বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ শাসনের ইতিহাস [১৯৭৫-২০২০] ! পর্ব : ৭

[১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু মারা না গিয়ে বেঁচে উঠলে কিভাবে চালাতেন তিনি আজকের বাংলাদেশ! বহুদলীয় শাসনে বাংলাদেশ কি ভাল আছে এখন! একদলীয় শাসনের চীনের থেকে? তার রূপক গল্প হচ্ছে এটি! বড় বিধায় প্রত্যহ রাত ৮-টায় ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করা হবে জীবন চিন্তনের এ গল্প!]

:

পরিবারের সব হারিয়ে কেবল বাঙালি জাতিকে নিয়ে বেঁচে থাকা বঙ্গবন্ধু শিক্ষার পর হাত দিলেন কৃষিতে। কারণ তিনি মনে করলেন কৃষি নির্ভর বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে কৃষির বিকল্প নেই। প্রত্যেক গ্রামে বাসভবন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কৃষি ভূমি উদ্ধার প্রকল্পের আওতায় ২০-তলা ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করলেন তিনি। মানে প্রথমেই একটি গ্রামে বসবাসকারীর হিসেবে করে সবাই যাতে একটি বহুতল ভবনে বাস করতে পারে, সে অনুযায়ী একটি ২০-তলা বহুতল ভবন নির্মাণ করে ঐ ভবনে গ্রামের সবাইকে স্থানান্তর করে পরিত্যক্ত ঘরবাড়িকে কৃষিভূমিতে রূপান্তর করা। নদীর ভাঙন রোধকল্পে সোভিয়েত ও ডেনমার্ক সরকারের সহযোগিতায় ড্রেজার সংগ্রহ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নদীপথ সোজাকরণ ও সমুদ্রের চর জাগা ভূমি উদ্ধারের মাধ্যমেও অচিরেই জমির পরিমাণ ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়। নদী শাসন, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি জমি উদ্ধার, নদীর দু’তীরে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী প্রকল্প গ্রহণ করলেন তিনি। সমতলের লক্ষ লক্ষ বেকারকে পার্বত্য জেলাগুলোতে নিয়ে পাহাড়গুলোকে সমতল ভূমিতে রূপান্তর করে সেখানে সমতার ভিত্তিতে বাঙালি-পাহাড়িদের মধ্যে ভূমি ও জনবণ্টন করাতে সমতলের ভূমিতে ভারসাম্য ফিরে আসে ও কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ে ব্যাপকহারে অল্প দিনেই। জনগণকে জমির আইলের সুফল-কুফল বুঝিয়ে কঠোর আইন করে জমির আইল তুলে দিতেও সমর্থ হন বঙ্গবন্ধু। যাতে অল্প দিনেই কৃষিজমির পরিমাণ আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়। বর্ণিত ভূমি সংস্কারের কারণে আদালতগুলোতে মামলার সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে কমে যায়, আদালত চক্রে মানুষের ভোগান্তি কমে। প্রত্যেক গ্রামে একজন করে কৃষি ডিপেস্নামাধারী কৃষি মাঠকর্মী নিয়োগ করে, কৃষকদের জন্যে উন্নত বীজ, সেচ, সার, কিটনাশকের নিশ্চয়তা বিধান করে খাদ্যে স্বয়ম্ভর রপ্তানীকারক দেশে পরিণত হয় বাংলাদেশ। কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির লক্ষ্য কৃষকদের পণ্য বিক্রির জন্যে ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি মার্কেট’ চালু হয় অল্প দিনেই। যার সুফল পেয়ে কৃষকরা কৃষি উন্নয়নে গতি আনে।

কৃষি গবেষণার মাধ্যমে উন্নত চারা ও বীজ উৎপাদনে গুরুত্ব দেয়া হয়। যে কারণে পৃথিবীর সকল ফস-ফসল বাংলাদেশে উৎপাদন শুরু হয়। ২০১২ সনে বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই দেশী ফল-ফসল ছাড়াও ভীনদেশি রামবুটান, ড্রাগন-ফ্রুট, ম্যাঙ্গোস্টিন, হানিডিও, কিউই, আরবী খেজুর, আনার, জয়তুন, মাল্টা, আঙুরসহ দেশীয় হাইব্রিড ফল-ফসল দেখা যায়। জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের সাইজ, উৎপাদন লক্ষমাত্রা ও ধানের আকার বড় হয়। কৃষি গবেষণায় দ্বি-বীজের প্রোটিন-ভিটামিন-পুষ্টি-শর্করা সম্পন্ন ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ধান এবং উন্নত পাট উৎপাদন শুরু হয়। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীতে পেয়ারা প্রসেসিং পস্নান্ট, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে আমড়া সংরক্ষণ ফ্যাক্টরী, এভাবে চাপাইনবাবগঞ্জে আম, পার্বত্য জেলাগুলোতে আনারস প্রজেক্ট, শ্রীপুরে কাঁঠাল প্রজেক্ট, কুয়াকাটায় ইলিশ প্রসেসিং পস্নান্ট স্থাপন করা হয় সরকারি পর্যায়ে। দেশী বিদেশী যৌথ বিনিয়োগে কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা স্থাপিত হয় দেশের সর্বত্র। ভাগে ভুটান ও আফ্রিকায় জমি চাষে অংশ নিলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ৩-গুণেরও বেশি হারে। গুড়া দুধ আমদানীর বদলে তরল দুধ রপ্তানীকারক দেশে পরিণত হয় বাংলাদেশ অল্পদিনেই। যে কারণে রপ্তানী আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পেয়ে মাথাপিছু ৯,০০০ ডলারে উন্নীত হয় কয়েক বছরের মধ্যেই।

