বাঙালি ও চাকমা-মারমা জনগোষ্ঠীর ২১-টা সহজ পাঠ

বাঙালি ও চাকমা-মারমা জনগোষ্ঠীর ২১-টা সহজ পাঠ
:
পার্থক্য # ১
======
বাঙালিরা এ ভূমিতে বসবাসকারী অন্তত হাজার বছর ধরে;
চাকমা-মারমারা বার্মা থেকে আগত অন্তত ২০০-৩০০ বছর আগে।
পার্থক্য # ২
======
সে হিসেবে বাঙালিরা এ ভূমির আদিবাসিন্দা তথা “আদিবাসী”;
সে হিসেবে চাকমা-মারমারা এদেশের “উপজাতি” কিংবা “ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী”।
পার্থক্য # ৩
=======
বাঙালির কৃষ্টি সংস্কৃতি এ মাটির তথা এ ভূমির;
চাকমা-মারমাদের সংস্কৃতি কালচার বার্মিজ, ভিয়েতনামিজ।
পার্থক্য # ৪
======
বাঙালির ভাষা গৌরীয় প্রাকৃত তথা ভারতীয় সংস্কৃত থেকে বর্তমান বাংলা;
চাকমা-মারমাদের ভাষা তিব্বতি-বর্মী তথা পূর্ব ইন্দো-আরিয়ান ভাষা পরিবারের অর্ন্তগত।
পার্থক্য # ৫
======
চাকমা-মারমারা হরি ধর্ম থেকে পরবর্তীতে বৌদ্ধ ও এখন খৃস্টান হচ্ছে, চাকমাদের মাঝে কোন মুসলমান নেই;
বাঙালির মধ্যে হিন্দু, মুসলিম, খৃস্টান, বৌদ্ধ দৃশ্যমান। যার মধ্যে হিন্দু মুসলমান অন্যতম।
পার্থক্য # ৬
======
স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯৯% বাঙালি স্বাধীনতার পক্ষে ছিল;
স্বাধীনতা যুদ্ধে ৯৯% চাকমা স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল।
পার্থক্য # ৭
======
১৬ ডিসেম্বর থেকে পুরো দেশে বাংলাদেশের পতাকা উড়েছিল;
জানুয়ারি/১৯৭২ পর্যন্ত চাকমা রাজার বাড়ি ও “চাকমাল্যান্ডে” পাকিস্তানের পতাকা উড়েছিল।
পার্থক্য # ৮
======
বাঙালিরা চায় ৩-পাহাড়ি জেলাতে ও সমতলে বাঙালি উপজাতি মিলেমিশে বসবাস করুক;
চাকমা-মারমারা চায় ৩-পাহাড়ি জেলাতে কোন বাঙালি তথা সেটেলার থাকতে পারবে না কিন্তু সমতলে বা ঢাকা বা বাংলাদেশের যে স্থানে চাকমা-মারমারা থাকতে পারবে।
পার্থক্য # ৯
======
বাঙালিরা চায় ২০২০ সনে চাকমা রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হোক;
চাকমারা চায় ৩০২০ সনেও চাকমা রাজতন্ত্র টিকে থাক।
পার্থক্য # ১০
=======
বাঙালিরা চায় পুরো বাংলাদেশের যে কোন স্থানে চাকমা-মারমারা বসবাস, জমি ক্রয়, ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরি করতে পারুক;
চাকমা-মারমারা চায় পাহাড়ের ৩-জেলাতে বাঙালিরা বসবাস, জমি ক্রয়, ব্যবসা বাণিজ্য, চাকুরি করতে পারবেনা।
পার্থক্য # ১১
=======
বাঙালিরা চায় চাকমা-মারমা ছেলেমেয়ের সাথে কোন বাঙালির প্রেম হলে তারা ঘর বাধুক;
চাকমা-মারমারা কখনো চায়না বাঙালি ছেলেমেয়ের প্রেম হোক বা তারা একসাথে ঘর বাধুক।
পার্থক্য # ১২
=======
বাঙালিরা বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয়ের পক্ষে;
