২২১: কবি কা’ব বিন যুহাইরের হত্যা হুমকি ও অতঃপর!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।

হিজরি ৮ সালের রমজান মাসে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর অতর্কিত মক্কা আক্রমণ ও বিজয় সম্পন্ন করেন। অতঃপর, বানু জাধিমা গোত্রের লোকদের ওপর আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ড; হুনায়েন আগ্রাসন ও আল-তায়েফ অবরোধ শেষে মুহাম্মদ মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন (পর্ব: ১৮৭-২২০) হিজরি ৮ সালের জিলকদ মাসের শেষে, কিংবা জিলহজ মাসের শুরুতে (মার্চ-এপ্রিল, ৬৩০ সাল)।

ইসলামের ইতিহাসে মক্কা আক্রমণ ও বিজয় (জানুয়ারি, ৬৩০ সাল), হুনায়েন আগ্রাসন ও আল-তায়েফ হামলা ও অবরোধ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ঘটনাগুলোর পর, অবিশ্বাসী জনপদ-বাসী নবী মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের অতর্কিত আগ্রাসী আক্রমণ ও নৃশংসতার আশংকায় অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাঁরা উপলব্ধি করতে পারে যে, মুহাম্মদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, “তাঁকে নবী হিসাবে গ্রহণ, তাঁর বশ্যতা স্বীকার ও ইসলাম গ্রহণ!” তাঁরা তাঁদের ও তাঁদের পরিবার-পরিজন ও তাঁদের গোত্রের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও প্রত্যাশায় “একক কিংবা সমষ্টিগত-ভাবে” একে একে মদিনায় মুহাম্মদের কাছে গমন করে ও তাঁকে নবী হিসাবে স্বীকার করে ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকে। যারা তা করতে ব্যর্থ হয়, মুহাম্মদ তাঁদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ ও নৃশংসতা পুরা-দমে জারী রাখেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনার পুনরারম্ভ (কবিতা পঙক্তি পরিহার): [1]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২২০) পর:

‘আল্লাহর নবী আল-তায়েফ থেকে রওনা হয়ে যখন (মদিনায়) প্রত্যাবর্তন করেন, বুজায়ের বিন যুহায়ের বিন আবু সালমা তার ভাই কা’ব কে চিঠি লিখে জানায় যে আল্লাহর নবী মক্কার কয়েকজন মানুষ-কে হত্যা করেছেন যারা তাকে বিদ্রূপ ও অপমান করেছিল; আর যে কুরাইশ কবিরা অবশিষ্ট ছিল – ইবনে আল-যিবা’রা ও হুবাইয়েরা বিন আবু ওয়াহাব – তারা চতুর্দিকে পালিয়ে গিয়েছে।

“যদি তোমার জীবনের মায়া থাকে তবে আল্লাহর নবীর কাছে তাড়াতাড়ি চলে এসো; কারণ যে কেউ অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে আসে, তিনি তাকে হত্যা করেন না। যদি তুমি তা না করো, তবে তুমি কোনও নিরাপদ স্থানে চলে যাও।”

এই গুরুগম্ভীর পত্রটি পাওয়ার পর কা’ব তার জীবনের আশংকায় ভীষণ যন্ত্রণা কাতর ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তার আশেপাশের শত্রুরা তার সম্পর্কে আশঙ্কাজনক খবর ছড়িয়ে বেড়ায় এই বলে যে, তাকে হত্যা করায় উত্তম।

কোনও উপায় খুঁজে না পেয়ে সে কবিতা রচনা করে, যেখানে সে আল্লাহর নবীর মহিমা-কীর্তন করে, তার ভীতির বিষয়টি উল্লেখ করে ও তার শত্রুদের অপবাদ জনক খবর-গুলো প্রকাশ করে।

অতঃপর সে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে ও আমার জানা তথ্য অনুসারে, সে তার পরিচিত এক জুহাইনা [গোত্রের] লোকের সাথে অবস্থান করে। সে তাকে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসে যখন তিনি সকালের নামাজ আদায় করছিলেন, সে তাঁর সাথে নামাজ পড়ে। লোকটি আল্লাহর নবীর দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করে তাকে দেখিয়ে দেয় ও তাকে তাঁর কাছে গিয়ে তার জীবন ভিক্ষার আবেদন করতে বলে।

