নারী সিগারেট খেলেই দোষ হয়, পুরুষ সিগারেট বা হাফ প্যান্ট পড়ে ঘুরলেও সুশীল সমাজের টনক নড়ে না

নারী সিগারেট খেলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে নারীর উপর আক্রমণ করে, তাদের সেই সিগারেট খাওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে ভাইরাল করে, অন্যদিকে পুরুষেরা খালি গায়ে হাঁটলেও তাদের কেউ ভাইরাল করে না, সিগারেট এটা তো পুরুষের জন্য একটা মামুলি ব্যাপার,কোন পুরুষ রাস্তাঘাটে দাড়িয়ে প্রস্বাব করলেও এই সমাজের কিচ্ছু যায় আসে না, কেউ প্রতিবাদ করেনা, কিন্তু একজন নারী স্মার্ট পোশাক পরিধান করলেই নানান কথা শুনতে হয়? এই ছবিটার দিকে একবার লক্ষ করুন, এই ছবিতে নারীর জায়গায় যদি পুরুষটি থাকতো, আর পুরুষের জায়গায় নারীটি থাকতো তাহলে এই সুশীল সমাজের টনক নড়ে যেতে,ছেলেটি পুরুষ বলে এই সুশীল সমাজের অনুভূতিতে আঘাত লাগেনি। কেউ তাকে ধর্ষণ করতে চায়না, কেউ তাকে মৃত্যুর হুমকি দেয় নি কেউ তাকে সমাজচ্যুত করেনি কেউ তাকে নিয়ে ভিডিও ভাইরাল করেনি,এখানেই আমার প্রশ্ন একজন পুরুষ যা পারে, নারীরা কেন তা পারছে না?আমরা আর কতদিন নারীকে পণ্য হিসেবে না দেখে মানুষ হিসাবে দেখব?আমরা কতদিন এই অন্ধকারে আবদ্ধ থেকে শুধু নারীদের দোষারোপ করবো? আধুনিক সমাজে বসবাস করেও আজো নারী কেনো তার প্রাপ্য মর্যাদা পাচ্ছে না? কবে এই সুশীল সমাজের শুভবুদ্ধির উদয় হবে?

শুধু পুরুষদের দোষ দিয়েও লাভ নেই আমাদের এই সমাজকে পরিবর্তন করতে হলে নারী-পুরুষ উভয়কে এগিয়ে আসতে হবে, আমি অনেক ধর্মপরায়ণ মুসলিম নারীকে জিজ্ঞেস করি পুরুষের জন্য ইহো কাল পরকালে তাদের মনোরঞ্জনের জন্য আল্লাহ দুনিয়াতে চারজন নারী ভোগ করার সুযোগ করে দিয়েছে, পাশাপাশি দাসী ও হালাল করেছে,জান্নাতে অসংখ্য হুর তৈরি করে রেখেছে, নারীদের জন্য কি তৈরী করে রেখেছে? কোন যুতসই উত্তর দিতে না পেরে তারা বলে- সব ধরনের সুখ শান্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তখন আমি বলি- তাহলে আল্লাহ ৬/৭ টা আয়াতে পুরুষের জন্য কি ব্যবস্থা আছে তা পরিস্কার ভাবে উল্লেখ করলেন, একবারও নারীদের জন্য কি ব্যবস্থা আছে তার উল্লেখ কেন করলেন না? তারা আর কোন উত্তর দিতে না পেরে বলে সেটা আল্লাহই ভাল জানেন। সবই যদি আল্লাহ জানেন তাহলে আপনারা কেন আল্লাহকে জিজ্ঞেস করছেন না? আল্লাহ যদি উত্তর দিতে ব্যর্থ হন তবে তার উপাসনা কেন আপনারা করেন? অন্ধভাবে পুরুষের কথায় কেন মেনে নিব?মোল্লারা যেটা বলে সেটাই শুনতে হবে কেন?আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন কোন কাঠমোল্লা নয়, আমাদের বিবেক বুদ্ধি নেই কেন? আমরা কেন বুঝতে পারছি না এই ধর্ম নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে,এই কথাটা বুঝতে আমাদের এত সময় লাগছে কেন?

আজ থেকে 100 বছর আগে বেগম রকেয়া বুঝতে পারলেও আমরা কেন এই আধুনিক সমাজে বসবাস করেও বুঝতে পারছিনা? আর কতদিন পুরুষের লাথি উস্টা খেয়ে আমাদের জীবন পার করতে হবে?

নিম্নে,আমি বেগম রোকেয়ার কিছু উক্তি তুলে ধরলাম।এবার অন্তত নিজের বিবেক বুদ্ধিকে একটু জাগ্রত করুন।

“আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্য পুরুষগণ ঐ ধর্মগ্রন্থগুলিকে ঈশ্বরের আদেশপত্র বলিয়া প্রকাশ করিয়াছেন।… তবেই দেখিতেছেন, এই ধর্মগ্রন্থগুলো পুরুষ রচিত বিধি ব্যবস্থা ভিন্ন আর কিছুই নহে। …কোন স্ত্রী মুনির বিধানে হয়তো তাহার বিপরীত নিয়ম দেখিতে পাইতেন।..যেখানে ধর্মের বন্ধন অতিশয় দৃঢ় সেইখানে নারীর প্রতি অত্যাচার অধিক।…” ( গ্রন্থঃ মতিচুর)

‘অলঙ্কার না Badge of Slavery’ প্রবন্ধে রোকেয়া লিখেছেন “ধর্মগ্রন্থসমূহ ঈশ্বর-প্রেরিত বা ঈশ্বরাদিষ্ট নহে। যদি ঈশ্বর কোন দূত রমণী শাসনের নিমিত্ত প্রেরণ করিতেন, তবে সে দূত কেবল এশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকিত না। … যে কথা পুরাকালে অসভ্য বর্বরগণ বিশ্বাস করিয়াছিল, তাহা বর্তমান কালের সুসভ্যগণ যদি বিশ্বাস করেন, তবে সভ্যতা ও অসভ্যতায় প্রভেদ কি? যাহা হউক আমরা আর ধর্মের নামে নতমস্তকে নরের প্রভুত্ব সহিব না।”

>>এখন আমাদের আর ধর্মের নামে নত মস্তকে নরের অযথা প্রভুত্ব সহ্য করা উচিত নহে, যেখানে ধর্মের বন্ধন অতিশয় দৃঢ় সেখানেই নারীর প্রতি অত্যাচার অধিক, যেখানে ধর্মবন্ধন শিথিল, সেখানে রমনী প্রায় পুরুষের মতো উন্নত অবস্থায় আছেন।

>> ঈশ্বর কি কেবল এশিয়ারই ঈশ্বর? আমেরিকায় কি তাহার রাজ্য ছিল না? ঈশ্বরদত্ত জলবায়ু তো সকল দেশেই আছে, কিন্ত তাহার দূতগন সকল দেশে ব্যপ্ত হন নাই কেন? ঈশ্বর প্রেরিত পুরুষ আছে, প্রেরিত নারী নাই কেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

98 − 88 =