিয়ে (এই স্থানগুলো তায়েফ এলাকার অন্তর্ভুক্ত) যাত্রা করেন। তিনি সেখানে এক মসজিদ নির্মাণ করেন ও তার ভিতরে নামাজ আদায় করেন। [5]

আমর বিন শুয়ায়েব [মৃত্যু ৭৩৬ সাল] আমাকে যা বলেছে, তা হলো: [6]
তিনি যখন সেখানে পৌঁছান, সেই দিনটি-তে তিনি হত্যার বিনিময়ে হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের অনুমতি প্রদান করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল এ জাতীয় ঘটনার প্রথম। হুদায়েল গোত্রের এক লোক বানু লেইথ গোত্রের এক লোক-কে হত্যা করে; তাকে সে হত্যা করেছিল হত্যার প্রতিশোধ হিসাবে।

লিয়ায় অবস্থান কালে আল্লাহর নবী মালিক বিন আউফের দুর্গ-টি ধ্বংস করার (আল ওয়াকিদি: ‘পুড়িয়ে দেওয়ার’) আদেশ জারী করেন।

অতঃপর তিনি এমন এক রাস্তা দিয়ে গমন করেন, যার নাম ছিল ‘আল-দেইকা (al-Dayqa)’। রাস্তা-টি অতিক্রমের সময় তিনি এর নাম-টি জানতে চান। যখন তাকে বলা হয় যে, এটির নাম হলো ‘আল-দেইকা [সঙ্কীর্ণ], তিনি বলেন, “না, এটি হলো ‘আল-উসরা [সহজসাধ্য]’।”

অতঃপর তিনি নাখিব স্থানটির পাশ দিয়ে যাত্রা করেন ও ‘আল-সাদিরা’ নামের এক লোট-গাছের (lote tree) নিচে এসে যাত্রা বিরতি দেন; যে স্থান-টি ছিল থাকিফের এক লোকের সম্পত্তির সন্নিকটে। আল্লাহর নবী তার কাছে এই হুকুম পাঠান যে, “হয় তুমি বেরিয়ে আসবে, নতুবা আমরা তোমার প্রাচীর (‘ha’it’: যার মানে হলো প্রাচীর ও বাগান – যা ঐ প্রাচীর দ্বারা পরিবেষ্টিত) ধ্বংস করবো (আল-ওয়াকিদি: ‘পুড়িয়ে দেব’)।”

সে বের হয়ে আসতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে; তাই আল্লাহর নবী এই নির্দেশ জারী করেন যে তার প্রাচীর-টি যেন ধ্বংস করা হয়।

তিনি আল-তায়েফের কাছে এসে থামেন ও সেখানেই তাঁর শিবির স্থাপন করেন। তাঁর কিছু সহযোগী সেখানে তীরের আঘাতে মৃত্যুবরণ করে; এই কারণে যে, শিবির-টি ছিল আল-তায়েফের প্রাচীরের খুবই নিকটে ও তীরগুলি তাদের নাগাল অবধি পৌঁছেছিল। মুসলমানরা তাদের প্রাচীর অতিক্রম করে ভিতরে ঢুকতে পারে নাই। কারণ তারা সেটির দরজা দৃঢ়ভাবে বন্ধ করে রেখেছিল। তীরের আঘাতে লোকগুলো নিহত হওয়ার পর তিনি শিবির-টি স্থানান্তরিত করেন সেই স্থানটির নিকট, যেখানে তাঁর মসজিদ-টি আজ অবস্থিত।’

 

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

‘সে বলেছে: আবদুল্লাহ বিন জাফর, ইবনে আবি সাবরা, ইবনে মাওহাব, আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ, আবদ আল-সামাদ বিন মুহাম্মদ আল সা’দি ও মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আমাকে আল-যুহরি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছে; আর এছাড়াও উসামা বিন যায়েদ, আবু মাশার, আবদ আল-রাহমান বিন আবদ আল-আযিয ও মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া বিন সাহল ও অন্যান্য ব্যক্তিরা যাদের নাম আমি উল্লেখ করি নাই, লোকগুলো ছিল বিশ্বস্ত। তাদের সকলেই আমাকে এই ঘটনাটির অংশগুলো অবহিত করিয়েছে। আমাকে যা বর্ণনা করা হয়েছে তার সমস্তই আমি লিখে রেখেছি। তারা বলেছে:

