-সুরঞ্জনা, আমি বরং তোমার জন্য একশো বছর ঘুমিয়ে থাকবো-

চলিত ক্রিয়াপদের বাংলা আর লিখিতে ইচ্ছা হয় না, এই বাংলা বড়ো সাহিত্যিক। যদিও আমার বয়স একচল্লিশ বৎসর ১১মাস পূর্ন হয়েছে। আমি রবিবার মধ্যাহ্নে,ত্রিতলে, খাটে বসিয়া আছি। চারদিকে বেশ শান্ত এক একটি কাক ডাকিতেছে। কেমন ধারনা হইতেছে যে ইহার মধ্যে মিশিয়া আছে আমারই মরণোন্মুখতা। কোনো-না-কোনো একটি সত্য বলিতে ইচ্ছ করিতেছে। আমার ব্যক্তিগত সত্য।

সুরঞ্জনা,

তোমাকে ফুলের দেশে নিয়ে যাবে বলে যে প্রেমিক ফেলে রেখে গেছে পথে, জানি, তার মিথ্যা বাগদান হাড়ের মালার মতো এখনো জড়িয়ে রাখো চুলে। আজ যদি বলি, সেই মালার কন্কালগ্রন্হি আমি ছিন্ন করবার জন্য অধিকার চাইতে এসেছি? যদি বলি আমি সে পুরুষ, দেখো, যার জন্য তুমি এতকাল অক্ষত রেখেছো ওই রোমাঞ্চিনত যমুনা তোমার?শোনো, আমি রাত্রিচর। আমি এই সভ্যতার কাছে এখনো গোপন করে রেখেছি আমার দগ্ধ ডানা; সমস্ত যৌবন ধরে ব্যাধিঘোর কাটেনি আমার। আমি একা দেখেছি ফুলের জন্ম মৃতের শয্যার পাশে বসে, সুরঞ্জনা আমি তোমাকে জোস্যাৎনার ধারনা দেবো বলে এখনো রাত্রির এই মরুভুমি জাগিয়ে রেখেছি। দেখো, সেই মরুরাত্রি চোখ থেকে চোখে আজ পাঠাল সংকেত-যদি বুঝে থাকো তবে একবার মুগ্ধ করো বধির কবিকে; সে যদি সংকোচ করে, তবে লোকসমক্ষে দাড়িয়ে তাকে আবদ্ধ, তার দগ্ধ চোখে ঢেলে দাও অসমাপ্ত চুম্বন তোমার। পৃথিবী দেখুক, এই তীব্র সূর্যের সামনে তুমি সভ্য পথচারীদের আগুনে স্তম্ভিত করে রেখে উন্মাদ কবির সঙ্গে স্নান করছো প্রকাশ্য ঝর্ণায়।

 

থাক আমাকে কিছু দিতে হবে না।

সুরঞ্জনা আমি বরং তোমার জন্য একশো বছর ঘুমিয়ে থাকবো।

ইতি,

তোমার অনু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − 68 =