২১৬-হুনায়েনের গণিমত-১: বন্দীদের ফেরত দান – কারণ?

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর হুনায়েন আগ্রাসনের সফলতা ও আল-তায়েফ আগ্রাসনের ব্যর্থতার পর মক্কায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হোন ও মক্কা থেকে দশ মাইল দূরবর্তী ‘আল-জিররানা’ নামক স্থানে এসে যাত্রা বিরতি দেন। কারণ, অতর্কিত আক্রমণে হুনায়েনে সমবেত হাওয়াজিনদের পরাস্ত করার পর (পর্ব: ২১১) মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা যে বিশাল “লুটের মাল (গনিমত)” হস্তগত করেছিলেন, মুহাম্মদের নির্দেশে সেগুলো নিয়ে আসা হয়েছিল এই আল-জিররানা নামক স্থানে। ‘হুনায়েন আগ্রাসনে’ মুহাম্মদের লুণ্ঠিত সম্পদের মোট পরিমাণ ঠিক কত ছিল তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে যা বর্ণিত হয়েছে, তা হলো, এই আগ্রাসনে তিনি বন্দী করেছিলেন হাওয়াজিনদের প্রায় ছয় হাজার নারী ও শিশু এবং হস্তগত করেছিলে প্রায় চব্বিশ হাজার উট ও চল্লিশ হাজার ভেড়া বা মেষ।

এই ঘটনার পর হাওয়াজিনবাসী “ইসলামে দীক্ষিত হয়।” অতঃপর তারা তাদের এক প্রতিনিধি দল আল-জিররানায় মুহাম্মদের কাছে পাঠান। এই প্রতিনিধি দল-টি মুহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ও তাঁকে এই অনুরোধ করে যে, যেহেতু তারা এখন ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে তাই মুহাম্মদ যেন তাঁর হাতে বন্দী তাদের নারী ও শিশু ও সমস্ত সম্পদ-গুলো তাদের-কে ফেরত দেন। তাদের এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মুহাম্মদ তাদের কী জবাব দিয়েছিলেন, তা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গ ‘সিরাত’ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ (কবিতা পঙক্তি পরিহার): [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২১৫) পর:

‘আল্লাহর নবী আল-তায়েফ ত্যাগ করেন ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে দাহনার পথ ধরে (আল ওয়াকিদি: ‘ও কারান আল-মানাযিল ও নাখলার পাশ দিয়ে’) আল-জিররানা নামক স্থানে এসে যাত্রা বিরতি দেন; যেখানে বিপুল সংখ্যক হাওয়াজিন লোকদের বন্দী করে রাখা হয়েছিল। থাকিফদের কাছ থেকে ফিরে আসার দিনটি তে তাঁর অনুসারীদের একজন তাঁকে তাদের-কে অভিশাপ দিতে বলে; কিন্তু তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, থাকিফদের তুমি হেদায়েত দান করো ও তাদের-কে তুমি (ইসলামে) দীক্ষিত করো।” [4]

অতঃপর, হাওয়াজিনদের এক প্রতিনিধি দল আল-জিররানায় তাঁর নিকট আসে, যেখানে তিনি বন্দী করে রেখেছিলেন ৬,০০০ নারী ও শিশু এবং ধরে রেখেছিলেন অগণিত মেষ ও উট; যা তাদের কাছ থেকে তিনি লুণ্ঠন করে নিয়ে এসেছিলেন।

আমর বিন শুয়ায়েব <তার পিতা হইতে < তার দাদা আবদুল্লাহ বিন আমর হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যা বলেছে, তা হলো: হাওয়াজিনদের প্রতিনিধি দল-টি তাদের ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহর নবীর কাছে এসেছিল, এই বলে যে তাদের ওপর যে বিপর্যয় ঘটেছে তা সর্বজনবিদিত; তারা তাঁর কাছে এই অনুরোধ করে যে তিনি যেন আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের প্রতি দয়াপরবশ হোন।” [5]

হাওয়াজিনদের বানু সা’দ বিন বকর গোত্রের [আল-তাবারী: ‘আল্লাহর নবীর পালক-মাতা (foster mother) ছিল এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত’] যুহায়ের আবু সুরাদ নামের এক লোক [আল-তাবারী: ‘তিনি ছিলেন হাওয়াজিনদের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও তার সঙ্গে ছিল চৌদ্দ জন লোক’] বলে: [6]

“হে আল্লাহর নবী, বন্দী এই লোকদের মধ্যে আছে আপনার ফুপুরা ও খালারা, ও তারা যারা আপনাকে দুধ পান করিয়েছিল, ও তারা যারা আপনাকে দেখাশোনা করতো। আল-হারিথ বিন আবু শিমর [ঘাসানিদ রাজা, যার কাছে মুহাম্মদ চিঠি লিখেছিলেন (পর্ব: ১৬১)] বা আল-নুমান বিন মুনধির [লাখমিদ রাজ্যের সর্বশেষ রাজা।], যাকে আমরা পালক মাতা-পিতার মত সম্মান করেছি। অতঃপর এই পরিস্থিতির মধ্যে আপনি আমাদের রেখেছেন, আমরা তার প্রতি দয়া ও অনুগ্রহের প্রত্যাশা করি; আপনিই হলেন বিশ্বস্ত লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম।” [7] [8] [9]

আল্লাহর নবী বলেন: “তোমাদের কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয় কোনটি? তোমাদের বংশধর ও স্ত্রী-পরিবার, নাকি তোমাদের গবাদি-পশু?”

তারা জবাবে বলে,

“আপনি কি আমাদের-কে আমাদের গবাদি-পশু ও আমাদের সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে যে কোন একটি পছন্দ করার প্রস্তাব করছেন? না, আমাদের স্ত্রী-পরিবার ও সন্তানদের আপনি ফিরিয়ে দিন; কারণ সেটাই আমরা সবচেয়ে বেশী কামনা করি।”

তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ব্যাপারটি হলো, আমি ও বানু আবদুল-মুত্তালিব গোত্রের কাছে যারা আছে তারা হলো তোমাদের। আমি যখন লোকদের সাথে যোহরের নামাজ আদায় সমাপ্ত করবো, তখন তোমারা উঠে দাঁড়াবে ও বলবে, ‘আমরা আমাদের সন্তান ও স্ত্রী-পরিবারদের বিষয়ে মুসলমানদের সাথে আল্লাহর নবীর সুপারিশের ও আল্লাহর নবীর সাথে মুসলমানদের সুপারিশের অনুরোধ জানাচ্ছি।’ অতঃপর আমি এদের তোমাদের-কে প্রদান করবো ও তোমাদের পক্ষে আমি তাদের কাছে আবেদন করবো।” আল্লাহর নবী যখন যোহর নামাজ সমাপ্ত করেন, তারা তাই করে যা আল্লাহর নবী তাদের-কে করার আদেশ করেছিলেন; আর তিনি তাই বলেন যা তিনি বলার অঙ্গীকার করেছিলেন।

অতঃপর মুহাজিররা বলে যে, যারা তাদের কাছে আছে তারা হলো আল্লাহর নবীর; আনসাররা ও তাই বলে।

কিন্তু, আল-আকরা হাবিস (আল-তামিমি) বলে, “এখন পর্যন্ত আমি ও বানু তামিম গোত্রের বিষয়টি হলো, ‘না’।” ইউয়েনা বিন হিসন তার নিজের (আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদি: ‘ও বানু ফাযারাহ গোত্রের’) পক্ষে বলে, “না।” (আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদি: ‘আব্বাস বিন মিরদাস আল-সুলামি তার নিজের ও বানু সুলায়েম গোত্রের পক্ষে অনুরূপ মন্তব্য করে।) [10]

বানু সুলায়েম গোত্রের লোকেরা বলে, “তেমন-টি নয়, আমাদের কাছে যারা আছে তারা হলো আল্লাহর নবীর।” (আল-তাবারী: ‘সে কারণেই) বানু সুলায়েম গোত্রের লোকদের-কে আব্বাস বলে, “তোমরা আমাকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছো।” [11]

অতঃপর আল্লাহর নবী বলেন,

“যাদের অধিকারে এই বন্দীরা আছে, আমি (আল তাবারী: ‘আমরা’) তাদের-কে তার প্রত্যেক বন্দী বাবদ লুণ্ঠিত সম্পদ থেকে ছয়-টি করে উট প্রদান করবো।”

অতঃপর তাদের নারী ও শিশুদের তাদের লোকজনদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

আবু ওয়াইযা ইয়াযিদ বিন উবায়েদ আল সাইদ আমাকে বলেছেন যে, আল্লাহর নবী আলী কে এক যুবতী নারী (girl) প্রদান করেন, যার নাম ছিল রায়েতা বিনতে হিলাল বিন হাইয়ান (Rayta d.Hilal b. Hayyan) বিন উমায়েরা বিন হিলাল বিন নাসিরা বিন কুসাইয়া বিন নাসর বিন সা’দ বিন বকর। তিনি উসমান-কে প্রদান করেন এক যুবতী নারী, যার নাম ছিল যয়নাব বিনতে হাইয়ান (Zaynab d. Hayyan); আর তিনি উমর-কে প্রদান করেন এক যুবতী নারী, যাকে উমর দান করে তার পুত্র আবদুল্লাহ-কে। [12]

নাফি নামের আবদুল্লাহ বিন উমরের এক আশ্রিত ব্যক্তি < আবদুল্লাহ বিন উমরের [উমর ইবনে খাত্তাবের পুত্র] কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে যা বলেছে, তা হলো:

“আমি তাকে [মহিলা-টি] বানু জুমাহ গোত্রের আমার আন্টি-দের কাছে পাঠিয়ে দেই, যাতে তারা তাকে আমার জন্য প্রস্তুত করে রাখে, যতক্ষনে না আমি মসজিদ-টি প্রদক্ষিন করে তাদের কাছে ফিরে আসি। আমি চাচ্ছিলাম যে, আমি ফিরে এসে তাকে নিয়ে যাবো। আমি যখন তা সমাপ্ত করে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসি, আমি বিস্মিত হয়ে দেখি যে লোকেরা দৌড়াদৌড়ি করছে। আমি যখন তাদের-কে জিজ্ঞাসা করে এর কারণ জানতে চাই, তারা বলে যে আল্লাহর নবী তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের-কে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। তাই আমি তাদের বলি যে, তাদের মহিলা-টি বানু জুমাহ গোত্রের লোকদের কাছে আছে ও তারা সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে যেতে পারে; তারা তাই করে।”

ইউয়েনা বিন হিসন হাওয়াজিনদের এক বৃদ্ধা মহিলা-কে ধরে রেখেছিল ও বলেছিল, “আমি দেখতে পাচ্ছি যে মহিলা-টি হলো এই গোত্রের সামাজিক উচ্চ মর্যাদা সম্পন্না এক ব্যক্তি, অতএব তার মুক্তিপণ বেশী হওয়ারই সম্ভাবনা।” আল্লাহর নবী যখন প্রত্যেক বন্দী কে ছয়-টি উটের দামে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সে তখন তাকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। যুহায়ের আবু সুরাদ তাকে বলেছিল যে সে যেন তাকে ছেড়ে দেয়, এই কারণে যে, তার মুখমণ্ডল-টি ছিল শীতল ও তার স্তনগুলো ছিল সমতল (flat); সে হয়তো গর্ভবতী হতে পারবে না ও তার স্বামী হয়তো তার পরোয়া করবে না; আর সে হয়তো ধনী নয়। তাই যুহায়ের তাকে বলেছিল যে, সে যেন তাকে ছয়-টি উটের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। তাদের দাবী এই যে, ইউয়েনা যখন আল-আকরা বিন হাবিসের সাথে মিলিত হওয়ার পর তার কাছে এই বিষয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করে, তখন সে তাকে বলে:

“আল্লাহর কসম, তুমি তো তাকে তার পূর্ণ কুমারী অবস্থায় ধরে আনো নাই, এমনকি তার হৃষ্টপুষ্ট মধ্যবয়সী বয়সে ও নয়!”

[আল তাবারী: “যুহায়েরের এই মন্তব্যের পর সে তাকে ছয়-টি উটের মূল্যে ফেরত দেয়।” আল ওয়াকিদি (পৃষ্ঠা; ৯৫২-৯৫৪): ‘শুরুতে তার পুত্র তার মুক্তিপণ বাবদ ইউয়েনা-কে একশত উট প্রদানে রাজী হয়, কিন্তু ইউয়েনা আরও অধিক মূল্য দাবী করে ও তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। অতঃপর, ইউয়েনা তার মুক্তিপণ-মূল্য ক্রমান্বয়ে কমাতেই থাকে কিন্তু তার পুত্র তাকে আর কোনরূপ মুক্তিপণ দিতেই রাজী হয় না। অবশেষে, ইউয়েনা তাকে বিনা মুক্তিপণেই ছেড়ে দেয়।’]

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [13]

‘তারা বলেছে: আল্লাহর নবী আল-জিররানায় পৌঁছেন, আর তাদের সাথের বন্দী ও লুণ্ঠন সামগ্রী-গুলোকে দূরে রাখা হয়। বন্দীরা সূর্যের উত্তাপ থেকে ছায়া পাওয়ার নিমিত্তে একটি বেড়া ব্যবহার করেছিল। আল্লাহর নবী বেড়া-টি দেখার পর সেই সম্পর্কে জানতে চান ও তারা বলে, “হে আল্লাহর নবী, হাওয়াজিনের এই বন্দীরা সূর্যের উত্তাপ থেকে সুরক্ষা চেয়েছিল।”

বন্দীদের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার ও উটের সংখ্যা ছিল চব্বিশ হাজার। লুণ্ঠন সামগ্রীর মোট পরিমাণ জানা যায় নাই। তারা বলেছে যে তা কম-বেশি চল্লিশ হাজার। আল্লাহর নবী সেখানে পৌঁছার পর বুসর বিন সুফিয়ান বিন খুযায়ি-কে আদেশ করেন যে সে যেন মক্কায় গিয়ে বন্দীদের পরিধানের জন্য মুয়াক্কাদের পোশাক-পরিচ্ছদ কিনে নিয়ে আসে। তাদের কোন লোক যেন পোশাক পরিধান ছাড়া বাহিরে বের হয়ে না আসে। বুসর পোশাক-গুলো কিনে নিয়ে আসে ও বন্দিদের পরিধান করায়, তাদের সকলকেই।

আল্লাহর নবী যে বন্দীদের-কে বিতরণ করেছিলেন ও অন্য লোকদের দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে আমরা তাঁর সম্মতির আবেদন করি।

সেই নারীদের একজন ছিল আবদ আল-রহমান বিন আউফের কাছে। সে তার সাথে যৌন-সঙ্গম করে, তার সম্পদ হিসাবে।

আল্লাহর নবী তাকে [নারী] হুনায়েনে উপহার হিসাবে প্রদান করেছিলেন। সে আল-জিররানাই তার ঋতুস্রাব হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তা ঠেকিয়ে রেখেছিল; অতঃপর সে তার সাথে যৌন-সঙ্গম করে।

আল্লাহর নবী সাফওয়ান বিন উমাইয়া-কে প্রদান করেন আরেকজন। তিনি আলী ইবনে ইবনে আবু তালিব-কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী, যার নাম ছিল রায়েতা বিনতে হিলাল বিন হাইয়ান বিন উমায়েরা। তিনি উসমান বিন আফফান-কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী, যার নাম ছিল যয়নাব বিনতে হাইয়ান বিন আমর।

উসমান তার সাথে যৌনসঙ্গম করে ও সে [নারী-টি] তাকে ঘৃণা করে। আলী যৌনসঙ্গম করে নাই।

আল্লাহর নবী উমর ইবনে খাত্তাব-কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী, আর উমর তার পুত্র আবদুল্লাহ বিন উমর-কে তা দান করে। ইবনে উমর তাকে [নারীটি-কে] মক্কায় বানু জুমাহ গোত্রের তার এক আন্কেলের কাছে পাঠিয়ে দেয়, যেন সে তার [নারী] উন্নতি সাধন করতে পারে যতক্ষণে না সে মসজিদ-টি প্রদক্ষিণ করার পর তাদের কাছে ফিরে আসে। সে ছিল এক যুবতী দাসী, নিষ্পাপ ও অপূর্ব। —–

আল্লাহর নবী যুবায়ের বিন মুতিম-কে হাওয়াযিন বন্দীদের মধ্য থেকে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী; তাকে গর্ভবতী করা হয় নাই।

আল্লাহর নবী তালহা বিন উবায়েদুল্লাহ-কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী। তালহা তার সাথে যৌন-সঙ্গম করে।

আর তিনি সা’দ বিন আবি ওয়াকাস-কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী।

আল্লাহর নবী আবু ওবায়েদা বিন আল-জাররাহ কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী ও সে তাকে গর্ভবতী করে।

আল্লাহর নবী যুবায়ের বিন আল-আওয়াম কে প্রদান করেন এক যুবতী দাসী। এই সমস্তই ছিল হুনায়েনে।’ —-

সহি বুখারী: ভলুম ৩, বই নম্বর ৩৮, হাদিস নম্বর ৫০৩: [14]

‘মারওয়ান বিন আল-হাকাম ও আল-মিসওয়ার বিন মাখরামা হইতে বর্ণিত: ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর, যখন হাওয়াযিন গোত্রের প্রতিনিধি দল আল্লাহর নবীর কাছে আসে, তিনি উঠে দাঁড়ান। তারা তাদের সম্পদ ও বন্দীদের তাদের-কে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আবেদন করে। আল্লাহর নবী তাদের-কে বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় বক্তব্যটি হলো সেটি, যা সত্য। সুতরাং, তোমাদের সম্পদ কিংবা বন্দীদের যে কোন একটি-কে পুনরুদ্ধার করার উপায় আছে, এই কারণে যে, আমি সেগুলো বিতরণ করতে বিলম্ব করেছি।” বর্ণনাকারী আরও বলেছেন যে, তায়েফ থেকে ফিরে এসে দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে আল্লাহর নবী তাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

যখন তারা বুঝতে পারে যে আল্লাহর নবী তাদের-কে দু’টি জিনিসের মধ্যে কেবল একটি ফেরত দিতে পারেন, তখন তারা বলে, “আমরা আমাদের বন্দীদের বেছে নিয়েছি।” তাই আল্লাহর নবী মুসলমানদের এক সমাবেশে উঠে দাঁড়ান, আল্লাহর প্রশংসা করেন যেমনটি তার প্রাপ্য, অতঃপর বলেন, “তারপর! তোমাদের এই ভাইয়েরা তওবা করে তোমাদের কাছে এসেছে ও তাদের বন্দীদের তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া-কে আমি যথাযথ বিবেচনা করি। সুতরাং, তোমাদের মধ্যে যে কেউ এটিকে অনুগ্রহ হিসাবে পছন্দ করে, সে তা করতে পারে। আর তোমাদের মধ্যে যে কেহ তার প্রাপ্ত হিস্যা-টি ধরে রাখতে চায় ও অতঃপর আমরা তাকে তার মূল্য আল্লাহ প্রদত্ত আমাদের প্রথম লুণ্ঠিত সম্পদ থেকে পরিশোধ করার পর তা করতে চায়, তারা তা করতে পারে।”

লোকেরা জবাবে বলে, “আল্লাহর নবীর সৌজন্যে আমরা আমাদের হিস্যা স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করতে রাজি আছি।” অতঃপর আল্লাহর নবী বলেন, “আমরা জানি না যে তোমাদের মধ্যে কারা রাজি হয়েছে ও কারা তা হয় নাই। ফিরে যাও; তোমাদের যে মতামত তা তোমাদের প্রধানরা আমাদের জানাতে পারে।” তাই, তাদের সকলেই ফিরে যায় ও তাদের প্রধানরা এই বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে। অতঃপর তারা (অর্থাৎ, তাদের প্রধানরা) আল্লাহর নবীর কাছে এসে জানায় যে তারা (অর্থাৎ, জনগণ) আনন্দ ও স্বেচ্ছায় তাদের হিস্যা-টি ছেড়ে দিয়েছে।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো হাওয়াজিনরা নিশ্চিতরূপে জানতেন যে, তাঁদের যে নারী-শিশু-পরিবার পরিজনদের মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা জোরপূর্বক ধরে নিয়ে এসে তাঁদের-কে “দাস ও যৌন-দাসী” রূপে রূপান্তরিত করেছেন ও তাঁদের যে সম্পদ-গুলো তারা লুণ্ঠন করে নিয়ে এসেছেন; তা ফিরে পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো:

“মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে তাঁকে নবী হিসাবে মেনে নেওয়া ও তাঁর ‘ইসলামে’ দীক্ষিত হওয়া!”

তাঁরা তাই করেছিলেন। তথাপি মুহাম্মদের কবল থেকে তাঁরা তাঁদের “সম্পদ” রক্ষা করতে পারেন নাই। তাঁরা রক্ষা করতে পেরেছিলেন “শুধুমাত্র” তাঁদের নারী-শিশু ও পরিবার-পরিজনদের বন্দী দশা থেকে মুক্ত করতে।

এই ঘটনায় আশ্চর্য হওয়ার কোন কারণ নেই! কারণ, খায়বার ও ফাদাক (পর্ব: ১৩০-১৫৩) এবং আল-কাদিদ ও আল-গাবা (খাদিরা) হামলার (পর্ব: ১৭৫-১৭৬) পর হুনায়েনে লুণ্ঠিত “সম্পদ ও দাস ও যৌন-দাসীই” ছিল মুহাম্মদের সর্বশেষ বৃহৎ উপার্জন! মুতা যুদ্ধ (পর্ব: ১৮৪-১৮৬), মক্কা বিজয় (পর্ব: ১৮৭-১৯৭) ও আল-তায়েফ আগ্রাসনে (পর্ব: ২১২-২১৫) মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের জন্য কোন গণিমতের ব্যবস্থা করতে পারেন নাই। এমত অবস্থায় মুহাম্মদ যদি তাঁর হুনায়েন হামলায় অর্জিত সমস্ত সম্পদ “এবং” দাস ও যৌন দাসীদের হাওয়াজিন প্রতিনিধি দলের অনুরোধে তাঁদের-কে ফেরত দেন, তবে তাঁর অনুসারীদের জন্য আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না! মুহাম্মদের বহু অনুসারীই যে “গণিমতের লালসায়” তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন, তা আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি (পর্ব: ২১৪)। এমত পরিস্থিতিতে তাঁর অনুসারীদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার উপায় হলো তাদের জন্য গণিমতের জোগাড় নিশ্চিত করা। সম্পদ, কিংবা দাস-যৌন দাসী! যে কোন একটি! মুহাম্মদ তাইই করেছিলেন। সে কারণেই মুহাম্মদ হাওয়াজিন প্রতিনিধিদের-কে তাঁদের সম্পদ রক্ষা ‘কিংবা’ পরিবার-পরিজনদের বন্দিত্ব মোচন, এই দু’টির যে কোন একটি বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন; যাতে করে তিনি তাঁর অনুসারীদের-কে এই লুণ্ঠিত সম্পদ ‘কিংবা’ দাস ও যৌন-দাসী বিতরণের মাধ্যমে স্বস্তি দিতে পারেন।

আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বিস্তারিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ তাঁর যে সমস্ত অনুসারীদের এ সকল বন্দী নারীদের বিতরণ করেছিলেন, তারা হলেন:

আবদ আল-রহমান বিন আউফ; সাফওয়ান বিন উমাইয়া বিন খালাফ, যার পিতা উমাইয়া বিন খালাফ ও এক ভাই-কে মুহাম্মদ অনুসারীরা বদর যুদ্ধে অমানুষিক নৃসংসতায় হত্যা করেছিল (পর্ব: ৩২); যুবায়ের বিন মুতিম, যিনি ওহুদ যুদ্ধে ওয়াহাশি নামক তার এক দাসের মাধ্যমে মুহাম্মদের চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব-কে হত্যা করেছিল (পর্ব: ৫৪ ও ৬৩); তালহা বিন উবায়েদুল্লাহ, ওহুদ যুদ্ধে যে মুহাম্মদ-কে গর্ত থেকে টেনে তুলেছিল (পর্ব: ৬০); সা’দ বিন আবি ওয়াকাস, ইসলামের ইতিহাসে যে সর্বপ্রথম শারীরিক আঘাতে প্রতিপক্ষের গায়ের রক্ত ঝরিয়েছিল (পর্ব: ৬০); যুবায়ের বিন আল-আওয়াম, খায়বার যুদ্ধে যে সাফিয়ার স্বামী কিনানার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিলেন (পর্ব: ১৪১); ও আবু ওবায়েদা বিন আল-জারারহ। এ ছাড়াও মুহাম্মদ এই হতভাগ্য বন্দী নারীদের বিতরণ করেছিলেন তাঁর দুই নিজ জামাতা আলী ইবনে আবু তালিব ও উসমান ইবনে আফফান ও তাঁর শ্বশুর উমর ইবনে খাত্তাব-কে। আর উমর তার হিস্যার এই যুবতী নারী-টি কে দান করেছিলেন তার নিজেরই পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে উমর-কে।

আর, আদি উৎসে ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, আল-জিররানায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগমনের দশ দিন পর সেখানে হাওয়াজিনদের প্রতিনিধি দল-টি এসেছিল। কিন্তু এই প্রতিনিধি দলের আগমনের ঠিক কতদিন পূর্বে এই সকল বন্দী নারীদের-কে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন, তা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় অনুপস্থিত। যদি আমরা ধরেও নিই যে, ‘আল-জিররানা’ পৌঁছার ঐ দিনটিতেই মুহাম্মদ সেই বন্দী নারীদের তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন, তথাপি আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত অতিরিক্ত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, তিনি তাঁর এই বর্ণনায় নবী মুহাম্মদের যে দশ জন অনুসারীর নাম উল্লেখ করেছেন, তার “পাঁচ জনই (আবদ আল-রহমান বিন আউফ, উসমান বিন আফফান, যুবায়ের বিন মুতিম, তালহা বিন উবায়েদুল্লাহ ও আবু ওবায়েদা বিন আল-জাররাহ)” – অর্থাৎ ৫০শতাংশ অনুসারী – এই মাত্র দশ দিন সময়ের মধ্যেই তাদের হিস্যায় প্রাপ্ত বন্দী নারীদের সাথে তাদের ধর্ষণ-কর্ম সম্পন্ন করেছিলেন! পরবর্তীতে তাঁদের অনেকেই হয়েছিলেন গর্ভবতী।

অর্থাৎ,

“হাওয়াজিনরা তাঁদের স্ত্রী-কন্যা-মা-বোনদের ফিরে পেয়েছিলেন মুহাম্মদ অনুসারীদের দ্বারা তাদের অনেকেরই ধর্ষিতা হওয়ার পর!”

আর মুহাম্মদই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি অবিশ্বাসীদের স্ত্রী-কন্যা-মা-বোনদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে এসে তাঁদের-কে তাঁর একান্ত নিকট আত্মীয় ও অনুসারীদের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে তাঁর অনুসারীদের ‘যৌন লালসা’ চরিতার্থ করার ব্যবস্থা করেছিলেন!

‘একদিকে অবিশ্বাসীদের সম্পদ লুণ্ঠন করে ধনী হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ও তাঁদের নারীদের ধরে নিয়ে এসে ‘যৌন-সুখ’ আহরণের লালসা (‘গণিমত আহরণ’), ও অন্যদিক মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত আক্রমণে তাদের “গণিমতের উপাদান” হতে রক্ষা পাওয়ার প্রচেষ্টায়ই যে অবিশ্বাসীদের “দলে দলে” ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার প্রকৃত কারণ, তা আদি উৎসের সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট।‘

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক অতিরিক্ত বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই:]

The narratives of Al-Waqidi: [13]

They said: The Messenger of God reached al-Ji‛irrāna, and the prisoners and the plunder with them were put away. The prisoners had used a fence to shade them from the sun, and when the Messenger of God saw that fence, he asked about it and they said, “O Messenger of God, these prisoners from the Hawāzin asked for protection from the sun.” The prisoners numbered six thousand and the camels numbered twenty-four thousand. The amount of the plunder was not known. They had said more or less forty thousand. When the Messenger of God arrived he commanded Busr b. Sufyān al-Khuzā‛ī to go to Mecca and purchase material for the prisoners to clothe them with the cloth of Mu‛aqqad. A man among them should not go out except dressed. Busr purchased clothes and dressed the prisoners, all of them.

We asked permission from the Messenger of God about the prisoners he had distributed and given to other men. A woman from them was with ‛Abd al-Raḥmān b. ‛Awf, who had intercourse with her as his property. The Messenger of God had gifted her to him in Ḥunayn. He resisted her at al-Ji‛irrāna until she menstruated; then, he had intercourse with her. The Messenger of God gave Ṣafwān b. Umayya another. He gave ‛Alī b. Abī Ṭālib a slave girl named [Page 944] Rayṭa bt. Hilāl bt. Ḥayyān b. ‛Umayra; he gave ‛Uthmān b. ‛Affān a slave girl named Zaynab b. Ḥayyān b. ‛Amr. ‛Uthmān had intercourse with her and she detested him. ‛Alī did not have intercourse. The Messenger of God gave ‛Umar b. al-Khaṭṭāb a slave girl, and ‛Umar gave her to his son, ‛Abdullah b. ‛Umar. Ibn ‛Umar sent her to his uncle in Mecca of the Banū Jumaḥ to improve her until he circumambulated the house and then came to them. She was a slave girl, pure and admirable. —–

The Messenger of God gave Jubayr b. Muṭ‛ im a slave girl from the prisoners of the Hawāzin, and she was not impregnated. The Messenger of God gave Ṭalḥa b. ‛Ubaydullah a slave girl and Ṭalḥa had intercourse with her. And he gave Sa‛ d b. Abī Waqqāṣ a slave girl. The Messenger of God gave Abū ‛Ubayda b. al-Jarrāḥ a slave girl and he impregnated her. The Messenger of God gave al-Zubayr b. al-Awwām a slave girl. This was all in Ḥunayn’ ——

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা: ৫৯২-৫৯৩
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf
[2] অনুরূপ বর্ণনা- আল-তাবারী: ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা: ২৬-৩০
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ৯৫০-৯৫৪; ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা: ৪৬৫-৪৬৭
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[4] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ১৯৫: “দাহনা (Dahna) স্থানটি হলো আল-তায়েফের একটি জেলা।”
[5] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ১৯৮: “আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস তার পিতার আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন; তিনি আনুমানিক ৬৮৪-৫৮৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।”
[6] Ibid আল-তাবারী: নোট নম্বর ১৯৯
[7] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ২০০: “আল-হারিথ বিন আবু শিমর ছিলেন এক ঘাসামিদ রাজা, আল্লাহর নবী যাকে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। ঘাসানিদরা ছিল বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের অধীন ও তাদের সহায়তাকারী। মুসলমানদের সিরিয়া বিজয়ের পর তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।”
[8] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ২০১: আল-নুমান বিন মুনধির – “তিনি ছিলেন পারস্য সাম্রাজ্যের অধীন লাখমিদ রাজ্যসভার সর্বশেষ রাজা।”
[9] Ibid ইবনে ইশাক: ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৮৪৫; পৃষ্ঠা-৭৮০
[10] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ২০৭: “আল-আকরা বিন হাবিস আল-তামিমি ছিলেন এক বেদুইন প্রধান।”
[11] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ২১০: “আব্বাস বিন মিরদাস আল-সুলামি ছিলেন সুলায়েম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আবস বিন রিফাহ (‘Abs b. Rifi’ah of Sulaym) উপগোত্রের প্রধান। তিনি ছিলেন এক খ্যাতিমান যোদ্ধা ও কবি। তিনি উসমানের উসমানের খেলাফতের সময় (৬৪৪-৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ) মৃত্যুবরণ করেন।”
[12] ‘আবদুল্লাহ বিন উমর ছিলেন দ্বিতীয় খুলাফায়ে রাশেদিন উমর ইবনে খাত্তাবের পুত্র। তিনি ছিলেন মুসলমানদের প্রথম প্রজন্মের এক অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ঘন ঘন হাদিস বর্ণনাকারী মুহাদ্দিসদের একজন। তিনি ৬৯৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।’
[13] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৯৪৩-৯৪৪; ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা: ৪৬২
[14] সহি বুখারী: ভলুম ৩, বই নম্বর ৩৮, হাদিস নম্বর ৫০৩:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-3/Book-38/Hadith-503/

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 + = 86