ইহুদি (ইসরাইলি) জাতির পৃথিবীতে টিকে থাকার ইতিহাস পর্ব-৭

ইহুদি (ইসরাইলি) জাতির পৃথিবীতে টিকে থাকার ইতিহাস পর্ব-৭
:
ইহুদি তথা ইসরাইল জাতি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা এই যে, ইসরাইল একটি আগ্রাসী তথা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। আমারও ধারণা এমনই ছিল। এই কিউরিসিটি থেকে ইহুদি জাতি তথা ইসরাইল সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি, যাতে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে সহযোদ্ধা অনিমেষ রহমান। নানাবিধ বই-পুস্তক এবং বিশাল ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করে ইহুদি জাতির ইতিহাস জেনে বিষ্মিত হয়েছি। আজকের বিশ্বে তারা সন্ত্রাসী বা আগ্রাসী কিনা তা সচেতন পাঠক বিবেচনা করবে। নিজে বিভিন্ন উৎস থেকে ঐ জাতিটার যে ইতিহাস জানতে পেরেছি, তাই ধারাবাহিকভাবে দিলাম ১-১৭ পর্বে। ভিন্ন ভিন্ন সূত্র থেকে নানাবিধ তথ্য সংগ্রহের কারণে কোথাওবা ভিন্নতর তথ্য-কথামালা চলে আসতে পারে। এ ব্যাপারে সচেতন পাঠকের যৌক্তিক সংশোধনী ধন্যবাদের সঙ্গে গৃহীত হবে। ঈদের ছুটিতে ১০-দিনের অবকাশে যাচ্ছি বিধায় একসাথে ৬-১৭ পর্ব আগাম পোস্ট দিয়ে গেলাম, যাতে এ জটিল বিষয়গুলো আগ্রহী পাঠকরা ছুটির মধ্যে শেষ করতে পারেন। ধন্যবাদ পাঠকদের।
পৃথিবীতে ইসরাইল হল একমাত্র দেশ যার নাগরিকত্ব আপনি ইহুদি হলেই পাবেন। এখন জাতি হিসাবে ইহুদিদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কিছু বলা যাক। আইনস্টাইন থেকে শুরু করে হালের ফিল্ডস মেডাল (গণিতের নোবেল প্রাইজ বলতে পারেন) প্রত্যাখ্যানকারী রুশ গণিতজ্ঞ পেরেলম্যান সবাইতো ইহুদি। প্রাচীনকাল থেকেই ইহুদিদের জাত ব্যবসা ছিল ব্যাংকিং, সুদের কারবার, চিকিৎসা ইত্যাদি। তারা মোটামুটি সব জায়গাতে নিগৃহীত ছিল কিন্তু তারা ব্যানকিং, চিকিৎসা খতে ভাল ছিল বলে তাদের উপর অত্যাচারের মাত্রাটা হয়তো আরো বেশী হয়েছিল। কারণ এই কাজগুলো বাকীদের থেকে ইহুদিরা অনেক ভাল পারত। এর ফলে তাদের মধ্যে একটা জেনেটিক্যাল সিলেকশন ঘটেছে, যারা ম্যাথে ভাল (ব্যাংকিং) বা মেধাবী, শুধুমাত্র তারাই এই বৈরী পরিবেশে টিকে থেকেছে, তাদের জেনেটিক্স এলিমেন্টগুলোই সবচেয়ে সফল হয়েছে। ফলত অনেক জেনারেশন পরে দেখা গেছে, তাদের গড় আইকিউও উচ্চমাত্রার হয়ে গেছে। ইহুদি পরিচয়টা মূলত জন্মগত।
:
এখানে ধর্মান্তরের সু্যোগ নাই। যেমন হিন্দু বা সনাতন ধর্ম বা জরথুস্ত্রীয় বা পার্সী ধর্ম। আপনি ইচ্ছা করলেই পার্সী হতে পারবেন না অথবা হিন্দু ব্রাহ্মণ বা কায়স্থ হিসাবে কনভার্ট হতে পারবেন না। সে হিসাবে মুসলিমরা খ্রিষ্টান বা বুদ্ধিস্টদের মতন মিশনারী রিলিজিয়নের অনুসারী। মুসলিমদের মতে ইহুদিরা একেশ্বরবাদী কিন্ত তারা প্রফেট ঈসা এবং প্রফেট মোহাম্মদের নবু্য়্যতে বিশ্বাস করেন না বিধায় মুক্তিপ্রাপ্ত নন। ইহুদিদের জন্য মদ্যপান বৈধ, মুসলমানদের জন্য নয়। চিংড়িমাছ কাকড়া ইত্যাদি ইহুদিদের জন্য অবৈধ, মুসলমানদের জন্য বৈধ। উটের মাংস মুসলমানদের জন্য