বাংলাদেশ সেনারা জাতিসংঘ মিশনে দেবতা! বাংলাদেশ সেনারা পাহাড়ে ধর্ষক আর হত্যাকারী? পর্ব-৬ (শেষ পর্ব)

বাংলাদেশ সেনারা জাতিসংঘ মিশনে দেবতা!
বাংলাদেশ সেনারা পাহাড়ে ধর্ষক আর হত্যাকারী?
লেখাটি বড় বিধায় ৬-পর্বে বিভক্ত : পর্ব-৬ (শেষ পর্ব)
:
আদিবাসীর সংজ্ঞা
———————–
আদিবাসী শব্দের ইংলিশ প্রতিশব্দ Indigenous people. অনেকে আদিবাসী শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে Aborigine ব্যবহার করেন। কিন্তু Aborigine বলতে সর্বজনীনভাবে আদিবাসী বোঝায় না। Aborigine বলতে সুনির্দিষ্টভাবে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের বোঝায়। অক্সফোর্ড ডিকশনারীতে Aborigine শব্দের অর্থ বলা হয়েছে Ôa member of a race of people who were the original living in a country, especially AustraliaÕ. একইভাবে Red Indian বলতে মার্কিন আদিবাসীদের বোঝায়, অস্ট্রেলীয় Aborigine বা আদিবাসীদের বোঝায় না। এ ছাড়াও বিভিন্ন ডিকশনারীতে আদিবাসী বিষয়ে যে সংজ্ঞা ও প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা নিম্নরূপ: Aborigine: noun. a member of a race of people who were the original living in a country, especially Australia. Indigenous: belonging to a particular place rather than coming to it from some where else. Native. The indigenous people/ indigenous area. Aborigine: earliest. Primitive. Indigenous. Indigenous: adj. Native born or produced naturally in a country, not imported (opposite to exotic). অন্যদিকে বাংলা একাডেমীর অভিধানে Indigenous শব্দের অর্থ বলা হয়েছে: দেশী, দৈশিক, স্বদেশীয়, স্বদেশজাত। কোলকাতা থেকে প্রকাশিত সংসদ অভিধানে Indigenous শব্দের অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে, স্বদেশজাত, দেশীয়। আবার চেম্বার্স ডিকশনারীতে Indigenous শব্দের অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে, native born, originating or produced naturaly in a country, not imported. একই ডিকশনারীতে Indigenous শব্দের বিপরীত শব্দ হিসেবে exotic শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছেÑ যার অর্থ বহিরাগত। অর্থাৎ অভিধানিকভাবে আদিবাসী শব্দের অর্থ দেশী, স্বদেশজাত বা ভূমিপুত্র। এখন ঐতিহাসিক দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করে দেখা দরকার বাংলাদেশে যারা নিজেদের আদিবাসী বলে দাবী করছেন তারা কতোটা ‘স্বদেশজাত’ বা বাংলাদেশের ‘ভূমিপুত্র’।
:
উপজাতি
———-
এমন জনগোষ্ঠীগুলোকে বোঝায়, যারা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করতে পারেনি কিন্তু নিজস্ব একটি আলাদা সংস্কৃতি গড়ে তুলেতে সমর্থ হয়েছে। মূলতঃ রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিতে জাতি বা উপজাতি নির্দিষ্টকরণ হয়ে থাকে।
:
উপজাতি নামক এইসব সন্ত্রাসীদের হাতে আমাদের অসংখ্য সেনাবাহিনীর অফিসার খুন হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। সেখানে অসংখ্য বাঙালীদের হত্যা করা হয় এবং এইসব সন্ত্রাসী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিরবিচ্ছন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধের কিছুকাল পর থেকেই তা জারি রেখেছে বাংলাদেশে। পাহাড়ের বাঙালিদের প্রশ্ন : “আমার দেশ, আমার মাটি অথচ আমার নাম সেটেলার”? “এই দুঃসাহস হয় কি করে? কিভাবে এটি সহ্য করব”?
:
এরা “জুম্মল্যান্ড” নাম দিয়ে সেটির পতাকা করে ফেছে পার্বত্য চট্রগ্রামের। এদের আলাদা মুদ্রা ব্যবস্থা রয়েছে, আলাদা বিচার ব্যবস্থা করেছে। দেদারসে পপি চাষ করছে সন্ত্রাসী দলগুলো, পাচার করছে মাদক, পাচার করছে অর্থ, হাত মেলাচ্ছে অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সাথে। এদেরকে দমন করবার নাম-ই কি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ধর্ষক হয়ে ওঠা? সন্ত্রাসি দমন করলেই আমাদের সেনারা হত্যাকারী?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশকে দ্বিখন্ডিত করবার বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, এটাই তাঁদের পরম ও চরম দায়িত্ব। কিন্তু আপনার মাদক চোরাচালানীদের বাঁধা দিলেই কিংবা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ হলেই “সেনাবাহিনী ধর্ষক” বলে এই প্রোপাগান্ডা বন্ধ হতে হবে। বলা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে পাহাড়ে অত্যাচার করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এই কথাগুলো যারা বলছেন, তাদের ভেতর অসংখ্য মানবতাবাদী রয়েছেন, মানবাধিকার কর্মী, এন জি ও, গবেষক, পলিটিকাল কর্মী রয়েছেন। এটা কেমন কথা কোন তথ্য প্রমাণের দরকার নেই, কোনো যথার্থতার দরকার নেই। কেবল পাহাড়ে পান থেকে চুন খসবে, আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে বলে দিলেই হয়ে গেলো?
:
পাহাড়েতো বাঙালির প্রতি কত অত্যাচার হয়! কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি কথিত মানবতাবাদী ব্যাক্তিদের মুখে কোনোদিন শুনতে পাইনি, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে ইউপিডিএফ, শান্তিবাহিনী কিংবা এই রকম যেসব বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী দল রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে একটি উচ্চারণ। এই দলের সন্ত্রাসীরা খোদ পাহাড়ের বিভিন্ন যুবকদের জোর করে বাধ্য করে তাদের দলে ভীড়বার জন্য, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করবার জন্য। এরা নিজেদের মত করে অর্থ বা টাকা মূদ্রণ করেছে, এরা নিজেদের আলাদা সেনাবাহিনী বানিয়েছে, এরা ঐ এলাকাতে বসবাসরত বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাতে গিয়ে ক্রমাগতভাবে তাদের হত্যা করছে, পেটাচ্ছে, কেউ আওয়ামীলীগে যোগ দিতে চাইলে, তাকে হত্যা করে ফেলে যাচ্ছে।
:
আমি পাহাড়ের ৩ জেলা নিয়ে যতবার পাঠ করেছি, লিখেছি, বলেছি, শুনেছি, ততবারই কাতর হয়েছি এই অঞ্চলের নিরীহ মানুষগুলোর জন্য। বাঙালি, চাকমা, মারমা, মগ, মুরংসহ নানা জাতিগোষ্ঠীর নিরীহ সাধারণ মানুষগুলো আজকে সবচাইতে নিগৃহীত। সবচাইতে পশ্চাৎপদ। আর এসবের একটাই কারণ। সেটি হচ্ছে পাহাড়ে এলিট শ্রেণির আধিপত্য। এই অংশটি-ই এই অঞ্চলে টিকিয়ে রেখেছে সংঘাত, এরাই টিকিয়ে রেখেছে বিচ্ছিন্নতাবাদের দুষ্ট স্বপ্ন। আর এরাই সার্বভৌমত্বের নাম করে গরীবের একর প্রতি ৪২ পয়সা পকেটে পোরে। ২০১৮ সনে এদের নাম রাজা।
:
জাতির জনকের কন্যাকে যদি প্রচল চ্যালেঞ্জে গিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হতে হয়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে সে যদি “রাজা” না হন, তবে চাকমা রাজাকারের পুত্র বাংলাদেশে কেন “রাজা” হয়ে বসে থাকবেন? এ প্রশ্নের মিমাংসা করে বুঝতে হবে, পাহাড়ি প্রান্তিক সাধারণ জনতা আমাদের ভাই-বোন। সমতলের বাঙালি আব্দুল কাদের আর পাহাড়ের প্রান্তিক চাষী সজীব দেওয়ান, সবাই ভাই-ভাই হবে। বাঙালি আ: রহমান কেন প্রেম করতে পারবেনা রীতি চাকমার সাথে? কেন পাহাড়ি মেয়ের সাথে প্রেমকে হারাম করবে উগ্র উপজাতিরা? আমরা হাত ধরে এগোব সামনে, এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য, আমরা সামনে এগোবো এই দেশকে গড়বার জন্য। যেখানে হাতে হাত থাকবে বাঙালি আর সব উপজাতির! এবং এটা যেদিন হবে, সেদিন শান্তি আসবে পাহাড়ে। শান্তি আসবে বাংলাদেশে!
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =