২২০-হুনায়েনের গণিমত-৫: উৎকোচ প্রদান ও প্রত্যাবর্তন!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

কুরআন ও ইসলামে ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অত্যন্ত দু:সহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। এই দু:সহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের প্রচেষ্টায় মুহাম্মদ মিত্র বাহিনীর ঘাতাফান গোত্রের দুই নেতাকে উৎকোচ (ঘুষ) প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ও অতঃপর কী কারণে মুহাম্মদ তাঁদের-কে এই ঘুষ প্রদানে বিরত হয়েছিলেন তার বিশদ বর্ণনা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা তাঁদের নিজ নিজ পূর্ণাঙ্গ ‘সিরাত’ গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, যার আলোচনা ‘মুহাম্মদের উৎকোচ (পর্ব: ৮১)’ পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের “হুনায়েন আগ্রাসন ও গনিমত বণ্টন” উপাখ্যানের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনায় আমরা জানতে পারি, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মক্কা, হুনায়েন ও তায়েফ আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্বে আবারও এক অবিশ্বাসী-কে উৎকোচ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন! পার্থক্য এই যে, খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি তাঁর ঐ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পূর্বে তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন ও তাঁদের বাধার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তা বাস্তবায়ন করেন নাই; আর এবারের সিদ্ধান্তের বিষয়টি তিনি তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে কোনরূপ পরামর্শ না করেই তা বাস্তবায়ন করেছিলেন!

‘মক্কা ও হুনায়েন আগ্রাসনে’ সম্পূর্ণ সফলকাম হওয়া সত্বেও, তিনি “তাঁর কোন উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে” এই অবিশ্বাসী-কে উৎকোচ প্রদান করেছিলেন, তার প্রাণবন্ত বর্ণনা ইসলামের ইতিহাসের “সবচেয়ে আদি উৎসের” প্রায় সকল বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকই তাঁদের নিজ নিজ “পূর্ণাঙ্গ” সিরাত গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ [1]
(আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২১৯) পর:

‘আল্লাহর নবী হাওয়াযিন প্রতিনিধি দলের লোকদের কাছে [পর্ব: ২১৬] মালিক বিন আউফের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ও তারা বলেছিল যে সে থাকিফদের সাথে আল-তায়েফে অবস্থান করছে। আল্লাহর নবী তাদের-কে বলেন যে,

সে যদি মুসলমান অবস্থায় তাঁর কাছে আসে, তবে তিনি তাকে তার পরিবার ও সম্পদ ফিরিয়ে দেবেন ও তাকে প্রদান করবেন ১০০-টি উট।

এটি জানার পর মালিক আল-তায়েফ থেকে বের হয়ে আসে। সে আশংকা করেছিল যে আল্লাহর নবী যা বলেছেন তা থাকিফরা হয়তো জানতে পারে ও তাকে হয়তো অবরুদ্ধ করতে পারে; তাই সে আদেশ করে যে তার উট-টি কে যেন তার জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয় ও একটি ঘোড়া আল-তায়েফে তার কাছে নিয়ে আসা হয়। সে রাত্রি কালে বের হয়ে আসে, তার ঘোড়ার ওপর সওয়ার হয় ও তাকে দ্রুত চালনা করে তার উট-টি যেখানে বাঁধা ছিল সেখানে চলে আসে; অতঃপর সে তার ওপর সওয়ার হয়ে আল্লাহর নবীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ও আল-জিরানা কিংবা মক্কায় তাঁর নাগাল ধরে ফেলে। তিনি তাকে তার পরিবার ও সম্পদ ফিরিয়ে দেন ও তাকে প্রদান করেন ১০০-টি উট। সে উত্তম মুসলমানে পরিণত হয়েছিল, আর তখন সে বলেছিল:

“আমি কখনো শুনি নাই বা দেখি নাই এমন কোন মানুষ
সমগ্র এই পৃথিবীতে মুহাম্মদের মতো,
কথায় বিশ্বাসী ও উদার যখন চাওয়া হয় উপহার তার কাছে,
আর যখনই চাইবে তুমি বলে দেবে সে ভবিষ্যতের খবর।
সশস্ত্র বাহিনীর দল যখন দেখায় তার শক্তি
বর্শা ও তরোয়ালের আঘাতে,
ধূলিময় স্থানে যুদ্ধে সে সিংহের মতো
রক্ষা করে যে গর্তে থাকা তার শাবকদের।”

আল্লাহর নবী তাকে তাঁর ঐ লোকদের নেতা-রূপে নিযুক্ত করেছিলেন যারা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিল, আর সেই গোত্রগুলো ছিল (আল-তাবারী: ‘আল-তায়েফের চারিপাশে’) থুমালা, সালিমা ও ফাহম। [4]

সে তাদের-কে সঙ্গে নিয়ে থাকিফদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে: তাদের গবাদি পশুর পালগুলোর কোনটিই বাহিরে বের হয়ে এসে তার আক্রমণের কবল থেকে রক্ষা পেতো না (আল-তাবারী: ‘ও সে তাদের গলায় শক্ত ফাঁস দিয়ে তাদের-কে কব্জা করতো’), যতক্ষণে না সেগুলোর অবস্থা কালশিটে আকার ধারণ করে।

আবু মিহজান বিন হাবিব [এক থাকিফ নেতা ও প্রসিদ্ধ তীরন্দাজ (পর্ব: ২১৪)] বিন আমর বিন উমায়ের বিন আল-থাকাফি বলেছিল:

“শত্রুরা আমাদের এলাকায় ছড়াচ্ছে ভীতি সর্বক্ষণ
আর বানু সালিমা মোদের করছে অতর্কিত আক্রমণ এখন!
আমাদের বিরুদ্ধে মালিক তাদের এনেছে ডেকে
ভঙ্গ করে তার চুক্তি ও দ্বীনের শপথ।
মোদের বসতি-গুলোতে তারা করছে আক্রমণ
মোরা সেই লোক যারা নেয় প্রতিশোধ গ্রহণ।” —-

আল-ওয়াকিদির (৭৪৭-৮২৩ সাল) অতিরিক্ত বর্ণনা (কবিতা পঙক্তি পরিহার): [3]

‘আল্লাহর নবী প্রতিনিধি দলের লোকদের বলেন, “মালিক (বিন আউফের) কী হয়েছে?” তারা বলে, “সে পালিয়ে আল-তায়েফের দুর্গে গিয়ে নিজেকে থাকিফদের সাথে যুক্ত করেছে।” আল্লাহর নবী বলেন:

“তাকে জানিয়ে দাও যে, যদি সে মুসলমান হয় তবে তাকে আমি তার পরিবার ও সম্পত্তি ফিরিয়ে দেব ও তাকে প্রদান করবো ১০০-টি উট।”

আল্লাহর নবী এই আদেশ জারী করেছিলেন যে মালিকের পরিবার সদস্যদের বন্দী করে তাদের-কে যেন মক্কায় তাদের অ্যান্টি উম্মে আবদুল্লাহ বিনতে আবু উমাইয়ার সঙ্গে রাখা হয়। প্রতিনিধি দলের লোকেরা বলে, “হে আল্লাহর নবী, এরা হলো আমাদের অধিপতি, আমাদের সবচেয়ে প্রিয়জন।” আল্লাহর নবী বলেন, “সত্যই আমি তাদের সর্বোত্তম মঙ্গলকামনা করি।” তিনি মলিকের সম্পদগুলো রেখে দিয়েছিলেন ও তিনি তা ভাগ-বাটোয়ারা করেন নাই।

মালিকের কাছে যখন খবর পৌঁছে যে আল্লাহর নবী তার লোকদের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করেছেন, ও তিনি তাকে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ও তার পরিবার ও সম্পদ-গুলো রক্ষিত আছে; মালিক এই আশংকা করে যে থাকিফরা তার বিরোধিতা করতে পারে এই কারণে যে আল্লাহর নবী তাকে কী বলেছেন তা তারা জেনেছে, তাই তারা তাকে হয়তো বন্দী করতে পারে। সে আদেশ করে যে তার সওয়ারি পশুটি-কে যেন দাহনায় [আল-তায়েফের একটি জেলা] নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর, সে আদেশ করে যে তার ঘোড়া-টি কে যেন রাত্রিকালে তার কাছে নিয়ে আসা হয়; তারপর সে রাত্রি কালে তার দুর্গ থেকে বের হয়ে আসে; ও দ্রুতবেগে দাহনায় গমন করে; সেখান থেকে সে তার উট-টির পিঠে সওয়ার হয় ও আল্লাহর নবীর আল-জিরররানা থেকে রওনা হয়ে আসার পথে সে তাঁর সাথে এসে মিলিত হয়।

তার সম্প্রদায় ও আল-তায়েফের আশে-পাশের হাওয়াজিন ও ফাহম গোত্রের যে লোকেরা ধর্মান্তরিত [ইসলামে দীক্ষিত] হয়েছিল, আল্লাহর নবী তাকে সেই লোকগুলোর নেতা-রূপে নিযুক্ত করেন। মুসলমানদের একটি দল তাদের সাথে যোগদান করে। আল্লাহর নবী তার জন্য একটি পতাকা (banner) মঞ্জুর করেন। সে অবিশ্বাসী লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করত। সে তার লোকদের সাথে নিয়ে থকিফদের অতর্কিত আক্রমণ করেছিল ও তাদের সাথে যুদ্ধ করেছিল। থাকিফদের গবাদি পশুগুলো বাহিরে বের হলে সে সেগুলো-কে আক্রমণ করে ধরে নিয়ে আসতো।

অতঃপর তিনি [মুহাম্মদ] প্রত্যাবর্তন করেন ও যখন তিনি তা করেন, লোকেরা তাদের গবাদি পশুগুলো চারণ করে। তারা যখন দেখেছিল যে নবী তাদের কাছ থেকে দূরে চলে এসেছে, তখন তারা নিরাপদ বোধ করে।

কিন্তু তারা পশু-চারণ করতে পারতো না এই কারণে যে মালিক সেগুলো ধরে নিয়ে আসতো। আর মালিক কাউকে আক্রমণ করে তাকে হত্যা না করে ছাড়ে না। সে যা হস্তগত করতো তার এক-পঞ্চমাংশ নবীর কাছে পাঠিয়ে দিত: একবার, একশো-টি উট; আর একবার এক হাজার ভেড়া।

সত্যই সে আল-তায়েফের লোকদের গবাদি পশুগুলোর ওপর আক্রমণ করেছিল ও এক সন্ধ্যার মধ্যেই সে এক-হাজার ভেড়া হস্তগত করেছিল। আবু মিহজান বিন হাবিব বিন আমর বিন উমায়ের বিন আল-থাকাফি এ বিষয়ে বলেছিল: —-[কবিতা পঙক্তি: ইবনে ইশাকের বর্ণনার অনুরূপ]।’ —-

আল্লাহর নবীর ওমরাহ পালন ও প্রত্যাবর্তন:

ইবনে ইশাকের বর্ণনা (আল-ওয়াকিদি ও আল-তাবারীর বর্ণনা, ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ): [5]

‘অতঃপর আল্লাহর নবী ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আল-জিরানা ত্যাগ করেন। তিনি এই আদেশ জারী করেন যে, অবশিষ্ট লুণ্ঠিত-সম্পদগুলো যেন মারুল-যাহরানের নিকটবর্তী মাজাননা নামক স্থানে ফেরত নিয়ে রাখা হয়। ওমরাহ পালন সমাপ্ত করার পর তিনি মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি আততাব বিন আসিফ-কে মক্কার দায়িত্বে রেখে আসেন (ইবনে হিশাম: ‘তার মজুরী ছিল প্রতিদিন এক দিরহাম’)। তিনি তার সাথে আরও রেখে আসেন মুয়াদ বিন জাবাল (আল ওয়াকিদি: ‘ও আবু মুসা আল আশারি’) কে, লোকদের দ্বীনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কুরআন শিক্ষার নিমিত্তে। অবশিষ্ট লুণ্ঠন-সামগ্রীগুলো রেখে দেওয়ার পর তিনি নিজে রওনা হোন। [6][7]

আল্লাহর নবী ওমরাহ পালন করেন জিলকদ মাসে ও তিনি মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন ঐ মাসের শেষের দিকে কিংবা জিলহজ মাসে। (ইবনে হিশাম: ‘আমর বিন আল-মাদানির তথ্য মতে, আল্লাহর নবী মদিনায় আগমন করেন জিলকদ মাসের ২৪ তারিখে’)। [8]

সেই বছর লোকেরা (পৌত্তলিক) আরবদের মতো তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করে, যেভাবে তারা তা করতো। হিজরি ৮ সালের সেই বছর-টি তে আততাব মুসলিমদের সাথে তীর্থ-কর্ম সম্পন্ন করে। জিলকদ মাসে [আল-তাবারী: ‘মার্চ, ৬৩০ সাল’] আল্লাহর নবীর রওনা হওয়ার সময় থেকে পরের বছর রমজান মাস পর্যন্ত [‘জানুয়ারি, ৬৩১ সাল’] আল-তায়েফের লোকেরা তাদের শহরে তাদের পৌত্তলিকতা ও দৃঢ়তা অব্যাহত রাখে।’

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত বর্ণনা:

‘আল্লাহর নবী আল-জিররানায় পৌঁছেন জিলকদ মাসের [হিজরি ৮ সাল] ৫ তারিখে, বৃহস্পতিবার। তিনি আল-জিররানায় তেরো দিন অবস্থান করেন। তিনি যখন মদিনায় ফিরে যেতে ইচ্ছা করেন, তিনি বুধবার রাতে আল জিররানা থেকে যাত্রা শুরু করেন, জিলকদ মাসের অবশিষ্ট বারো রাত্রি বাঁকি থাকা কালীন সময়ে। তিনি সবচেয়ে দূরের মসজিদের স্থানটি-তে (আল-মসজিদ আল-আকসা) এসে ‘ইহরাম’ পরিধান করেন, যে টি ছিল উপত্যকাটির নিম্নভাগের সবচেয়ে দূরের ঢালু স্থানটি-তে। —- আল্লাহর নবী শুধু ঐ লোকদেরই উপত্যকা-টি তে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন যারা ছিল ইহরাম পরিহিত অবস্থায়। তিনি কালো পাথর-টি স্পর্শ না করা অবধি লাব্বাইকা পাঠ বন্ধ করেন নাই। যা বলা হয়েছে: তিনি যখন (কাবা) ঘর-টি দেখতে পান, তিনি লাব্বাইকা পাঠ বন্ধ করেন। যখন তিনি আগমন করেন, তিনি তাঁর উটটি বানু সেইবা গোত্র প্রবেশের স্থানটি-তে বসিয়ে রাখেন।

তিনি তার ভিতরে প্রবেশ করেন ও তিনবার দ্রুত তার কোণ থেকে কোণ প্রদক্ষিণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর উটটির পিঠে চড়ে রওনা হোন ও আল-সাফা ও আল-মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানটি প্রদক্ষিণ করেন। সপ্তম বার প্রদক্ষিণরত অবস্থায় যখন তিনি আল-মারওয়ায় পৌঁছেন, তিনি তাঁর মস্তক মুণ্ডন করেন। আবদ বানু বায়েদা গোত্রের আবু হিন্দ তাঁর চুলগুলো কামিয়ে দিয়েছিল। কিছু লোক বলে যে তাঁর চুলগুলো কামিয়ে দিয়েছিল খিরাশ বিন উমাইয়া। আল্লাহর নবী সেখান থেকে কোরবানির পশুগুলো নিয়ে আসেন নাই।

অতঃপর আল্লাহর নবী এক রাত্রিতে আল-জিররানা অভিমুখে এমনভাবে ফিরে যান যেন মনে হয় তিনি সেখানে এক রাত্রি অতিবাহিত করবেন। আল-জিররানায় প্রত্যাবর্তনের পর তিনি বৃহস্পতিবার দিন যাত্রা শুরু করেন ও আল-জিররানা উপত্যকাটির মধ্যে প্রবেশ করেন। তিনি সারিফে (Sarif) আসার পূর্ব পর্যন্ত এই উপত্যকাটির ভিতর দিয়ে তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখেন। অতঃপর তিনি বড় রাস্তা ধরে যাত্রা করেন ও ‘মার আল-যাহরান’ পৌঁছার পর্যন্ত তিনি তা অব্যাহত রাখেন।

আল্লাহর নবী আততাব বিন আসিব-কে মক্কার দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। জনগণ-কে কুরআন ও ফিকাহ শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি মুয়াধ বিন জাবাল ও আবু মুসা আল-আশারি-কে নিযুক্ত করেন। ——–আল্লাহর নবী শুক্রবার দিন আগমন করেন, জিলকদ মাস শেষ হওয়ার তিন দিন পূর্বে।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

কে এই মালিক বিন আউফ? এই সেই মালিক বিন আউফ যিনি ছিলেন হুনায়েন প্রান্তে সমবেত সকল অবিশ্বাসীদের সাধারণ দিকনির্দেশনার দায়িত্বে নিয়োজিত দলনেতা, ৩০ বছর বয়সী এক যুবক (পর্ব: ২০২)। মুহাম্মদ তাঁর স্বার্থ সিদ্ধির প্রয়োজনে “কী শর্তে” তাকে তার লুণ্ঠিত সমস্ত সম্পদ ফেরত প্রদান ও তার সকল পরিবার পরিজনদের মুক্তি দান ছাড়াও তাকে অতিরিক্ত “নগদ আরও একশত উট” প্রদান করেছিলেন, তা ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট। মুহাম্মদের শর্ত ছিল, “যদি সে মুসলমান হয় তবে তাকে আমি তার পরিবার ও সম্পত্তি ফিরিয়ে দেব ও তাকে প্রদান করবো ১০০-টি উট”; যার সরল অর্থ হলো, মুহাম্মদ তাকে তাঁর দল “ইসলামে অন্তর্ভুক্ত” করেছিলেন উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে! যেমন করে আজকের পৃথিবীর নীতি-ভ্রষ্ট কূটবুদ্ধি-সম্পন্ন রাজনীতিবিদরা তাদের স্বার্থ-সিদ্ধির প্রয়োজনে অন্য দলের লোকদের বিভিন্ন প্রলোভন, সুযোগ-সুবিধা ও নগদ সম্পদ প্রদানের মাধ্যমে তাদের-কে নিজ দলের অন্তর্ভুক্ত করেন, মুহাম্মদ ও তাই করেছিলেন!

অর্থাৎ,

“মালিক বিন আউফের ইসলাম গ্রহণ, মুহাম্মদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নয়; তা ছিল উৎকোচ প্রাপ্তির বিনিময়ে!”

অতঃপর মালিক ‘মুহাম্মদের পার্টির পক্ষে’ তায়েফ-বাসীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও ডাকাতি কর্ম-কাণ্ড শুরু করেছিলেন ও এই ডাকাতি লব্ধ সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ (কুরান: ৮:৪১) মদিনায় মুহাম্মদের কাছে নিয়মিত পাঠিয়ে দিতেন। লক্ষণীয় বিষয় এই যে, মুহাম্মদের এই উৎকোচ প্রদান কোন দু:সহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ (যেমন, খন্দক যুদ্ধ পরিস্থিতি), নিজ কিংবা পরিবার-পরিজনদের জীবন নাশের আশংকা, কিংবা কোন অত্যাচারীর সম্ভাব্য অত্যাচারের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার নিমিত্তে ছিল না। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এই কর্ম-টি সংঘটিত করেছিলেন, তাঁর ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, সম্পদ-লাভ ও তাঁর মতবাদ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন।

সুতরাং, প্রশ্ন হলো

“মুহাম্মদ কী সত্যই সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী কোন ঈশ্বর-কে আদৌ বিশ্বাস করতেন? না কি তিনি ছিলেন এক অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির এক সন্ত্রাসী ‘নাস্তিক (ঈশ্বর অবিশ্বাসী)’, যিনি তাঁর নিজ স্বার্থ-সিদ্ধি, ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি লাভের লালসায় ‘ঈশ্বর-কে ব্যবহার করেছিলেন তার লক্ষ্য অর্জনের বাহন হিসাবে?”

এই অনন্ত মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা (যদি থাকে) সম্বন্ধে সামান্যতম ধারণা থাকা কোন সত্যিকারের ঈশ্বর-বিশ্বাসী কী সেই ঈশ্বর-কে তারই সৃষ্ট জীবের প্রতি নির্লজ্জ যথেচ্ছ “অভিশাপ বর্ষণ-কারী” রূপে আখ্যায়িত করতে পারে (পর্ব:১১)?

এই অসীম মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা সম্বন্ধে সামান্যতম ধারণা থাকা কোন সত্যিকারের ঈশ্বর-বিশ্বাসী কি সেই ঈশ্বর-কে এক “কসম-খোর” চরিত্রে চিত্রায়িত করতে পারে (পর্ব:৮)?

কোন সত্যিকারের ঈশ্বর বিশ্বাসী কি ঈশ্বরের নামে তার মতবাদ (পর্ব:১০) প্রচার ও প্রসারে মৌখিক প্রশ্নকারী, সমালোচনা-কারী ও বাধাদানকারী মানুষদের বিরুদ্ধে যথেচ্ছ “হুমকি-শাসানী-ভীতি-অসম্মান ও দোষারোপ” করতে পারে (পর্ব: ২৬-২৭)?

কোন সত্যিকারের ঈশ্বর বিশ্বাসী কি ঈশ্বরের নামে রাতের অন্ধকারে তাকে অবিশ্বাস ও তার মতবাদের সমালোচনা-কারী-কে “প্রতারণার আশ্রয়ে” হত্যা করার আদেশ জারী করতে পারে (পর্ব: ৪৮ ও ৫০)? কিংবা পারে রাতের অন্ধকারে ঘাতক পাঠিয়ে পাঁচ সন্তানের কোন জননী-কে তাঁর সন্তান-কে স্তন্যপান করানো অবস্থায় খুন করতে (পর্ব: ৪৭)? কিংবা পারে ১২০ বছর বয়সী কোন অতিবৃদ্ধ মানুষ-কে রাতের অন্ধকারে ঘাতক পাঠিয়ে অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করতে (পর্ব: ৪৬)?

কোন সত্যিকারের ঈশ্বর বিশ্বাসী কি পারে “জিবরাইলের অজুহাতে” একটি গোত্রের সমস্ত মানুষ-কে তাঁদের শত শত বছরের আবাস-ভূমি ও ভিটে মাটী থেকে এক-বস্ত্রে বিতাড়িত করে তাদের সমস্ত সম্পদ হস্তগত করতে (পর্ব: ৫২৭৫)? কিংবা পারে “জিবরাইলের অজুহাতে” একটি গোত্রের ৬০০-৮০০জন “গুপ্ত-অঙ্গে লোম (Pubic hair) গজানো” সমস্ত পুরুষ সদস্যদের একে একে গলা কেটে হত্যা করে তাঁদের সকল নারীদের “যৌন-দাসী” ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক সকল পুত্র সন্তানদের “দাস” হিসাবে রূপান্তর করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি ও বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে (পর্ব: ৮৭-৯৫)?

কোন সত্যিকারের ঈশ্বর বিশ্বাসী কি পারে ঈশ্বরের নামে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত আক্রমণে নিরীহ বাণিজ্য-ফেরত কাফেলা কিংবা জনপদ-বাসীদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন ও তাঁদের-কে ও তাঁদের নারী ও শিশুদের দাস ও যৌন-দাসী রূপে ভাগাভাগি করতে (অসংখ্য উদাহরণ)?

অসীম ক্ষমতাধর সর্বশক্তিমান কোন ঈশ্বর বিশ্বাসী কি পারে “লুটের মালের (গনিমত)” অর্থে তার জীবিকা নির্বাহ করতে (কুরআন: ৮:৪১ ও ৫৯:৬-৮)? অসীম ক্ষমতাধর “কুন ফা ইয়া কুন (‘তিনি যখন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলে দেন, ‘হও’ তখনই তা হয়ে যায় [কুরআন:৩৬:৮২])” ক্ষমতায় ঈশ্বর বিশ্বাসী কোন ব্যক্তি কি পারে তার লক্ষ্য অর্জনে প্রতিপক্ষ-কে উৎকোচ প্রদান করতে?” [9]

এই অনন্ত ও অসীম মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা (যদি থাকে) কি এতটা নীচ হতে পারে?

হিজরি ৮ সালে (মে, ৬২৯ – এপ্রিল, ৬৩০ সাল) আর যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছিল:
আল-তাবারীর (৮৩৯-৯২৩ সাল) বর্ণনা: [10]

‘এই বছর, আল্লাহর নবী আমর বিন আল-আস [পর্ব: ১৭৭] কে আযদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আল-জুলানদার গোষ্ঠীর জায়ফার ও আমরের কাছ থেকে যাকাতের অর্থ (সাদাকা) আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। তারা আমর বিন আল-আস কে (বিনা হস্তক্ষেপে) যাকাতের অর্থ প্রদানে রাজী হয়; তাই সে তা (শুধুমাত্র) ধনীদের কাছ থেকে আদায় করে ও দরিদ্রদের-কে তা (যা কিছু সে আদায় করেছিল) ফিরিয়ে দেয়। সে জোরোস্ট্রিয়ানদের (আল-মাজুস) কাছ থেকে ‘জিযিয়া’ আদায় করে, যারা ছিল ঐ অঞ্চলের আদিবাসী; পক্ষান্তরে আরবরা বাস করতো আশেপাশের গ্রামাঞ্চল-গুলোতে। [11] [12] [13] [14]

এই একই বছর [হিজরি ৮ সাল], আল্লাহর নবী আল-কিলাবিয়া-কে বিবাহ করেন, যাকে ডাকা হতো ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাক বিন সুফিয়ান নামে। যখন তাকে [এই দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে যে কোন একটি] বাছাই-করে নেওয়ার সুযোগ দেয়া হয়, সে এই দুনিয়া-কে পছন্দ করে। কথিত আছে যে, সে আল্লাহর নবীর কাছে তার সুরক্ষার আবেদন করে, তাই তিনি তাকে ছেড়ে চলে আসেন। আবু ওয়াযাহ আল সাদি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবরাহিম বিন ওয়াথিমা বিন মালিক বিন আউস বিন আল-হাদাথান বর্ণনা করেছে যে, জিলকদ মাসে নবী তাকে বিবাহ করেছিলেন। [15]

এই বছর, জিলহজ মাসে, মারিয়া [পর্ব: ১৬১] ইবরাহিম-কে প্রসব করে, আর আল্লাহর নবী উম্মে বারদা বিনতে আল-মুনধির বিন যায়েদ বিন লাবিদ বিন খিদাশ বিন আমির বিন ঘানম বিন আদি বিন আল-নাজজারের (যার স্বামী ছিল আল-বারা বিন আউস বিন খালিদ বিন আল-জা’দ বিন আউফ বিন মাবধুল বিন আমর বিন ঘানম বিন আদি বিন আল-নাজজার) ওপর তার সেবা শুশ্রূষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। মারিয়া আল্লাহর নবীর কাছ থেকে মুক্তি-প্রাপ্ত সালমা নামের এক ক্রীতদাসী-কে পেয়েছিল, যে আবু রাফির [সালমার স্বামী] কাছে গমন করে ও তাকে জানায় যে মারিয়া এক পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। অতঃপর আবু রাফি আল্লাহর নবীর কাছে এই সুখবর-টি ঘোষণা করে, যিনি তাকে উপহার হিসাবে একটি দাস প্রদান করেন। মারিয়া যখন পুত্র সন্তান প্রসব করে, আল্লাহর নবীর পত্নীরা অত্যন্ত ঈর্ষান্বিত হয়।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

মারিয়া আল-কিবতিয়া হলো স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সেই যৌন-দাসী, যাকে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার (মিশর) সম্রাট আল-মুকাওকিসের কাছ থেকে উপঢৌকন হিসাবে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রতীয়মান হয় যে মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভের সন্তান ইবরাহিম, মুহাম্মদের ঔরসজাত সন্তান ছিল না। মারিয়া পুত্র ইবরাহীমের সম্ভাব্য পিতা কে ছিলেন, তার আলোচনা “মুহাম্মদের যৌন জীবন ও সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা (পর্ব: ১০৮)” পর্বে করা হয়েছে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল ওয়াকিদির প্রাসঙ্গিক অতিরিক্ত বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি (ইবনে ইশাক ও আল তাবারীর রেফারেন্স: বিনামূল্যে ইন্টারনেট ডাউন-লোড লিংক তথ্যসূত্র এক ও দুই:]

The narratives of Al-Waqidi: [3]

The Messenger of God said to the delegation, “What happened to Mālik (b. ‛Awf)?” They said, “He fled and attached himself to the fortress of al-Ṭā’if with the Thaqīf.” The Messenger of God said, “Inform him that if he becomes a Muslim I will return his family and property to him and give him a hundred camels.” The Messenger of God commanded [Page 955] the imprisonment of the family of Mālik in Mecca with their aunt Umm ‛Abdullah bt. Abī Umayya. The delegation said, “O Messenger of God, those are our lords, the most dear to us.” The Messenger of God said, “Indeed I desire the best for them.” He held the property of Mālik and did not apportion it. When the news reached Mālik b. ‛Awf of what Muḥammad did with his people, and what he promised him, and that his family and his property were preserved, Mālik feared the opposition of the Thaqīf against him, that they knew what the Messenger of God said to him, and that they would, therefore, imprison him. He commanded that his riding animal be brought to Daḥnā. Then, he ordered his horse to be brought to him at night, and set out from the fortress by night, and raced until he came to Daḥnā, from where he rode his camel and joined the Messenger of God who caught up with him riding from al-Ji‛irrānana. The Prophet returned his family and his property and gave him a hundred camels, and Mālik converted and his Islam was good. It was also said that he joined the Messenger of God in Mecca.

The Messenger of God appointed him over those who converted among his people, and those tribes around al-Ṭā’if from the Hawāzin and Fahm. A group of Muslims joined him. The Prophet granted him a banner. He used to fight those who were disbelievers. He raided the Thaqīf with them and fought them. The cattle did not leave the Thaqīf, but he attacked them.

And he returned when he returned and the people grazed their cattle. They felt secure when they saw the Prophet turn away from them. But they were not able to graze, except Mālik took it. And Mālik did not attack a man except he killed him. He used to send the Prophet the fifth from what he captured: once, a hundred camels; and once a thousand sheep. Indeed he attacked the cattle of the people of al-Ṭā’if and captured a thousand sheep in a single evening. Abū Miḥjan b. Ḥabīb b. ‛Amr b. ‛Umayr al-Thaqafī said about that: ———’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা: ৫৯৩-৫৯৪
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf
[2] অনুরূপ বর্ণনা- আল-তাবারী: ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা: ৩০-৩১
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp
[3] আল-ওয়াকিদি: ভলুম ৩; পৃষ্ঠা ৯৫৪-৯৫৬ ও ৯৫৮-৯৬০; ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা: ৪৬৭-৪৬৮
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false
[4] Ibid আল-তাবারী -নোট নম্বর ২২৪: “এই তিন গোত্রের সবাই ছিল আযদ (Azd) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।”
[5] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা: ৫৯৭; Ibid আল-তাবারী: পৃষ্ঠা: ৩৭-৩৮; Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৯৫৮-৯৬০, ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা: ৪৬৯-৪৭০
[6] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ২৮৩ ও ২৮৪:
মাজাননা – ‘ইসলাম পূর্ব আরবে মক্কা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে আল-আসগার (al-Asghar) নামের এক পর্বতের নিকটবর্তী এই স্থান-টি ছিল প্রসিদ্ধ বাজারগুলো একটি।’ মার আল-যাহরান – ‘মদিনা থেকে মক্কা যাত্রা পথের একটি শহর; মক্কা থেকে প্রায় ১৩-মাইল দূরবর্তী। বর্তমানে এটি-কে বলা হয় ওয়াদি ফাতিমা।’
[7] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৮৫২, পৃষ্ঠা ৭৮১-৭৮২
[8] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৮৫৩, পৃষ্ঠা ৭৮২

[9] কুরআনেরই উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/
কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[10] আল-তাবারী: ভলুউম ৯, পৃষ্ঠা: ৩৮-৩৯
[11] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ২৯০: সাদাকা: দু’টি পৃথক অর্থে এই এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়: ১) যাকাতের (কুরআন: ৯:১০৩) সমার্থক হিসাবে, যা বাধ্যতামূলক ও যার পরিমাণ নির্দিষ্ট; (২) স্বেচ্ছায় সেবামূলক দান অর্থে। এখানে প্রথমটির অর্থে ব্যবহৃত।
[12] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ২৯১:
জায়ফার ও আমর – ‘এই দুই ভাইয়ের উভয়েই ছিলেন ওমানের শাসক জুলানদার গোষ্ঠীর প্রধান ও তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
[13] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ২৯২: আযদ গোত্র-টি ছিল আসির ও ওমানের উঁচুভূমিতে অবস্থানকারী এক প্রাচীন আরব উপজাতি।
[14] ‘জিযিয়া’ – ‘ইসলামী রাষ্ট্রে আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) ও আহলে ধিম্মিদের (Dhimmi) ওপর আরোপিত একটি কর (কুরআন: ৯:২৯)।
[15] Ibid আল-তাবারী- নোট নম্বর ৯০৩ (পৃষ্ঠা- ১৩৬): ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাক বিন সুফিয়ান: বিভিন্ন স্কলারগণ তার নাম ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন: ফাতিমা বিনতে আল-দাহহাক, আমরা বিনতে ইয়াযিদ, আল-আলিয়া বিনতে যাবিয়ান ও সাবা বিনতে সুফিয়ান।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 + = 86