বৈধ, ইহুদিদের জন্য অবৈধ, মুসলমানদের বংশ পিতার দিক থেকে, ইহুদিদের মাতার দিক থেকে। কারো মা ইহুদি হলে সে ইহুদি। মাংসের সাথে দুধ বা দুধ জাতীয় কিছু মিশানো ইহুদিদের জন্য অবৈধ। মুসলমানদের এরূপ কোন সমস্যা নেই। সে হিসাবে বেশীরভাগ মুগলাই খানাই ইহুদিরা খেতে পারে না । ইহুদিদের জন্য সাব্বাথের দিন (শনিবার) কাজ করা সম্পূ্র্ণ নিষিদ্ধ, কারণ পৃথিবী সৃষ্টির সময় এই দিন নাকি যিহোবা বিশ্রাম নিয়েছিলেন।
:
সাব্বাথের দিন কাজ করলে পাথর মেরে হত্যা করার নিয়ম রয়েছে (বলা হয়ে থাকে রজমের এই অপসংস্কৃতিটা মুসলমানরা ইহুদিদের থেকে পেয়েছে, কতিপয় মুসলমানের ভাষায় এইটা একটা “ইহুদি চক্রান্ত”)। ইহুদি ধর্মেও ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে রজমের বিধান রয়েছে। বাঙলাদেশি জনৈক বাঙালি মার্কিন পাসপোর্ট নিয়ে ইসরাইল ভ্রমণ করে ফেসবুকে তার যে অভিব্যক্তি দিলেন তা হচ্ছে, “তেল আবিব এবং হাইফা শহর দুটিতে গেলে মনেই হয়না যে, আজও ওরা ওদের “প্রমিজ ল্যান্ডের” জন্য লড়াই করছে। ভীষণ কস্ট সহিষ্ণু জাতি তারা। মধ্য ইসরাইলের ছোট একটা শহর হড হাশারন, যা’ গ্রিন টাউন হিসাবে পরিচিত। মরুভুমিকে কিভাবে সবুজ শষ্যের মাঠে রূপান্তরিত করা যায় তা’ এই শহরে গেলে দেখা যায়। এই শহরের অর্গানিক সান রাইপ টমেটু আজ নর্থ আমেরিকার অনেক সুপার মার্কেটে পাওয়া যায়। ইসরাইলের ভিতরে অনেক সমস্যা আছে, বিশেষ করে শ্রেণি বৈষম্য বেশি। পৃথিবীর যে কোন ইহুদিই ইসরাইলের নাগরিকত্ব পায় বলেই ইসরাইলকে বলা হয় প্রমিজ ল্যান্ড। তার উপর আছে ইসরাইলের জামাত-শিবির তথা কট্টর ধর্মীয় ‍‍‍’হ্যাসেডিক সম্প্রদায়’, তবে আরবদের বিরুদ্ধে এরা ইউনাইটেড সবাই”।
:
বর্তমানের ইসরাইল একটি আক্রমনাত্মক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে পরিচিত! কিন্তু কেন? কারণ তাদেরকে তাদের মাতৃভূমি থেকে অসংখ্যবার উৎখাত হতে হয়েছে বিভিন্নি জাতিগোষ্ঠী কর্তৃক। তখন তারা নানা কারণে হয়তো দুর্বল ছিল কিন্তু এখন কি তারা সে দুর্বলতা কাটায়নি? প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই ইহুদিরা ছিল অত্যাচারের শিকার এবং সেই ইতিহাসই তাদের বর্তমানে হিংস্র বানিয়েছে। এখন তারা তাদের ধর্মানুসারে তাদের ঈশ্বর (যিহোবা) প্রতিশ্রুত পবিত্র ভূমিতে বসবাস করতে চায়। তাদের বসবাসের অধিকার কি বিশ্বমানবের স্বীকার করা অন্যায়? ইসরাইল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আরব মুসলমানেরাও বসবাস করতে পারে ইসরাইলে এবং করছেও এখন সেখানে। ইসরাইলের দ্বিতীয় রাষ্ট্র ভাষা তথা শিক্ষা ও দাপ্তরিক ভাষা হচ্ছে আরবি। কিন্তু কোন ইহুদির কি বসবাসের সুযোগ আছে কোন মুসলিম বা আরব দেশে? তাহলে বিশ্বের সবার কি উচিৎ হবেনা তাদের আলাদা রাষ্ট্রের অধিকার মেনে নেয়া? যাতে পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের নিজ ভূমিতে বাঁচার অধিকার প্রতিষ্ঠান হয় এবং সবার মধ্যে স্থাপিত হয় শান্তি!
এরপর পর্ব : ৮
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 4 =