ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের সৈনিকের ভণ্ডামো

গতকাল একজন বাঙালি মুসলমান ভদ্রলোকের সাথে একটি বারে পরিচয় হয়। বাঙালি যখন নীল পানীয় গ্রহণ করেন, তখন মাতাল হওয়ার জন্যই পান করে থাকেন এবং কোন এক উদ্ভট কারণে উত্তেজিত হয়ে যান।

মাত্র তিন পেগ গেলার সাথে সাথেই তিনি বীরপুরুষে পরিণত হন। তার মস্তিষ্কের ভিতরের কূটবুদ্ধি, হিংসাত্মক মনোভাব ও নারীবিদ্বেষী চিন্তাধারা প্রকাশ হতে থাকে।

ভদ্রলোক বলেন, তিনি ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন করা শুরু করেছেন। তিনি মদ্যপান করতে করতেই বলেন যে, তিনি আর জীবনে কোনদিন ফ্রান্সের কোন পণ্য ব্যবহার করবেন না।
আমি খুব মনোযোগ দিয়ে তার কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করি কিন্তু বুঝতে পারি না। বুঝতে না পারার কারণ হচ্ছে; আমি যখন ভদ্রলোককে বলি, আপনি কিন্তু এখন ফ্রান্সের তৈরি মদ পান করছেন এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
প্রথমে তিনি বললেন, এটা ফ্রান্সের মদ নয়। তারপর বললেন, মদ এমন কোন আহামরি পণ্য নয় যে এটাকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। অর্থাৎ নিজেই ইসলামবিরোধী কাজ করে অন্যকে ইসলামোফোবিক বলা, বর্তমানে এটাই পৃথিবীতে অধিকাংশ মুসলমানদের আস্তিকতা। অতএব, ভদ্রলোকটিযে হিপোক্রিট এতে কোন সন্দেহ নেই।
ভদ্রলোকের বাম হাতের ঘড়িটি দেখে বললাম- এই ব্র্যান্ডের ঘড়ি তো জগতবিখ্যাত ও ব্যয়বহুল। তিনি পাঁচ ইঞ্চি বুক ফুলিয়ে খুব অহংকারের সাথেই বললেন যে, এই ঘড়িটি তিনি ফ্রান্সে ভ্রমণকালে ৪৫০ ইউরো অর্থাৎ দেশী টাকায় ৪৫,০০০ টাকায় কিনেছেন। ফ্রান্সের পণ্য বর্জন আন্দোলনের সৈনিকের ফ্রান্সের পন্যের প্রতি দুর্বলতা দেখে আমি ব্যাপক বিনোদন লাভ করেছি।
ভদ্রলোক বললেন, ফ্রিডম অফ স্পীচ মানে এই না যে, ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করতে হবে। জিসাস ও মাতা মেরীর মতো ফালতু আজগুবি কাহিনীকে ছাগল খ্রিষ্টানেরাই বিশ্বাস করে আর হিন্দুরা তো গরু, ছাগল, মূর্তি সব কিছুকেই দেবতা বানিয়ে দেয়।
আমি ভদ্রলোককে বললাম, আপনি এতক্ষণ যা বললেন তাই ফ্রিডম অফ স্পীচ। আপনি যেমন খ্রিষ্টান ও হিন্দুদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেন, তেমনই অন্য ধর্মের বিশ্বাসীরা বা অবিশ্বাসীরাও ইসলাম নিয়ে একই কথা বলতে পারেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিদ্বেষ, বৈষম্য, পার্থক্য, ঘৃণা, হত্যা, হুমকি, ভীতি প্রদর্শিত হবে ততোক্ষণ পর্যন্ত ফ্রিডম অফ স্পীচের আওতায় পড়বে।
তিনি খুব বিরক্তির সাথে বললেন, আমাদের প্রিয় নবী হয়রত মোহাম্মদ কয়টি বিবাহ করেছেন তা বলা কি বাক স্বাধীনতা?
আমি বললাম, তিনি কয়টি বিবাহ করেছেন তা তো ধর্মগ্রন্থেই লিপিবদ্ধ আছে। যা কোরআন ও হাদিসে লিপিবদ্ধ আছে তা যদি পালন ও বিশ্বাস করা যেতে পারে তাহলে কয়টি বিবাহ করেছেন তা নিয়ে কথা বলা কেনো বাক স্বাধীনতা হবে না?
ভদ্রলোক কিছু বলতে গিয়েও বলেন নি।
তিনি কিছুক্ষণ আশেপাশে থাকা নারীদের ষ্টক করেন আর বলেন এখানকার মেয়েরা সব নষ্ট ও নোংরা। এদের দুই গেপ মদ খাওয়ালেই বিছানায় নেওয়া যায়।
ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কতজনের সাথে করেছেন?
ভদ্রলোক বললেন, আরে না, আমি চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কারো সাথে হয় নি।
এই ভদ্রলোক আপাদমস্তক ভণ্ড অথচ বিশ্বাসী। এবং বর্তমানে অমন বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা সবচে’ বেশি। এদের ন্যূনতম জ্ঞান নেই কিন্তু জ্ঞান বিতরণ ও জাজমেন্ট করতে পিছপা হন না।
ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + = 13