সে উঠে দাঁড়ায়, সেখানে যায় ও আল্লাহর নবীর পাশে এসে বসে তার হাতটি তাঁর হাতের ওপর রাখে, আল্লাহর নবী জানতেন না যে সে কে। সে বলে, “হে নবী, কা’ব বিন যুহাইর অনুতপ্ত হয়ে মুসলিম হিসাবে আপনার কাছ থেকে নিরাপত্তা চাইতে এসেছে। সে যদি আপনার কাছে আসে, তবে কি আপনি তাকে তা মঞ্জুর করবেন?” আল্লাহর নবী যখন বলেন যে তিনি তা করবেন, সে তখন স্বীকার করে যে সেই হলো কা’ব বিন যুহাইর।

আসিম বিন উমর বিন কাতাদা আমাকে বলেছে যে, আনসারদের এক লোক তার উপর লাফিয়ে পড়ে ও এই আল্লাহর শত্রুর কল্লা কেটে ফেলার অনুমতি চায়, কিন্তু নবী তাকে ছেড়ে দিতে বলে; এই কারণে যে, সে তার অতীত-কে ত্যাগ করে অনুতপ্ত অবস্থায় আগমন করেছে। লোকটির এই আচরণের কারণে কাব আনসারদের এই গোত্রের লোকদের উপর রাগান্বিত হয়, আর তাছাড়া কেবল মুহাজিররাই তার সম্পর্কে ভাল কথা বলেছিল। যে মহিমাকীর্তন কাব্য-গাথা সে রচনা করেছিল তা সে আল্লাহর নবীর কাছে আসার পর আবৃতি করে– [অনেক বড় কবিতা]।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) ওপরে বর্ণিত প্রাণবন্ত বর্ণনায় সে বিষয়-টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তা হলো:

“কবি কা’ব বিন যুহাইরের ইসলাম গ্রহণের একমাত্র কারণ হলো, ‘মৃত্যু-ভীতি’! তিনি তাঁর জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, মুহাম্মদের মতবাদ ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নয়!”

আল-তাবারীর বর্ণনায় হিজরি ৯ সালে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর তালিকা: [2]

(১) ‘আল-ওয়াকিদির বর্ণনা মতে, এই বছর, উরওয়া বিন মাসুদ আল-থাকাফি আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।’ [পৃষ্ঠা ৪১]

(২) ‘কথিত আছে যে, এই বছর, বানু আসাদ গোত্রের প্রতিনিধি দলটি আল্লাহর নবীর কাছে আসে। তারা বলে, “হে আল্লাহর নবী, আপনি আমাদের কাছে দূত প্রেরণের আগেই আমরা [আপনার কাছে] এসেছি।” তাদের এই উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে, আল্লাহ নাজিল করে:

[কুরআন: ৪৯:১৭] – “তারা মুসলমান হয়ে আপনাকে ধন্য করেছে মনে করে। বলুন, তোমরা মুসলমান হয়ে আমাকে ধন্য করেছ মনে করো না। বরং আল্লাহ ঈমানের পথে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাক।” [3] [4]

(আল-ওয়াকিদি: আল-খাতামে অবিশ্বাসী গোত্রের ওপর হামলা: ‘সময়টি ছিল হিজরি ৯ সালের সফর মাস। নেতৃত্বে ছিল কুতবা বিন আমির বিন হাদিদা (Qutba b Amir b Hadida) নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী। তার সঙ্গে ছিল ২০জন মুহাম্মদ অনুসারী।) [5]

(৩) ‘এই বছর, রবিউল আওয়াল মাসে (জুন-জুলাই, ৬৩০ সাল) বালি গোত্রের প্রতিনিধি দলটি আগমন করে ও তারা রুয়াফি বিন থাবিত আল-বালায়ির সাথে অবস্থান করে।’ [পৃষ্ঠা ৪০] [6]

(৪) ‘এই বছর (অর্থাৎ, হিজরি ৯ সাল), আল্লাহর নবী রবিউল আওয়াল মাসে [জুলাই-আগস্ট, ৬৩০ সাল] একদল ফৌজ সহকারে আলীকে তাইই গোত্রের এলাকায় প্রেরণ করেন (সারিয়্যাহ আল-ফুলস [Fuls])। সে তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় ও তাদের-কে বন্দী করে। আদি বিন হাতিমের ভগ্নি ছিল সেই বন্দীদের একজন।’ [পৃষ্ঠা ৬২]

