একটি সহি ইসলামের খোঁজে…

আপাতদৃষ্টিতে বিশ্বের সবাই মুসলমান! কেননা, মুসলিম হইতে গেলে কালেমার দরকার নাই। কোরান হাদিসেও কালেমা নাই বিধায় বিশ্বের সবাই মুসলমান! কালেমা মুসলিম অমুসলিম পার্থক্য তৈরী করে। যাহা পার্থক্য তৈরী করে তাহা প্রগতিশীল ধর্মের অংশ হতে পারেনা।

(উল্লেখ্য: ছয়টি কালেমা ও তার একটি শব্দও কোরানে নাই! সহি হাদিসেও নাই। অর্থাৎ ইসলামের প্রথম স্তম্ভ কালেমা কোরান হাদিসের অংশ নয়। কায়দা, সিফারা, আমপাড়া- বর্ণ পরিচয় বইয়ে এগুলো ছড়া-কবিতা হিসেবে প্রকাশিত। যা এই প্রগতিশীল মুসলমানের দরকার নাই)

নাম বদল করার কোন রীতি ইসলামে ছিলনা, এ সম্পর্কিত কোন নির্দেশনাও কোরানে নাই। এ জন্য পৃথিবীর সব মানুষই মুসলমান।

যেমন,নবী ও তার সাহাবি, দাসরা তারা কোন দিন কালেমা পড়ে, নাম বদল করে কিংবা খৎনা করে মুসলমান হয়নি। যদি হতো তবে কোরানে আসত। প্রগতিশীল মুসলমানদের এগুলোর কোন দরকারই নাই। খৎনা বিহীন জাতিরাই প্রকৃত, প্রগতিশীল, স্মার্ট মুসলমান।

কেননা, নবী মুহাম্মদের জন্ম হয়েছিলো খৎনা বিহীন মুর্তিপূজারীর ঘরে। তার কোন খৎনা হয়নি। তার বাপ, দাদার করোরই কোন খৎনা হয়নি। খৎনা না করাই সুন্নত! খৎনা বিহীন জাতি বিশ্বের, পুরো মানব সমাজের- প্রকৃত মুসলিম জাতি।

পবিত্র কোরান বিশ্বের সকল মুসলমানদের হিজাব, নেকাব, বোরকা, খিমার, আবায়া মুক্ত একটি প্রগতিশীল জাতির ইঙ্গিত দেয়। ইসলামে হিজাব, নেকাব, খিমার, আবায়া বলে কিছু হয়না। যা আছে তা- লজ্জাস্থান ঢাকা কথা। যা ব্রা পেন্টি পড়েও করা যায়। হিজাব, নেকাব, বোরকা, খিমার, আবায়া শব্দটিগুলি কোরানের কোথাও নাই। এগুলো প্রগতিশীল ইসলামের অংশ নয়। এগুলো পারস্যের জুরাস্ট্রিয়ানদের এবং ইহুদি, খ্রিষ্টান মিশনারিদের শব্দ।

নকল মুসলমাানরা এগুলো তাদের থেকে থেকে চুরি করে একটি পশ্চাৎপদ মূর্খ ইসলামের জন্ম দেয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ বলেন- যে জাতি অমুসলিমদের অনুকরণ করে সে আমার দলভূক্ত নয়। আল- কোরান।

প্রকৃত ইসলাম মানব জাতিকে কখনও টুপি পড়তে কিংবা ঘোমটা দিতে বলে না। প্রগতিশীল ইসলামে দাড়ি, টুপি, জোব্বা, ঘোমটা হারাম। ইহুদি, খ্রিষ্টান, অগ্নিপূজারী পুরোহিত, পাদ্রি, ফাদাররা টাখনু পর্যন্ত পোষাক পড়তো। মিথ্যা আলেম, পুরহিত, মোল্লারা সরাসরি এগুলো তাদের থেকে নকল করে।- যা পুরোপুরি কুফরি, শিরক, হারাম।

নবী মুহাম্মদ কখনও টুপি আলখাল্লা পড়তনা। জাদুঘরে নবী মুহাম্মদের ব্যবহৃত জিনিসপত্রে এগুলো নাই। প্রগতিশীল স্মার্ট ইসলামে নামাজ বলে কিছু নাই। নামাজ শব্দটি ফার্সি শব্দ। আরবিতে এর নাম – সালাত। সালাত শব্দের অর্থ ‘স্মরণ করা’।

কোরান কখনই পাঁচবেলা নামাজ পড়ার কথা বলে না। কোরানে পরিস্কার করে দুইবেলার কথা বলা আছে। উচ্চস্বরে আজানের কথা কোরানে বলা নাই। আজান কোরানের অংশ নয়। ইহুদিদের আজানই নকল ইসলামের আজান। নামাজের ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এই শব্দগুলিও কোরানের কোথাও নাই। শুক্রবার পবিত্র দিন কিংবা শুক্রবার- জুমাবার এই বাক্যগুলি কোরানের কোথাও বলা নাই।

অর্থাৎ প্রগতিশীল ইসলাম পাঁচ বেলা আজান, নামাজ, শুক্রবার জুমাবার, শব্দদূষণ, সময়ের অপচয় মুক্ত। অন্যদিকে কোরানে বর্ণিত অমুসলিমদের প্রতি ঘৃণা, নারীদের ভোগ্য পন্য মনে করা, বর্বর দাসপ্রথা – খলিফা ওসমানের কাজ। ওসমানের নির্দেশে যায়দে বিন সাবিত যখন কোরান সংকলন করে তখন তার খিলাফতের সংবিধান এবং সৈন্যদের উজ্জীবিত করার আয়াত ঢুকানো হয়েছে! -যাহা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অমানবিক, বর্বর! এগুলো সংশোধন জরুরী। যাহা কিছু মানবিক তাহা আল্লাহর এবং যাহা হিংসাত্মক, ঘৃণা ও ভয়ের তাহা কোরান সংকলনকারী ও তার সাক্ষদানকারীদের। কেননা, আল্লাহ কখনও অমানবিক নন।

মোতা বিয়ে, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ প্রগতিশীল ইসলামকে কিছুটা কালিমা মুক্ত করেছে। তারচেয়ে ভালো উন্মুক্ত সম্পর্ক। কোরবানী প্রগতিশীল ইসলামে নাই। কোরবানী হজের অংশ, ইদের জন্য নয়। ইদুল আজহা নামে কোন শব্দ কোরানে নাই। প্রগতিশীল ইসলাম সকল কালে, সকল জাতির ভালবাসা, একতা ও সৌহার্দের প্রতীক। – এটা বিশ্বের সকল জাতিকে একত্র করে- ঐক্যবদ্ধ করে।

অতএব, বিশ্বের সবাইকে প্রগতিশীল, বৈশ্বিক, স্মার্ট, ইসলাম চর্চার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

লেখক : জাকির হোসেন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 − = 67