ইসলামি মৌলবাদের উত্থান ও বিশ্বব্যাপী দক্ষিণপন্থার প্রসার

ইসলাম যে শান্তির ধর্ম তা আবার ও প্রমাণিত হল! ফ্রান্সের নিস শহরে এক চার্চের মধ্যে এক ইসলামি জঙ্গি ‘আল্লা হুয়াকবর’ বলে এক নারী সহ তিন জনকে হত্যা করে! বলাইবাহুল্য ইসলাম যে কত শান্তির ধর্ম এটি তাঁর নিদর্শন! কিছু দিন আগে ‘স্যামুয়েল প্যাটি’ নামক এক শিক্ষককে নবী মহম্মদের ছবি দেখানোর অপরাধে এক জেহাদি জবাই করে! 2015 সালের 7 ই জুলাই শার্লি হেবডো পত্রিকায় নবী মহম্মদের ছবি প্রকাশ করার ফলে জেহাদিরা এই পত্রিকার অফিস আক্রমণ করে এবং পত্রিকার 12 জন কর্মীচারিকে হত্যা করে!

প্রশ্ন হল মুসলমানদের এত অনুভূতি আসে কোথা থেকে? যে সামান্য এক কার্টুন আঁকলে তাঁর যৌক্তিক জাবাব না দিয়ে শিল্পীদের হত্যা করতে হয়! যার ফলে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, রাশিয়া, পৃথিবীর সর্বত্র জঙ্গি কার্যকলাপ চালাতে হয়! আসলে এর জবাব নিহিত রয়েছে নবী মহম্মদের জীবনীর মধ্যে। 1400 বছর আগের আরব মহম্মদ ছিলেন এক বর্বর, মরুদস্যু যে তরবারির জোরে তাঁর ধর্মপ্রচার করেছিলেন! যদিও তাঁর মূর্খ ও ধর্মান্ধ অনুসারীরা মনে করেন এই আরবদস্যু এক মহামানব ছিলেন! যাক এই নবী মহম্মদ তাঁর জীবনে হেন কাজ করেন নি যা ছিল না মানবতা বিরোধী! তিনি ব্যাক্তিগত জীবনে 11 জন স্ত্রী ও 4 জন যৌনদাসী রাখতেন মতান্তরে এই সংখ্যাটি ছিল আরও বেশি। তবে তিনি এটা ঠিকই বুঝেছিলেন ধর্মপ্রচার করতে গেলে অর্থের প্রয়োজন তাই সেই উদ্দেশ্যে তিনি কাফেলা লুঠ ও গণিমতের মাল হিসাবে নারীদের ভোগ্য জায়েজ করেছিলেন!

তাঁর মূর্খ ও ধর্মান্ধ অনুসারীরা গণিমতের মাল ও নারীর লোভে দলে দলে মহম্মদের দলে ভিড়তে থাকে, এভাবে মহম্মদ এক কুখ্যাত বাহিনী গড়ে তুলেছিল। এই বাহিনীর কাজ ছিল মহম্মদের কথামতো রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়া! অন্য ধর্মের মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া এবং মহম্মদের অধীনতা গ্রহণ করা। তারা তা গ্রহণ না করলে মহম্মদের খুনি বাহিনী তাঁদের হত্যা করত!

এই প্রসঙ্গে কোরানের কিছু আয়াত তুলে ধরা হল

□ সূরা আল-আনফাল:1 – আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি ঈমানদার হয়ে থাক।

এই আয়াত থেকে এটা বোঝা যায় এখানে মহম্মদ তাঁর অনুসারীদের কাফেলা আক্রমণ করে গণিমতের মাল লুঠ করার শিক্ষা দিচ্ছে এবং এই গণিমতের মালের উপর রসূল ও আল্লাহর দাবি জানাচ্ছে। প্রশ্ন হল যে আল্লাহ গোটা জগতের মালিক তাঁর ডাকাতি ও খুনোখুনির মধ্যেমে লুঠ করা গণিমতের মালের ভাগ বাটোয়ারার কি প্রয়োজন? এটা কি আল্লাহর নামে বকলমে নবী মহম্মদের লুণ্ঠিত মালের উপর বেশি অর্থ দাবি নয়? তথাকথিত মহামানবের কি এটা কর্ম হওয়া উচিত?

□ সূরা আন নিসা:24 – এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

এই আয়াত অনুসারে নবী মহম্মদ তাঁর মূর্খ ও ধর্মান্ধ জেহাদিদের গণিমতের মাল হিসাবে নারীদের ধর্ষণ হালাল করেছেন। যদিও এই আয়াতে চালাকি করে ‘তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাঁদের মালিক বলা হয়েছে’। প্রশ্ন হল দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক বলতে কি বোঝানো হয়েছে? বস্তুত এখানে যুদ্ধবন্দি নারীদের ধর্ষণের নিদান দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল যে মহান আল্লাহ দয়ালু, ন্যায় বিচারক সে কি করে অন্য ধর্মের বিধর্মী নারীদের ধর্ষণের অনুমতি দেয়? আজ কেন আইসিস ও অন্যান্য জঙ্গিরা বিধর্মী নারীদের গণধর্ষণ করে ও বিক্রি করে দেয় বুঝতে পারছেন কি?

এখানে একটি কথা উল্লেখ্য কিছু মুমিন ভাইয়েরা এটা বলতে ঠিকই এসে যাবে যে মহম্মদ ছিলেন মানবিক মানুষ, তিনি বলেছেন দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই ইত্যাদি ইত্যাদি! এটা বোঝাতে তাঁরা কোরানের এই আয়াতটি ব্যাবহার করে।

□ সূরা আল বাক্বারাহ:256 – দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে। এখন যারা গোমরাহকারী তাগুত দেরকে মানবে না এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাংবার নয়। আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।

কিন্তু এই আয়তটি ভালো করে পড়লে বোঝা যায় এখানে নবী মহম্মদ দ্বীনের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নাই বললে ও অবিশ্বাসীদের গোমরাহকারী বলে সতর্ক করেছেন এবং আল্লাহ সবই জানেন ও শুনেন বলে প্রচ্ছন্নে হুমকি ও দিয়েছেন তাহলে এই আয়াতটি কোন অর্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে? তবুও এটা স্বীকার করতেই হবে মহম্মদ প্রবর্তিত এই আয়াত তুলনামূলক কিছুটা নরম, এখানে মহম্মদ প্রচ্ছন্নে হুমকি দিলেও হেদায়েতের কথা বলেছে!

বলাইবাহুল্য মহম্মদ যখন একথা বলেছিলেন তখন তিনি মক্কায় এক সাধারণ ধর্ম প্রচারক ছিলেন তাই এই সময় তাঁর বিশেষ লোকবল ও ক্ষমতা ছিল না। তাই এইসময় ঠিক পেরে উঠবে না বুঝতে পেরে নবী মহম্মদ কিছু নরম কথা বলত, এগুলিই কোরানে মূলত ‘মাক্কী সুরা’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, মহম্মদ মদিনাতে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরম সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়। এই সময় আমরা নবী মহম্মদের আসল রূপ দেখতে পাই। এই পর্বে নবী মহম্মদের কেউ বিরোধীতা করলে নবী মহম্মদ তাঁর বিচার আল্লাহর উপর ছেড়ে না দিয়ে নিজেই তাঁদের মৃত্যুদন্ড দিতেন! একই ভাবে কেউ তাঁর অধীনতা ও ধর্মকে অস্বীকার করলে তাঁকে হত্যা করত!

প্রকৃতপক্ষে এইসময়ই নবীর মহম্মদের প্রকৃত রূপ প্রস্ফুটিত হয়। এই সময় পর্বেই নবী মহম্মদ তাঁর কুখ্যাত সুরা তওবা, সুরা আনফালের মতো সুরা গুলি নাজিল করতে থাকে, যাঁর প্রভাব আজও বিশ্বে দেখা যায়। এই সুরাগুলিকে ‘মাদিনী সুরা’ বলা হয় প্রকৃতপক্ষে মহম্মদের আসল স্বরূপ বুঝতে হলে মাদিনী সুরাগুলি পড়তে হবে। এই পর্বে নবী মহম্মদ ‘বানুকুরায়জা গোত্রের’ মতো চরম বর্বর ঘটনা সংগঠিত করে। শুধুমাত্র অবিশ্বাসী হওয়ার কারণে নবী মহম্মদ 700-900 বানুকুরায়জা গোত্রের পুরুষকে গলা কেটে হত্যা করে! পৃথিবীর ইতিহাসে এমন রোমহর্ষক ও জঘন্য গণহত্যা খুব একটা দেখা যায় না!