‘হুনায়েন দখল করার পর আল্লাহর নবী আল-তায়েফে যাত্রার বাসনা করেন। তিনি আল-তোফায়েল বিন আমর-কে ‘ধু আল-কাফিয়ান’ – আমর বিন হুমামার প্রতিমা – ধ্বংসের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। তিনি তাকে এই নির্দেশ দেন যে, সে যেন তার লোকদের এই অনুরোধ করে যে তারা যেন তাকে সাহায্য করে ও তার সাথে আল-তায়েফে যোগদান করে।

আল-তোফায়েল বলে, “হে আল্লাহর নবী, আমাকে পরামর্শ দিন।”
আল্লাহর নবী বলেন, “শান্তি ছড়িয়ে দাও; খাদ্য প্রদান করো; ঈশ্বরের সম্মুখে চুপচাপ থাকো, যেমন করে এক অভিজাত ব্যক্তি তার পরিবারের সামনে চুপচাপ থাকে। যদি তুমি কোন খারাপ কাজ করো, তবে পরিবর্তে একটি ভাল কাজ করো। কারণ যা কিছু ভাল, তা মন্দ-কে অপসারণ করে: ‘যারা স্মরণ রাখে (তাদের পালনকর্তা-কে) তার জন্য এটি এক মহা স্মারক (কুরআন: ১১:১১৪)।”

সে বলেছে: তাই তোফায়েল দ্রুত তার লোকদের কাছে গমন করে ও ‘ধু আল-কাফিয়ান-কে’ ধ্বংস করে।

সে প্রতিমা-টি তে আগুন ধরিয়ে দেয়। —

আল-তোফায়েল তার সম্প্রদায়ের চার-শত লোক কে নিয়ে আসে। আল-তায়েফে আল্লাহর নবীর অবস্থানের চতুর্থ দিনে সে তাঁর সম্মুখে এসে হাজির হয়। আর সে তার সঙ্গে নিয়ে এসেছিল যুদ্ধ-মেশিন ও ম্যাঙ্গোনেল-গুলো। আল্লাহর নবী বলেন, “হে ‘আল-আযদ’ এর লোকেরা, কে তোমাদের ব্যানার বহন করবে?” আল-তোফায়েল জবাবে বলে, “যে এটিকে জাহিলিয়া-যুগে বহন করত সে।” নবীজি বলেন, “তুমি ঠিকই বলেছ!” সেই লোকটি ছিল আল নুমান বিন আল-যাররাফা আল-লিহবি।

আল্লাহর নবী খালিদ বিন আল-ওয়ালিদ কে আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়ে হুনায়েন থেকে প্রেরণ করেন। খালিদ কিছু পথপ্রদর্শক নিযুক্ত করে যেন তারা তাকে পথ দেখিয়ে আল-তায়েফে নিয়ে যায়। সে আল-তায়েফে আল্লাহর নবীর কাছে এসে পৌঁছে। আল্লাহর নবী এই নির্দেশ জারী করেন যে, বন্দীদের যেন ‘আল-জিররানায় (al-Ji‛irrāna)’ স্থানান্তরিত করা হয়। তিনি বুদায়েল বিন ওয়ারকা আল-খুযায়ি-কে [পর্ব: ১১৫] এই কাজের দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। তিনি আদেশ জারী করেন যে, গবাদি পশুগুলো-কে পরিচালিত করে যেন আল-জিররানা ও আল-রিথথায় (al-Riththa) নিয়ে যাওয়া হয়।

আল্লাহর নবী আল-তায়েফে গমন করেছিলেন, আর থাকিফরা তাদের দুর্গ মেরামত করেছিল। ‘আওতাসে’ পরাজিত হওয়ার পর তারা সেটির ভিতরে প্রবেশ করে ও নিজেদের তালাবন্ধ করে রাখে। এটি ছিল তাদের শহরের দুর্গ, যার ছিল দু’টি দরজা। তারা লড়াইয়ের জন্য প্রশিক্ষন নিয়েছিল ও প্রস্তুত ছিল ও অবরোধের আশংকায় তারা তাদের দুর্গের ভিতরে এক বছরের খাদ্যসম্ভার মজুদ রেখেছিল। —–

সে বলেছে: আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আমাকে সাইদ বিন আমর হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, যে বলেছে:

এমন এক ব্যক্তি যে লিয়ায় (Liyya) আল্লাহর নবীর নিজ হাতে মসজিদ নির্মাণ প্রত্যক্ষ করেছিল, যখন তাঁর অনুসারীরা তাঁকে পাথরগুলি হস্তান্তর করছিল, আমাকে বলেছে যে: আল্লাহর নবীর সম্মুখে বানু লেইথ গোত্রের এক লোককে ধরে নিয়ে আসা হয়, যে লোকটি হুদায়েল গোত্রের এক লোক-কে হত্যা করেছিল। মামলারত দুই ব্যক্তি আল্লাহর নবীর কাছে সিদ্ধান্তের আবেদন জানায় ও আল্লাহর নবী লেইথি লোক-টি কে হুদালি-দের কাছে হস্তান্তর করেন। তারা তাকে ধরে নিয়ে নিয়ে যায় ও তার কল্লা-টি কেটে ফেলে। ইসলামের ইতিহাসে আল্লাহর নবী কর্তৃক এটিই ছিল নির্ধারিত প্রথম হত্যাকাণ্ড।

