প্যারিসের হামলা ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে হাস্যকর কথা কি জানেন? তা হল ‘ইসলামোফোবিয়া’! এখন প্রশ্ন হল এই ইসলামোফোবিয়া কথার অর্থ কি? এই ইসলামোফোবিয়া কথার অর্থ হল ইসলাম ভীতি! কিছু বাম ও লিবারেলরা এই কথাটি সৃষ্টি করেছে কারণ তাঁদের উদ্দেশ্য হল যাতে সকলে মুসলমানদের দোষারোপ না করে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই ইসলামোফোবিয়ার যথার্থতা কতটা?

অপ্রিয় সত্যটি হল ইসলামোফোবিয়া বলে যতই দোষ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, সত্য হল ইসলাম নিয়ে ভীতির যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং এই সত্যটি ঠিকই ভাবেই প্রকাশিত হবে! এখন প্রশ্ন হল এই ইসলাম নিয়ে ভয়ের কারণ কি?বলাইবাহুল্য সাধারণ অর্থে ধর্ম বলতে আমরা যা বুঝি ইসলাম কিন্তু তেমন ধর্ম নয়, ইসলাম হল এক রাজনৈতিক ধর্মীয় মতবাদ! এই মতবাদ পৃথিবীর আর কোন ধর্মের স্বাধীন অস্তিত্ব স্বীকার করে না এবং এই ধর্ম চাই পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের মানুষ ইসলামে দীক্ষিত হোক! প্রকৃতপক্ষে নবী মহম্মদের শেষ বাণী ছিল ‘পৃথিবীতে যতদিন একটি ও অমুসলমান অবশিষ্ট থাকবে ততদিন আমাদের এই সংগ্রাম চলবে’!

এর সপক্ষে কোরানের বহু আয়াতের মধ্যে একটি আয়াত হল-

সূরা আল-আনফাল:39 – আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

বলাইবাহুল্য তাঁর এই জঘন্য সাম্প্রদায়িক উক্তিই আজকের পৃথিবীর যত সমস্যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী! তাঁর এই বাণী সফল করার জন্য চোদ্দোশো বছর ধরে তাঁর হাজার হাজার অনুসারীরা জেহাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁদের জেহাদ আজও চলছে!

ইসলামি মতাদর্শ অনুযায়ী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশকে দুইভাগে ভাগ করা হয় একটি হল ‘দার উল ইসলাম’ ও অন্যটি হল ‘দার উল হরব’। দার উল ইসলাম কথার অর্থ হল এমন একটি দেশ যেখানে ইসলামি মতাদর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, অন্যদিকে দার উল হরব কথার অর্থ হল অমুসলমানদের দেশ। ইসলামি মতানুসারে বিশ্বাসী মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব হল এই অমুসলমানদের দেশকে ইসলামি শাসনের তলায় নিয়ে আসা! অর্থাৎ দার উল হরব কে দার উল ইসলামে পরিণত করা এবং যতদিন না এই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে ততদিন এই লক্ষ্যে সংগ্রাম পরিচালিত করা।

তবে মজার বিষয় হল এই দার উল ইসলাম বা ইসলামের দেশে পরিণত হলে সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয় মুসলমানরাই! তথাকথিত এইসব ইসলামি দেশে শিয়া, সুন্নি, সুফি, আহমেদিয়া, সালাফি, হানাফি, কাদিয়ানি প্রভৃতি গোষ্ঠীরা সকলেই একে অন্যকে কাফের মনে করে এবং একে অন্যের মসজিদে বম ফেলে ও একে অপরের গলা কাটে! পৃথিবীর ইতিহাসে দেখা যায় মুসলমানরা মুসলমানদের যত গলা কেটেছে, যত রক্তপাত সংগঠিত করেছে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্য কোন জাতি আজ পর্যন্ত এত রক্তপাত সংগঠিত করেনি। তাই দার উল ইসলাম বা ইসলামের দেশ প্রতিষ্ঠিত হলে সেই মুসলমানরাই প্রাণের ভয়ে একের পর এক দেশ পরিত্যাগ করে এবং দার উল হরব বা অমুসলমানদের দেশে আশ্রয়ের জন্য ছোটে। আবার সে সব দেশে আত্মসন্মান ও মর্যাদা পেলে আবার নতুন করে ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চাই! এ এক অদ্ভুত ধাঁধা যাঁর থেকে সহজে মুক্তির উপায় নেই যাঁর উদাহরণ আমরা দেখতে পাই- পাকিস্তান, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া প্রভৃতি দেশে।

যাঁর চরম নিদর্শন দেখতে পাই প্যারিসের সাম্প্রতিক এই আক্রমণে এই ঘটনার সূত্রপাত হয় প্যারিসের এক স্কুলের শিক্ষক তিনি ‘মত প্রকাশের অধিকার’ বোঝাতে নবী মহম্মদের ছবি দেখান। ছবি দেখানোর আগে তিনি মুসলমান ছাত্রদের তাঁদের অনুভূতিতে আঘাত না লাগার জন্য তাঁদের ক্লাস থেকে বাইরে বেরিয়ে যেতে বলেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের এটা শেখাতে চান বাক স্বাধীনতার অর্থ কি। উল্লেখ্য গত 7 ই জানুয়ারি 2015 সালে নবী মহম্মদের কার্টুন প্রকাশ করায় জঙ্গিরা বিখ্যাত ব্যঙ্গচিত্র পত্রিকা ‘শার্লি আবদোর’ অফিস আক্রমণ করে এবং এই ঘটনায় 12 জন মানুষকে হত্যা করা হয়! তিনি এটাই বোঝাতে চান মত প্রকাশের অধিকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ! বলাইবাহুল্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতার শিক্ষার মূল্য তাঁর জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে! সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় এক 18 বছর বয়সি চেচনিয়ার অভিবাসী জঙ্গি তাকে হত্যা করে। যে ফ্রান্স তাঁদের থাকার অধিকার দিল? বাঁচার সুযোগ করে দিল এটাই কি তাঁর প্রতিদান সামান্য এক ছবি প্রকাশের ফলে অনুভূতিতে এত আঘাত লাগল যে তাঁকে হত্যা করতে হবে? প্রশ্ন হল মুসলমানদের এত অনুভূতি আসে কোথা থেকে?

বলাইবাহুল্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধর্মের বিরুদ্ধে বহু ব্যাঙ্গচিত্র, বহু সমালোচনা মূলক লেখা প্রকাশিত হয়। খ্রিস্টানদের যিশুর বিরুদ্ধে বহু ব্যঙ্গচিত্র দেখা যায়, হিন্দুদের বহু দেবদেবী নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র, সমালোচনা ও বহু রসের কাহিনী লেখা হয়, ইহুদি ও আরও বহু ধর্ম নিয়েই বিস্তর সমালোচনা হয় কিন্তু ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেখানে পান থেকে চুনটি খসলেই সামান্য ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করলেই মানুষকে খুন করতে হয়!

আসলে এথেকে এটিই প্রমাণিত হয় বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বর্বর ও জঘন্য ধর্মীয় মতবাদ হল ইসলাম! তাই ইসলাম যেখানে সমস্যা সেখানে!বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত প্রায় 4200 টি ধর্মের মধ্যে এত সমস্যা দেখা যায় না যতটা দেখা যায় ইসলামের মধ্যে। আসলে কোরান, হাদিস ও নবীর জীবনী পড়লে যে ঘৃণার শিক্ষা পাওয়া যায় এগুলি তাঁরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র! কোরানের কিছু আয়াত তুলে ধরলেই বোঝা যাবে আসলে ইসলাম কি শিক্ষা দেয়?

সূরা আল-আনফাল:12 – যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

অর্থাৎ এই আয়াত অনুসারে বিধর্মীদের গর্দানের উপর আঘাত করতে হবে এবং তাঁদের জোড়ায় জোড়ায় কাটতে হবে। ইহাই ইসলামের সুমহান শান্তির আদর্শ!

সূরা আল-আনফাল:17 – সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহ স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায় সাধারণ মুসলমানরা ও বিধর্মীদের হত্যা করতে পছন্দ করত না কিন্তু নবী মহম্মদ কৌশলে তাঁদের বিবেককে হত্যা করেছেন এবং বলেছেন তোমরা তাঁদের হত্যা করোনি বরং আল্লাহ তাঁদের হত্যা করেছেন। অর্থাৎ এই হত্যার জন্য তাঁরা দায়ী নয় আল্লাহ দায়ী, বলা অসঙ্গত হবে না যে এই আয়াত আজও জঙ্গিদের বিবেকের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূরা আল-আনফাল:55 – সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।

এই আয়াতে এটাই শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বিধর্মী মাত্র নিকৃষ্ট, তাহলে প্রশ্ন হল কোরানের এই আয়াত কি বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণার শিক্ষা দিচ্ছে না? কোরান যদি বিধর্মীদের প্রতি ঘৃণার শিক্ষা দেয় তাহলে সাধারণ মুসলমানরা বিধর্মীদের ভালোবাসবে কি করে?

সূরা আন নিসা:144 – হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?

সূরা আল মায়েদাহ:51 – হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

অর্থাৎ ইসলাম অনুসারে বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও করা যাবে না, সর্বদা শত্রুতার সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। ইহাই সহি ইসলামি শিক্ষা যদিও কিছু মুমিন ঠিকই এসে যাবে প্রক্ষাপট দেখুন, কি উদ্দেশ্যে বলেছে দেখুন, যাঁরা আপনার ধর্মকে গ্রহণ করে না তাঁদের ভালোবাসবেন কেন ইত্যাদি ইত্যাদি যুক্তি দিতে চলে আসবে, তবে এর ফলে সত্য পরিবর্তিত হবে না! তাহলে প্রশ্ন হল ইসলাম কি ঘৃণার শিক্ষা দেয় না?

সূরা আত তাওবাহ:111 – আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।

সূরা আত তাওবাহ:20 – যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম।

এই আয়াত গুলি থেকে বোঝা যায় আল্লাহ জেহাদের জন্য মুসলমানদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন এবং জিহাদিরা আল্লাহর কাছে মর্যাদার আসন পায় এবং জিহাদিদের সরাসরি জান্নাতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ধর্মের যদি এমন শিক্ষা হয় তাহলে ধর্মান্ধরা কেন জেহাদি হবে না?

সূরা আল-আনফাল:57 – সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।

সূরা আল-আনফাল:65 – হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দুশোর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন।

সূরা আত তাওবাহ:5 – অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সূরা আত তাওবাহ:14 – যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।

এই সমস্ত আয়াতে মুসলমানদের অমুসলমানদের প্রতি জেহাদ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে এখন এই যদি ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনের শিক্ষা হয় তাহলে মুসলমানরা কি শিক্ষা গ্রহণ করবে? বলা অসঙ্গত হবে না যে ইসলামের এই ঘৃণার শিক্ষা গোটা মুসলমান সমাজকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আল্লাহর নামে নবী মহম্মদের এই জঘন্য শিক্ষার বলি হচ্ছে পৃথিবীর তামাম মুসলমানরা! তাই এই অবস্থার পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য প্যারিসে আজ যে ঘটনাটি ঘটেছে, অতীতে এমন ঘটনা অখণ্ড ভারতবর্ষে ও দেখা গিয়েছিল যখন ‘রঙ্গিলা রসুল’ নামে এক বই প্রকাশ করা হয়। এই বই এর লেখকের হত্যাকারীদের পক্ষে মহম্মদ আলি জিন্না আদালতে সাওয়াল করেন। বহু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এখান থেকেই জিন্নার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতার শুরু, যা পরবর্তীতে দেশভাগের মতো ঘটনার প্রক্ষাপট রচনা করে!

মুসলমানদের আজ ভাবতে হবে অনুভূতি শুধু তাঁদের একার নেই সব মানুষেরই অনুভূতি রয়েছে। তাই প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত মুখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই প্যারিসে নবীর ছবি প্রকাশ করলে মুন্ডুছেদ, ব্যাঙ্গালোরে নবীর সমালোচনা করলে দাঙ্গার সৃষ্টি, দিল্লিতে এক অন্য ধর্মের যুবক এক মুসলমান যুবতীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করলে তাঁকে হত্যা করা, এগুলি পৃথিবীর সামনে আপনাদের কি ছবি প্রকাশিত করছে? এগুলি কি পৃথিবীর সামনে আপনাদের অসহিষ্ণু মতাদর্শ প্রকাশ করছে না? আগামী দিনে যদি বিশ্বের জনগণ মুসলমানদের একই রকম ভাবে ঘৃণা করতে শুরু করে তাহলে পারবেন তো তাঁদের প্রতিরোধ করতে? ইসলাম শান্তির ধর্ম বলে শুকনো বুলি আওড়ালে চিঁড়ে ভিজবে তো?

তাই এখন ও সময় আছে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হন এবং ঘৃণা পরিত্যাগ করুন ও মানবতাকে গ্রহণ করুন! প্রকৃতপক্ষে এটা বলাই যায় ইসলামের এমন কর্মকান্ডের ফলে গোটা বিশ্বব্যাপী ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বহু মানুষ মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ‘ইমানুয়েল ম্যাক্র’ বলা শুরু করেছেন ইসলামি মৌলবাদ ফ্রান্সের জন্য বড় সমস্যা। ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ও একই রকম আওয়াজ উঠতে শুরু করবে। সেইসঙ্গে গোটা বিশ্বব্যাপী চরম দক্ষিণপন্থী মতাদর্শের উত্থান ঘটবে তাই সময় থাকতে সাধু সাবধান!

ধর্মীয় দিক থেকে বলতে হয় ইসলাম খুবই কট্টরপন্থী একটি ধর্ম এবং একে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই এই সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন একমাত্র তখনই সম্ভব যখন মুক্তচিন্তার ব্যাপক প্রসার ঘটবে ও মানুষ ধর্ম থেকে বের হয়ে আসবে। সমস্ত মুক্তচিন্তকদের সে উদ্দেশ্যে কাজ করে যেতে হবে। তবে শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এটা বলা যায় একদিকে যেমন ধর্মান্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে ইন্টারনেটের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটছে এবং এই সমস্ত জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানবতাবাদী মুসলমান ধর্মের আসল রূপ সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে এবং তাঁরা ধর্ম থেকে বের হয়ে আসছে, এটাই আশার কথা! আমরা আশাবাদী শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মানবতার জয় হবে! মনে রাখতে হবে ‘রাত্রির আঁধার যতই কালো হোক না কেন, ভোর সন্নিকটে’!

তথ্যসূত্র:-

1) The guardian.

https://www.theguardian.com/world/2020/oct/16/french-police-shoot-man-dead-after-knife-attack-near-paris-school?fbclid=IwAR1PsuAAh6CfNjhaSiLbXRxiX7SZgODYq_8A6WTpa_NTV_i6D6FcAH1NDos

2) vox.

https://www.vox.com/2015/1/9/18089104/charlie-hebdo-attack

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − = 65