যদিও বেশ কিছু মুসলমান ঠিকই এসে যাবে নবীর এই কর্মকান্ডকে জায়েজ ঘোষণা করতে। আসলে নবী মুহাম্মদ নাকি জিব্রাইল মারফত আগেই জানতে পেরেছিল যে বানুকুরায়জা গোত্র তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাই তিনি বানুকুরায়জা গোত্রের মানুষকে কঠিন শাস্তি দিয়েছিলেন! মজার বিষয় হল এই জিব্রাইলকে নবী মহম্মদ ছাড়া আর কেউ দেখতে পেত না, তাই কখন জিব্রাইল এসে নবীর কানে কানে এই ষড়যন্ত্রের কথা বলেছিল সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন? বস্তুত বলা যায় নবীর চক্রান্তের শিকার হয়েই এতগুলি নিরপরাধ মানুষ জীবন হারায়! অথচ ইতিহাস সাক্ষী নবী মুহাম্মদ যখন অসহায় অবস্থায় সামান্য কিছু অনুসারী নিয়ে মদিনায় আসে তখন ইহুদি বিভিন্ন গোত্রের সঙ্গে বানুকুরায়জা গোত্রের মানুষরাও নবীকে স্বাগত জানিয়েছিল। তাঁদের যত্ন, আতিথেয়তা ও অনুগ্রহে নবীর জীবন রক্ষা পেয়েছিল এবং নবী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল, তাঁদের এই মানবতার কি পুরস্কার তাঁরা পেয়েছিল সেটা বুঝতেই পারছেন তো? বস্তুত নবী মহম্মদ তাঁদের আশ্রয়দাতাদের সঙ্গেই প্রতারণা করে তাঁদের জমি, সম্পত্তি দখল করে এবং তাঁদের হত্যা করে তাঁদের নারীদের গণিমতের মাল বানিয়ে ইহুদিদের দেশ ছাড়া করে তাঁদের কৃতজ্ঞতার যথার্থ প্রতিদান দেন!

বস্তুত নবী মহম্মদের এই শিক্ষা আজও আমরা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে দেখতে পাই। যে মুসলমান দেশগুলিতে নিজেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি ও খুনোখুনির ফলে মুসলমানরা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়ে দলে দলে ইউরোপে আসে, ইউরোপের মানবিক সমাজ ও সভ্যতা তাঁদের আশ্রয় দেয় সেই ইউরোপে এসে তাঁদের ধর্ম, সমাজ ও সভ্যতার উপর এই আক্রমণ কতটা নৈতিক? অবশ্য নবী মহম্মদের মূর্খ ও ধর্মান্ধ অনুসারীদের নীতি, নৈতিকতা আছে বলে তো মনে হয় না! আসলে জন্মের প্রথম দিন থেকেই ধর্ম পালনের নামে কট্টরপন্থী চর্চার যে শিক্ষা দেওয়া হয় তা থেকে বের হয়ে আসা খুবই মুশকিল!

যেখানে প্রশ্ন করলেই ঈমান নষ্টের ভয় ও জাহান্নমি হওয়ার ভয় রয়েছে, সে সমাজে মুক্তচিন্তার প্রবেশ হবে কিভাবে? অন্যদিকে যদি কেউ যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে ধর্ম মিথ্যা, নবী মহম্মদ একজন প্রতারক এবং কোরান বস্তুত নবী মহম্মদের বাণী এমন চিন্তাশীল মানুষকে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গীতে বলা হয় মুরতাদ বা ধর্মদ্রোহী! বস্তুত একজন বিশ্বাসী মুমিন মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব হল এই মুরতাদকে হত্যা করা! এই যদি একটি ধর্মের মূল শিক্ষা হয় তাহলে এই ধর্মের পরিবর্তন আসবে কিভাবে? কিভাবে এই ধর্মের সংস্কার সম্ভব? প্রকৃতপক্ষে ইসলামের সংস্কার সম্ভব নয় ইসলামের পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন ব্যাপক মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটবে এবং মানুষ স্বেচ্ছায় এই জঘন্য ধর্মমত ছেড়ে দেবে, তবেই বিশ্বব্যাপী এই জঘন্য মতাদর্শ থেকে পৃথিবীর মুক্তি লাভ সম্ভব!

এখন অনেক লিবারেলরা বলবেন অন্য কোন ধর্মে কি এইরকম উগ্রতা নেই? তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি অবশ্যই অন্যান্য বহু ধর্মে এমন উগ্রতা রয়েছে বাইবেল, বেদ, তওরাই ইত্যাদি বহু ধর্মগ্রন্থেও বিধর্মীদের হত্যার বহু নিদান রয়েছে কিন্তু তাঁরা আজ আর কেউই এত উগ্র নেই! ইতিহাসে দেখা যায় খ্রিস্টান বা ইহুদি ধর্মের মধ্যে ও যথেষ্ট উগ্রতার নিদর্শন রয়েছে কিন্তু তাঁরা আজ সকলেই ধর্মের মোহ দূরীভূত রেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাধনায় নিজেদের নিবেদিত প্রাণ করেছে তাই তাঁদের উন্নতি পৃথিবীব্যাপী পরিলিক্ষিত হচ্ছে অন্যদিকে মুসলমানরা আরও বেশি ধর্মান্ধতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত থাকার কারণে ‘পৃথিবীব্যাপী ঘৃণার পাত্রে’ পরিণত হচ্ছে!

ধর্ম মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব বিস্তার করে তাঁর চরম নিদর্শন হল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ‘ইমরান খান’ ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ‘রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান’। এই দুই ব্যক্তি আধুনিক পৃথিবীকে এক চরম সংকটের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যখন ফ্রান্সে কার্টুন আঁকার জন্য মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে তখন এরা মানুষের জীবনের মূল্য না দিয়ে ব্যাস্ত নবীর প্রেমের মাহাত্ম্য প্রচার করতে। ইমরান খান বিশ্বব্যাপী ‘ইসলামোফোবিয়ার’ ভাঙা ক্যাসেট বাজিয়ে চলেছে আর এরদোগান আধুনিক যুগের নতুন খলিফা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আধুনিক গণতান্ত্রিক তুরস্ককে, মধ্যযুগীয় তুরস্কে পরিণত করছে! এরদোগানের ইচ্ছা আধুনিক বিশ্বের খলিফা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেতে, কিন্তু হায়! যতদিন সৌদি আরব রয়েছে ততদিন এরদোগানের এই স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে! বরং সৌদি আরব তুরস্কের প্রভাব থেকে মুসলিম জগতকে রুখতে তুরস্কের পণ্য বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও ফ্রান্সকে সমর্থন করেছে। বস্তুত এরদোগানের এইসমস্ত কর্মকান্ডের ফলে তুরস্ক বিশ্বের কাছে একঘরে হয়ে যাচ্ছে এবং তুরস্কের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে!