আল্লাহর নবী লিয়ায় জোহরের নামাজ আদায় করেন। সে সময় আল্লাহর নবী এক দুর্গ দেখতে পান ও তিনি সেই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন।
তারা বলে, “এটিই হলো মালিক বিন আউফের দুর্গ।”
তিনি বলেন, “মালিক কোথায়?”
তারা জবাবে বলে, “সে এখন আপনাকে থাকিফ-দের দুর্গ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।” আল্লাহর নবী বলেন, “এই দুর্গের ভিতরে কে আছে?”
তারা বলে, “এর ভিতরে কেউ নেই।”
আল্লাহর নবী বলেন, “এটি পুড়িয়ে দাও!”

আছরের নামাজের সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এটি জ্বলতে থাকে। —–

অতঃপর তিনি নাখিব স্থানটির উদ্দেশ্যে রওনা হোন ও বানু থাকিফ গোত্রের এক লোকের সম্পত্তির ওপর অবস্থিত ‘সিদরার [গাছ]’ নীচে এসে যাত্রা বিরতি দেন। আল্লাহর নবী তার কাছে এক বার্তা পাঠান, এই বলে, “নিশ্চিতই, তোমাকে অবশ্যই বাহির হয়ে যেতে হবে; নতুবা আমরা তোমার দেয়ালগুলি পুড়িয়ে দেবো!”

কিন্তু সে বাহিরে আসতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। আল্লাহর নবী তার দেয়ালগুলো ও তার ভিতরে যা কিছু ছিল তা জ্বালিয়ে দেওয়ার আদেশ জারী করেন।

আল্লাহর নবী তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখেন ও আল-তায়েফের দুর্গের প্রাচীরগুলোর নিকটবর্তী স্থানে এসে তাঁর যাত্রা বিরতি দেন। তিনি সেখানে তাঁর শিবির স্থাপন করেন। আল্লাহর নবী ও তাঁর সঙ্গীরা সেখানে নামা মাত্রই আল-হুবাব বিন আল-মুনধির তাঁর নিকটে আসে ও বলে, “হে আল্লাহর নবী, বাস্তবিকই আমরা দুর্গের কাছাকাছি। যদি এই সিদ্ধান্তটি আল্লাহর কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশের কারণে হয়, তবে আমরা তা মেনে নেবো; কিন্তু যদি এটি মতামত যোগ্য হয় তবে দুর্গের কাছ থেকে দূরে থাকুন।”
সে বলেছে: আল্লাহর নবী নীরব ছিলেন।

আমর বিন উমাইয়া আল-দামরি এ সম্পর্কে যা বলতো, তা হলো: সেখানে অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তাদের তীরগুলোর সম্মুখীন হই – শুধু আল্লাহই জানে যে তার সংখ্যা ছিল কত – পঙ্গপালের মত ঝাঁকে ঝাঁকে। মুসলমানদের পক্ষের লোকজন আহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমরা সেগুলো থেকে নিজেদের রক্ষা করি। আল্লাহর নবী আল-হুবাব কে ডাকেন ও বলেন, “লোকজন-দের পিছনের অংশে কোন উঁচু জায়গার সন্ধান করো।” তাই আল-হুবাব রওনা দেয় ও নগরীর বাহিরে আল-তায়েফের মসজিদের স্থান-টির কাছে এসে পৌঁছে; ও অতঃপর সে আল্লাহর নবীর কাছে ফিরে এসে তাঁকে খবর-টি জানায়। আল্লাহর নবী তাঁর সাহাবীদের-কে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারী করেন। আমর বিন উমাইয়া বলেছে: সত্যই আমি আবু মিহজান-কে দুর্গের উপর থেকে তার প্রায় দশটি তীর নিশানা করতে দেখেছি, যেগুলো দেখতে ছিল বর্শার মত; আর তার তীরগুলোর একটিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় নাই। তারা বলেছে: আল্লাহর নবী উপরে উঠে ঐ স্থানটি-তে আসেন, যেখানে আজ আল-তায়েফের মসজিদ-টি টিকে আছে।’ —–

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো:

“থাকিফ ও আল-তায়েফের লোকেরা, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ চালান নাই!”

