সেই তারিক – ১

(১)
তারিক সাহেবের ছেলে নাবিদ। নাবিদ আজ অনেক রাগ করেছে তারিক সাহেবের সাথে। নাবিদ বায়না করছে একটা মোবাইল ফোন কিনে দেবার জন্য। নতুন এক মোবাইল ফোন বাজারে এসেছে,দাম তার ১৭ হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই টাকাটি নেহাত কম নয়। তারিক সাহেব তার অপারগতার কথা জানান। তাই নাবিদ রাগ করেছে। রাগ করে নাবিদ ছাঁদে বসে আছে, সেই সন্ধ্যা থেকে।এখন রাত দশটা বেজে গেছে। নাবিদ ফিরার নামই নিচ্ছে না। তারিক সাহেব তাই বাধ্য হয়েই ছেলেকে ডাকতে ছাঁদে গেলেন। আকাশ টা ছিল অন্ধকার,কালো। আকাশে চাঁদ টাও দেখা যাচ্ছে না।


(১)
তারিক সাহেবের ছেলে নাবিদ। নাবিদ আজ অনেক রাগ করেছে তারিক সাহেবের সাথে। নাবিদ বায়না করছে একটা মোবাইল ফোন কিনে দেবার জন্য। নতুন এক মোবাইল ফোন বাজারে এসেছে,দাম তার ১৭ হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই টাকাটি নেহাত কম নয়। তারিক সাহেব তার অপারগতার কথা জানান। তাই নাবিদ রাগ করেছে। রাগ করে নাবিদ ছাঁদে বসে আছে, সেই সন্ধ্যা থেকে।এখন রাত দশটা বেজে গেছে। নাবিদ ফিরার নামই নিচ্ছে না। তারিক সাহেব তাই বাধ্য হয়েই ছেলেকে ডাকতে ছাঁদে গেলেন। আকাশ টা ছিল অন্ধকার,কালো। আকাশে চাঁদ টাও দেখা যাচ্ছে না।

একটি ঘটনা তার চোখের সামনে ভাসতে শুরু করলো। এমনই একটা অন্ধকার রাত ছিল সেটা। যে রাতে তার জীবন টা তোলপাড় হয়ে যায়। বদলে যায় তার জীবন। তারিকের বাবা লিংকন সাহেব ছিলেন সরকারি কর্ম কর্তা। তিনি তার সময়কার বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনেও অংশ গ্রহণ করেছেন। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম এক আন্দোলনকারী। সরকারি চাকরি করলেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঘটে যাওয়া বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের প্রায় সকল আন্দোলনেই সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন , বাঙ্গালির স্বাধিনতা আন্দোলনেও তেমনই সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাই পাকিস্তানি বাহিনী ও তৎকালীন প্রশাসনের কাছে অনেকটাই পরিচিত ছিলেন। একবার গ্রেফতার ও হয়েছিলেন,তবে তথ্য প্রমানের অভাবে মুক্তি পেয়ে যান লিংকন সাহেব। কিন্তু পাকিস্তানী শাসক বাহীনির নজরদারীর উপর থাকতেন।

এমনই এক অন্ধকার রাতে ছাঁদে তার বাবার সাথে লুডু খেলছিলেন তারিক ।হঠাৎ লিংকন সাহেবের এক বন্ধু আসে তারিকদের বাড়িতে। তারিকের বাবার সাথে অনেকক্ষণ কথা বললেন কি বিষয়ে যেন। তারিক তার বাবার মুখে দুঃশ্চিন্তার ছাপ দেখতে পায়। কিন্তু দুঃশ্চিন্তার কারণ জানতে চাইলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান লিংকন সাহেব।লোকটি চলে যাবার পর আবার ছেলের সাথে খেলতে থাকেন লিংকন সাহেব।এই সময় তারিককে অনেক কথা বলেন লিংকন সাহেব। অনেক উপদেশ দেন। তারিকের কেমন যেন অদ্ভুত লাগছিল ব্যপার গুলো,তার বাবা তো এমন কথা আগে কখন ও বলেন নি।এমন কথা বলছেন কেন তিনি, প্রশ্ন জাগে তারিকে মনে।

রাত তখন বারটা।বিস্ফোরনের এক বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় তারিকের। খুব ভয় পায় সে। এই প্রথম এত ভয় পেল তারিক। দৌড়ে বাবা-মায়ের কাছে গেল তারিক।তারিকের বাবা ঘটনা টি জানার জন্য ছাঁদে গেলেন,পেছনে তারিক ও তার মা’ও আছে। কয়েক টা বাড়ি দুরেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছি। সাথে কিসের যেন ক্রমাগত শব্দ শোনা যাচ্ছে, মাঝে মাঝে থামছে আবার শুরু হচ্ছে।মনে হচ্ছে বন্দুকের গুলি করার শব্দ। লিংকন সাহেব তারিক কে এক কোনে লুকিয়ে দিল,কোন মতেই যেন সে বেড় না হয় এই নিষেধাজ্ঞাও দিল তারিক কে। বাসায় এই যায়গায় যে কেউ লুকিয়ে থাকতে পারবে সেটা কারো মাথাতেই আসবে না। কিন্তু একজনের বেশি জায়গা হয় না সেখানে।তারিক কে তাই একাই লুকানো হয় সেখানে। জায়গাটা ছোট হলেও সেখান থেকে বাড়ির সব জায়গাই স্পস্ট দেখা যায়,বিশেষ করে বাড়ির উঠোন টা।

একটু পরেই তারিকদের বাসার দরজায় কে যেন জোরে জোরে ধাক্কা দিতে থাকে। লিংকন সাহেব তার স্ত্রীকে লুকাতে বলল। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার আগেই দুর্বল দরজাটা ভেঙ্গে প্রবেশ করে একদল আর্মি অফিসার, তাদের হাতে বন্দুক। আর্মিদের সাথে পাঞ্জাবি পরা একদল লোক ও ছিল। তারিক সবই দেখছিল আর ভয়ে যেন সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। তারিকের মা’কে সেই লোকেরা ধরে ফেলল, লুকাতে পারলেন না তিনি। তার বাবাকে কি যেন বলছে উর্দুতে,ঐ আর্মি অফিসার গুলো। হঠাৎ লিংকন সাহেব “জয় বাংলা” বলে উঠলেন। সাথে সাথেই পাঞ্জাবি পড়া এক লোক সজোরে লাথি দিল। মাটিতে পড়ে গেলেন লিংকন সাহেব। তাকে একের পর এক লাথি মারা হচ্ছে। ঐ দিকে একদল লোক তারিকের মায়ের উপর ঝাপিয়ে পরেছিল। সারা অঙ্গের কোথাও হাত দিতে বাদ রাখে নি লোক গুল।কি ঘটতে চলেছে তা বুঝতে বাকি রইল না চোদ্দ বছরের ছেলে তারিকের।

ছেলের সামনে তার মা ধর্ষন হতে থাকলো,অপর দিকে বাবার উপর অমানবিক অত্যাচার হচ্ছে।কিছুক্ষন থামতো কি যেন উর্দুতে বলতো লোক গুলো, তার বাবা শুধু “জয় বাংলা” বলছিলেন, আর সাথে সাথেই আবার শুরু হত ভয়ানক অত্যাচার। লিংকন সাহেবের একহাতে গুলি করলো আর্মি এক অফিসার। অঝর ধারায় রক্ত বইতে লাগলো। একে একে টানা পনের বার ধর্ষিত হল তারিকের মা। তারিকের চোখের সামনে তার বাবা-মা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরছিল। এইসব দেখে তারিক যেন শক্তিহীন হয়ে পরেছিল।হাত পা নাড়াতে পারছিল না সে, তার আত্মচিৎকার মুখ দিয়ে বের হচ্ছিল না। লিংকন সাহেব হয়তো জানতেন এমন কিছু হবে তাই তো তারিক কে তখন ঐ সব কথা বলছিলে, লিংকন সাহেবের অবর্তমানে তারিক কে কি করতে হবে সেই কথা বলেছিলেন লিংকন সাহেব। এই প্রথম লিংকন সাহেব তারিক কে দেশের জন্য লড়াই এর কথা বলেছিলেন। সেই আর্মিরা তখন তারিকের বাবা ও মাকে গুলি করল। একটি নয়।অনেক গুলো গুলি। ঝাঝরা করে দিল তাদের বুক। মুহুর্তেই মারা গেলেন তারিকের বাবা-মা। অনাথ হয়ে গেল তারিক। সেই হানাদার বাহিনীরা চলে গেল। তারিক কখন যেন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।
সেই রাত টি ছিল ১৯৭১ এর মার্চ মাসের ২৫ তারিখের সেই বর্বর কালো রাত।

পর দিন সকালে জ্ঞান ফিরলো তারিকের, মুহুর্তেই মনে পড়লো পুর্বের ঘটনা গুলো। সেই খান থেকে নেমে এল তারিক। তার মা-বাবার মৃতদেহের উপর হুমরি খেয়ে পড়ে কাঁদতে লাগল তারিক।পাশের বাড়ি গুলো পোড়ালেও তারিকদের বাড়িটি কেন যেন পোড়ায় নি হানাদার গুলো। তাই তারিক এখনও বেচে আছে।

ছাঁদে অন্ধকার কালো রাত দেখে তারিক সাহেবের এই দিন টির কথা মনে পরেছিল। নাবিদের ডাকে বর্তমানে ফিরে এলেন তারিক সাহেব। তারিক সাহেবের দুচোখ তখন অশ্রু ভেজা ছিল।এই প্রথম তার বাবার চোখে অশ্রু দেখেছে নাবিদ, জানতে চাইল এর কারণ। নাবিদ এর অনুরোধে ২৫শে,মার্চ কালো রাতের ঘটনা গুলো বলল তারিক সাহেব।এর পর তারিক সাহেব কি করছিলেন তাও জানতে চায় নাবিদ।তারিক সাহেব সেগুলোও বলছে।

(২)
______তারিক তার বাবা-মায়ের মৃতদেহ ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করে তার বাবার শেষ আদেশের পালন করবে সে।তার শেষ ইচ্ছা পুর্ন করবে।দেশের জন্য লড়াই করবে তারিক। তাই তারিক……………(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৯ thoughts on “সেই তারিক – ১

  1. এটা ধারাবাহিক হচ্ছে মনে হয়।
    এটা ধারাবাহিক হচ্ছে মনে হয়। শিরোনাম “সেই তারিক-১” দিলে সুবিধা হবে। তানাহলে সব পর্বের শিরোনাম একই হয়ে যাবে।
    লেখা ভালো হচ্ছে। বানান ভুলের পরিমাণ একেবারেই কমে গেছে। তাড়াহুড়া না করলে আরও কমে শুন্যে নেমে আসবে। অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    হিন্দি সিরিয়ালের মতো পরের পর্বের লেজ লাগায়ে দিছেন দেখি। :ভেংচি:

    1. প্রভাবিত…
      বাসায় সারাক্ষন

      প্রভাবিত…
      বাসায় সারাক্ষন চলে হিন্দি সিরিয়াল।

      আর গল্প এইটুকু কেমন হল?
      ধারা বাহিকতা ঠিক রাখতে পেরেছি? কিছু কিছু যায়গায় আমার গড় মিল লেগেছে।

      আতিক ভাই সুশীল না হয়ে ভুল ধরিয়ে দিন। আপনার কাছ থেকে পজিটিভ মন্তব্যের থেকে নেগেটিভ টাই বেশি কাম্য। শত হোক মাস্টার মশাই,
      চটজলদি ভুল ধরে বলে দেন। সময় খুব দামী, গ্রামীনে প্রতিমিনিট ২.৫০ টাকা করে, তবুও কিছু সময় নষ্ট করাতে চাচ্ছি আপনার।

      1. অল্প কিছু বানান ভুল আছে।
        অল্প কিছু বানান ভুল আছে। খুঁজে খুঁজে ঠিক করে দেন। আপনার লেখায় পারিপার্শ্বিকের বর্ননা কম থাকে। চরিত্রগুলোর মানসিক অবস্থা, ঘটনার সাথে আচার আচরণে অভিব্যক্তি এইসব জিনিসের অনুপস্থিতি গল্পকে নিস্প্রান করে ফেলে। লিখতে থাকুন, এসব ঠিক হয়ে যাবে একদিন। তার চেয়েও যেটা গুরুত্বপুর্ন প্রচুর গল্প পড়ুন এবং পড়ার সময় লক্ষ্য করুন ভাষার ব্যবহার। ঘটনা কিভাবে এগুচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। পড়ার কোন বিকল্প নেই ভালো লেখার জন্য। :হয়রান:

        1. এমন মন্তব্যই চাই
          হুম চরিত্র

          এমন মন্তব্যই চাই

          হুম চরিত্র গুলোকে জীবন্ত করে তুলতে পারিনা।
          গল্প সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই টেনে। হ্যা এই ব্যপারে দৃষ্টি রাখব।

          আপনার কথায় রিভিউ করে লস হয় নি লাভ ই হয়েছে, বই পড়ার অভ্যাস টাও করতে হবে। ধন্যবাদ মাস্টার মশাই :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি:

  2. ভাল্লাগছে ম্যান,আশা করি পরের
    :থাম্বসআপ: ভাল্লাগছে ম্যান,আশা করি পরের পর্ব আরো ভালো হবে|
    কিন্তু তারিক লিংকন ভাই কই?
    :জলদিকর:
    আচ্ছা আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে পরের গল্প বা পর্বে জয় সাহেব? :বুখেআয়বাবুল:

    1. নাম কি ? বলে ফেলেন। নেক্সট
      নাম কি ? বলে ফেলেন। নেক্সট পার্টেই এড দিব। খেয়াল করেছেন তা হলে। তারিক ভাইকে কথা দিয়েছিলাম। এর আগের গল্পে রাহাত ভাই, আতিক ভাই এর নাম ব্যবহার শেষ।

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে

    2. আমার নামের ব্যবহার শেষ হতে কত
      আমার নামের ব্যবহার শেষ হতে কত দেরী পাঞ্জেরি?
      যাহোক, গল্প ভালই লেগেছে! :থাম্বসআপ:
      মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যায় হয় তাই ভাল লাগে…

      1. এই ধারাবাহিকে একটা রাজাকার
        এই ধারাবাহিকে একটা রাজাকার চরিত্র আনতে পারেন, নাম হবে সাব্বির রাজাকার। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

        সাব্বির ভাই, মাইন্ড খাইয়েন না। মজা লইলাম। :হাসি:

        1. চেয়েছলাম মুক্তিযোদ্ধা বানাবো
          চেয়েছলাম মুক্তিযোদ্ধা বানাবো আপনি ভাল আইডিয়া দিলে দিলেন, নাম টা বেশ।
          সাব্বির রাজাকার…

          মজা লন ভাই একটূ মজা নিলাম…

    1. আমি মুলত একাত্তর নিয়ে লিখার
      আমি মুলত একাত্তর নিয়ে লিখার জন্যই ব্লগিং জগতে আসি। আগেও লিখেছি। মাঝখানে অন্য টপিক নিয়ে লিখেছিলাম। এখন আবার আমার সেই প্রিয় টপিক মুক্তি যুদ্ধ।

  3. বানানের ক্ষেত্রে উন্নতি
    বানানের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে, কিন্তু লেখায় গভীরতা নেই বললেই চলে। এবং লেখা অধিকাংশই বর্ণনাধর্মী। হয়তো এটাই আপনার লেখার স্টাইল। :আমারকুনোদোষনাই:

    1. বানানের ক্ষেত্রে ভুল গুলো
      বানানের ক্ষেত্রে ভুল গুলো বুঝতে পেরেছি। কিন্তু আপনি যেই ভুলের কথা বললেন এই গুলো ধরতে পারছি না। তাই এমন ভুল হচ্ছে। তবুও শুধরে নেবার চেষ্টা করেছি

      মাত্র সেই তারিক – ২ লিখলাম দেখুন আগের তুলনায় কি কম ভুল হয়েছে কি না https://istishon.blog/node/3965

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 3 =