৩-জন ফিলিস্তিনিকে হত্যার দায়ে একজন ইহুদির ৩-বার যাবজ্জীবন কারাদন্ড! ২-কোটি ৪৬-লাখ টাকা জরিমানা!

ইসরাইলের বিচার ব্যবস্থা কতটা উন্নত তা বোঝা যাবে নিচের খবরটিতে। খবরঃ আরব ফিলিস্তিনি পরিবারের ৩ সদস্যকে হত্যার দায়ে একজন ইজরায়েলি সন্ত্রাসী ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল ইজরায়েলি লড জেলা আদালত |- হ্যা, ঠিকই পড়েছেন।
বিরোধপূর্ণ পশ্চীম তীরের ডুমা গ্রামে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে এই মর্মান্তিক হামলাটি ঘটে | ২১ বছর বয়সী ইজরায়েলি তরুণ আমিরাম বেন উলিয়াল ফিলিস্তিনি বসতিতে অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে একটি ৪ সদস্যের ফিলিস্তিনি পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু ঘটে | তাঁরা হলেন – সাইয়েদ মোহাম্মদ হাসান দাবাশেহ(৩২), তাঁর স্ত্রী রিহাম হুসেইন হাসান দাবাশেহ(২৬) এবং তাঁদের ১৮ মাস বয়সী শিশুসন্তান আলী আলী সাইয়েদ মোহাম্মদ দাবাশেহ |
:
তদন্তে প্রমাণিত হয় এটা একটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা ছিল এবং তিনজনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ ও ইহুদি ধর্মীয় সন্ত্রাসী গ্রুপে জড়িত থাকার বিষয়ে আমিরামের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয় | আদালতে ৩ জনকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সন্ত্রাসী সংগঠনে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি | এজন্য, মহামান্য আদালত তাকে পরপর তিনটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পরিবারটির ৪ বছর বয়সী বেঁচে যাওয়া শিশুসন্তান আহমাদ দাবাশেহকে হত্যাচেষ্টার দায়ে আরো অতিরিক্তি ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় | পাশাপাশি হত্যার পরিকল্পনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরেকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ইজরায়েলিকে ৪২ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়(ঘটনার সময় সেই অপরাধীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি) |
:
কারাদণ্ডের পাশাপাশি উলিয়ালকে দাবাশেহ পরিবারের কাছে ২,৯০,০০০ ডলার(বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা; ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১৪ লক্ষ রুপি) ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় | সে ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হলে ইজরায়েল সরকার এই ক্ষতিপূরণের অর্থ দেবে | উলিয়াল এই অপরাধের দায় স্বীকার করে এক মাস আগে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদের হাতে মালাচি রোজেনফিল্ড নামক এক ইহুদী ব্যক্তিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এই হামলা করেছে বলে জানায় | সে দেওয়ালে ‘প্রতিশোধ’ এবং ‘রাজা মাসায়াহ’ দীর্ঘজীবী হউন’ পেইন্ট করে দেয় | তবে রোজেনফিল্ডের মা-বাবা এর নিন্দা জানান এবং এটাকে তাঁদের ছেলের স্মৃতিতে একটা চপেটাঘাত বলে উল্লেখ করে | এই ঘটনার পরপরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর তীব্র নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিন নেতা মাহমুদ আব্বাসকে ফোন করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করার আহ্বান জানান | ইহুদী ধর্মীয় নেতারাও এর নিন্দা জানান এবং উলিয়ালের দ্রুত বিচার দাবি করেন| অবশেষে বিচার নিশ্চিত হয়েছে |
:
আমি এটা এজন্যই প্রচার করলাম যে, আমরা ইজরায়েলকে সঠিকভাবে জাানতে চাইলে ইজরায়েলের ভালো দিকগুলোর পাশাপাশি কিছু খারাপ দিক থাকলে সেগুলোকেও তুলে ধরা প্রয়োজন | বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ মুসলিম দেশ, আফ্রিকান ও লাতিন আমেরিকান দেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইজরায়েল সভ্যতা, আইনের শাসন ইত্যাদিতে যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও এটা কোন স্বর্গরাজ্য না; ইজরায়েলের মানুষও রক্তমাংসেরই তৈরি এবং ইজরায়েলি ব্যক্তিরাও সন্ত্রাসে জড়াতে পারে | যেকোন ধরনের ধর্মীয় উগ্রবাদই ন্যাক্কারজনক ও পরিতাজ্য | যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ভালো মানুষেরা ভালো কাজ ও খারাপ মানুষেরা খারাপ কাজ করে, উগ্র ধর্মীয় আদর্শই পারে ভালো মানুষদের দ্বারাও খারাপ কাজ করাতে- সেটা যে ধর্মই হোক; চরমপন্থা চলবে না |
:
দাবাশেহ পরিবারের প্রতি সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করায় ইজরায়েলি তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতকে ধন্যবাদ | আমি মনে করি, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন ও ইজরায়েলি ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত সন্ত্রাসসহ সবধরনের অপরাধ দমনে ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, মৃত্যুদণ্ড কেন দেয়া হলো না; তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ইজরায়েলে স্বাভাবিক সময়ে যেকোন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রায় ৫০ বছর আগেই বাতিল করা হয়েছে | ইজরায়েলি আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন সময়ে সংঘটিত অপরাধ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায় | তাই সন্ত্রাসী উলিয়ালের যে শাস্তি হয়েছে তাই সর্বোচ্চ সাজা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া সবচেয়ে কঠিন শাস্তি।
:
ছবিঃ সন্ত্রাসী আমিরাম বেন উলিয়ালকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে |
:
নিউজ লিংক-
 
https://www.nytimes.com/2020/09/14/world/middleeast/israeli-settler-sentenced-firebomb-attack.html?fbclid=IwAR34CSyY5FA_uqwZcfXbdn2OgP1K6i2k7sFb3V-aq_NaYA0gt5cgfx5oF3I
 
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 4