একটি বাসযোগ্য পৃথিবী।

পৃথিবীকে রক্ষা করার কর্মই যেন হয় সবচাইতে বড় ধর্ম যতদিন আমরা অন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী খুঁজে না পাই।
নর্ডিক দেশগুলো পৃথিবীতে মানবতার সাক্ষর রাখতে সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে আর তা আজও রেখে যাচ্ছে। আপনারা অনেকেই সুইডেনের কিশোরী গ্রেটা থনর্বার্গ এর নাম শুনে থাকবেন, গত বছর সুইডেনের এই কিশোরী জলবায়ু কর্মী বা একটিভিস্ট Greta Thunberg জাতিসংঘে ডাকসাইটে নেতাদের জন্যে এক বিব্রত কর বক্তৃতা দিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমার পৃথিবী স্বাস্থ্য এখন কি অবস্থায় আছে “you are still not mature enough to tell it like it is. You are failing us. But the young people are starting to understand your betrayal.”। জলবায়ু পরিবর্তনের উপর জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লক্ষ লক্ষ তরুণ তরুণী গ্রেটা থর্নবার্গের সাথে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভে যোগ দিয়ে বিশ্ব নেতারা কার্বন নিঃসরণ রোধে প্রয়াসকে নতুন গতিবেগ আনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে সাড়া জাগিয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ফেইসবুকের কোনায় বসে সকালের ফুল কি বিকেলের ফুলের ছবি আপলোড দিয়ে বেড়াচ্ছি। পিতামাতা হলেই যেমন সচেতন অভিভাবক হওয়া যায় না ঠিক তদ্রুপ শিক্ষিত হলেই মানবিক হওয়া যায় না, মানবিকতা হচ্ছে চর্চার বিষয় আর সেটা একটি রাষ্ট্রের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা থাকেই জনসাধারণ সেই মানবতার শিক্ষা গ্রহণ করে। সভ্য সমাজে করোনা ক্রান্তি কালে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভাব দেখা দিলেও কেউ টাকা থাকলেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত চালের ব্যাগ কিনে ফেলে না, এই গো এন্ড স্টক বিষয়টি লজ্জার কারণ এতে অন্যের অসুবিধা হতে পারে, এর নামী হচ্ছে মানবতার চর্চা। দেশের উপর জল বায়ু পরিবর্তনের যে চাপ পড়তে যাচ্ছে তাতে আমাদের সমাজের মানুষদের সামান্যতম সচেতনতা আছে বলে মনে হচ্ছে না। ভালো লেখা পড়ার মানসিকতা তৈরী না হলে পেটের ভেতর বোমা মারলেও ভালো সচেনতনা মূলক লেখাও বের হচ্ছে না।
কিছুদিন আগেই জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ‘আমাদের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা দরকার। আমাদের গতিশীলতার নতুন রূপন্তরগুলোতে বিনিয়োগ করতে হবে। আমাদের হাইড্রোজেনে বিনিয়োগ করতে হবে। এটাই ভবিষ্যতের জ্বালানী।’
আমাদের যখন একটি সুন্দরবন তৈরি করার সামর্থ্য নাই তাই একটি সুন্দরবন নষ্ট করার অধিকারও আমাদের থাকতে পারে না, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।
এই পৃথিবী কি আমাদের আর একটি সুন্দরবন দিতে পারবে !!!
প্রকৃতির সৃষ্টি করা সম্পদ মানুষের পক্ষে সৃষ্টি করা যদি সম্ভব না হয়ে তবে সেই সম্পদকে ধ্বংস করা পরিবেশ রক্ষা আইনে চরম অপরাধ হিসাবেই বিবেচিত হওয়া উচিত,হোক সেটা সরকারী সিদ্ধান্ত।

 

খনি বিশেষজ্ঞদের মতে কয়লা খুবই সস্তা ও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় বিধায় বৈজ্ঞানিক ভাবে শত প্রমাণ থাকার পরও আমরা কয়লার ব্যবহার ছেড়ে দিতে অনিচ্ছুক। ভূগর্ভের নীচে চাপা পরা আংশিক পচে যাওয়া জৈব পদার্থ বা পিট লক্ষ লক্ষ বছর তাপ ও চাপের কারণে এক ধরনের লিগনাইট, সাব- লিগনাইট, সাব-বিটুমিনাস, বিটুমিনাস, কাঠ কয়লা ও পাথুরে কয়লায় রূপান্তরিত হয়। সবচাইতে ক্ষতিকারক যে সেটা হচ্ছে জ্বলন্ত কয়লা থেকে নির্গত হওয়া বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড যা কিনা বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ প্রভাব বৃদ্ধি করে এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং ২ থেকে ৩ ডিগ্রী ইতি মধ্যে বেড়ে গেছে। ‘O’ জোন আচ্ছাদনে ছিদ্র সৃষ্টি হবার কারণে সূর্যের ক্ষতিকারক বেগুনি রশ্মি অতি সহজে বায়ুমণ্ডল প্রবেশ করে শিশুদের নরম শরীরের উপর আছড়ে পরছে, আমাদের সবার অজান্তে আমাদের শরীরে ভিড় করছে নানা ধরনের রোগ বালাই, ফুসফুসের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা।
কয়লা যদিও সস্তা,সহজলভ্য ও nonrenewable খনিজ সম্পদ যা থেকে আমরা তাপ শক্তি পেয়ে থাকি। তারপরও প্রশ্ন থাকে আমরা কতদিন এই শক্তির উৎস ব্যবহার করতে পারবো, কারণ তেল ও কয়লা জাতীয় খনিজ সম্পদগুলো তৈরি হতে লক্ষ লক্ষ বছর সময় নেয়, আর আমরা মানব জাতি যদি ৩০০ বছরেই প্রকৃতির এই সম্পদকে শেষ করে দেই তবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে যা আমারা আমাদের বর্তমান বিজ্ঞানের চরম প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও তা সংশোধন করতে পারবো না।
সুন্দরবনের কতটুকু দূরত্বে কয়লা বিদ্যুৎ করা যায় তার জন্যে একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা আছে বৈকি,রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি হিসাবে বছরে 4.7 মিলিয়ন টন কয়লা পোড়ানো হবে, যার ফলাফল হিসাবে বিদ্যুতের পাশাপাশি ৭৫০,০০০ টন ফ্লাই অ্যাশ, ২০০,০০০ টন বটম অ্যাশ, অপর্যাপ্ত পরিমাণে SO2, NO2, CO2 এবং CO উৎপন্ন হবে যা পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে বাঘ, হরিণ, মৌমাছি এবং আরও অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীদের আবাসভূমি, “পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য” জন্যে ক্ষতিকর। আমরা কি সেই আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে চলছি !!!
পারদ, সীসা, আর্সেনিক যেমন বিপদজ্জনক ধাতু তদ্রূপ জ্বলন্ত কয়লা থেকে নির্গত ধাতব পদার্থগুলো পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্যে ভীষণ রকম ক্ষতিকারক যা বাতাসে বৃষ্টির সাথে মিশে গিয়ে আমাদের এই সুন্দর ধরাকে নরকে পরিণত করবে, জীব ও জীবন পরে যাবে হুমকির মুখে এমনকি আমাদের শস্য, জমি, পশু-পাখির পরে যাবে হুমকির মুখে তাই বিভিন্ন দেশর কয়লা উৎপাদন নামিয়ে শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে।
https://istishon.blog/wp-admin/media-upload.php?post_id=39652&type=image&TB_iframe=1
ইতিমধ্যে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এখন অতি মাত্রায় কয়লার ধুয়া নির্গতের কারণে অতি মাত্রায় বিষাক্ত, আমার এই ধরাকে আর কত দংশন করবো !!! আমরা তো একটি দুষণমুক্ত টেকসই পৃথিবী চাই, এই চাওয়াটা তো মানব জাতির বেঁচে থাকার একটি অধিকার। আমাদের একটাই পৃথিবী আর এই পৃথিবীরও একটা আয়ুষ্কাল আছে , একটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে স্থানান্তরিত করা যাবে কিন্তু একটি সুন্দরবনকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গাতে স্থানান্তরিত করা যাবে না। মানুষের উপর অন্যায় করলে যেমন কঠিন সাজা ভোগ করতে হয় তদ্রূপ প্রকৃতির উপর অন্যায় আচরণ করলে অবশ্যই সাজা পাওয়া উচিত।
যেটা আমরা তৈরি করতে পারবো সেটা নষ্ট করার কোনই অধিকার মানব জাতির থাকতে পারে না। প্রকৃতির তৈরি এই সুন্দরবন চলে গেলে এই পৃথিবী কি আমাদের আর একটি সুন্দরবন দিতে পারবে !!!(যখন আমাদের একটি সুন্দরবন তৈরি করার সামর্থ্য নাই তাই একটি সুন্দরবন নষ্ট করার অধিকার নাই, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।) পৃথিবীকে রক্ষা করার কর্মই যেন হয় সবচাইতে বড় ধর্ম যতদিন আমরা অন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী খুঁজে না পাই।
— মাহবুব আরিফ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 5