বরাবরের মতই, আগ্রাসী আক্রমণকারী মানুষ-টি ছিলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ও তাঁর সঙ্গীরা। আর আল-তায়েফের জনপদ-বাসী লড়াই করেছিলেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের করাল গ্রাস থেকে বাঁচার প্রচেষ্টায়।

আদি উৎসের বর্ণনায় ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, মুহাম্মদ পথিমধ্যেই মালিক বিন আউফের দুর্গ ও অন্য এক তায়েফ-বাসীর সম্পদ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন (ইবনে ইশাক: ‘ধ্বংস করেছিলেন’)। মালিক বিন আউফ হুনায়েনে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু উক্ত তায়েফ-বাসী হুনায়েনে উপস্থিত ছিলেন এমন ইতিহাস কোথাও বর্ণিত হয় নাই। বর্ণিত হয়েছে:

“লোকটি তার নিজ বাড়ির ভিতর থেকে বাহিরে আসতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছিলেন, আর সে কারণেই মুহাম্মদ তাঁর বাড়ির দেওয়াল ও তার ভিতরে যা কিছু আছে সবকিছু পুড়িয়ে ফেলার হুকুম জারী করেছিলেন!”

লোকটির কী পরিণতি হয়েছিল ও মুহাম্মদ তাঁকেও পুড়িয়ে মেরেছিলেন কিনা, তা আদি উৎসের বর্ণনায় অনুপস্থিত।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই):]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

‘He said: ‛Abdullah b. Ja‛far, Ibn Abī Sabra, Ibn Mawhab, ‛Abdullah b. Yazīd, ‛Abd al-Ṣamad b. Muḥammad al-Sa‛dī, and Muḥammad b. ‛Abdullah related to me from al-Zuhrī; and also Usāma b. Zayd, Abū Ma‛shar, ‛Abd al-Raḥmān b. ‛Abd al-‛Azīz and Muḥammad b. Yaḥyā b. Sahl, and others who I have not named, people of trust. All have related this tradition to me in portions. I wrote down all that was related to me. They said: When the Messenger of God conquered Ḥunayn, he desired to march to [Page 923] al-Ṭā’if. He sent al-Ṭufayl b. ‛Amr to Dhū 1-Kaffayn—the idol of ‛Amr b. Ḥumama—to destroy it. He commanded him to ask his people to help him and join him in al-Ṭā’if. Al-Ṭufayl said, “O Messenger of God, advise me.” The Messenger of God said, “Spread peace, grant food, be reticent before God, just as an elegant man would be reticent before his family. If you do a bad deed, follow it with a good deed. For those things that are good remove those that are evil: Be that word of remembrance to those who remember (their Lord) (Q: 11:114).” He said: So Ṭufayl went out swiftly to his people and destroyed Dhū 1-Kaffayn. He stuffed the idol with fire. —-

Al-Ṭufayl hastened and came down with four hundred of his community. They appeared before the Prophet in al-Ṭā’if after his stay of four days, and he arrived with war machines and mangonels. The Messenger of God said, “O people of al-Azd, who shall carry your banner?” Al-Ṭufayl replied, “He who used to carry it in jāhiliyya.” The Prophet said, “You are right!” And it was al-Nu‛mān b. al-Zarrāfa al-Lihbī. The Messenger of God dispatched Khālid b. al-Walīd from Ḥunayn to lead the attack. Khālid took some guides to lead him to al-Ṭā’if. He reached the Messenger of God at al-Ṭā’if. The Messenger of God commanded that the prisoners be moved to al-Ji‛irrāna. He appointed Budayl b. Warqā’ al-Khuzā‛ī over them. [Page 924] He commanded that the cattle be driven to al-Ji‛irrāna and al-Riththa.

The Messenger of God went to al-Ṭā’if, and the Thaqīf had repaired their fortress. They had entered it after their defeat at Awṭās and locked themselves in. It was a fortress over their city that had two doors. They trained the skilled to fight and be prepared, and they brought into their fortresses provisions for a year in case they were besieged. —–

He said: ‛Abdullah b. Yazīd related to me from Sa‛īd b. ‛Amr, who said: One who saw the Messenger of God build a mosque, with his own hands, in Liyya, while his companions transferred the stones to him, related to me that a man from the Banū Layth who had killed a man from Hudhayl was brought before the Prophet. The two litigants applied to the Prophet for a decision, and the Messenger of God handed the Laythī to the Hudhalī, and they took him and cut off his head. It was the first blood stipulated by the Prophet in Islam.

