এ কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা !

সরকারের নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি ছাড়াই যে শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে ব্যাপক প্রসার সাধন করেছে তা হচ্ছে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা। উনিশ শতকে ভারতীয় উপমহাদেশে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার মাধ্যমে এই উপমহাদেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উত্থান, ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসরণ করে বাংলাদেশেও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা চালু রয়েছে। সেই সূত্রে বাংলাদেশে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চলমান। বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখা পড়ার পাশাপাশি অল্প বিস্তর ফরাসী উর্দু ইংরেজি ভাষা সহ গণিত, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও তর্কশাস্ত্রের মতো বিভিন্ন বিষয় তাদের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত আছে কিন্তু এখানে অনেক প্রশ্নের সাথে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিজ্ঞানের সাথে তাকমীল বা দাওরায়ে হাদিস স্তরে শিক্ষার্থীরা মূলত হাদিস সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে লেখা পড়া করতে বিজ্ঞানের সাথে যদি ধর্মের সাংঘর্ষিক হওয়াটাই স্বাভাবিক আর তাই যদি হবে সরকারী অনুদান নিয়ে কওমি শিক্ষা ব্যাবস্থা আমাদের সমাজে কতটুক আধুনিক সে প্রশ্ন আসতেই পারে।

কওমি মাদ্রাসাকে সরকারের মনিটরিং বা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা ছিল অনেক আগে থেকেই। এ ধরনের মাদ্রাসার শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে ২০১৩ সালের ১৫ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয় কিন্তু এখানে আরো একটি প্রশ্ন এসে যায় যে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিজ্ঞানের সাথে মিল রেখে কতটুকু আধুনিকায়ন করা হয়েছে বা আদৌ কি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব ?
বাংলাদেশে মূলত দুইটি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে যথা আলিয়া এবং কওমি তা ছাড়াও হাফেজিয়া, ফোরাকানিয়া ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও আছে। আলিয়া মাদ্রাসা সরকার স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে ১৭ সদস্যের কমিশন গঠন করা হয় এই কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান মাওলানা শাহ আহমদ শফী নিজেকে সীমাহীন ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে হাজির করেন, যার প্রমান ২০১৩ সালে ৫ ই মে শাপলা চত্বরে শেখ হাসিনা তথা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন। কি কারণে যেন সে সময় দেশের সকল মুক্ত মনা লেখকদের নাস্তিক আখ্যায়িত করে তাদের হত্যা করা জায়েজ বলে ফতোয়া জারি করেছিলেন, পরবর্তীতে নারীদের বিরুদ্ধে এই ধর্মীয় নেতা কুৎসা রটিয়েছেন, ভৎর্সনা করেছেন ও কর্মজীবী নারীদের পতিতা বলে অপবাদ দিয়েছেন, নারীদের দেখলে পুরুষদের নাকি লালা ঝরে এরূপ বক্তব্য প্রদান করে আলোচিত হয়েছেন, আবার পরবর্তীতে তা প্রত্যাখান করেছিলেন। দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদ অনেকেই মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে জাতির মুরুব্বি’ আখ্যাও দিয়েছিলেন, বিএনপি-জামাত, জাতীয় পার্টি এমন কি আওয়ামী লীগও এই মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে সর্বাত্মক ভাবেই রাজনীতিতে ব্যবহার করার সুযোগ গ্রহণ করেছে।

আমরা যদি ধরে নেই বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র যদিও আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ তারপরও একজন ধর্মীয় নেতাকে রাজনীতির কলকাঠি হিসেবে ব্যবহার করার কুফল হিসেবে আমরা পেয়েছি শিক্ষা সূচি থেকে হিন্দু লেখকদের লেখা পাঠ্যবই থেকে অপসারণ, নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখার ফতোয়া, আমাদের গর্ব ও ঐতিহ্য প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, যাত্রা বাউল গান-পালা গান-জারি-সারী-কবি গান করতে বাধা প্রদান। তাদের দেয়া ইসলামিক ভাব ধারার তাদের ১৩ দফার প্রায় ১০টি দফা সরকার মেনে নিয়ে এক অদ্ভুত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। আরও মনে রাখতে এইসব ধর্মীয় ভণ্ডদের কারণেই আজ তসলিমা নাসরিনের মতো একজন বিশ্ব বরেণ্য লেখিকা দেশান্তরী।

ব্যক্তিগত ভাবে কোন মানুষের মৃত্যু কামনা করার মতো মানসিকতা পোষণ করিনা, মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর জীবন কামনা করাই হচ্ছে মানবতা তবে পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই মানুষ যদি জীবন দশায় কোন ভালো কর্ম সমাজের জন্যে রেখে যায় তবে বিশ্ব মানবতা অবশ্যই তাকে স্মরণ করবে।

— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − = 32