ধর্ষণ কি এখন জাতীয় ব্যাধি

ধর্ষণ এখন জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, সরকারে ধারণা একটি ধর্মীয় ও উপাসনালয় ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারলেই ধর্ষণের মহামারী থেকে জাতি মুক্তি পাবে। শহর মহকুমা, জেলা কি বিভাগ সর্ব ক্ষেত্রেই সরকারী কোষাগার থেকে বা বিদেশী অনুদানে সমাজকে পরিশুদ্ধ করতে সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সরকার মসজিদ মন্দির নির্মাণে কোমর বেধে নেমে গিয়েছে।
ধর্ম হচ্ছে মানুষের অন্ধ বিশ্বাস আর এই বিশ্বাসের আছর এখন সরকারের মাথাতেও চেপে বসেছে, সরকারের বিশ্বাস সৌদি আরবে নির্মিত স্পেসিয়াল রকেটে চেপে বিধাতা হয়তো বা বাংলাদেশে ল্যান্ড করেই একটি ফু দিলেই দেশের উপর দিয়ে ঝড়ের বেগে শান্তি বর্ষিত হবে। এদিকে বেশ কয়েক বছর যাবৎ শহর বন্দর মাঠে ঘাটে সামিয়ানা টাঙিয়ে শব্দ দূষণের তোয়াক্কা না করে রাত দিন মাইক বাজিয়ে মোল্লা সমাজ সামাজিক উন্নয়নে যে ধর্মীয় ভাষণে নারী জাতিকে কুকুর বিড়ালের জীবনের সাথে তুলনা করে অশ্লীল অশ্রাব্য বক্তব্য দিয়ে আকাশ বাতাস মুখরিত করেছে সে দিকে সরকারের সামান্যতম নজর দেয়া তো দুরের কথা বরং আওয়ামীলীগ এ সবকে রাজনীতির ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে।
মাঝে মাঝেই আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও এমপি আমির হোসেন আমুর মতো নেতারা বেশ গানের সুরে সুরে বক্তব্য দিয়ে বসেন- “আমরা ধর্মপরায়ণ, ধর্মান্ধ নই। ধর্মকে আমরা রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করিনি, করতেও চাই না।” জনাব আমির হোসেন আমুর কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই ধর্মপরায়ণ ও ধর্মান্ধতার মাঝে পার্থক্য কতটুকু সে বিষয়ে খানিক ব্যাখ্যা দিতে আপনার আজ্ঞা হবে কি?
এদিকে সরকার বেশ কয়েক বছর আগেই ধর্ম ও ধর্মীয় আবেগকে কি ভাবে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করিয়ে দেয়া যায় সে বিষয়ে গণভবনে কওমিপপন্থী হেফাজতের আমির ও তার অনুসারীদের সাথে ঐতিহাসিক সমঝোতায় এসে গেছেন, ২০১৯ সালেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাড়ির দক্ষিণের সবুজ লনের এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দলসহ ১৪ দলীয় জোট, মহাজোট ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এখন সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন কি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডকে হাজির করে এক সার্কাসের জন্ম দিয়েছেন। গত দুই বছর আগেই হেফাজতের দাবি পূরণ ও সরকারের নমনীয় আচরণের কারণে আওয়ামীলীগে সাথে মোল্লাদের যে রাখী বন্ধন হয়েছিল সেটা নিশ্চয়ই আমরা ভুলে যাই নি। এখন দেখছি মিডিয়াতে সেই আওয়ামীলীগের আতি পাতি নেতার দল মোল্লা সমাজের উপর দারুণ ভাবেই ক্ষিপ্ত, সত্যি হাসি পায় নিদারুণ ভাবেই হাসি পায়।
— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + = 10