-লালপরী-

তারিখ:

মঙ্গলবার, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

 

প্রযত্নে,

অনু।

 

প্রাপক,

নিপা পারভীন

ঢাকা,বাংলাদেশ।

 

প্রিয়তমা লায়লা,

আমি এখন এক তুচ্ছ শিলাখন্ড। এই নীরস শিলাখন্ড তোমার ব্যস্ততার সময়ের ভালবাসা পাবে? লালপরীর তোমার জন্য আমি মাজনুন (মজনু)। মাজনুন আর মৃত কোন ফারাক থাকতে পারে না। লালপরী জন্যই দুনিয়ায় আমার জন্ম। লালপরীর সবই আমার প্রিয়। যে পথের ধুলোয় লালপরীর পায়ের চিহৃ পড়েছে, সে ধুলো আমার তীর্থের পূণ। যে প্রান্তর লালপরীর ছোঁয়া পেয়েছে, সে আমার গুলিস্তান। লালপরী যে বাতাসে নি:শ্বাস ফেলেছে, সেই বাতাসের চেয়ে আরব দেশের আতর নিকৃষ্টতর।

 

বিশুদ্ধ প্রেম যেন এক শাশ্বত মানবিক বেদনার রক্তিম দ্রাক্ষারস-যা পান করলে প্রজ্ঞার জ্যোতি নীলকন্ঠ দেবতার গৌরব দান করে মানুষকে। জাতিধর্ম সম্প্রদায়ের গন্ডী পেরিয়ে চিরকালীন প্রেম কিভাবে মানুষকে নি:স্ব করে ফেলে, এবং শেষাবধি আত্মক্ষয়েই তার নিয়তি নিবন্ধ থাকে, তারই একটি প্রতিক তোমার অনু। বিমুত প্রেম রক্তমাংসের মানবিক সত্তায় মৃত্যু। কিন্তু পরিনতি একই। হাট করতে এলেম অ-ধরারই সন্ধানে/সবার ধরে টানে আমায় এই যে গো এইখানে। অ-ধরাকে ধরতে পেলেই সব ফুরিয়ে যায়। রঙীন প্রজাপতি হাতের মুঠোয় ধরা পড়লে সে তো নিছক কীট। যে জন জানে প্রেমের ঠিকানা, সেই জানে তার চেয়ে প্রেম আরও বড়।

 

তুমি কি জানো, ইমরাউল কয়েস ছিলেন বানু সা’আদ রাজবংশজাত এক তরুণ কবি। সারা জীবন টোটো করে ঘুড়ে বেড়াতেন ভবঘুরের মতো। তাই তাকে লোকে বলত ভবঘুরের রাজা। বাইজান্টাইন রাজকন্যার প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। সেই অপরাধে মদে বিষ মিশিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। সে ঘটনা ৫৪০ খৃষ্টাব্দে। প্রেমপত্র আর বাস্তব জগতের প্রেমে কতটা বিরাট আসমান-জমিন ফারাক একটি ষোল –সতের বছরে স্বপ্নবিলাসী ছেলের কাছে বাস্তব প্রেমের ব্যাপারটা এখনও অজ্ঞেয়।

 

ঈদের চাদঁ সুন্দর। মরুভুমিতে প্রস্রবন সুন্দর। তারচেয়ে আরো সুন্দর তুমি আমার আখিতে। লালপরীর চেয়ে সুন্দর কেউ নেই। লালপরীর চেয়ে পবিত্র কিছু নেই। একবার লালপরীকে দেখেলেই বেহশ্ত দেখা হয়। লালপরীর কথা শুনলেই মনপ্রাণ জুড়িয়ে যায়। যেদিন লালপরীকে বুকে জড়িয়ে ধরব, সেইদিন লালপরীর কানে কানে বলব “ আমি বই পড়ে সুন্দরকে চিনতে চাই না,  কারন শ্রেষ্ঠ সুন্দর যে এখন আমার বুকে”। তোমাকে দেখার পর থেকে শুধু মনে হয় তোমার সকল অস্হি পৃথিবীর অমর্ত প্রণয়। যেদিন গভীর নিদ্রিতা লালপরীর ডালিম ফুলের মতো ঠোর্টে স্বপ্নঘোরে অস্ফুট উচ্চারিত হবে – অনু…অনু…অনু। তখন নিজের সিক্ত করতেল বারবার চুম্বনে তোমাকে বলব “তোমার অশ্রুর আগুন থেকে বাতি জ্বালাব অন্ধকার প্রাসাদে। আমার ইচ্ছা পূর্ন্য হয়েছে লালপরী। প্রেম নাকি ক্ষনিকের মোহ। ক্ষনকালের মুকুট একটি কোহিনুরের মায়াদীপ্তি। আর আমি বলি “অদর্শনের মরু মুকুলিত প্রেমতরু বিশুদ্ধ করে”।

 

জানো একবার এক ধর্ম শিক্ষককে বলেছিলাম- “ কোন আচরনে ঈশ্বরকে পাওয়া যায়, আপনি তা জানেন। কিন্তু লালপরীকে কেমন করে পাবো? দয়া কে সেই কথা বলুন। হে বিজ্ঞ আলেম! প্রত্যহ পাচঁবার প্রাথর্নায় মানুষ নাকি স্বয়ং ঈশ্বরের নিকটতর হতে পারে। কিন্তু হায়, প্রত্যহ লক্ষ্য লক্ষ্যবার প্রাথর্নায় আমি লালপরীর নিকটতর হতে পারি না কেন? সাধক যেমন ঈশ্বরের ঘ্রানে আবিষ্ট হন, লালপরীও ঘ্রানেও আমি তোমার প্রানে আবিষ্ট হতে চাই। লালপরীর দেয়া চাদরের ভালবাসা থেকে এককণা কুড়িয়ে নিয়েই আমি লালপরীকে ভালবেসে পথ চলছি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ পথ।

 

খুব ভালবাসি তোমাকে

বডড বেশি।

 

 

ইতি,

অনু।

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 3