:

বঙ্গবন্ধু অনুধাবন করেন নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়নের নিয়ামক হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। সে লক্ষক্ষ্য তিনি দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার ও বন্ধু দেশগুলোর সহযোগিতায় যোগাযোগ ক্ষেত্রে নিমণরূপ পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। নদীগুলোকে গভীর ও সোজা করে খনন করে ভাঙন রোধ করার পদক্ষেপ ও নদীপথে উন্নত দ্রুতগতির ঝড় প্রতিরোধী জলযান তৈরীর নির্দেশ দেন দেশের নৌ-প্রকৌশলীদের। দেশের বড় বড় নদীগুলো ও বাংলাদেশের চারদিকের সীমান্তে আন্তর্জাতিক মানের সার্কুলার সড়ক, জলপথ ও রেলপথ নির্মাণের জন্যে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের ‘এক্সপ্রেস-ওয়ে’র অনুসরণে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের প্রায় ৮০-লাখ দক্ষ মানুষ এখন বিদেশে কর্মরত, ‘এনআরবি’ নামে পরিচিত এই প্রবাসীরাদের অর্জিত অর্থ তথা বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের জন্যে প্রতিটি ১০০-ডলারের ‘শেয়ার’ ছাড়া হয়, যাতে আশানুরূপ সারা মেলে ও বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট দূর হয়।

:

শেয়ারগুলো আমাদের কনস্যুলেট-দূতাবাসের মাধ্যমে বিক্রি হয়। উপর্যুক্ত পদ্ধতিগুলো ছাড়াও দেশে বর্তমানে যে কোটি কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, তাতে তারা ১৫% ভ্যাট নিয়মিত পরিশোধ করছে, তার উপর অতিরিক্ত ১% উন্নয়ন সারচার্জ ধার্য করা হয় ও সকল নাগরিকই তা সানন্দে পরিশোধ করে দেশের এই মহৎ কাজটিতে প্রত্যেকেই সরাসরি অংশীদার হতে পেরে নাগরিক হিসেবে গর্ব বোধ করে। এ ছাড়াও আরো যে সকল পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা হয় তা হচ্ছেঃ (ক) ‘আগাম লিজিং বিক্রয়’-এই পদ্ধতিতে বিশেষ কোন ব্রিজ নির্মাণ সমাপ্তির পরবর্তী ৫-বছরের টোল উত্তোলনের ‘লিজ’ কোন বিদেশী কোম্পানীর কাছে অগ্রিম বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা হয় ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে (খ) লাইফ-টাইম গাড়ির আগাম পারাপার বিক্রয় (গ) ‘সকল সরকারি সার্ভিসে অগ্রাধিকারের সুনাগরিক কার্ড প্রদান’- যিনি এই খাতে ‘অফেরতযোগ্য এককালীন ১-লাখ টাকা’ পরিশোধ করে একজন দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিকের পরিচয় দেবে, তাকে ‘সকল সরকারি সার্ভিসে অগ্রাধিকারের সুনাগরিক কার্ড’ প্রদান করা, যে কার্ডটি প্রদর্শন করে বর্ণিত নাগরিক বিমানবন্দর, হাসপাতাল, যানবাহনে টিকেট বুকিং, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, পাসপোর্ট প্রাপ্তি, খেলার টিকেট, ব্যাঙ্কিং সার্ভিসসহ নানাবিধ কাজে অগ্রাধিকার পাবেন। ভারত ও বার্মার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমানার চারদিকে সার্কুলার সড়ক, সার্কুলার রেলপথ ও সার্কুলার জলপথ তৈরীর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। যে কারণে সীমান্ত হয় সুরক্ষিত, যোগাযোগ ব্যবস্থা হয় উন্নত, যৌথভাবে ৩-টি দেশই ব্যবহার করে এই সীমান্ত পথ। বাংলাদেশ এই পথ থেকে আয় করছে এখন প্রতি বছর বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ট্রেনে নেপাল, ভুটান, ভারত, বার্মা, থাইল্যান্ড, চীন ছাড়াও এশিয়া ও ইউরোপের সকল দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

:

