এই দেশ থেকে ধর্ষণ নির্মূল করা কি সম্ভব।

আপনারা কয়জন ধর্ষকের শাস্তি দিবেন? এই দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে ধর্ষক লুকিয়ে আছে কেউবা আবার এই সুযোগে ধর্ষণের লাইসেন্স পেতে শরিয়া আইনের দাবি তুলছে,আর সাধারন জনগন তাতে মদদ দিচ্ছে তারা শরীয়া আইনের সম্পর্কে কোন ধারনায় রাখেনা, যারা মনে করছে শরিয়া আইনে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিন্তু তারা কখনো শরিয়া আইনে একজন ধর্ষিতা নারীকে কিভাবে ধর্ষণের প্রমাণ করবে সেই আইনটা দেখেনা, শরিয়া মতে একজন নারী ধর্ষিতা শিকার হলে তাকে অবশ্যই ৪ জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে তবে প্রমাণ হবে সেই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ষক আছে যে চারজন দর্শক সামনে রেখে একটি নারীকে ধর্ষণ করবে আর সেই দর্শক গুলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধর্ষণ হতে নারীটিকে দেখে শরিয়া আইনে সাক্ষী দিবে? শরিয়া আইনের ডিএনএ টেস্ট বা ধর্ষিতার জবানবন্দিতে ধর্ষকের শাস্তি হবে না, এবং কি মহিলা সাক্ষী ও গ্রহণযোগ্য নয়, যারা এই আইন সম্পর্কে ধারণা রাখেন না শুধু ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেখেই আইন প্রণয়ন করতে চাচ্ছেন তারা একটু শরিয়া আইন সম্পর্কে জেনে তার পরে শরিয়া আইন চালু করার দাবি তুলবেন?

আর এক শ্রেণীর হুজুগে বাঙালি তারা ধর্ষণের জন্য নারী পোশাক দায়ী করে আসলে তারাও এক ধরনের ধর্ষক তারা চায় নারী বোরখা হিজাব নিকাব পড়ে ঘরে বসে থাকুক তবে আর ধর্ষণ হবে না অর্থাৎ এইসব কথা বলে তারা ধর্ষকদের সাফাই গাইছে, কেন ভাই একটা নারী যদি বোরকা হিজাব পড়ে তবে সেটা যে নারী এটা তো স্পষ্ট বুঝা যায় তবে তাকে কেন ধর্ষণ করা যাবেনা? একজন নারী বোরকা পড়লে সে তো আর পুরুষ হয়ে যায় না যদি বোরকা হিজাব ধর্ষক দের হাত থেকে নারীদের রক্ষা করতে পারত তবে সত্তর বছরের বৃদ্ধার ছয় বছরের শিশু এবং কি মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চারা বলাৎকারের শিকার কখনোই হতো না? আসলে বিষয়টা হচ্ছে অন্যরকম আপনারা জিন্স পরা টি-শার্ট পরা মেয়েদেরকে ধর্ষণ করতে ভয় পান এই জন্যই আপনারা ধর্ষণের লাইসেন্স খুঁজতে নারীকে বস্তাবন্দি করতে চান, নারীকে দুর্বল প্রমাণ করতে চান দুর্বল হিসেবে দেখতে চান যাতে আপনারা দিনে-দুপুরে অনায়াসে ধর্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন।আমরা যুগে যুগে দেখে আসছি নারী যখন প্রতিবাদী তখন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে নারী ঘৃণিত, আর নারী যত কোমল সহনশীল ততো পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে ভালো আসলে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের কখনোই উঠে দাঁড়াতে দিবেনা এরা চায় নারীরা সব সময়ই দুর্বল হয়ে থাকো এদের ওপর ধর্ষণ আক্রমণ করলোও এরা যেন কোনো প্রতিবাদ করতে না পারে লোকলজ্জার ভয়ে।

আমি আমার মা বোনদেরকে বলতে চাই আপনারা ধর্ষকদের ভয়ে বাহিরে বের হবেন না এমন মানসিকতা কখনোই তৈরি করবেন না, আজকে আপনারা যদি ধর্ষকদের ভয় পান তাদের কথামতো বোরখা হিজাব নিকাব পড়ে ঘরে বসে থাকেন তাহলে আপনারা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কাছে আরো বেশি নির্যাতনের শিকার হবেন তাই বলছি বাঘের ভয়ে কোন মানুষ খাঁচায় বন্দি থাকে না বরং সব মানুষ মিলে সেই হিংস জানোয়ার বাঘকে খাঁচায় বন্দী করে, যারা ধর্ষক তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন তাদেরকে প্রতিহত করুন তাহলে তারাই একদিন খাঁচায় বন্দী হবে।

যদি পোশাকের কারণে নারী ধর্ষণের শিকার হতো তবে ইউরোপ-আমেরিকায় অর্ধনগ্ন পোশাক পড়ে নারীরা রাস্তায় বের হতে পারত না, এখন কিছু মুমিন এসে প্রশ্ন করবে আমাদের দেশের তুলনায় ইউরোপ আমেরিকায় ধর্ষণের সংখ্যা এগিয়ে আছে, কিন্তু এরা কোন দিন ইউরোপ-আমেরিকার ধর্ষণের রিপোর্টগুলো পড়ে না, এবং জানে না ইউরোপে আসলে ক্রাইম কিভাবে কাউন্ট করা হয় ! তাই আজকে বাধ্য হলাম বিষয়টা ক্লিয়ার করতে।ইউরোপের আইন হল প্রচণ্ড স্বচ্ছ আইন। এরা প্রত্যেকটা ক্রাইম, এক এক দিন সহ, আলাদা আলাদা কাউন্ট করে । প্রথমে আসি ডমেস্টিক ভায়ালেন্স এর বিষয়ে।যেমন ধরুন একটা কাপল দুবছর ধরে এক সাথে আছে, তাদের মধ্যে তিশ দিন ঝগড়া হয়েছে এবং এই ত্রিশ দিনে সে তার বয়ফ্রেন্ড কিংবা হাজবেন্ড এর কাছে থেকে ত্রিশ বার আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। সুতরাং, এখাকার আইন অনুযায়ী এটা একটা ক্রাইম না, এটা মোট ত্রিশটা ক্রাইম । মানে পুলিশ ত্রিশটা ক্রাইমের চার্জ ঐ ছেলেটার উপরে আনবে , অথচ আমাদের দেশ সহ অনেক দেশে এটা আসলে একটা অন্যায় মানে একটা ক্রাইম। আর সৌদির আইন অনুযায়ী এটা কোন অন্যায়-ই না ! !

এবার আসি সেই যৌন হয়রানীর বিষয়ে। ধরুন একটি মেয়ে বাসে যাচ্ছে এবং পাশের লোকটি তাকে কোন অশালীন মন্তব্য করল, এটা ইউরোপে যৌন হয়রানীর ক্রাইম হিসেবে নথিভুক্ত হবে। আবার ধরুন এক মেয়ে তিন বছর চাকরী করেছে সেখানে তার পুরুষ কলিগ তাকে তিন বছরে যতদিন অশালীন মন্তব্য করেছে , কিংবা যৌন হয়রানী করেছে, সেটা ততটা ক্রাইম হিসেবে কাউন্ট হবে, মানে পঞ্চাশ বার করলে সেটা পঞ্চাশটা আলাদা ক্রাইম !বাংলাদেশে সেটা ভাবা যায় ? এখানে তো মোটামুটি মেরে হাত পা ভেঙে না দিলে , রেপ না করলে সেটা যৌন হয়রানির পর্যায়ে নেয়াই হয় না !এবার আসি রেপের বিষয়ে ।

ধরুন এক মেয়ে তার পার্টনার এর সাথে পাঁচ বছর ধরে আছে এবং তার পার্টনার মেয়েটার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেক্স করেছে দুইশত বার, তার মানে রেপ হিসেবে এটা কাউন্ট হবে দুইশত রেপ !এই হিসাব করলে বাংলাদেশে একটা বিশাল অংশের বিবাহিত মেয়েরা সারা জীবনে কতবার রেপ হয়েছে? কিংবা এখনো হচ্ছে ?আর যারা সৌদি সহ বিভিন্ন সহি দেশগুলোর উদাহরন টানে, তাদের জন্য কথা হল সৌদিতে স্বামী যা ইচ্ছা তার বৌ এর সাথে করতে পারে সেটা মোটেও ক্রাইম না ! এমনকি আমাদের দেশ থেকে গৃহকর্মী নিয়ে তারা কি করে আমরা সবাই জানি । আর সৌদিতে রেপ হলে ওখানে বিচার হয় উল্টো মেয়েটার!এমন না যে ইউরোপে নারী নির্যাতন হয় না । অবশ্যই হয় কিন্তু সেটার বিচার হয় দ্রুত , কঠোর আইন আছে তাই আমাদের তুলনায় এখানে নারী নির্যাতনের চিত্রটা ভিন্ন।এবার বলেন আসলে নারী নির্যাতনে কোন কোন দেশ এগিয়ে আছে ? এর পরেও না বুঝলে, দুঃখিত আপনি এখনো বুদ্ধি ভ্রষ্ট হয়ে আছেন আপনার জন্য শুধুই সবমেদনা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

69 − 61 =