চাকমা-মারমারা বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয়ের বিপক্ষে।
পার্থক্য # ১৩
=======
বাঙালিরা মনে করে বাঙালি সেনারা এক সুশৃঙ্খল বাহিনি, যারা কোন ধর্ষণে জড়িত নয়;
চাকমা-মারমারা মনে করে বাঙালি সেনারা ধর্ষক বাহিনি, তারা পাহাড়ে হত্যা ও ধর্ষণে জড়িত।
পার্থক্য # ১৪
=======
চাকমা-মারমারা চায় বাঙালি সেনারা পাহাড় থেকে ঢাকাতে চলে যাক, যাতে তারা চাঁদাবাজি ও নতুন বসতিগড়া বাঙালি (সেটেলার) তাড়াতে পারে;
বাঙালিরা চায় বাঙালি সেনারা পাহাড়ে থাকুক, যাতে চাকমা-মারমারা চাঁদাবাজি ও নতুন বসতিগড়া বাঙালিদের তাড়াতে না পারে।
পার্থক্য # ১৫
=======
চাকমারা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাকে তাদের জাতির পিতা মনে করে;
বাঙালিরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তাদের জাতির পিতা মনে করে।
পার্থক্য # ১৬
=======
চাকমা-মারমারা চায় পাহাড়ে আধুনিকতার কোন ছাপ না লাগুক, যে কারণে “সাজেক ভ্যালি”সহ সব উন্নয়নের বিপক্ষে তারা;
বাঙালিরা চায় পাহাড়ে আধুনিকতার ছাপ লাগুক, যে কারণে “সাজেক ভ্যালি”সহ নানাবিধ উন্নয়ন করছে সরকার পাহাড়ে!
পার্থক্য # ১৭
=======
জেএসএস (সন্তু গ্রুপ), জেএসএস(সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এ ৪-সংগঠনকে “মুক্তিদাতা” মনে করে চাকমা-মারমারা;
জেএসএস (সন্তু গ্রুপ), জেএসএস(সংস্কার), ইউপিডিএফ (প্রসীত) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এ ৪-সংগঠনকে উগ্র চাঁদাবাজ সন্ত্রাসি সংগঠন মনে করে বাঙালিরা।
পার্থক্য # ১৮
=======
চাকমা-মারমারা তীব্র বাঙালি বিরোধী মানসিকতা লালন করে;
বাঙালিরা কখনো উপজাতি বিরোধী নয়, তারা মিলেমিশে থাকতে চায়।
পার্থক্য # ১৯
=======
চাকমা-মারমারা কখনো নদীভাঙা ভূমিহীন দরিদ্র বাঙালির কষ্টটা বুঝতে চায়না;
বাঙালিরা মনে করে দরিদ্র বাঙালির মত দরিদ্র উপজাতিরাও আমাদেরই ভাইবোন!
পার্থক্য # ২০
=======
নদী ভাঙলে বাস্তুচ্যুত দরিদ্র মানুষকে বাঙালিরা তার বাড়ির পাশে, নিজের জমিতে, বেরি বাঁধতে থাকতে সহায়তা প্রদান করে।
নদী ভাঙলে বাস্তুচ্যুত দরিদ্র বাঙালিরা পাহাড়ের খাস জমিতে কেন বসবাস করবে, এটাই হচ্ছে চাকমা-মারমাদের গোস্বা হওয়ার প্রধান কারণ।
পার্থক্য # ২১
=======
বাঙালিরা নানাবিধ দুখকষ্টে কখনো রাষ্ট্র, সেনা বা সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলেনা;
চাকমা-মারমারা তাদের দুখকষ্টে বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সেনা বা সংবিধানের বিরুদ্ধে উচ্চকিত। এমন অস্ত্র তুলে নিতেও কুণ্ঠিত নয়।
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − = 9