২১৭-হুনায়েনের গণিমত-২: বিশাল লুণ্ঠন ও পক্ষপাতদুষ্ট বণ্টন!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

‘কুরআন’ ও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, হযরত মুহাম্মদ (সা:) তাঁর লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনে ‘আল্লাহর আদেশের (কুরআনের বানী)’ সরাসরি লঙ্ঘন করেছিলেন বহুবার। খায়বার অভিযানের প্রাক্কালে তিনি কীভাবে তাঁর আল্লাহর আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন করেছিলেন, তার আলোচনা ‘সাফিয়ার স্বপ্নদর্শন বিবাহ ও দাসত্বমোচন’ পর্বে (পর্ব: ১৪৩) করা হয়েছে। মুহাম্মদ কী পদ্ধতিতে হুনায়েনে প্রাপ্ত বিশাল অংকের “লুটের মালামালগুলো (গণিমত)” বিতরণ করেছিলেন, তা ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ ‘সিরাত ও হাদিস গ্রন্থে’ বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁদের সেই বর্ণনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, হুনায়েন অভিযানে প্রাপ্ত ‘বিশাল গণিমত’ বণ্টনের প্রাক্কালে মুহাম্মদ তাঁর লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনে আবারও তাঁর আল্লাহর আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন করেছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ (কবিতা পঙক্তি পরিহার) [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২১৬) পর:

‘আল্লাহর নবী হুনায়েনের বন্দীদের তাদের লোকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পর যখন চলে আসেন, লোকেরা তাঁর পিছু পিছু যা বলতে বলতে আসে, তা হলো, “হে আল্লাহর নবী, আমাদের লুণ্ঠিত উট ও গবাদি পশুগুলো আমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিন।”

তারা তাঁকে জোর করে এক গাছের সাথে ঠেসে ধরে ও তাঁর আলখাল্লা-টি তাঁর কাছ থেকে ছিঁড়ে নিয়ে আসে।

তিনি আর্তনাদ করে বলেন, “হে লোকসকল, আমার আলখাল্লা-টি আমাকে ফিরিয়ে দাও; কারণ, আল্লাহর কসম, তোমাদের কাছে (আল-তাবারী: ‘আমার কাছে’) যদি তিহামায় বৃক্ষের পরিমাণ মেষও থাকতো তথাপি আমি তা তোমাদের মধ্যে বণ্টন করে দিতাম; আমার মধ্যে কোন কৃপণতা বা কাপুরুষতা বা মিথ্যা খুঁজে পেতে না।” [9]

অতঃপর তিনি তাঁর উটের কাছে যান ও তার কুঁজ থেকে একটি চুল নিয়ে তা তাঁর আঙ্গুলের মধ্যে চেপে ধরেন, এই বলে, “হে লোকসকল, আমার কাছে তোমাদের লুণ্ঠন-কৃত সম্পদের এক পঞ্চমাংশ ছাড়া এই চুল পরিমাণও অতিরিক্ত নেই ও আমি আমার এই পঞ্চমাংশ তোমাদের কাছে জমা দেবো; সুতরাং কেয়ামতের দিনে তোমাদের বেইজ্জতির কারণ হয় এমন সমস্তই তোমরা জমা দাও।” [ইবনে হিশাম: অন্য এক বর্ণনায়: আল্লাহর নবী যখন তাঁর লোকদের এই আদেশ করেন যে তারা যা কিছু হস্তগত করেছে, তা যেন তারা ফেরত দেয়; যদিও তা এক সুঁই পরিমাণ ও হউক না কেন। আকিল বিন আবু তালিব একটি সূচ ফেরত দেয়, যা সে হস্তগত করেছিল।] [4]

আনসারদের একজন এক দলা উটের চুল নিয়ে আসে, এই বলে, “হে আল্লাহর নবী, আমি আমার আহত উটের আরামে শোবার জন্য এই দলা-টি নিয়েছিলাম।” তিনি জবাবে বলেন, “এর মধ্যে আমার যে হিস্যা-টি আছে, তা তুমি রেখে দিতে পারো!” সে বলে, “ব্যাপার-টি যদি তেমনই রূপ ধারণ করে তবে আমি তা চাই না।” অতঃপর সে তা দূরে ফেলে দেয়। [5]

আল্লাহর নবী ঐ লোকদের উপহার দান করেন যাদের মন তাঁকে জয় করতে হয়েছিল; বিশেষ করে সেনাবাহিনীর প্রধানদের মন জয় করা ও তাদের মাধ্যমে তাদের লোকদের।

তিনি নিম্নলিখিত লোকদের প্রত্যেক-কে ১০০-টি করে উট প্রদান করেছিলেন:

