ইহুদি (ইসরাইলি) জাতির পৃথিবীতে টিকে থাকার ইতিহাস পর্ব-৫

ইহুদি (ইসরাইলি) জাতির পৃথিবীতে টিকে থাকার ইতিহাস পর্ব-৫
:
ইহুদীরা নানান দেবতা ছাড়াও এপিস নামে এক ষাড়ের পূজো, পাথর, আগুন, এক শিশু ও কুমারী মায়ের পূজো করতো। ব্যবিলনে বন্দীদশা থেকে মুক্তির পর রচিত পুস্তকে ইহুদীরা শয়তান, স্বর্গদূত মিকাইল, উরিয়েল, ইয়ার, নিসান, আত্মার অমরতা, পুনরুত্থান ইত্যাদি মতবাদ প্রচার শুরু করে। যিশুর জন্মের সময় ইহুদীরা ৩-ভাগে বিভক্ত ছিলো যথা ফারিসিজ, এসেনিজ ও সাদুনিজ। সাদুজিনরা মোজেসের এবং এসেনিজরা বুদ্ধের অনুসারী ছিলো। এসেনিজরা অধিকাংশ মঠে বসবাস ও কুমার জীবনযাপন করতো। সে হিসেবে যিশু নিজে বুদ্ধের অহিংস মতবাদের অনুসারী এসেনিজ ছিলেন। গ্রীকরা এসেনিজদের সুন্দর জীবনাচারের কারণে তাদেরকে থেরাপিউটা বলে মনে করতো। এসেনিজরা বলিদান প্রথা তথা প্রাণিহত্যার ঘোর বিরোধী ছিলো। যিশুর আগমনের আগেই এসেনিজরা যে শুদ্ধ জীবনাচার পালন করতো, তাই মূলত যিশু প্রচার করেছিলেন। এসেনিজ ছাড়া সাধারণ ইহুদীদের বহুবিবাহে উৎসাহ তথা স্বর্গপ্রাপ্তির দ্বার বলে ঘোষণা করা হতো। এসিনিজরা পর্যায়ক্রমে যেশাই ও পরবর্তীতে খ্রিস্টান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল, যাদের পবিত্র পুস্তক রচিত হয়েছিল কলদীয় ভাষায়। কিছু এসিনিজ মিসরের মারিয়া হ্রদের তীরে মঠে বসবাস করতো। যিশুর মতবাদের অনুরূপ মতবাদী এসেনিজ ইহুদীরা মিশনারী প্রতিষ্ঠা করেছিল রোমে, করিন্থে, গ্যালাসিয়ায়, ইফেসাসে, ফিলিপোতে, কলোসে ও থেসালোটিকায়।
তোরাহ শরীয়ত অনুসারে ইহুদিরা বৎসরে একদিন একরাত অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা রোজা রাখে। এ ছাড়াও অনেকে বৎসরের বিভিন্ন দিনে রোজা রাখে। বিপদের সময় স্রষ্টার সাহায্য চেয়ে বা অন্য কোন কারণেও রোজা রাখে। রোজার সঙ্গে প্রার্থনাও জড়িত। সাধারণত এক নাগাড়ে একদিনের বেশী তারা রোজা রাখে না। শনিবার ইহুদিদের বিশ্রাম ও এবাদতের দিন। শুক্রবার সন্ধ্যে ৬টা হতে শনিবার সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত সময়টাকে এই বিশ্রামবার বলে ধরা হয়। এদিন তারা সিনাগগে একসঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের ধর্মগ্রন্থ (Torah) পাঠ করে এবং এবাদতে মশগুল থাকে। বৎসরের মধ্যে ইহুদিরা বেশ কয়েকটি ঈদ উৎসব (Festivals) পালন করে। তারমধ্যে তিনটি বিশেষ ঈদ পালন করার জন্যে দেশের সকল ইহুদি জেরুজালেমে উপস্থিত হয় সেখানকার প্রধান এবাদতখানায় এবাদত ও ঈদের অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করার জন্যে। ইহুদিরা বৎসরে নিম্নের ঈদগুলি পালন করে-
:
ক) ঈদুল ফেসাখ (Passover or Pesach)- মিসরের শাসক ফেরাউনের হাত থেকে ইহুদিরা যেদিন উদ্ধার পেয়েছিল, সেদিনটিকে স্মরণ করে তারা এই ঈদ পালন করে;
খ) ঈদুল মাত‘ছ (Matzah)- ইব্রানী মাত‘ছ শব্দের অর্থ খামিহীন রুটি। ঈদুল ফেসাখের পরের সাত দিন ধরে এই ঈদ পালন করা হয়, খামি দিয়ে রুটি না খাওয়া এই ঈদের একটি বিশেষ দিক;
গ) ঈদুল খেমীশশীম (Khemishim)- ইব্রানী খেমীশশীম অর্থ ৫০তম। ঈদুল ফেসাখের পরে পঞ্চাশ দিনের দিন এই ঈদটি পালন করা হয়;
ঘ) ঈদুল সুক্ক (Sukkos)- ইব্রানী সুক্ক অর্থ কুঁড়েঘর। ইহুদিরা মরু এলাকায় ৪০ বৎসর পথ হারিয়ে তাবুতে বাস করেছিল। সেকথা মনে করার জন্যে বৎসরের এক বিশেষ সময়ে আট দিন ধরে তারা গাছের ডাল-পালায় তৈরী কুঁড়েঘরে বাস করে, এর নাম ঈদুল সুক্ক;
ঙ) ঈদুল হানাকা (Hanukkah)- ইব্রানী হানাকা শব্দের অর্থ উৎসর্গ। সিরিয়ার সম্রাট এন্টিওকাস এপিফ্যানিস জেরুজালেমের এবাদতখানার বেদীটি অপবিত্র করেছিল, বেদীর উপর শুকর উৎসর্গ করে। ১৬৪ খ্রীঃপূঃ এহুদা ম্যাক্কাবিয়াস নামে এক ইহুদি সেই বেদীটি বদলিয়ে নতুন বেদী দান করেছিলেন। এই বেদীটি যেদিন স্রষ্টার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছিল, সেই দিনটি স্মরণ করে আট দিন ধরে এই ঈদটি পালন করা হয়;
চ) ঈদুল ইয়োম কিপ্পুর (Yom Kippur)- এই দিনে ইহুদিরা রোজা রাখে এবং মহা-ঈমাম তার নিজের এবং সমগ্র ইহুদি জাতির পাপ মোচনের জন্যে কোরবাণী করা পশুর রক্ত নিয়ে মহাপবিত্র স্থানে প্রবেশ করেন এবং সেখানে পবিত্র সাক্ষ্য সিন্দুকের (ব্যবস্থার বাক্সের) উপর হিস্যোপ গাছের ডালের সাহায্যে এই রক্ত ছিঁটান।
:
এছাড়া সম্রাট অহশ্বেরশ এর এক উচ্চ পদস্থ কর্মচারী হামান কর্তৃক ইহুদি জাতিকে ধ্বংস করার এক দুষ্ট পরিকল্পনা থেকে মুক্তিলাভ করেছিল ইহুদিরা রানী ইষ্টেরের সহায়তায়। ঐ উদ্ধার স্মরণ করার জন্যে প্রতি বৎসর মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইহুদিরা ‘পুরীম’(Purim) নামে একটি ভোজের উৎসব পালন করে থাকে।
:
পরের পর্ব কাল
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =