নারী তুমিও সমানভাবে ধর্ষক!

শুরুটা মায়ের থেকেই হয়।
শুরু হয়ে যায় প্রথম-মাসিকের প্রথম দিন থেকেই, যখন ভীষণ ব্যথায় কাতরানো মেয়েটি নারী হওয়ার যন্ত্রণার সাথে অবগত হচ্ছে…
পাশে বসে মা বুকে-পেটে স্নেহের হাত বুলোতে-বুলোতে বলে ওঠে, “শোন না, বড়ো হচ্ছিস, বাবার সামনে বুকে ওড়না দিয়ে যাস”;
যেন দোষটা তার স্বামীর নজরের নয়, অপরাধ মেয়ের বয়সের।

যৌবন না সামলাতে পেরে পাসের বাড়ির ছেলে অমুক কিংবা আত্মীয়র ছেলে তমুক আচমকা পিছন থেকে জাপটে ধরে।
যৌবন না সামাল দিতে পেরে অমুক, তমুক বোনের কামিজ ছিড়ে বুক কচলে দিলে…
সহমর্মী আত্মীয় প্রতিবাদে বলে, “বাবু বোনের সাথে কেউ এমন করে?”
ব্যাসঃ প্রতিবাদ শেষ।
যেন বোনের সাথে নয়, তবে অন্য কোনো মেয়ের সাথে এমন করাই যায়।

কাজের মেয়েটি তার অশিক্ষিত জ্ঞান নিয়েই মালিকের হাতটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে যায়—
ঘুমন্ত তার শাড়ির তলে হাত দেওয়ার জন্য।
বাড়ির পতিব্রতা মালকিন কাজের মেয়েকে চুরির অপবাদ দিয়ে গ্রামে পাঠিয়ে দেয়।
হ্যাঁ অবশ্যই অভিমান জমানো জিজ্ঞাসা থাকেই, “কী কম ছিল আমার মধ্যে?”
যেন বউ সন্তুষ্ট না করতে পারলে, ধর্ষণ করাটা পুরুষের নৈতিক অধিকার।

সেই বর্তমান প্রেমিকা দায়ী যে প্রেমিককে সান্তনা দিতে বলে, “কষ্ট পেও না তোমার প্রাক্তন খারাপ ছিল বলেই ছেড়ে গেছে”
সেই নারী বেস্ট-ফ্রেণ্ড দায়ী যে মনে করে তার বান্ধবী বারবার প্রেমে পড়ছে মানেই তার চরিত্র খারাপ
যে মেয়েমানুষ ধর্ষণের কারণ খুঁজতে—
ধর্ষিতার জামার দৈর্ঘ্য মাপে,
মুখে মদের গন্ধ আছে নাকি যাচাই করে,
তার চাকরির ধরন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে
কিংবা ধর্ষণের সময় মেয়েটির বাড়ির বাইরে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে;
সেই প্রতিটি মেয়েমানুষ এক-একটা ধর্ষক।

অসভ্যতামি কে পুরুষের স্বভাব মেনে এড়িয়ে যাওয়া—
যেন সেটা প্রাকৃতিক, যেন তার আইনী কোন ব্যবস্থা হতে পারেনা!
অসভ্যতামি কে পুরুষের চারিত্রিক অলংকার মেনে যেই মেয়ে আরেকটা মেয়েকে সাবধান করে—
সেই প্রত্যেক মেয়ে ধর্ষক।
সাবধান করতে হলে প্রত্যেকটি সেই নোংরা পুরুষকে করুন,
চিৎকার করে, ধমকে বলুন, “একটা ভুল ইঙ্গিত দেখলেই তোর শাস্তি দেওয়া হবে কিংবা পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেবো”
অনেক শাসন ঘরের মেয়েকে করেছেন, এবার সময় ঘরের ছেলেকে শাস্তি দেওয়ার।।
©

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 10 = 14