The Messenger of God prayed Ẓuhr in Liyya, and, at that time, the Messenger of God saw a castle, and he asked about it. They said, “This is the castle of Mālik b. ‛Awf.” He said, “Where is Mālik?” They replied, “He observes you now from the fortress of Thaqīf.” [Page 925] The Messenger of God said, “Who is in his castle?” They said, “No one is in it.” The Messenger of God said, “Burn it!” It burned from the time of the ‛Aṣar prayer until sun set. —–

Then he went out to Nakhib until he alighted under a Sidra at the property of a man from Thaqīf. The Prophet sent him a message, saying, “Indeed, you must go out, or we will burn your walls!” But he refused to go out. The Prophet commanded the burning of the walls and whatever was in it.

The Messenger of God proceeded until he alighted close to the walls of the fortress of al-Ṭā’if. He set up his camp there. As soon as the Messenger of God and his companions alighted, al-Ḥubāb b. al-Mundhir came to him and said, “O Messenger of God, indeed we are near the fortress. If this decision was due to a command from God, we submit, but if it is an opinion then stay back from the fortress.” He said: The Messenger of God was silent.

[Page 926] Amr b. Umayya al-Ḍamrī used to relate saying: As soon as we alighted, we received from their arrows—God only knows how many—as though it was a swarm of locust, and we shielded ourselves from them until the people from the Muslims were wounded. The Messenger of God called al-Ḥubāb and said, “Look for a place raised and at the rear of the people.” So al-Ḥubāb set out until he reached the place of the Mosque of al-Ṭā’if, outside the village and he came to the Prophet and informed him. The Messenger of God commanded his companions to move. ‛Amr b. Umayya said: Indeed I saw Abū Miḥjan aim from above the fortress with about ten of his arrow heads as though they were spears, and not an arrow of his fell short of its mark. They said: The Messenger of God ascended to where the masjid al-Ṭā’if stands today.’—-

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা ৫৮৭-৫৮৯
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf
[2] অনুরূপ বর্ণনা- আল-তাবারী, ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা ২১-২২
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp
[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩: পৃষ্ঠা ৯২২-৯২৬; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৫২-৪৫৪
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] Testudo: ‘কাঠ ও চামড়া দিয়ে তৈরি এক ধরণের মধ্যযুগীয় প্রতিরক্ষা যন্ত্র; Catapult: দূরবর্তী স্থানে পাথর ও বর্শা নিক্ষেপে ব্যবহৃত এক ধরণের মধ্যযুগীয় যুদ্ধাস্ত্র।’
[5] Ibid আল-তাবারী – নোট নম্বর:
১৫১: নাখলাতুল- ইয়েমেনিয়া – ‘মক্কা থেকে ইয়েমেনের পথে প্রায় এক কিংবা দুই রাত্রির দূরত্বে অবস্থিত একটি উপত্যকা।’
১৫২: কাড়ন আল-থালিব – ‘মক্কা থেকে প্রায় এক দিনের দূরত্বে অবস্থিত একটি স্থান; যেখানে নাজদ, বাকরি, মুজামের লোকেরা এসে মিলিত হতো।’
১৫৩: আল-মুলায়াহ -‘আল-তায়েফের নিকটবর্তী একটি উপত্যকা।’
১৫৪- বাহরাতুল রুঘা – ‘আল-তায়েফ জেলায় অবস্থিত একটি স্থান।’
১৫৫: লিয়া (Liya or Liyyah) – ‘আল-তায়েফ থেকে ১৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত একটি উপত্যকা।
[6] ‘আমর বিন শুয়ায়েব বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস; তিনি ৭৩৬ সালে তায়েফে মৃত্যুবরণ করেন।’
[7] Ibid আল-তাবারী: নোট নম্বর
১৫৬: বানু লেইথ বিন বকর বিন আবদ মানাত বিন কিনানা গোত্র।
১৫৭: হুদায়েল গোত্র – ‘উত্তর আরব বংশোদ্ভূত একটি উপজাতি; যাদের বসতি ছিল মক্কার পশ্চিম, পূর্ব ও আল-তায়েফের দিকে পাহাড় পর্যন্ত বেশিরভাগ অঞ্চলে। তারা কিনানা গোত্রের লোকদের সাথে ছিল ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত, ফলস্বরূপ তারা ছিল কুরাইশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।’
১৫৯: আল-দেইকা (al-Dayqah) – ‘সরু উপত্যকা বোঝাতে এই শব্দটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয়, বন্যার সময় যা সম্ভবত অতিক্রম-যোগ্য নয়।’
১৬০: নাখিব বা নাখাব (Nakhib or Nakhab) – ‘আল-তায়েফের নিকটস্থ একটি উপত্যকা।’

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 13 = 16