সড়ক পথে সরাসরি ভারত হয়ে আফগানিস্তান, ইরান, চীন, নেপাল, ভুটানে অবাধে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত হয়। জলপথে কোলকাতা, বোম্বে, কলম্বো, জেদ্দা, দুবাই, বার্মা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড গমন সহজতর হয়। বিশ্বের অনেক ক্রুজ কোম্পানী তাদের বহুতল যাত্রীবাহী জাহাজগুলো চট্টগ্রাম থেকে বর্ণিত বন্দরগুলোতে নিয়মিত পরিচালনা শুরু করে। পর্যটনের জন্যে নিরাপদ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের পরেই তার স্থান করে নেয়। প্রতি বছর প্রায় ১-কোটি পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করে। পাথরঘাটা, কুয়াকাটা ও টেকনাফে ডিপ-সি-পোর্ট স্থাপিত হলে বাংলাদেশের সি-পোর্টের মাধ্যমে নেপাল, ভুটান ও ভারতের ৭-অঙ্গরাজ্যের বাণিজ্য দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরকে আফগানিস্তানও তাদের বন্দর হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। এভাবে নিজস্ব প্রযুক্তি, সৎ-সাহস ও বন্ধু দেশের সহযোগিতায় চাঁদুপর-শরীয়তপুর ও ভোলা-নোয়াখালী মেঘনা সেতু, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও মাওয়া-শিবচর পদ্মা সেতু, আরিচা-সিরাজগঞ্জ ত্রিমুখী পদ্মা-যমুনা সেতুসহ সারাদেশে কমপক্ষ ১৩৫-টি বিশালাকার ব্রিজ নির্মিত হয়। যাতে ২০২০ সনে পুরো বাংলাদেশকে একটা চমৎকার যোগাযোগ নেটওয়ার্কে আনা সম্ভব হয়েছে। ঢাকার রাস্তাগুলো দোতলা বাস, মনোরেল, পাতাল রেলের দখলে চলে যায়। অধিকাংশ মানুষ ঢাকার চারদিকের সার্কুলার রেল, সড়কপথ এবং বৃত্তাকার জলপথ ব্যবহার করতে শুরু করে। ঢাকার সড়কগুলো এখন পুরোপুরি যানজট মুক্ত।

:

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে ‘সবার জন্যে বিনামূল্যে সাশ্রয়ী চিকিৎসা’ ব্যবস্থা গৃহীত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতায় প্রত্যেক গ্রামে ১-টি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করে সরকার। যেখানে একজন ডিপেস্নামাধারীর তত্ত্বাবধানে ২-জন নার্স, আয়ার নিয়োগ দিয়ে মা, শিশু ও সাধারণ রোগের চিকিৎসা শুরু হয়। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত হয় ১০-শয্যার মিনি হাসপাতাল, যেখানে একজন গ্রাজুয়েট ডাক্তারের নেতৃত্বে প্রসূতিসহ নানাবিধ রোগের চিকিৎসা চলে। ডাক্তারদের প্রাইভেট প্রাকটিস ও প্রাইভেট ফার্মেসি ব্যবসা বন্ধ করে, সন্ধ্যায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে রোগি দেখার ব্যবস্থা করে সরকার। অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা ও ভুল প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট প্রদান ও ডাক্তারদের কমিশন খাওয়ার বিরুদ্ধে সরকার ‘‘রাষ্ট্রের জন্যে ক্ষতিকর ব্যক্তি নিধন আইন’’ প্রয়োগ করে এই জাতীয় অপরাধকে শূন্যের কোটায় নামাতে সমর্থ হয়েছে।

:

সকল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সকল নাগরিকের ফ্রি চিকিৎসা ব্যবস্থার পথ উন্মুক্ত হয়। চুরি ও দুর্নীতি না থাকাতে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ঔষধ ও জিনিসপত্র সহজপ্রাপ্য হয়। জন্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার দম্পতি প্রতি ১-সন্তান নীতি গ্রহণ করে ও অধিক সন্তান জন্মপ্রদানকারী দম্পতিকে রাষ্ট্রীয় সুবিধা বঞ্চিত করে করারোপ প্রথা চালু করে। সরকারি চাকুরে দম্পতি যারা একাধিক সন্তান গ্রহণ করেছে, সরকার তাদের দুর্গম এলাকায় বদলী ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধের বিধান করে চাকুরীবিধি সংশোধন করে। যে কারণে ২০২০ সনেও বাংলাদেশের জনসংখ্যা পচাত্তরের মতোই ৮-কোটিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। প্রাক্তন পিজি হাসপাতালকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে তার অধীনে সকল জেলাতে ১-টি করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। যে কারণে অল্পদিনেই বাংলাদেশে ডাক্তারের ঘাটতি একটা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে এবং কিছু কিছু ডাক্তার নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে উচ্চ বেতনে চাকুরী নিয়ে বিদেশ যায়। নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু মৃত্যুর হার বাংলাদেশে বিশ্বের উন্নত দেশের সমপর্যায়ে উন্নীতকরণে সক্ষম হয়েছে সরকারের সুযোগ্য পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে।

:

[৮ম পর্ব পোস্ট করা হবে আগামিকাল রাত ৮:০০ টায়]

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 48 = 56