আবু সুফিয়ান বিন হারব, তার পুত্র মুয়াবিয়া (আল-ওয়াকিদি: ও তার নাতি ‘ইয়াযিদ’);
হাকিম বিন হিজাম (আল-ওয়াকিদি: তাকে দেওয়া হয়েছিল ৩০০-টি উট);
আল-হারিথ বিন আল-হারিথ বিন কালাদা – বানু আবদুল দা’র গোত্রের এক ভাই;
আল-হারিথ বিন হিশাম;
সুহায়েল বিন আমর;
হুয়ায়েতিব বিন আবদুল উজ্জা বিন আবু কায়েস;
আল-আলা বিন জারিয়া আল-থাকাফি – বানু যুহরা গোত্রের [মুহাম্মদের মা আমিনার গোত্র] এক মিত্র;
ইউয়েনা বিন হিসন বিন হুদায়েফা বিন বদর;
আল-আকরা বিন হাবিস আল-তামিমি;
মালিক বিন আউফ বিন নাসিরি; ও
সাফওয়ান বিন উমাইয়া।

তিনি নিম্নলিখিত কুরাইশ লোকদের প্রত্যেক-কে ১০০-টির কম উট প্রদান করেছিলেন:

মাখরামা বিন নওফল আল যুহরি;
উমায়ের বিন ওহাব আল-জুমাহি;
হিশাম বিন আমর, বানু আমির বিন লুয়াভি গোত্রের এক ভাই; ও অন্যান্য।

তিনি সায়িদ বিন ইয়ারবু বিন আনকাথা বিন আমির বিন মাখযুম ও আল-সাহমি কে (ইবনে হিশাম: ‘তার নাম ছিল ছিল আ’দি বিন কায়েস’) পঞ্চাশ-টি করে উট প্রদান করেছিলেন। [6]

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) বিস্তারিত ও অতিরিক্ত বর্ণনা: [3]

সে বলেছে: আবদুল্লাহ বিন আমর বিন যুহায়ের আমাকে <আল-মাকবুরি হইতে < আবু হুরায়েরা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলেছে: —-

তারা বলেছে: বেদুইনরা তাঁর পথ আঁকড়ে রাখে ও আল্লাহর নবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে; তারা তাঁর ওপর অধিকতর চাপ সৃষ্টি করে ও তাঁকে এক সামুরা গাছের সাথে জোর করে ঠেসে ধরে ও তার আলখাল্লা-টি তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়; তাতে তাঁকে এক ফালি চাঁদের মত মনে হয়। আল্লাহর নবী উঠে দাঁড়ান ও বলেন, “আমার আল-খাল্লা টি আমাকে দাও! এই গবাদি পশুর সংখ্যা যদি এই গাছগুলির পরিমাণ ও হতো তথাপি আমি তা তোমাদের মধ্যে ভাগ করে দিতাম ও তোমরা দেখতে পেতে যে আমি না কোন কৃপণ, বা কাপুরুষ বা মিথ্যাবাদী।” [9]

অতঃপর, তিনি যখন বণ্টনের জন্য প্রস্তুত হোন, বলেন, “এমন কি তোমাদের সুঁই-সুতা ও জমা দাও। কখনও চুরি করো না। নিশ্চয়ই চুরি করা কলঙ্কজনক ও কেয়ামতের দিন তা জাহান্নাম-আগুন ও অপমান বয়ে আনে!” অতঃপর তিনি এক উটের শরীরের পাশ থেকে একটি পশম তুলে নেন ও বলেন, “আল্লাহর কসম, আল্লাহ তোমাদের-কে যে লুটের মাল প্রদান করেছে তা থেকে এক-পঞ্চমাংশ ছাড়া অতিরিক্ত এই চুল পরিমাণ অংশ ও আমার জন্য অনুমোদিত নয়। আর আমি এই এক-পঞ্চমাংশ তোমাদের কাছে ফেরত দেবো [পৃষ্ঠা ৯৪২-৯৪৩]।”

আল্লাহর নবী আল-জিররানায় ফিরে আসার পর প্রতিনিধি দল-টি তাঁর কাছে আসার পূর্ব পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেন। [অতঃপর] তিনি সম্পদ-গুলো বণ্টন করা শুরু করেন। তিনি জনগণের প্রধানদের মধ্যে তা বিতরণ করেন ও তাদের অন্তর বন্ধুত্ব-সুলভ হয়ে যায় (মুআল্লাফা কুলুবুহুম)। আল্লাহর নবী প্রচুর রৌপ্য-সামগ্রী লুণ্ঠন করেছিলেন; চার হাজার পরিমাণ (মুহাম্মদ ইবনে সা’দ: ‘চার হাজার উকিয়া [৪৭৬ কিলোগ্রাম])’। আল্লাহর নবীর সম্মুখে লুণ্ঠন-সামগ্রী গুলো জড়ো করে রাখা হয়েছিল। [7][8]

আবু সুফিয়ান বিন হারব সেখানে আসে, তার সম্মুখে ছিল রৌপ্য-সামগ্রী।

সে বলে, “হে আল্লাহর নবী, কুরাইশের মধ্যে আপনিই হয়েছেন সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি!”

আল্লাহর নবী মৃদু হাস্য করেন। আবু সুফিয়ান বলে, “হে আল্লাহর নবী, এই সম্পদ থেকে আমাকে কিছু দান করুন!”
আল্লাহর নবী বলেন, “হে বেলাল, আবু সুফিয়ানের জন্য চার ওজন পরিমাণ [রৌপ্য] ও ১০০-টি উট প্রদান করো।”
আবু সুফিয়ান বলে, “আমার বাচ্চা ইয়াযিদ-কে দান করুন!”
আল্লাহর নবী বলেন, “ইয়াযিদ-কে চার ওজন পরিমাণ ও ১০০-টি উট প্রদান করো।”
আবু সুফিয়ান বলে, “হে আল্লাহর নবী, আমার পুত্র মুয়াবিয়া-কে দান করুন!”
তিনি বলেন, “হে বেলাল, তার জন্য চার ওজন পরিমাণ ও একশত উট প্রদান করো।”
আবু সুফিয়ান বলে, “নিশ্চয়ই আপনি উদার। আমার পিতা-মাতা হোক আপনার মুক্তিপণ! প্রকৃতপক্ষেই আমি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি ও যুদ্ধে আপনিই সফলকাম হয়েছেন। অতঃপর, আমি আপনার সাথে শান্তি স্থাপন করেছি ও শান্তি-স্থাপনে আপনি সফলকাম হয়েছেন। আল্লাহ যেন আপনা-কে উত্তম প্রতিদান প্রদান করে!” অতঃপর, আল্লাহর নবী বানু আ’সাদ-কে [সম্পদ] দান করেন।

সে বলেছে: মামর আমাকে <আল-যুহরি হইতে <সাইদ বিন আল-মুসায়িব ও উরওয়া বিন আল-যুবায়ের হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে যা বলেছে, তা হলো:

‘হাকিম বিন হিযাম আমাদের বলেছে: আমি হুনায়েনে আল্লাহর নবীর কাছে একশত উট প্রার্থনা করি ও তিনি আমাকে সেগুলো দান করেন। অতঃপর আমি আবারও তাঁর কাছে একশত উট প্রার্থনা করি ও তিনি আমাকে তা দান করেন। অতঃপর আমি আবারও তাঁর কাছে একশত উট প্রার্থনা করি ও তিনি আমাকে তা প্রদান করেন। অতঃপর আল্লাহর নবী বলেন, “হে হাকিম বিন হিযাম, যে এটিকে আত্মার উদারতার সাথে গ্রহণ করবে তার কল্যাণ হবে। যে এটিকে গর্বের সাথে গ্রহণ করবে, সে এই থেকে কোন নেয়ামত পাবে না; ঐ ব্যক্তির মত যে খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। যে হাত-টি উপরে থাকে (যে দেয়) তা নীচের হাত-টির (যে গ্রহণ করে) চেয়ে উত্তম। তুমি যখন শুরু করবে, তোমার পোষ্যদের-কে দিয়ে তা শুরু করো!”

সে বলেছে যে হাকিম বলেছিল: “যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছে তার কসম, আমি আপনার পরে আর কারও কাছ থেকে কিছুই নেব না!” উমর ইবনে খাত্তাব তাকে দেওয়ার জন্য আহ্বান করেছিল কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তাই উমর বলেছিল, “হে লোকসকল, আমি তোমাদের-কে হাকিম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি তাকে দান করার জন্য ডেকেছিলাম, কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছিল।”
সে বলেছে: ইবনে আবি আল-যিনাদ আমাদের জানিয়েছে যে, হাকিম প্রথমেই প্রাপ্ত লোকদের একজন যে একশত উট গ্রহণ করেছিল ও অতঃপর প্রস্থান করেছিল।

বানু আবদ আল-দা’র গোত্রের, আল নাদর বিন আল-হারিথ বিন কালাদার ভাই আল-নুদায়ের পেয়েছিল – ১০০টি উট।
বানু যোহরা গোত্রের মিত্র আসিদ বিন আল-হারিথ পেয়েছিল – ১০০-টি উট।
তিনি আল-আলা বিন জারিয়া-কে প্রদান করেন – ৫০টি উট।
তিনি মাখরামা বিন নওফল-কে প্রদান করেন – ৫০টি উট। আমি দেখেছি, মাখরামা যে হিস্যা গ্রহণ করেছিল তা আবদুল্লাহ বিন জাফর অস্বীকার করেছিল। সে বলেছিল, “আমি আমার লোকদের কাউকেই বলতে শুনি নাই যে তাকে কিছু দেওয়া হয়েছিল।”
বানু মাখযুম গোত্রের আল-হারিথ বিন হিশাম-কে দেওয়া হয় – ১০০টি উট।
তিনি সাইদ বিন ইয়ারবু-কে প্রদান করেন – ৫০টি উট

তিনি বানু জুমাহ গোত্রের সাফওয়ান বিন উমাইয়া-কে প্রদান করেন – ১০০টি উট। সে বলতো যে সে আল্লাহর নবীর সাথে চারিদিকে হাঁটা-হাঁটি করছিল, আর আল্লাহর নবী লুণ্ঠন-সামগ্রী তদারকি করছিলেন। সেই সময় তিনি এক সরু উপত্যকার ভিতর দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেখানে ভর্তি করে রাখা হয়েছিল লুণ্ঠন-সামগ্রী, উটগুলো ও তার রাখালদের। সাফওয়ান তাতে মুগ্ধ হয়েছিল ও তা তাকিয়ে দেখছিল; আর আল্লাহর নবী বলেছিলেন, “হে আবু ওয়াহাব, এই সরু উপত্যকা কী তোমাকে সন্তুষ্ট করেছে?”
সে বলে, “হ্যাঁ।”
আল্লাহর নবী বলেন, “এটি ও এর ভিতর যা কিছু আছে সবই তোমার।”
সাফওয়ান বলে, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নবী ব্যতীত অন্য কেহই এগুলো দান করতে পারে না। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রসুল।” [10]

তিনি কায়েস বিন আ’দি-কে দান করেন – ১০০টি উট।
তিনি উসমান বিন ওয়াহাব-কে দান করেন – ৫০টি উট।
আর তিনি বানু আমির বিন লুয়েভি গোত্রের সুহায়েল বিন আমর-কে দেন – ১০০টি উট।
তিনি হুয়ায়েতিব বিন আবদুল উজ্জা-কে দেন – ১০০টি উট।
তিনি হিশাম বিন উমর-কে দান করেন – ৫০টি উট।
তিনি বেদুইনদের মধ্যে দান করেন:
আল-আকরা বিন হাবিস আল-তামিমি-কে দেন ১০০টি উট।
তিনি ইউয়েনা বিন বদর আল-ফাযারি কে দান করেন ১০০-টি উট।
তিনি মালিক বিন আউফ-কে দেন ১০০-টি উট। [পৃষ্ঠা: ৯৪৪-৯৪৬]

সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৭৬: [9]

যুবায়ের বিন মুতিম হইতে বর্ণিত: আল্লাহর নবী তাঁর লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে হুনায়েন থেকে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে যখন সে তাঁর সঙ্গে ছিল, বেদুইনরা আল্লাহর নবীর কাছে এমনভাবে অনুনয় বিনয় করে মালামাল চাওয়া শুরু করে যে তারা তাঁকে একটি সামুরা গাছের নীচে যেতে বাধ্য করে, যেখানে তাঁর বাহিরের ঢিলেঢালা পোশাক-টি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর আল্লাহর নবী উঠে দাঁড়ান ও তাদের-কে বলেন, “আমার পোশাক আমাকে ফিরিয়ে দাও। আমার কাছে যদি এই গাছগুলির পরিমাণ উটও থাকতো তবে আমি সেগুলো তোমাদের মধ্যে বিতরণ করতাম; আমার মধ্যে তোমরা কোন কৃপণতা বা কাপুরুষতা বা মিথ্যা খুঁজে পেতে না।”

সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩০, হাদিস নম্বর ৫৭৩০: [10]

‘ইবনে শিহাব বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) বিজয় অভিযানে গমন করেছিলেন, অর্থাৎ মক্কা বিজয়; অতঃপর তিনি মুসলমানদের সঙ্গে বাহির হোন ও তারা হুনায়েনে যুদ্ধ করে ও আল্লাহ তাঁর দ্বীন ও মুসলমানদের-কে বিজয় দান করে; অতঃপর আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) সাফওয়ান বিন উমাইয়া-কে একশত উট দান করেন। তিনি তাকে আবারও একশত উট দান করেন, ও অতঃপর আবারও একশত উট প্রদান করেন। সাইদ বিন মুসায়িব বলেছেন যে, সাফওয়ান তাকে বলেছে:

(আল্লাহর কসম) আল্লাহর নবী (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক) আমাকে যা দিয়েছেন তা দিয়েছিলেন (আর সেই সময় আমার মনের অবস্থাটি ছিল এই যে), তিনি আমার দৃষ্টিতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু তিনি আমাকে দান করতেই থাকেন যে পর্যন্ত না তিনি এখন আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।’

সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৭৮: [11]

অবদুল্লাহ হইতে বর্ণিত: হুনায়েন (যুদ্ধের) দিনে, আল্লাহর রসূল কিছু লোককে লুঠের মাল বিতরণের ক্ষেত্রে কিছু লোকদের পক্ষপাতিত্ব করেন (অন্যদের করেন বর্জন)। তিনি আল-আকরা বিন হাবিস-কে একশত উট দান করেন ও একই পরিমাণ দান করেন ইয়য়েনা-কে; আর এ ছাড়াও তিনি কিছু বিশিষ্ট আরবকে এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের-কে দান করেন। অতঃপর এক ব্যক্তি এসে বলে,

“আল্লাহর কসম, এই বিতরণ-কর্মে ন্যায়বিচার পরিলক্ষিত হয় নাই, কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বিষয়টি ও অনুসরন করা হয় নাই (‘By Allah, in this distribution justice has not been observed, nor has Allah’s Pleasure been aimed at.’)।”

আমি (তাকে) বলি, “আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর নবী-কে অবহিত করাবো (যা তুমি বলেছো)”; আমি প্রস্থান করি ও তাঁকে বিষয়-টি জানাই, তিনি বলেন, “যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ন্যায়বিচার না করে থাকে, তবে আর কে আছে যে ন্যায়বিচার করতে পারে। আল্লাহ যেন মূসার প্রতি করুণা বর্ষণ করে, কারণ এর চেয়েও বেশি তার ক্ষতি করা হয়েছিল, তবুও সে ধৈর্য রক্ষা করেছিল।” [12] [13]

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

‘ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পর’ যখন হাওয়াজিনদের এক প্রতিনিধি দল মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কবলে বন্দী তাঁদের নারী-শিশু ও পরিবার-পরিজনদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি ও তাঁদের কষ্টার্জিত সম্পদ ফেরত দেওয়ার আবেদন নিয়ে যখন হাজির হয়েছিলেন, তখন মুহাম্মদ কী প্রক্রিয়ায় “শুধুমাত্র” তাঁদের নারী-শিশু ও পরিবার-পরিজনদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, তার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে (পর্ব: ২১৬)। ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকগণ তাঁদের রচিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থে বিভিন্ন উৎসের রেফারেন্সে এই ঘটনাটির বিশদ বর্ণনা তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। [14]

তাঁদের সেই বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, মুহাম্মদ যখন তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে হাওয়াজিনদের নারী-শিশু ও পরিবার-পরিজনদের বন্দী-দশা থেকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তখন তাঁর অনুসারীদের একদল তাঁদের-কে স্ব-ইচ্ছায় মুক্তি দিয়েছিলেন; অন্যদল “রাজী হোন নাই”, যাদের কাছ থেকে মুহাম্মদ প্রতিটি বন্দীর মূল্য বাবদ “ছয়টি উট” প্রদানের বিনিময়ে বন্দীদের মুক্ত করেছিলেন। আর এই মূল্য-টি তিনি পরিশোধ করেছিলে:

“হুনায়েনে অর্জিত লুণ্ঠিত-সম্পদ (গনিমত) থেকে।”

আর আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট, তা হলো: “মুহাম্মদ তাঁর উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে হুনায়েনে অর্জিত ‘গণিমতের ভাণ্ডার’ থেকে যে লুণ্ঠন সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন তা ছিল ‘ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট’! এতটায় পক্ষপাতদুষ্ট যে, মুহাম্মদের বহু অনুসারী তৎক্ষণাৎ মুহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, এই বলে যে:

“এই বিতরণ-কর্মে ন্যায়বিচার পরিলক্ষিত হয় নাই, কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বিষয়টি ও অনুসরণ করা হয় নাই!”

প্রশ্ন হলো, “কী কারণে মুহাম্মদ অনুসারীরা তাঁদের প্রাণ-প্রিয় নবীর বিরুদ্ধে এমনতর গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন? তাঁদের এই অভিযোগের উৎস কী?”

উৎস হলো ‘কুরআন!’ মুহাম্মদ তাঁর মদিনায় হিজরতের বছর দেড়েক পরেই (মার্চ-এপ্রিল, ৬২৪ সাল) তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে “আল্লাহর রেফারেন্সে” ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, হামলা-লব্ধ লুণ্ঠিত উপার্জন সামগ্রীর (গনিমত) এক-পঞ্চমাংশের হিস্যা হলো তাঁর নিজের ও তাঁর আল্লাহর ও তাঁর নিকটাত্মীয় ও এতীম-অসহায়-মুসাফিরদের জন্য; আর বাঁকি চার-পঞ্চমাংশ হিস্যা হলো হামলায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের (পর্ব: ২৮)। আল্লাহর ভাষায়,

৮:৪১ (সুরা আনফাল)“আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনিমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।”

যার সরল অর্থ হলো, হুনায়েন আগ্রাসনের “যাবতীয় গনিমতের” মাত্র এক-পঞ্চমাংশের মালিক ছিলেন মুহাম্মদ নিজে, আর বাঁকি চার-পঞ্চমাংশের মালিক ছিলেন হামলায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীরা। সে কারণেই, মুহাম্মদের যে সমস্ত অনুসারী মুহাম্মদের প্রস্তাবে তাঁদের হিস্যায় প্রাপ্ত “বন্দীদের” ফেরত দিতে রাজী ছিলেন না, তাঁদের মালিকানায় থাকা বন্দীদের “মূল্য” তখনও অ-বিতরণকৃত “সম্পূর্ণ গণিমত” এর অংশ-থেকে মুহাম্মদ পরিশোধ করতে পারেন না! কারণ, আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী (কুরআন: ৮:৪১) মুহাম্মদ ছিলেন এই সম্পদের মাত্র এক-পঞ্চমাংশের মালিক। যদি তিনি তা করেন, তবে তা হবে আল্লাহর নির্ধারিত বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ও “আল্লাহ প্রদত্ত প্রাপ্য অধিকার” থেকে তাঁর অনুসারীদের বঞ্চিত-করণ!

আদি উৎসের প্রায় সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদের গত-পর্ব ও ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ শুধু এই অপকর্ম-টি সম্পন্ন করেই ক্ষান্ত হোন নাই, নিজ স্বার্থ-সিদ্ধির প্রয়োজনে মুহাম্মদ “হুনায়েনের গনিমত” এর মাত্র এক-পঞ্চমাংশ মালিক হওয়া সত্বেও, বাঁকি চার-পঞ্চমাংশের মালিক অনুসারীদের বঞ্চিত করে ‘সম্পূর্ণ গনিমত’ থেকে “তাঁর যাকে খুশী তাকে” যথেচ্ছ দান-খয়রাত করেছিলেন। সে কারণেই, মুহাম্মদের বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের এই গুরুতর অভিযোগ: “এই বিতরণ-কর্মে ন্যায়বিচার পরিলক্ষিত হয় নাই, কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বিষয়টি ও অনুসরণ করা হয় নাই!”

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, “গণিমত লাভের লালসায়” মুহাম্মদের অনুসারীরা এতটায় উন্মুক্ত ছিলেন যে, এক পর্যায়ে তাঁরা মুহাম্মদ-কে জোরপূর্বক এক গাছের সাথে ঠেসে ধরে তাঁর আল-খাল্লাটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন ও তা তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। মুহাম্মদ এই গণিমত থেকে আবু সুফিয়ান-কে দান করেছিলেন ৩০০-টি উট, যে আবু সুফিয়ান মাত্র মাস দেড়েক আগে মুহাম্মদের মক্কা বিজয়ের আগের রাত্রিতে, এক অস্বাভাবিক পরিবেশে, ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন (পর্ব: ১৯০)। তিনি হুয়ায়েতিব বিন আবদুল উজ্জা বিন আবু কায়েস-কে দান করেছিলেন ১০০-টি উট, যিনি হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি পত্রে কুরাইশদের পক্ষে সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর-দান করেছিলেন (পর্ব: ১২২)। তিনি ইউয়েনা বিন হিসন বিন হুদায়েফা বিন বদর-কে দান করেছিলেন ১০০-টি উট, যিনি মক্কা বিজয়ের অল্প কিছুদিন আগে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন ও খন্দক যুদ্ধে মুহাম্মদ যাকে উৎকোচ দিতে চেয়েছিলেন (পর্ব: ৮১)।

তিনি সুহায়েল বিন আমর-কে দান করেছিলেন ১০০-টি উট, যে সুহায়েল হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির প্রাক্কালে ছিলেন কুরাইশদের প্রধান মধ্যস্থতাকারী (পর্ব: ১১৮); আর তিনি সাফওয়ান বিন উমাইয়া-কে দান করেছিলেন এক সরু উপত্যকায় গচ্ছিত সমস্ত লুণ্ঠন সামগ্রী! এই সেই সুহায়েল বিন আমর ও সাফওয়ান বিন উমাইয়া, মুহাম্মদের মক্কা বিজয়ের দিনটিতে যারা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারীদের সাথে খণ্ডযুদ্ধ করেছিলেন (পর্ব: ১৯১)! সুহায়েল ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন মুহাম্মদের মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে, আর সাফওয়ান মুহাম্মদের কাছ থেকে হুনায়েনের লুটের মালের “এই বিশাল গিফট” পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন মুশরিক! অন্যদিকে মুহাম্মদের বহু আনসার (আদি মদিনা-বাসী) অনুসারীরা ছিলেন গনিমত বঞ্চিত। ‘খায়বার ও ফাদাক’ আগ্রাসনে সু-বিশাল ‘গণিমত’ অর্জনের (পর্ব: ১৪৬-১৪৯)’ পর হুনায়েন আগ্রাসনেই মুহাম্মদ সবচেয়ে বেশী ‘গণিমত’ হস্তগত করেছিলেন। হুনায়েন আগ্রাসনে অর্জিত বিশাল লুণ্ঠন-সামগ্রী বিতরণে মুহাম্মদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের গভীরতার সাক্ষ্য ধারণ করে আছে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই এই সকল বর্ণনা।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক অতিরিক্ত বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই:]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

‘He said: ‛Abdullah b. ‛Amr b. Zuhayr related to me from al-Maqburī from Abū Hurayra, who said: —–
They said: The Bedouin lay in his path questioning the Messenger of God, and they increased against him until they forced him to the Samura tree, grabbed his cloak and took it out, and he was like a piece of the moon. The Messenger of God stood, saying, “Give me my cloak! Give me my cloak! If the number of these trees (‛Iḍa) were cattle I would apportion it among you, and you will find that I am neither stingy nor cowardly nor false.”

[Page 943] Then, when he was at the apportioning he said, “Give even the thread and the needle. Never steal. Indeed stealing is a scandal and brings hell-fire and disgrace on the Day of Judgment!” Then he took a hair from the side of a camel and said, “By God, what God grants as booty to you is not permissible to me, not the likeness of this hair; except the fifth. And the fifth I will return to you.” —–

When the Messenger of God returned to al-Ji‛irrāna, he waited for the delegation to come to him. He began with the wealth and apportioned it. He gave the first of the people, and their hearts were reconciled (muallafa Qulubuhum). The Messenger of God had plundered much silver; four thousand measures. The plunder was gathered in front of the Prophet. Abū Sufyān b. Ḥarb came, and before him was the silver. He said, “O Messenger of God, you have become the most wealthy among the Quraysh!” The Messenger of God smiled. Abū Sufyān said, “Give me from this wealth, O Messenger of God!” The Messenger of God said, “O Bilāl, weigh for Abū Sufyān four measures, [Page 945] and give him a hundred camels.” Abū Sufyān said, “Give my son Yazīd!” The Messenger of God said, “Weigh for Yazīd four measures and give him a hundred camels.” Abū Sufyān said, “Give my son Mu‛āwiya, O Messenger of God!” He said, “Weigh for him, O Bilāl, four measures, and give him a hundred camels.” Abū Sufyān said, “Surely you are generous. May your ransom be my father and mother! Surely I fought you and the goodness of the battle was yours. Then I made peace with you and the goodness of the peace is yours. May God reward you well!” And, the Messenger of God gave the Banū Asad.

He said: Ma‛mar related to me from al-Ẓuhrī from Sa‛īd b. al-Musayyib and ‛Urwa b. al-Zubayr, who said, Ḥakīm b. Ḥizām related to us: I asked the Messenger of God in Ḥunayn for a hundred camels, and he gave them to me. Then I asked him again for a hundred and he gave them to me. Then I asked him for another hundred and he gave them to me. Then the Messenger of God said, “O Ḥakīm b. Ḥizām indeed this wealth is sweet greenness. Who takes it with generosity of soul will have blessings with it. Who takes it with pride will have no blessings from it, like the one who eats and is not satisfied. The hand above (that gives) is better than the one below (that takes). When you begin start with your dependants!” He said: Ḥakīm said, “By Him who sent you with the truth, I will not take anything from anyone after you!” ‛Umar b. al-Khaṭṭāb used to call him to give him, but he refused to take it, so ‛Umar said, “O People, I testify to you about Ḥakīm that I called him to give him, but he refused to take it.” He said: Ibn Abī 1-Zinād related to us that: Ḥakīm took the first hundred and then left.

The Banū ‛Abd al-Dār—al-Nuḍayr, who was the brother of al-Naḍr b. al-Ḥārith b. Kalada, [Page 946] had a hundred camels. The Banū Ẓuhra—Asīd b. Ḥāritha was an ally of theirs—had a hundred camels. He gave al-‛Alā’ b. Jāriya fifty camels. He gave Makhrama b. Nawfal fifty camels. I saw ‛Abdullah b. Ja‛far deny that Makhrama took a share in that. He said, “I did not hear any one of my people mention that he was given something.” From the Banū Makhūzm: al-Ḥārith b. Hishām a hundred camels. He gave Sa‛īd b. Yarbū‛ fifty camels. He gave the Banū Jumaḥ Ṣafwān b. Umayya a hundred camels. He says that he circumambulated with the Prophet, and the Prophet scrutinized the plunder. When he passed by the ravine of the booty God gave him, filled with plunder and camels and their shepherds. Ṣafwān admired it and began to look at it, and the Messenger of God said, “Does this ravine please you Abū Wahb?” He said, “Yes.” The Prophet said, “It is for you, and what is in it.” Ṣafwān said, “I testify that no one will give this up, except the Prophet. And I testify that you are the Messenger of God.” He gave Qays b. ‛Adī a hundred camels. He gave ‛Uthmān b. Wahb fifty camels. And, he gave Suhayl b. ‛Amr, from the Banū ‛Āmir b. Luāyy, a hundred camels. He gave Ḥuwayṭib b. ‛Abd al-‛Uzzā a hundred camels. He gave Hishām b. ‛Umar fifty camels. He gave among the Bedouin; to al-Aqra‛ b. Ḥābis al-Tamīm a hundred camels. He gave ‛Uyayna b. Badr al-Fazārī a hundred camels. He gave Mālik b. ‛Awf a hundred camels. —‘

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা: ৫৯৪-৫৯৫
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf
[2] অনুরূপ বর্ণনা- আল-তাবারী: ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা: ৩১-৩৩
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp
[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ৯৪১-৯৪৬; ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা: ৪৬১-৪৬৩
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false
[4] Ibid ইবনে ইশাক: ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৮৪৫; পৃষ্ঠা-৭৮০
[5] অনুরূপ বর্ণনা – সুন্নাহ আবু দাউদ: বই নম্বর ১৪ (৮), হাদিস নম্বর ২৬৮৮:
https://quranx.com/hadith/AbuDawud/Hasan/Hadith-2688/
[6] Ibid ইবনে ইশাক: ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৮৪৮; পৃষ্ঠা-৭৮০
[7] কিতাব আল-তাবাকাত আল-কাবির – লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা’দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), অনুবাদ এস মইনুল হক, প্রকাশক কিতাব ভবন, নয়া দিল্লি, সাল ২০০৯, ISBN 81-7151-127-9 (set), ভলুউম-২, পার্ট-১, পৃষ্ঠা ১১০; ইংরেজী অনুবাদ পৃষ্ঠা ১৮৮।
https://kitaabun.com/shopping3/sads-kitab-tabaqat-kabir-print-a-920.html
[8] উকিয়া (Uquiyah): মধ্যযুগে ব্যবহৃত ওজন এর একক। এক উকিয়া = মোটামুটি ৪০ দিরহাম। এক দিরহামের ওজন ২.৯৭৫ গ্রাম) = ১১৯ গ্রাম; অর্থাৎ, ৪০০০ উকিয়া = ৪৭৬ কিলোগ্রাম।

[9] সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৭৬:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-53/Hadith-376/

‘Narated By Jubair bin Mutim: That while he was with Allah’s Apostle who was accompanied by the people on their way back from Hunain, the bedouins started begging things of Allah’s Apostle so much so that they forced him to go under a Samura tree where his loose outer garment was snatched away. On that, Allah’s Apostle stood up and said to them, “Return my garment to me. If I had as many camels as these trees, I would have distributed them amongst you; and you will not find me a miser or a liar or a coward.”’

[10] সহি মুসলিম: বই নম্বর ৩০, হাদিস নম্বর ৫৭৩০:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-30/Hadith-5730/

‘Ibn Shihab reported that Allah’s Messenger (may peace be upon him) went on the expedition of Victory, i.e. the Victory of Mecca, and then he went out along with the Muslims and they fought at Hunain, and Allah granted victory to his religion and to the Muslims, and Allah’s Messenger (may peace be upon him) gave one hundred camels to Safwan b. Umayya. He again gave him one hundred camels, and then again gave him one hundred camels. Sa’id b. Musayyib said that Safwan told him:
(By Allah) Allah’s Messenger (may peace be upon him) gave me what he gave me (and my state of mind at that time was) that he was the most detested person amongst people in my eyes. But he continued giving to me until now he is the dearest of people to me.’

[11] সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৭৮:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-53/Hadith-378/
[12] অনুরূপ বর্ণনা – সহি মুসলিম: বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২৩১৪:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-5/Hadith-2314/
[13] সহি মুসলিম: বই নম্বর ৫, হাদিস নম্বর ২৩১৬:
https://quranx.com/hadith/Muslim/USC-MSA/Book-5/Hadith-2316/

[14] সহি বুখারী: ভলুম ৩, বই নম্বর ৩৮, হাদিস নম্বর ৫০৩:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-3/Book-38/Hadith-503/
ভলুম ৩, বই নম্বর ৪৬, হাদিস নম্বর ৭১৬:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-3/Book-46/Hadith-716/
ভলুম ৩, বই নম্বর ৪৭, হাদিস নম্বর ৭৫৭:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-3/Book-47/Hadith-757/
ভলুম ৩, বই নম্বর ৪৭, হাদিস নম্বর ৭৭৮:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-3/Book-47/Hadith-778/
ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৬০:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-53/Hadith-360/
ভলুম ৫, বই নম্বর ৫৯, হাদিস নম্বর ৬০৮:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-608/
ভলুম ৯, বই নম্বর ৮৯, হাদিস নম্বর ২৮৮:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-9/Book-89/Hadith-288/
সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই নম্বর ৫৩, হাদিস নম্বর ৩৭২:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-53/Hadith-372/

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =