আওয়ামীর উন্নয়ন নয়, জনগণের নিরাপত্তার উন্নয়ন চাই

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামীর মদদপুষ্ট দেলোয়ার বাহিনী কর্তৃক নারীকে গণধর্ষণের ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল না হলে হয়তো আমরা জানতামই না, চেতনাবাজদের এই দেশে মধ্যযুগীয় কায়দায় এক নারীকে কিভাবে বিবস্ত্র ও ধর্ষণ করে যৌনাঙ্গে টর্চলাইট ঢুকিয়ে বর্বরভাবে নির্যাতনের একটি ঘটনা ঘটেছে, তাও যে দেশের প্রধানমন্ত্রীও স্বয়ং নারী! গত ২ রা সেপ্টেম্বর এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটলেও, আমরা সোশাল মিডিয়ার কল্যাণে অবগত হয়েছি ৪ঠা অক্টোবর। অর্থাৎ ঘটনা পরবর্তী দীর্ঘ এক মাসের গ্যাপে তা প্রকাশ না হওয়ায় স্বচ্ছভাবে এই অনুমেয় সেখানকার প্রশাসন, সাংবাদিক তথাপি মিডিয়ার প্রতিনিধিরা ক্ষমতাসীনদের লেজুড়বৃত্তি কিংবা অন্যকোনো স্বার্থে ঘটনাটি চেপে যেতে চেয়েছেন যাও শেষ অব্দি সোশাল মিডিয়ার কারণে হয়তো সফল হয়ে ওঠেনি। কিন্তু সব হিসেব কষে এই প্রভূত দুর্ভাবনার জের কিন্তু ঘুরেফিরে সেই জায়গায় ; ছাগল ক্ষেত নষ্ট করলে সেটা স্বাভাবিক মনে হওয়াই সমীচীন। কিন্তু স্বয়ং বাউন্ডারিই যদি সেই ক্ষেত নষ্ট করে তবে আমরা আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে নিজেদের নিরাপদ ভাববোটা কার কাছে? দূর্ভাগ্যবশত আওয়ামী শাসিত সাম্প্রতিক বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে ছাগল আর বাউন্ডারির সেই বহুল প্রচলিত প্রবাদের মতই।

শুরুতেই বলেছি নোয়াখালীর প্রশাসন, সাংবাদিক ও মিডিয়ার প্রতিনিধিরা সবকিছু জানার পরো এই দূর্ঘটনা ঘটার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যেহেতু নীরব ও অকার্যকর ছিলেন এবং এখনও সেই হাওলাতেই আছেন, সেহেতু তাদের প্রতি আস্থা একইসাথে বিশ্বাস রাখার কোনো যৌক্তিকতা কোনোক্রমেই নেই। ফলে জনস্বার্থে আমরা অন্যকোনো নিরপেক্ষ সোর্স থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সম্বন্ধে জেনে নিতে পারি। এই ঘটনা সম্পর্কে যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুবর্ণ চড়ে ক্যাম্পেইন করা যৌন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসানের ভাষ্যের সারমর্ম অনুযায়ী; ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার রাজনীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার মূল কারণ ছিল। যার সূত্রপাত কমার্শিয়াল এরিয়ায় সেই ভিক্টিম নারীর একটি নিজস্ব জমির প্রতি, সেখানকার আওয়ামীলীগের এক ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক লিপ্সা থেকে ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান এবং দখল বাণিজ্যের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিটিং এর আয়োজন করে তাদের মুখাপেক্ষীও করা হয় ভিক্টিমকে। কিন্তু ভিক্টিম কোনোভাবেই জমি দখল হতে না দেয়ার ফলশ্রুতিতে সবসময় প্রতিবাদ করে এসছেন। এই প্রেক্ষিতে জমি দখলে ব্যর্থ উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ভিক্টিমকে নির্যাতন এবং অপদস্থ করার জন্য লেলিয়ে দেন আওয়ামীর মদদপুষ্ট স্থানীয় সন্ত্রাস গ্যাঙ দেলোয়ার বাহিনীকে। এরপর দেলোয়ার বাহিনী ভিক্টিমকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিক্টিম সম্পর্কে প্রচার করতে শুরু করেন বিভিন্ন অবান্তর ও মিথ্যা অভিযোগ এবং কুৎসা।

যৌন নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসানের ফেসবুক লাইভ

পরিশেষে দেলোয়ার বাহিনী কর্তৃক রটানো মিথ্যা অভিযোগ এবং কুৎসা সমূহেও ভিক্টিমকে অপদস্থ করে জমি দখলের লক্ষ্য যখন সফল হলনা তখনই উক্ত নারীর প্রতি প্রয়োগ করা হল ভয়াবহ নির্যাতন এবং গণধর্ষণের মত নির্মমতার। আমরা সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া দেড় মিনিটের ভিডিওটি দেখলেও মূল ভিডিওটি ছিল এগারো মিনিটের। যেখানে ভিক্টিমকে গণধর্ষণের এক পর্যায়ে বর্বরভাবে যৌনাঙ্গে টর্চলাইট ঢোকানরও একটি জঘন্য দৃশ্য ছিল! চিন্তার উদ্রেক আরেকটা জায়গায় থেকে গেছে, এক মাস আগে এই বর্বরতার স্বীকার হওয়া ভিক্টিমের পরিবার কোথায়? নিরাপদে আছে তো? আওয়ামী তান্ত্রিক প্রশাসন বরবারের মত এখনও নীরব! দেলোয়ার বাহিনী কর্তৃক দলবদ্ধভাবে গণধর্ষণ ও নির্যাতন করা হলেও এখন অব্দি গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র একজনকে। বাকিরা অপরাধীরা বা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান কোথায়? প্রশাসনের কাছে এরও কোনো সদুত্তর নেই। আমরা, আমাদের নারীরা এই ভঙ্গুর তেলবাজ প্রশাসন এবং আওয়ামী সরকারের অধীনে কতটা অনিরাপদ তা কল্পনাই করা যায়না! একটি বিষয় রিমাইন্ড করা আজ বেশি জরুরি হয়ে পরেছে ; গণতান্ত্রিক ধারায় একই সরকার পরপর সেকেন্ড টাইম রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসা কোনোভাবেই উচিত নয়। আর সেটা যদি হয় রাতের অন্ধকারে ব্যালট বক্স ভর্তি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা নেয়া, তাহলে সেই রাষ্ট্র ও তাঁর জনগণ এমন নির্মমতারই স্বীকার হবে যার সীমা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা! আওয়ামীর উন্নয়নের জোয়ার নয়, জনগণের নিরাপত্তার উন্নয়ন জনগণকেই এখন বুঝে নেয়া উচিত এবং উচিত গণতান্ত্রিক ধারাপাতে এসে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতান্ত্রিক যন্ত্র উৎখাত করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + = 17