করোনার গল্পো। বাস্তবতা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, রাজনীতির গল্পো।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ি প্রতি বছর আনুমানিক ১৩,৪০,০০০ মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হন। আশাকরি আপনি আমার সাথে একমত হবেন যে ১৩,৪০,০০০ সংখ্যাটি খুব বড় একটি সংখ্যা, বিশেষ করে আমরা যখন মানুষের জীবনের কথা বলছি; তবুও এই সংখ্যার ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসি না যে আমাদের গাড়ি চালানো বন্ধ করা উচিৎ বা আমাদের বাসে চড়া বন্ধ করা উচিৎ বা আমাদের বাড়ির বাইরে হাটতে যাওয়া বন্ধ করা উচিৎ।

আমাদের জীবনে প্রাই এমন সব সিদ্ধান্ত নিতে হয় যেখানে নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার একটি বিরোধ থাকে, কারন প্রাই দেখা যায় যে আমাদের নিরাপত্তা স্বাধীনতার বিনিময়ে আসে আবার স্বাধীনতা নিরাপত্তার বিনিময়ে আসে। বর্তমান সময়ে স্বাধীনতার ও নিরাপত্তার বিরোধটা একদম স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কারন আমরা এখন একটি মহামারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং এই মহামারির ফলে আমরা আমাদের অনেক স্বাধীনতা ত্যাগ করেছি। আরো স্পষ্ট করে বললে আমাদের সরকারগন আমাদের কাছ হতে জোর করে অনেক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে।

কিন্তু প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে যে, ঠিক কতটা নিরাপ্তার বিনিময়ে কতটা স্বাধীনতা বিসর্জন দেয়া উচিৎ? আমরা ইতিমধ্যেই জানি যে বছরে ১৩,৪০,০০০ সংখ্যাটা গাড়ি চালানো, বা বাসে চড়া, বা রাস্তায় হাঁটতে পারবার স্বাধীনতা বিসর্জন দেবার জন্য যথেষ্ট নয় তাহলে এই সংখ্যাটা কতো হলে আমরা গাড়ি চালানো, বাসে বা ট্রেনে চড়া, ও রাস্তায় হাটতে বেড়ানো বন্ধ করবো?

আমি এই প্রশ্নটি এই জন্য করছি যেনো আপদের মনে প্রশ্ন জাগে যে আমরা করোনা মহামারির জন্য যে সকল স্বাধীনতা বিসর্জন দিলোম সেটি কি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলো?

আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে না এটি সঠিক সিদ্ধন্ত ছিলোনা। আমার এমন মতামত হবার পিছনে বেশ কয়েকটি কারন আছে যার প্রথমটি হচ্ছে সংখ্যা আমরা জানি যে এখন প্রর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা সরক দূর্ঘটনার নিহতের সংখ্যার থেকে কম,
তাহলে কেনো আমরা করোনা মহামারিকে সরক দূর্ঘটনার থেকে অধিক গুরুত্ব দিবো?
আমার মতে যদি করোনায় মৃতের সংখ্যা সরক দূর্ঘটনার সমান বা তার থেকে খনিকটা বেশিও হয় তার পরেও সরক দূর্ঘটনাকে অধিক গুরুত্ব দেয়াউচিৎ, এটি মনে করবার কারন হচ্ছে বয়স। আমরা জানি করোনায় যারা মৃত্যুবরন করেছেন তাদের অধিকাংশ হলো বৃদ্ধ, কিন্তু সরক দূর্ঘটনায় নিহতের মধ্য এক দিনের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধও আছে। বিয়ষটি এমন নয় যে বৃদ্ধদের সাথে আমার কোনো বিরোধ আছে বিষয়টি এমন যে যদি কোনো কারনে আমাদের হাতে একজন ৯০ বছর বয়সের বৃদ্ধের জীবন ও একটি ১০ বছরের শিশুর জীবনের মধ্যে একটি জীবন রক্ষা করবার সুযোগ থাকে তাহলে আমদের উচিৎ হবে ১০ বছরের শিশুটিকে রক্ষা করা।

আবার সরক দূর্ঘটনার সবচেয়ে ক্ষতিকারক দিকটি মৃত্যু নাও হতে পারে হয়তো সরক দূর্ঘটনার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা সরক দূর্ঘটনার শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেছেন তাদের সংখ্যা হয়তো নিহতদের সংখ্যার থেকে অনেক বেশি। সুতরাং কেনো আমরা করোনা মহামারিকে সরক দূর্ঘটনার থেকে অধিক গুরুত্ব দিবো?

আর করোনার কারনে আমরা শুধু স্বাধীনতাই বিসর্জন দেইনি, লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কর্ম হরিয়েছেন। দেনায় ডুবে গেছেন, শিক্ষা ব্যহত হচ্ছে, কিন্তু কেনো আমরা এতো বিসর্জন দিবো?

করোনা হয়ে মৃত্যু বরন করা কি ক্ষুধায় মৃত্যুবরন করবার থেকেও যন্ত্রানাদায়ক?

আমার তো করোনাকে ততটা ভয় হয় না যতটা ভয় করি তাদের যারা করোনা মহামারির জন্য, আমদের কি করা উচিৎ ও আমরা কি করতে বাধ্য এই সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা রাখেন।

আমি করোনাকে ভয় করিনা আমার ভয় সে সকল মানুষদের নিয়ে যারা করোনা নিয়ে রাজনিতি করছেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − = 64