আত্মার অস্তিত্ব সম্পর্কে… (পর্ব : আধ্যাত্মিকতা)

জীবের সাথে পরমের সম্পর্ক স্থাপিত হয় মূলত আত্মার মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হলো আত্মার কি কোন আলাদা অস্তিত্ব আছে? আত্মার কি কোন ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ক্ষমতা আছে যাতে সে পরমের সাথে সম্পর্ক তৈরী করতে পারে?

কিংবা পরমের কি কোন ইলেট্রো-ম্যগনেটিক ক্ষমতা আছে যাতে সে জীবের সাথে সম্পর্ক তৈরী করতে পারে? জীবের আত্মার কিংবা পরমের আলোর ফোটনের কি তথ্য আদানপ্রদান করার ক্ষমতা আছে? কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সে একই কণা দূরবর্তী স্থানে একই সময় একই আচরণ করতে পারে! এটা কি জীব পরমের সম্পর্কের কারণ?

– অবশ্যই না। তাহলে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ধ্যাণ, তপস্যা, সাধনার প্রয়োজন হতো না।

আধ্যাত্মিকতার উদ্দেশ্য জীবের সাথে পরমের সম্পর্ক স্থাপন। আর সেখানে যদি আত্মা ও স্রষ্টার কোন অস্তিত্বই না থাকে তবে কি হবে? এবার আত্মার অস্তিত্ব নিয়ে ভাবাদীর সঙ্গে বস্তুবাদীর একটি কাল্পনিক প্রশ্নোত্তর পর্ব! যা আপনার কাংঙ্খিত, কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাহলে চলুন…

ইমাম- খোদার সাথে এই দিলের সম্পর্কই ইবাদত।

নাস্তিক – হুজুর “দিল” জিনিসটা কী ?

ইমাম – দিল হলো – আত্না !

নাস্তিক – আচ্ছা হুজুর, আত্না কোথায় থাকে ?

ইমাম- আত্না বাম পাজরের দুই আঙ্গুল নিচে হৃদপিন্ডের ভেতর থাকে।

নাস্তিক – তাই না-কি ? আচ্ছা হুজুর যারা কৃত্রিম হৃদপিন্ড নিয়ে বেঁচে থাকে তাদের আত্না কোথায় থাকে?

ইমাম – ইমাম সাহেব তো মহা ফাপরে !!!

তারপর সে বলল- তাদের আত্না সারা শরীরে থাকে।

নাস্তিক- আচ্ছা হুজুর বলেন তো আপনি ব্রেইন দিয়া চিন্তা করেন? না, আত্না দিয়া চিন্তা করেন ?

ইমাম – ব্রেইন দিয়া ।

নাস্তিক – তাহলে আত্নার দরকারটা কি জন্য ?

ইমাম- আত্নার দরকার আছে, এই যে ধরো, পরকালে আত্নার উপর দেহকে পুনর্জীবন, প্রেম ভালোবাসা, ভালো কোন স্বাদ, ঘ্রাণ, প্রকৃতির সৌরভ এসব উপলব্দির জন্য আত্নার দরকার আছে?

নাস্তিক- যেকোন নিউরোলজিস্ট ডাক্তারের কাছে জিজ্ঞেস করেন- এই সবগুলো ঘটনাই ব্রেইন থেকে হয়।- এটা কোন আত্নার জন্য নয়! ইমাম- তাহলে পরকালে কী তোমার দেহের পুনর্জীবন হবেনা, আত্না থাকবেনা?

নাস্তিক – না হুজুর, কিছুই হবেনা!

ইমাম- তুমি মিথ্যা বলছ।

নাস্তিক – না হুজুর, বিজ্ঞান আত্না সম্পর্কে যুগান্তকারী যুক্তি- প্রমাণ দেখাচ্ছে। এই ধরুণ- আমাদের শরীরে যদি অশরীরি আত্না বা কোন শক্তি থেকে থাকে তবে সেটা – শক্তি সনাক্ত করার মেশিন লার্জহেড্রন কোলাইডারে ধরা পড়ত। – কই ধরা তো পড়ছেনা।

ইমাম- বিজ্ঞান আত্মার অস্তিত্ব প্রমাণ করেছে। আত্মার ওজন ২১ গ্রাম!

নাস্তিক- ডা. ম্যাকডোগাল ডানকিনের ২১ গ্রাম তত্ত্বটি একটি হাপোথিসিস! – এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই। বেশ কয়েকবারের পরীক্ষায় এটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

ইমাম সাহেব – না এটা হতে পারে না। এটা কীভাবে ভুল প্রমাণিত হলো?

নাস্তিক- মৃত্যুর পর শরীরের ওজন ২১ গ্রাম কমে যায় শরীরের রক্ত জমাট বেঁধে গেলে, ফুসফুস হতে শেষ বাতাস বের হয়ে গেলে, কেমিক্যাল রিয়েকশনে শরীর হতে গ্যাস বের হয়ে গেলে, প্রতি মিনিটে শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে, মাসেল কন্সট্রাকাশন হয়ে শরীরের ওজন কমে যাওয়ায় শরীরের ওজন ২১ গ্রাম কমে যায়।- এগুলো সবগুলোই প্রামাণিত সত্য। ডা. ম্যাকডোগালের আত্মার ২১ গ্রাম তত্ত্বটি ভুল!

ইমাম- তুমি মিথ্যা বলছ? মনোবিজ্ঞানে তো মনের কথাই বলে- আত্নার কথা বলে ? নাস্তিক – মনোবিজ্ঞান হলো আচরণের বিজ্ঞান। এখানে মন বা আত্নার কোন স্থান নাই। ইমাম- তাহলে প্রাণীদেহের মতো উদ্ভিদেও আত্মা আছে। তাদের কেটে টুকরোটুকরো করলেও তো সেখান থেকে নতুন উদ্ভিদেরা জন্মায়।

নাস্তিক – উদ্ভিদের তো হৃদপিন্ড নাই, তার আত্মা কোথায় থাকে? আর জন্মানোর জন্য কি আত্মার দরকার আছে? তার জীবশক্তি হলেই তো হয়।

ইমাম- ঐ জীবশক্তিটাই আত্মা!

নাস্তিক- তাহলে ল্যাবরেটরিতে তৈরী কৃত্রিম জৈব অণুতেও তো জীবশক্তি হয়, সেটা কি আত্মা হুজুর? তাহলে কি মানুষ আত্মা তৈরী করতে পারে? -হুজুর আপনার আত্না পরকালে যাবেনা।

ইমাম – তোমার বিজ্ঞান মিথ্যা !

নাস্তিক – হুজুর আপনার বিশ্বাসটাও মিথ্যা। এখানে উল্লেখ্য যে, মানুষের এসব ধারণার উদ্ভব হয়েছে- মূলত আত্মা > প্রেত্মাত্না > ভূত > প্রেত > দেব দেবতা, ঈশ্বর, আল্লাহ, গড, ভগবানের ঐতিহাসিক ধারণার বিবর্তনের ফলে।

 

লেখক- জাকির হোসেন

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 3 =