আসলে আবেগ দিয়ে দেশ চলে না, তা ধর্মান্ধদের বোঝায় কে? তাই যে পাকিস্তান নিজের নাগরিকদের ভরণপোষণ করতে পারে না তাঁরা ফ্রান্সকে অর্থনৈতিক বয়কটের কথা বলে কিভাবে? যে তুরস্কের বিশেষ অর্থনৈতিক শক্তি নেই এবং যে এরদোগান ‘হাজিয়া সোফিয়ার’ মতো বহু চার্চকে মসজিদে রূপান্তরিত করে, সে ফ্রান্সকে মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত ও ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ দেয় কিভাবে? প্রশ্ন হল হাজিয়া সোফিয়া সহ বিভিন্ন চার্চ যখন মসজিদে রূপান্তরিত হয়েছিল তখন বুঝি খৃষ্টানদের অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি? আঘাত কি শুধুমাত্র মুসলমানদের একারই লাগে? তাই এরদোগানের এরূপ ভন্ডামি ও দ্বিচারিতার বিশেষ মূল্য নেই বরং তলে তলে ইসলামি মৌলবাদীদের তোষণ ও জঙ্গিদের তোষণের ফলে বিশ্ব এখন তুরস্ক সম্পর্কে বিশেষ সচেতন, বিশ্ব এখন তুরস্ককে সন্ত্রাসীদের আখড়া বলে মনে করে, তাই খুব দ্রুতই তুরস্ক তাঁর কর্মের ফল পাবে! বলাইবাহুল্য এরূপ চলতে থাকলে তুরস্কের পরিণতি ও ‘দ্বিতীয় পাকিস্তান’ হতে বেশি সময় লাগবে না, যার প্রভাব আমরা দেখতে পাই তুরস্কের মুদ্রার ব্যাপক অবনমনের মধ্যে দিয়ে।

এবার আসি বাংলাদেশের কথায় বাংলাদেশ প্রধানত এক কৃষিপ্রধান দেশ বর্তমানে সেদেশে বস্ত্রশিল্পের যথেষ্ট উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে, নবী প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের বিশাল সংখ্যক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বয়কট ফ্রান্সের ডাক দিয়েছে। প্রশ্ন হল ফ্রান্সের পণ্য বাংলাদেশের কজন মানুষ ব্যাবহার করে? আর মুসলিম বিশ্বে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের কি কোন ফল হবে? অন্যদিকে বাংলাদেশের এক বিরাট অংশের বস্ত্র ফ্রান্সে রপ্তানি হয় এখন এই নবীর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একশ্রেণীর বাংলাদেশি জনগণ যা করল তাঁতে ফ্রান্স যদি বাংলাদেশি পণ্য বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে বাংলাদেশি বস্ত্রশিল্প টিকবে তো? লক্ষ লক্ষ বস্ত্রশিল্প শ্রমিকদের দুবেলা হাঁড়ি চড়বে তো?

মনে রাখতে হবে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের হুমকি মানে শুধুমাত্র ফ্রান্স নয় বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চ্যালেঞ্জ করা আর ইতিমধ্যেই ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি সহ, ইউরোপের বিভিন্ন শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক দেশগুলি ফ্রান্সের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে! বস্তুত বিশ্বচালায় ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলি তাই মুসলিম বিশ্বের এই অর্থনৈতিক বয়কটের কোন প্রভাব ইউরোপ, আমেরিকায় দেখা যাবে না। অন্যদিকে এতদিন মুসলিম বিশ্বের প্রধান দেশ সৌদি আরব, ইউএই, ইরাক, ইরান সহ প্রভৃতি দেশ এটা বুঝতে পারছে খুব দ্রুতই পৃথিবী থেকে তেলের নির্ভরতা শেষ হয়ে যাবে, তাই তেল নির্ভর অর্থনীতি দিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন আর বেশিদিন চলবে না। তাই বাঁচতে হলে এখন থেকেই বিকল্প অর্থনৈতিক মডেল প্রয়োজন।

সেই উদ্দেশ্যেই সৌদি আরবের মতো দেশ একাধিক সংস্কার সাধন করছে সৌদি আরবে বর্তমানে নারীদের একা বাইরে বের হওয়া, ড্রাইভিং করা ইত্যাদির মতো অধিকার দেওয়া হয়েছে, ধীরে ধীরে সেদেশে সিনেমা হল প্রচলন ও পর্দা ছাড়া বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান তাঁর কট্টরপন্থী শিয়া ভাবাদর্শ লালন পালন করার কারণে বিশ্বের কাছে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। একদিকে আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ও অন্যদিকে ইরানি জনসাধারণের ইসলামি শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তির লড়াই ইরানকে সমস্যায় ফেলেছে! সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে সৌদি আরব, ইরাক, ইরান সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দ্রুত ধর্মের প্রভাব কমছে ও ধর্মহীনদের সংখ্যা বাড়ছে যা সত্যিই মানবতার জন্য আশাব্যঞ্জক খবর!

এবার প্রশ্ন হল এত কিছু হলে ও মুসলমানদের মধ্যে এই খুনোখুনি ও অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? প্রথমত বলা ভালো 1400 বছরের সংস্কার একদিকে শেষ হবে না, এটা এত সহজে যাওয়ার নয় তবে ধীরে ধীরে এই সমস্যা দূরীভূত হবে। তাই এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। প্রকৃতপক্ষে অসহিষ্ণুতার চর্চা আমরা নবী মহম্মদের জীবনী থেকেই পাই বস্তুত সমালোচনাকারিকে যুক্তি দিয়ে উত্তর দেওয়ার নিদর্শন নবী মহম্মদের জীবনে নেই। তাই তাঁর মূর্খ ও ধর্মান্ধ অনুসারীরা মহম্মদ যা করে গেছেন তা সুন্নত হিসাবে পালন করে।

ইসলামিক ইতিহাস থেকে জানা যায় নবী মহম্মদের উগ্রতা, বর্বরতা ও হত্যাকান্ড দেখে ব্যাথিত হয়ে সমাজের কিছু কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা মহম্মদের বিরুদ্ধে কবিতা ও গল্প লিখেছিলেন। কিন্তু নবী মহম্মদ এই সমস্ত বুদ্ধিজীবীদের কলমের প্রতিবাদ কলমের মাধ্যমে না দিয়ে, তাঁদের নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেছিল। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মহিলা কবি আসমা বিনতে মারওয়ান, কবি আফাক, কাব ইবন আশরাফ, আবু রফি বিন হুকাই, আল নাজির ইবন আল হারিস, উকবা বিন আবু মুয়াত প্রমুখ। তবে তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল মহিলা কবি আসমা বিনতে মারওয়ানের, তিনি নবীর বিরুদ্ধে কবিতা লিখেছিলেন। ইসলামি ইতিহাস থেকে জানা যায় মহিলা কবি আসমা বিন মারওয়ানকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর ঘরে ঢুকে হত্যা করা হয়েছিল। যখন তাঁকে হত্যা করা হয় তখন তাঁর এক শিশু সন্তান তাঁর বুকের দুধ পান করছিলো। হত্যাকারী উমার বিন আদি আল-খাতমি সেই শিশুকে আসমার বুক থেকে টেনে ফেলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করেন!

এথেকেই বোঝা যায় নবী মহম্মদের প্রকৃত শিক্ষা কি? নবী মহম্মদ কোন ব্যঙ্গবিদ্রুপ বা সমালোচনা সহ্য করতেন না। নবীর সমালোচনা করলে নবী তাঁদের কঠোর শাস্তি ও মৃত্যুদন্ড দিতেন! বস্তুত নবী মহম্মদের এই শিক্ষা আজও তাঁর উম্মতরা চরম ভাবে মেনে চলে তাই গোটা বিশ্বে সকল ধর্ম ও তাঁদের বিশ্বাস নিয়ে সমালোচনা করা যায় কিন্তু ইসলামের সমালোচনা করলেই মুসলমানরা উগ্র হয়ে যায় এবং তাঁদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে। এই অনুভূতি এত তীব্র হয় যে তখন তাঁরা মানুষ হত্যা করতে ও পিছপা হন না!

যার নিদর্শন আমরা দেখতে পাই সাম্প্রতিক ফ্রান্সের ঘটনায়, একই রকম ঘটনা দেখতে পাই ইসলাম অবমাননার নামে বাংলাদেশের লালরমনি হাটে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক 50 বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে তাঁর লাশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়! এটাই কি ইসলাম ও নবী মহম্মদের প্রকৃত শিক্ষা? বস্তুত ইসলাম অবমাননার নামে একইভাবে পাকিস্তানে মশাল খান, ভারতে 2017 সালের 16 ই মার্চ তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে ‘ফারুক’ নামে এক 31 বছরের এক্স মুসলিমকে হত্যা করা হয়! কিছু দিন আগে নবী মহম্মদের অবমাননার নামে ব্যাঙ্গালোরে দাঙ্গা, মুসলমান যুবতীকে ভালোবাসার অপরাধে এক হিন্দু যুবককে দিল্লিতে হত্যা করা হয়! প্রশ্ন হল মুসলমান সমাজ আজ যাচ্ছে কোন দিকে? আর কতদিন আর কতদিন এই ধর্মের নামে এই অনুভূতির নামে এই হিংস্রতা ও বর্বরতা চলবে?

বলাইবাহুল্য প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে যাঁর ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। যার শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসাবে উঠে এসেছেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্র। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন ফ্রান্স সর্বদা বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবে। ফ্রান্সের এই অবস্থান বিশ্বের গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতার পক্ষে উল্লেখযোগ্য! বস্তুত ফরাসি বিপ্লবের স্বাধীনতা, সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শে বিশ্বাসী দেশের কাছ থেকে বিশ্ববাসী এটাই আশা করে কিন্তু ফ্রান্সের এই শক্তিশালী অবস্থানের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলমান দেশগুলি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করছে, যা তাদের ধর্মান্ধ ও সুবিধাবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ! এর মধ্যে সবার আগে রয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। এছাড়া মালয়েশিয়ার পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী ‘মাহাথীর মহম্মদ’ এক টুইট বার্তায় বলেছেন- “অতীত গণহত্যার জবাবে লক্ষ লক্ষ ফরাসিকে হত্যার অধিকার মুসলমানদের রয়েছে”। প্রকৃতপক্ষে ইসলাম যে অন্য ধর্মকে ঘৃণা করতে শেখায় এবং জঙ্গি মতাদর্শকে লালন করে এটা তাঁর চরম নিদর্শন!

অন্যদিকে জাকির নায়েকের মতো জেহাদি, ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী বলেছেন- আল্লাহের দাসের গালিগালাজের ভয়ঙ্কর শাস্তি মিলবে। বাস্তবে যারা আল্লাহ ও তার প্রতিনিধির গালিগালাজ করে, আল্লাহ এই জীবনে ও তারপরও তাকে অভিশাপ দেন, তার জন্য অপমানজনক সাজার ব্যবস্থা করেন। এর আগে গত ২৮ আগস্টের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আল্লাহর দূতকে গালাগাল দেওয়া লোকজনকে ভয়াবহ সাজা পেতে হবে। জাকির নায়েক এর আগেও কয়েকবার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। কিছুদিন আগেই তিনি মন্তব্য করেন, মহম্মদের সমালোচনা করা অ-মুসলিমদের মুসলিম দেশের জেলে পোরা উচিত। ভবিষ্যতে এই অ-মুসলিম লোকজন উপসাগরীয় দুনিয়ায় বিশেষ করে কুয়েত, সৌদি আরব বা ইন্দোনেশিয়া সফরে গেলে খতিয়ে দেখা উচিত, তাঁরা ইসলাম বা মহম্মদ সম্পর্কে অশালীন, আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন কিনা, করে থাকলে তাদের কারাগারে ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত। এছাড়া, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় বসবাস করা জাকির নায়েক ফরাসি সামগ্রী বয়কটেরও ডাক দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হল এদের বিধর্মীদের প্রতি এত ঘৃণা, এত বিদ্বেষ আসে কোথা থেকে? এর উওর পাওয়া যাবে কোরান, হাদিস ও নবী জীবনি থেকে। এখানে কোরানের কিছু আয়াত তুলে ধরা হল এথেকেই বোঝা যায় এই ঘৃণার আসল উৎস কোথায়।

□ সূরা আন নিসা:144 – হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?

□ সূরা আত তাওবাহ:16 – তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।

□ সূরা আন নিসা:89 – তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না।

অর্থাৎ এই আয়াত গুলিতে আল্লাহ মুসলমানদের বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে নিষেধ করছেন এবং তাঁদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার কথা বলছে। আর তাঁরা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে তাঁদের হত্যার কথা বলছে! এখন প্রশ্ন হল কোরান যদি বিধর্মীদের ঘৃণা ও হত্যা করতে শেখায় তাহলে মুসলমানরা বিধর্মীদের ভালোবাসবে কিভাবে? ইহাই কি ইসলামের সুমহান শান্তির আদর্শ?

□ সূরা আন নিসা:93 – যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।

বস্তুত এই আয়াত থেকে পরিস্কার আল্লাহর কাছে মুসলমানদের জীবনের মূল্য রয়েছে তাই যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে হত্যা করবে সে ব্যক্তি চিরকাল জাহান্নমে থাকবে বলাইবাহুল্য এখানে কিন্তু বিধর্মীদের প্রতি ইসলামে একই কথা প্রযোজ্য নয়, তাঁদের হত্যা করতে কোন বাধা নেই! যদিও কিছু মুমিন ভাইয়েরা কোরানের এই আয়াতকে তাকিয়াবাজি করে দেখাতে চাই কোন মানুষকে হত্যা করলে চিরকাল জাহান্নমি হবে কিন্তু কোরানে কোথাও মানুষের কথা উল্লেখ নেই বরং বলা হয়েছে কোন মুসলমানকে হত্যা করলে চিরকাল জাহান্নমে থাকবে। তাই কোরান হিসাবে মুসলমান ও বিধর্মীদের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখা হয়। বলাইবাহুল্য মহম্মদ প্রবর্তিত কোরানের আল্লাহ মানুষকে মুসলমান ও অমুসলমান হিসাবে ভাগ করে এবং ঘৃণার শিক্ষা দেয় এটিই তাঁর উজ্জ্বল নিদর্শন!

□ সূরা আন নিসা:95 – গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

এই আয়াত অনুসারে তথাকথিত শান্তিপ্রিয় মুসলমানরা যাঁরা বলে ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং ইসলামে কোন খুনখারাবির কথা নেই এবং বিধর্মীদের প্রতি জেহাদ না করে ঘরে বসে থাকে আল্লাহর দৃষ্টিতে তাঁরা নিম্ন শ্রেণীর মুসলমান। আর প্রকৃতপক্ষে জেহাদি, মুজাহিদরা আল্লার দৃষ্টিতে অনেক উচ্চশ্রেণীর মুসলমান। তাই এখানে সকল মুসলমানকে জেহাদে অনুপ্রেরণিত করা হচ্ছে।

□ সূরা আত তাওবাহ:111 – আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।

□ সূরা আল মায়েদাহ:33 – যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

□ সূরা আন নিসা:76 – যারা ঈমানদার তারা যে, জেহাদ করে আল্লাহর রাহেই। পক্ষান্তরে যারা কাফের তারা লড়াই করে শয়তানের পক্ষে সুতরাং তোমরা জেহাদ করতে থাক শয়তানের পক্ষালম্বনকারীদের বিরুদ্ধে, (দেখবে) শয়তানের চক্রান্ত একান্তই দুর্বল।

□ সূরা আন নিসা:84 – আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের যিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা।

□ সূরা আল-আনফাল:39 – আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

□ সূরা আল-আনফাল:57 – সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।

□ সূরা আল-আনফাল:67 – নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ আল্লাহ চান আখেরাত। আর আল্লাহ হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।

□ সূরা আত তাওবাহ:14 – যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন।

□ সূরা আত তাওবাহ:20 – যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে এবং আল্লাহর রাহে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জেহাদ করেছে, তাদের বড় মর্যাদা রয়েছে আল্লাহর কাছে আর তারাই সফলকাম।

□ সূরা আত তাওবাহ:73 – হে নবী, কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করুন এবং মুনাফেকদের সাথে তাদের সাথে কঠোরতা অবলম্বন করুন। তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহল নিকৃষ্ট ঠিকানা।

অর্থাৎ এই আয়াতগুলি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় কোরানে স্পষ্ট ভাবে বিধর্মীদের ঘৃণা ও হত্যার শত শত আয়াত রয়েছে, তাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বিধর্মীদের হত্যা করা ও তাঁদের ঘৃণা করা মুসলমানদের ঈমানের অংশ। তাই যে সব মুসলমানরা শান্তির কথা বলে এবং বিধর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দৃষ্টিতে তাঁরা সাচ্চা মুসলমান নয়! তাই প্রকৃতপক্ষে সাচ্চা মুসলমান হতে গেলে কি হতে হবে নিশ্চয়ই তা বুঝতে পারছেন। তাই তাকিয়াবাজি করলেও বাস্তব সত্য এটাই যে সাচ্চা মুসলমান বলতে বর্তমান দিনের আইএসআই এর মতো জেহাদিদের বোঝায়।

তাই নবী যেমন অবিশ্বাসী হওয়ার কারণে বানুকুরায়জা গোত্রের লোকেদের কল্লা কেটে ছিল, একইভাবে আইএসআইএস শুধুমাত্র অবিশ্বাসী হওয়ার কারণে বিধর্মীদের গলা কাটে, গণিমতের মাল হিসাবে বিধর্মী নারীদের ধর্ষণ করে ও তাঁদের যৌনদাসী বানিয়ে রাখে এবং তাঁদের বিক্রি করে ইহাই প্রকৃত ইসলাম! নারীদের বস্তাবন্দি করে রাখা, তাদের অধিকার হরণ করা, বিধর্মীদের হত্যা করা, বাক স্বাধীনতা হরণ করা এগুলিই ইসলামের মূল বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের মানুষের ভাগ্য ভালো যে বর্তমানে আর সাচ্চা মুসলমান বলতে বিশেষ কাউকে পাওয়া যায় না, সাচ্চা মুসলমান বলতে আইএসআইএস এর সদস্যদের পাওয়া যায় যাদের সাধারণ মানুষ জঙ্গি হিসাবে ভাবে, এটাই সবচেয়ে আশার কথা! সমস্যা হল বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলমান শুনেই মুসলমান তাই তাঁরা কোরান, হাদিস, সিরা না পড়েই মুসলমান! অনেকেই আবার জেহাদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল! এটা সত্য পৃথিবীর সব মুসলমান জঙ্গি নয় কিন্তু একই সঙ্গে এটাও অপ্রিয় সত্য যে পৃথিবীর বেশিরভাগ জঙ্গিই মুসলমান!

একদিক থেকে দেখতে গেলে জঙ্গিদের ও দোষ নেই কারণ মহম্মদ প্রবর্তিত ইসলাম তাঁদের যা শিখিয়েছে তাই তাঁরা পালন করে বরং মডারেট মুসলমানরা সমাজের পক্ষে বেশি ভয়ংকর এরা একদিকে বলে ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই অন্যদিকে এরা মনে মনে জঙ্গিদের প্রতি সহানুভূতিশীল! আসলে বিশ্বের প্রায় 160 কোটি মুসলমান মহম্মদের ঘৃণিত ধর্ম ইসলামের শিকার তাই এই অবস্থার পরিবর্তন করতে গেলে ব্যাপক মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটাতে হবে তবেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আসলে ইসলাম এক মানসিক রোগের সমতুল্য অন্যদিকে মুসলমানরা এই মানসিক রোগে আক্রান্ত! তাই আমরা ইসলামের মতো জঘন্য রোগকে ঘৃণা করি ও এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু রোগী অর্থাৎ মুসলমানদের ঘৃণা করি না, এটাই আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত! জানি এটা খুবই কঠিন কাজ কিন্তু এটাই উত্তরণের উত্তম পথ তাই সকল মানবিক মানুষকে একসঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করা উচিত।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন মুসলমান দেশগুলি ও মুসলমান নেতারা ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করে যাচ্ছে। তাবে একটি কথা উল্লেখ্য মুসলমানদের একতরফা এই ঘৃণা কিন্তু পৃথিবী ভালো চোখে দেখছে না তাই আগামী দিনে এর ফল বিশ্বের মুসলমানদের ভোগ করতে হবে। নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুসারে, ‘প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীতমুখি প্রতিক্রিয়া রয়েছে’। তাই মুসলমানরা বিশ্বব্যাপী যে কর্মকান্ড করে বেড়াচ্ছে তাঁর প্রতিক্রিয়া খুব দ্রুতই দেখা যাচ্ছে। একদিকে ফ্রান্স সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষিণপন্থার দ্রুত উত্থান ঘটছে অন্যদিকে মানুষের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই আগামী দিনে ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলামে জেহাদের কথা বলা নেই এসব তাকিয়াবাজি করে সত্য অস্বীকার করা যাবে না।

অনেক মডারেট মুসলমানরাই বিভিন্ন মোড়কে ইসলামকে তুলে ধরার চেষ্টা করে, দেখাতে চেষ্টা করে ইসলাম কত মহান, কত ভালো যেমন- পাকিস্তানের লেখক ‘তারেক ফতের’ মতো লোক এক অদ্ভুত কথা বলেন “আল্লাকা ইসলাম অর মুল্লাকা ইসলাম।” অর্থাৎ তিনি বলতে চান আল্লাহর ইসলাম খুব সুন্দর শান্তির ইসলাম কিন্তু মোল্লার ইসলাম জঘন্য, সাম্প্রদায়িক ইত্যাদি ইত্যাদি। বস্তুত এর চেয়ে বড় মিথ্যা কথা ও তাকিয়াবাজি আর নেই বরং প্রকৃত সত্য হল মোল্লারা ও আল্লাহর ইসলামি ভাইরাসে আক্রান্ত! তাই সব বিষয়ে মোল্লাদের দোষ না দিয়ে এইসব বিষয়ের জন্য ইসলামই যে প্রকৃত দোষী সেটা স্বীকার করুন! অনেকে আবার বলেন ইসলাম এসব শেখায় না এটা ধর্মের দোষ নয় এটা ব্যাক্তির দোষ এটা ও এক অন্য ধরণের কুযুক্তি! ওই জঙ্গিরা কিসের জন্য বিধর্মীদের হত্যা করতে বা নিজের জীবন দিতে রাজি হয় বা অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদীরা কিসের জন্য গো মাতাকে রক্ষা করতে গিয়ে মানুষ হত্যা করে? বস্তুত যদি ধর্ম না থাকত তাহলে এইসব জঙ্গিরা বিধর্মীদের হত্যা করতে যেত কি বা গরুকে রক্ষা করতে গিয়ে মানুষকে হত্যা করতে যেত কি? তাই এই ধর্মান্ধতা ও অন্ধত্বের জন্য ব্যাক্তি দায়ী না ধর্ম দায়ী?

তাই মডারেট মুসলমানরা যতই দাবি করুক না কেন ইসলাম শান্তির ধর্ম, প্রকৃতপক্ষে ইসলাম কথার অর্থ হল ‘আত্মসমর্পণ’। যে ইসলাম নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চাই, সেই ইসলামে কোন প্রকার প্রশ্ন বা আত্মসমালোচনার জায়গা নেই। তাই মুমিন মুসলমানদের পক্ষে চরম নারী বিরোধী, বিধর্মীদের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল, বাক স্বাধীনতা বিরোধী এই ধর্মের কোন প্রকার সমালোচনা করা সম্ভব নয়! বস্তুত মডারেট মুসলমানরা যাই বলুক না কেন প্রকৃত সত্য হল কোরানে বর্ণিত ইসলামের বাইরে ইসলামের কোন অস্তিত্ব নেই আর মুহাম্মদ প্রবর্তিত কোরানের ইসলাম কতটা ভয়ংকর তা আগেই আলোচনা করা হয়েছে!

তাই তো আমরা দেখি 57 টি মুসলমান দেশে কোথাও শান্তি নেই পৃথিবীর 160 কোটি মুসলমান পৃথিবীর সবচেয়ে মূর্খ, ধর্মান্ধ ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়। যদিও কিছু মুমিন ভাইয়েরা গর্ব করে বলেন ইসলাম পৃথিবীর সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু ধর্ম। আরে ভাই যখন অশিক্ষা ও কুশিক্ষার জন্য প্রতিবছর দ্রুত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয় তখন জনসংখ্যা বৃদ্ধি স্বাভাবিক এতে গর্বের কি রয়েছে? মুমিন ভাইয়েদের প্রতি প্রশ্ন একটি মানুষের একটা সন্তানকে ভালো করে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করা ভালো না পাঁচ সাতটি সন্তানের কাউকেই ভালো করে শিক্ষিত না করে মূর্খ ও ধর্মান্ধ করে ভিক্ষুক ও শ্রমিক বানিয়ে রাখা ভালো? তাই পৃথিবীর অন্যন্য ধর্মের মানুষরা যখন তাঁদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তুলছে তখন ইসলামি সমাজ সুশিক্ষার দিকে গুরুত্ব না দিয়ে মনে করে ‘আল্লাহর সন্তান, আল্লাহ রিজিকের মালিক, তাই আল্লাহ দিচ্ছে মুই লিচ্চি’। বস্তুত এই অশিক্ষা ও ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় কুশিক্ষার কারণেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা পিছিয়ে রয়েছে!

তাই কথায় কথায় নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইহুদিদের দোষ দিলেও মুসলমানরা এগোতে পারছে না কেন? মুসলমানরা এগোতে পারছে না তাঁর প্রধান কারণ হল তাঁরা সত্যকে অস্বীকার করে। তাই যতদিন না মুসলমানরা হিন্দু, বৌদ্ধ, ইহুদি, খ্রিস্টান প্রভৃতি ধর্মের মানুষকে গালি না দিয়ে, তাঁদের দোষরোপ না করে নিজেদের আত্মসমালোচনা করছে ততদিন এই জাতির মুক্তির পথ নেই। যে মুসলমানরা জনসংখ্যার জন্য এত গর্ব করে তাঁদের কাছে প্রশ্ন 160 কোটি মুসলমান কয়টি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে আর 1 কোটি ইহুদি কটি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে বলুন? এথেকেই বোঝা যায় মুসলমানরা কতটা পিছিয়ে। বস্তুত পৃথিবীর গরীব ও পিছিয়ে পড়া আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলিই মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অপর দিকে পৃথিবীর শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক দেশগুলি সব ইউরোপ ও আমেরিকায় অবস্থিত। সংখ্যায় যদি মূল বিষয় হত তাহলে জনসংখ্যায় ফ্রান্সের চেয়ে পাকিস্তান অনেক বেশি জনসংখ্যার দেশ হলেও ফ্রান্সের চেয়ে পাকিস্তান পিছিয়ে কেন? তাই প্রশ্ন হল জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ না মানব সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ?

তাই মুসলমানদের ভাবার সময় এসেছে পৃথিবীতে হিন্দু বৌদ্ধ, বৌদ্ধ খ্রিস্টান, খ্রিস্টান ইহুদি কোথাও কোন সমস্যা নেই যেখানেই মুসলমান সেখানেই সমস্যা কেন? ইসলামোফোবিয়া এইসব বলে তাকিয়াবাজি করে এই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃত সত্য হল এই ধর্মে বিধর্মীদের প্রতি এত বেশি ঘৃণা ও বিদ্বেষ রয়েছে যে এরফলে বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা সমস্যায় পড়ছে। তাই অন্যকে দোষরোপ না করে নিজেদের আত্মসমালোচনা করুন ও এই জঘন্য ধর্মকে বাতিল করুন তাহলেই প্রকৃত মুক্তির পথ সম্ভব।

আর মুসলমানদের বুঝতে হবে তাঁরা যেমন কর্মটি করবে পৃথিবী তেমন কর্মই ফিরিয়ে দেবে তাই পৃথিবী এখন মুসলমানদের সন্দেহের চোখে দেখছে। আর কিছুই না ভেবে শুধু অনুভূতির কথা বলে ফ্রান্সকে বয়কটের ডাক দিলেই হবে না, যদি প্রকৃতপক্ষে ঈমানের এতই জোর থাকে তাহলে ফ্রান্সের ফিসা বাতিল করে নিজের দেশে ফিরে এসো, সেটা কজন মুমিন মুসলমান করেছে? এত যে ইসলামি উম্মাহর কথা বলা হয় সৌদি আরবে কি এরা কোন দিন নাগরিকত্ব পাবে? সৌদিরা এই উম্মাহর অন্যান্য দেশের মানুষকে কেন মিসকিন বলে ডাকে? তাহলে ইসলামি দেশ বেশি মানবিক না তথাকথিত বিধর্মী, কাফেরদের দেশ বেশি মানবিক?

বস্তুত মুসলমানদের এরূপ কর্মকান্ডের ফলে বিশ্বব্যাপী এক তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। আসলে ইসলাম সম্পর্কে আগে মানুষ সচেতন ছিল না তাই ইসলামশান্তির ধর্ম ইত্যাদি বলে মুসলমানরা যুগ যুগ ধরে মানুষকে বোকা বানালেও প্রথম ইসলাম সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয় যখন আমেরিকায় 9/11 ঘটনা ঘটে এরপর বিশ্বব্যাপী ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। তাই আগে তাকিয়াবাজি করে পার পাওয়া গেলেও এখন আর তা সম্ভব নয় বস্তুত সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখন ইসলামের সব গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে ফলে পৃথিবীর সমস্ত ধর্মের মানুষই ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারছে তাঁরা ও কোরান, হাদিস ও নবী জীবনি পড়ে জানতে পারছে ইসলাম ও নবীর প্রকৃত শিক্ষা কি? অন্যদিকে মুসলমান জঙ্গিবাদ ও ফ্রান্সের ঘটনায় বিশ্বব্যাপী ইসলামি দেশগুলির প্রতিক্রিয়া ও তাঁর নেতাদের বক্তব্য ইসলামকে উলঙ্গ করে দিয়েছে তাই এখান থেকে প্রত্যাবর্তনের আর কোন সুযোগ নেই। বস্তুত ইসলাম যে বিশ্বকে মুসলমান ও অমুসলমান এই দুই ভাগে বিভক্ত করে তা এখন জলের মতো পরিষ্কার!

তাই ইসলামি দেশগুলির এরূপ কর্মকান্ডের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দক্ষিণপন্থার উত্থান হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ঘৃণা থেকে ঘৃণার সৃষ্টি হয় তাই মুসলমানদের ঘৃণার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে তাই এই সম্পর্কে সচেতন মুসলমানদের কথা বলা উচিত না হলে পৃথিবী ও আপনাদের জঙ্গি হিসাবে দেখবে। পৃথিবী যদি আপনাদের জঙ্গি হিসাবে দেখে তাহলে তাঁদের দোষ দেওয়া যাবে কি?

ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্র প্রকৃতপক্ষে মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মার্কেল পৃথিবীর বামপন্থী মতাদর্শের সবচেয়ে বড় মুখ। যখন আইএসআইএস এর তান্ডবে সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, ইরাক প্রভৃতি দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান শরণার্থী হিসাবে ইউরোপে আসে তখন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ও ম্যাক্রর মতো মানুষরাই এই লক্ষ লক্ষ অভিবাসীদের ইউরোপে থাকার জায়গা দেয়, বলে রাখা ভালো এই অভিবাসী সমস্যা নিয়েই ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ও ব্রেক্সিট সম্পন্ন করে। তাই যে ম্যাক্র ও মার্কেল লক্ষ লক্ষ অভিবাসী মুসলমানদের ইউরোপে থাকার অধিকার দিল, বাঁচার অধিকার দিল, স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠার সুযোগ দিল তাঁর পরিণতি হিসাবে এই মুসলমান অভিবাসীরা তাঁদের কি দিল? এইসব দেশে রেপ, খুন, ধর্ষণ এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলির শাসনব্যবস্থা না মেনে শরিয়তি বিধান চাওয়া এগুলিই কি তাঁর যথার্থ প্রতিদান?

বস্তুত এইসমস্ত কর্মকান্ডের ফলে ফ্রান্সে ম্যাক্র ও জার্মানিতে মার্কেলের মতো মানবতাবাদী রাজনীতিবিদদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে এবং চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থান ত্বরান্বিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্রান্সের বিরোধী দলনেত্রী মারিন ল পেন এর মতো নেত্রী বলতে শুরু করেছে ইউরোপ থেকে সমস্ত অভিবাসী মুসলমানদের বের করে দেওয়া হোক। বলাইবাহুল্য আগামী দিনে এই নেত্রীর ক্ষমতায় আসার সম্ভবনা প্রবল তাহলে প্রশ্ন হল মারিন ল পেনের মতো নেত্রী যদি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তাহলে তা কি মুসলমান অভিবাসীদের পক্ষে তা ভালো হবে?

অন্যদিকে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র জার্মানির সর্বেসর্বা বাম মনোভাবাপন্ন অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সে দেশের দক্ষিণপন্থীদের বিরোধ অগ্রাহ্য করে মানবতার ভিত্তিতে ইউরোপে অভিবাসী মুসলমানদের জায়গা দেয় কিন্তু তাঁর পরিণতি কি হল? জার্মানি আজ শত সমস্যায় জর্জরিত এক দেশে পরিণত হয়েছে, যাঁর ফলে আমরা দেখি গত কয়েক নির্বাচনে অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের দলের ভোট ক্রমাগত কমে যাচ্ছে তাই আগামী দিনে খুব সম্ভবত রয়েছে অ্যাঞ্জেলা মার্কেল আর ভোটে দাঁড়াবেন না এবং তাঁর দল নির্বাচনে পরাজিত হবে এবং তাঁর বিপরীতে উত্থান হবে চরম দক্ষিণপন্থীদের। প্রশ্ন হল এদের উত্থানে মুসলমান অভিবাসীদের কি মঙ্গল হবে? প্রকৃতপক্ষে ইউরোপের প্রতিটি দেশেই কম বেশি একই রকম অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তাই বর্তমানে পৃথিবীতে দক্ষিণ পন্থীদের রকমরমা, আমেরিকায় ট্রাম্প, ব্রিটেনে বরিস জনসন, ব্রাজিলে বলসানারো, ভারতে মোদী সকলেই দক্ষিণ পন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তাহলে প্রশ্ন হল এর ফল কি মুসলমানদের পক্ষে ভালো হবে?

আর শুধু দক্ষিণ পন্থীদের দোষ দিয়ে লাভ নেই একদিকে ইসলামি মৌলবাদের বিস্তার অন্যদিকে বামপন্থীদের চরম ব্যর্থতার ফলেই পৃথিবীব্যাপী বামপন্থা শেষ হয়ে যেতে বসেছে। বস্তুত তাঁর চরম নিদর্শন হল বর্তমান সময়ে বাম মতাদর্শের সবচেয়ে বড় নেতা কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো তিনি তাঁর এক মন্তব্যে বলেন ” তিনি বাক স্বাধীনতার পক্ষে তবে তাঁর একটা সীমা থাকা উচিত যাতে অন্য ধর্মের মানুষের অনুভূতিকে আঘাত না করে এবং এতে দেশে কোন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট না হয়!”

প্রশ্ন হল অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া বলতে কি বোঝেন? পৃথিবীতে কোন প্রচলিত মতাদর্শের বিরুদ্ধে কথা বললেই ধর্মান্ধদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে। গ্যালিলিও যখন বলেছিল পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে তখন কি তা খ্রিস্টানদের অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি? রাজা রামমোহন রায় যখন সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন ও বিদ্যাসাগর যখন বিধবা বিবাহ প্রচলন করেন তখন কি হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি? অনুভূতিতে আঘাতের ভয়ে খ্রিস্টান ও হিন্দু সমাজ যদি চুপ করে থাকত তাহলে কি এই সব সমাজের সংস্কার সম্ভব হত?

তাহলে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের ধার্মিকদের অনুভূতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে যখন মানব সভ্যতা এগিয়ে যেতে পারে তখন মুসলমানদের অনুভূতির বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে না কেন? মুসলমানদের অনুভূতির বিরুদ্ধে দাঁড়ালেই কেন শুনতে হয় ইহুদি, নাসারদের দালাল, ইসলাম বিদ্বেষী ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে বাক স্বাধীনতা কাদের প্রয়োজন? যদি কেউ ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা বলে ও ধর্মের পক্ষে কথা বলে তাহলে তাঁদের বাক স্বাধীনতার কি প্রয়োজন রয়েছে? কারণ এমনিতেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের সমর্থক। তাই প্রকৃতপক্ষে বাক স্বাধীনতা তাঁদেরই প্রয়োজন যাঁরা ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে, যাঁরা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেন, যাদের কথা শুনলে অনুভূতিতে আঘাত লাগে তাঁদেরই তো প্রকৃতপক্ষে বাক স্বাধীনতা প্রয়োজন!

মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগলেই সে নতুন করে চিন্তা করতে শেখে এবং সমাজ এভাবেই পরিবর্তন হয়, ইতিহাস আমাদের এটাই শিক্ষা দেয়। তাই প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাক স্বাধীনতার পক্ষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্র যেভাবে দাড়িয়েছে তাঁর জন্য তিনি প্রশংসার পাত্র অন্যদিকে কানাডার প্রেসিডেন্ট জাস্টিন ট্রুডো যেভাবে বাম রাজনীতির বেশে ধর্মানুভূতির কথা বলে বাক স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন তা রীতিমতো ভয়াবহ ও বিপদজনক! কারণ মুক্তচিন্তকরা যদি মাঠ ছেড়ে দেয় তাহলে এই সমস্ত ধর্মান্ধ, মৌলবাদী ও কট্টরপন্থীদের রোখার কেউ থাকবে না! তাই জাস্টিন ট্রুডোর এই মন্তব্যের জন্য তীব্র ধিক্কার জানাই!

বস্তুত বিশ্বব্যাপী বামপন্থীদের এই একপেশা মুসলিম তোষণের রাজনীতির ফলেই বামপন্থা আজ এত দুর্বল, এত অপ্রাসঙ্গিক! বামপন্থীদের ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়ার ফলেই বিশ্বব্যাপী দক্ষিণপন্থার এই প্রসার। ভারতে ও দেখা যায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি হিন্দুত্ববাদের বিরুদ্ধে কট্টর সমালোচক করে যা যথার্থ কিন্তু এরাই আবার ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে একটি ও কথা বলে না। তাই বামপন্থী ও তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ দলগুলির এই সুবিধাবাদী অবস্থানের কারণেই বিজেপির মতো দক্ষিণপন্থী দলের উত্থান। মনে রাখতে হবে এই বিজেপির মতো দলই ভারতে তিন তালাকের মতো জঘন্য প্রথা তুলে দেয় অন্যদিকে ভন্ড সেকুলার দলগুলি মুসলিম মৌলবাদীদের তোষণ করে মুসলমান সমাজকে আরও পিছিয়ে দেওয়ার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। বিজেপির প্রতি অনুরোধ তাঁরা যেন দেশ ও সমাজের কল্যাণে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ প্রণয়ন করে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিই কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তাই অপ্রিয় হলেও সত্য বর্তমান বিশ্বে বাম চিন্তা চেতনা পিছিয়ে পড়েছ অন্যদিকে দক্ষিণপন্থার প্রসার ঘটছে, যা আগামী দিনে আরও ত্বরান্বিত হবে বলেই মনে হয়।

মুসলমানদের আর এক স্ববিরোধিতা দেখুন যে ইমরান খান, ওরদোগান, মাহাথি মহম্মদ ফ্রান্সে মহম্মদের কার্টুন প্রদর্শন ফলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এত ঘৃণা, এত বিদ্বেষ পোষণ করছে। চীনে ও একই ভাবে সরকারি টেলিভিশনে মহম্মদের ছবি প্রদর্শন হয়, এই চীনেই লক্ষ লক্ষ উইঘুরু মুসলমানদের কনসেনেট্রশন ক্যাম্পে রাখা হয়, এই চীনেই মসজিদ ভেঙ্গে টয়লেট বানানো হয়। পৃথিবীর কোন মুসলমান দেশ, মুসলমান দেশের সংগঠন ওআইসির কি সাহস আছে চীনের বিরুদ্ধে টু শব্দ টি করার?

তাই নবীর কার্টুন প্রদর্শনের জন্য ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন করা যায়, জঙ্গি হামলা করা যায় কিন্তু একই কাজ করার জন্য বরং বলা ভালো মুসলমানদের বিরুদ্ধে সত্যিই অবর্ণনীয় অত্যাচার চালানো চীনের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী কোন মুসলমানদের আন্দোলন হয় না কেন? কেন তৌহিদি জনতা চীনের বিরুদ্ধে ঢাকা, ইসলামাবাদ, জেড্ডার রাস্তায় নামে না? কেন আইএসের মতো জঙ্গি সংগঠন চীন আক্রমণ করে না? ম্যাক্রোর বিরুদ্ধে মুসলমানদের যে অনুভূতি শি জিন পিং এর বিরুদ্ধে একই অনুভূতি নেই কেন? মুসলমানরা আল্লাহকে ভয় করে না চীনকে ভয় করে কেন?

তাই ইসলামি উম্মাহর খলিফা হওয়ার স্বপ্ন দেখা এরদোগান ও তাঁর সাগরেদ ইমরান খান চীনের বিরুদ্ধে টু শব্দটি ও করে না কেন? মুসলিম উম্মাহর দেশগুলি চীনের বিরুদ্ধে কিছু বলে দেখাক, দেখা যাক তাদের কত ক্ষমতা? প্রকৃতপক্ষে এথেকেই বোঝা যায় মুসলমানরা শক্তের ভক্ত ও নরমের জম! তাই যে ফ্রান্স মুসলমানদের বাক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দিল সেই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা গেলেও চীনের বিরুদ্ধে টু শব্দটি করে না!

পরিশেষে এটাই বলা যায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের এটা চিন্তা করতে হবে আগামী দিনে তাঁরা কিভাবে চলবে এবং যুক্তিবাদী হতে হবে। বুঝতে হবে 1400 বছর পুরানো পৃথিবী এখন আর নেই এবং 1400 বছর পুরানো ধ্যানধারণায় পৃথিবী চলে না। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে, না হলে আগামী দিনে সমূহ বিপদ! পৃথিবীব্যাপী যেভাবে দক্ষিণপন্থার উত্থান ঘটেছ আগামী দিনে মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতিশীল মানুষ আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই আগামী দিনে মুসলমানদের পক্ষে কোন সমাজ, কোন দেশ দাঁড়াবে বলে মনে হয় না!

ইসলামোফোবিয়া ভঙ্গা ক্যাসেট বাজিয়ে সত্য চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রতি ভীতি বাড়বে বই কমবে না, বলাইবাহুল্য উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় এই ইসলাম ভীতির যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে! প্রকৃতপক্ষে বলা যায় ইসলাম যে ঘৃণার শিক্ষা দেয় এটি তাঁর প্রতিক্রিয়া। তাই মুসলমানদের পরিবর্তন হতে হবে আর না হলে বিশ্বের এই প্রতিক্রিয়া সহ্য করার জন্য তৈরি থাকতে হবে! বলাইবাহুল্য প্রতিটি অন্যায় অবিচার অন্ধত্বের শেষ আছে, তাই বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রতি এই সচেতনতা ইসলামের শেষের শুরু বলে মনে হয়। আশার কথা হল ইন্টারনেটের কল্যাণে বর্তমানে আর ইসলামপন্থীরা এক তরফা তাঁদের মতাদর্শ প্রকাশ করতে পারছে না বরং লক্ষ লক্ষ মুক্তচিন্তকরা ও এর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে। আর আমাদের এই কথা বলার সুযোগই ইসলামের মতো এক বর্বর ধর্মকে ‘তাসের ঘরের’ মতো ভেঙ্গে ফেলছে!

তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের কাছে অনুরোধ আসুন আমাদের মুক্তচিন্তার এই সংগ্রামের পাশে থাকুন এভাবেই এই জঘন্য মতাদর্শকে পরাজিত করা সম্ভব। ইতিহাস সাক্ষী ‘তলোয়ারের চেয়ে কলমের কালি অনেক বেশি শক্তিশালী’! তাই আগামী দিনে এটাই বলা যায় এত অন্ধত্ব, এত ঘৃণা, এত বিদ্বেষের শেষ হবে যা শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র! মুক্তচিন্তার প্রসারে আমাদের এই লড়াই চলিয়ে যেতে হবে। কবির ভাষায় বলতে হয়- “যতদিন দেশে আছে প্রাণ, সরাব এই পৃথিবীর জঞ্জাল”! আশাবাদী একদিন আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত মানবিক পৃথিবী আগামীর জন্য রেখে যেতে পারব!

তথ্যসূত্র:-

1) ABC News.

https://www.abc.net.au/news/2020-10-29/france-nice-knife-attack-three-dead-several-injured/12828942

2) Dawn.

https://www.dawn.com/news/1587638/malaysias-mahathir-says-muslims-have-right-to-kill-millions-of-french-people-if-eye-for-eye-logic-is-applied

3) MSN News.

https://www.msn.com/en-ca/news/canada/free-speech-has-limits-canadas-trudeau-says/ar-BB1ayic0?ocid=st2

4) The Guardian.

https://www.theguardian.com/world/2020/oct/16/french-police-shoot-man-dead-after-knife-attack-near-paris-school?fbclid=IwAR1PsuAAh6CfNjhaSiLbXRxiX7SZgODYq_8A6WTpa_NTV_i6D6FcAH1NDos

5) India Tv.

https://www.google.co.in/amp/s/www.indiatvnews.com/amp/news/world/zakir-naik-islamophobia-france-president-emmanuel-macron-nice-church-attack-661122?espv=1

6) Huffingtonpost.

https://www.google.co.in/amp/s/m.huffingtonpost.in/amp/2017/03/27/tamil-nadu-youth-hacked-to-death-for-being-atheist-his-father-s_a_22013060/?espv=1

7) Republic.

https://www.republicworld.com/world-news/middle-east/saudi-arabia-backs-france-and-condemns-terror-attack-in-nice-even-as-turkey-pakistan-oppose.html?fbclid=IwAR3mFQAmG75pVwTo29cVuFxIsKDGx_75yKwERxrQguxd6kuyI2coqN2Xjxc

8) Opindia.

https://www.opindia.com/2020/10/prophet-muhammad-viral-video-chinese-channel-cctv/amp/

https://www.opindia.com/2020/10/poet-munawwar-rana-supports-the-beheading-of-french-teacher-blasphemy/amp/

9) Daily mail.

https://www.dailymail.co.uk/news/article-8896287/Boy-16-shot-dead-cops-knife-attack-police-officer-Russia.html?fbclid=IwAR24SR21Kmk7NPAA-hSMpM9AWtON9gg-r7ltz4fJdHX3oTO5AJXdOOjz8UQ

10) BBC Bangla.

https://bbc.in/3oGLfTu

11) The News Bangla.

পা’কিস্তানের বন্ধু চিনের টিভিতে দেখানো হল ম’হম্মদের ছবি, বয়কটের ডাক মু’সলিম সমাজের

12) Deshrupantor.

https://www.deshrupantor.com/international/2020/10/31/255409?fbclid=IwAR3-IF8vrIBafQ1YSZGk7tsPRMXywnqrAjLFrlqqkPHk4z-urGHMLYmovxE

13). Abp News.

https://bengali.abplive.com/news/prophet-cartoons-could-shock-muslims-but-violence-can-never-be-justified-french-president-macron-754306

14).Somoyekhon.

সৌদি আরবে তুর্কি পণ্য বর্জন চলছেই, ফ্রান্সের প্রতি সহমর্মিতা

15) Aljazeera.

https://www.aljazeera.com/economy/2020/10/26/turkeys-lira-hits-another-record-low-as-rift-with-france-deepens

16) Dw.

https://m.dw.com/bn/%E0%A6%98%E0%A7%83%E0%A6%A3%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A7%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE/a-55448035?fbclid=IwAR2woR6Rx9d_2PVg6pYX06wDA5hETNIHuCqb2xiX4QwUipZECDJ-1uQg1Xs

17) Somay News.

https://m.somoynews.tv/pages/details/198138

18) Zee News.

https://zeenews.india.com/bengali/world/aspi-report-says-china-demolished-thousands-of-mosques-in-xinjiang_340772.html

19) গিয়াসউদ্দিন দার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও তাঁর মূল্যবান লেখা।

https://giasuddinonline.blogspot.com/2020/10/blog-post_26.html?m=1

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

47 − 40 =