(আল-ওয়াকিদি: এই হামলায় আলী ইবনে আবু তালিবের সঙ্গে ছিল ১৫০ জন মুহম্মদ অনুসারী। ৫০টি ঘোড়া ও ১০০টি উটের ওপর সওয়ার হয়ে তারা এই হামলাটি সংঘটিত করে। শুধু মাত্র আনসাররাই, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল আউস ও খাযরাজ গোত্রের লোকেরা, এই হামলায় অংশ গ্রহণ করে।) [7]

(৫)) ‘এই বছর, লাখম থেকে দারিউন গোত্রের প্রতিনিধি দলটি আসে। তারা ছিল দশ জন।’

(৬) ‘এই বছর, নিগাসের (আল-নাজাসি) মৃত্যুতে আল্লাহর নবী শোক প্রকাশ করেন, যিনি হিজরি ৯ সালের রজব মাসে (৬৩০ সাল) মৃত্যু বরণ করেন।’ [পৃষ্ঠা ৭৭]

(৭) ‘তাবুকের যুদ্ধ:
‘ইবনে হুমায়েদ < সালামাহ < মুহাম্মদ ইবনে ইশাক [হইতে বর্ণিত]:
আল-তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর, আল্লাহর নবী [হিজরি ৮সালের] জিলহজ মাস থেকে [হিজরি ৯ সালের] রজব মাস পর্যন্ত (মে – অক্টোবর, ৬৩১ সাল) মদিনায় অবস্থান করেন; অতঃপর তিনি তার লোকদের এই আদেশ করেন যে তারা যেন বাইজেনটাইনদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। [পৃষ্ঠা ৪৭] —- আল্লাহর নবী রমজান মাসে তাবুক থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। সেই মাসে, থাকিফদের প্রতিনিধি দলটি তাঁর কাছে আসে।’ [পৃষ্ঠা ৬২]

‘আল ওয়াকিদি: এই বছর, শাবান মাসে আল্লাহর নবীর কন্যা উম্মে কুলসুম মৃত্যুবরণ করে, আর তাকে ধৌত করে আসমা বিনতে উমাইয়া ও সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালিব।’ [পৃষ্ঠা ৭৯]

(৮) ‘এই বছর, আল-তায়েফের প্রতিনিধি দলটি আল্লাহর নবীর কাছে আসে। যা বলা হয়েছে, তা হলো, তারা রমজান মাসে (ডিসেম্বর, ৬৩০ সাল – জানুয়ারি, ৬৩১সাল) আগমন করে।’ [পৃষ্ঠা ৪২]

(৯) ‘আল-ওয়াকিদি: এই বছর, বানু তামিম গোত্রের প্রতিনিধি দলটি [৮০ জনেরও অধিক লোক] আল্লাহর নবীর কাছে আগমন করে। —-তাদের মধ্যে ছিল আল-আকরা বিন হাবিস, –ইউয়েনা বিন হিসন বিন হুদাইফা আল ফাযারি। আল-আকরা বিন হাবিস ও ইউয়েনা বিন হিসন মক্কা বিজয়, (ইবনে ইশাক: ‘ও হুনায়েন যুদ্ধ) ও আল-তায়েফ অবরোধ কালে আল্লাহর নবীর সাথে ছিল।’ [পৃষ্ঠা ৬৭-৬৮] [8]

(১০) ‘আল-ওয়াকিদি: এই বছর, আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল মৃত্যুবরণ করেন। তিনি শাওয়াল মাসের শেষের দিন-গুলোতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ও জিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তার অসুস্থতা ২০দিন যাবত স্থায়ী ছিল।’ [পৃষ্ঠা ৭৩]

(১১) ‘এই বছর, রমজান মাসে হিমায়েরের (Himyar) রাজাদের কাছ থেকে আল্লাহর নবী তাদের পত্রবাহক মারফত এক চিঠি প্রাপ্ত হোন, যেখানে তারা জানায় (ঘোষণা দেয়) যে তারা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। (এই রাজারা ছিল) আল-হারিথ বিন আবদ কুলাল; নুয়াম বিন আবদ কুলাল; ও ধু রুইয়ানের (Dhu Ru’ayn) রাজপুত্র আল- নুমান।’ [পৃষ্ঠা ৭৩-৭৪] [9] [10]

(১২) ‘আল-ওয়াকিদি: এই বছর, বাহরা গোত্রের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলটি আল্লাহর নবীর কাছে আগমন করে, আর তারা আল মিকদাদ বিন আমরের সঙ্গে অবস্থান করে। এই বছর, বানু আল বাক্কা গোত্রের [তিন সদস্য বিশিষ্ট] প্রতিনিধি দলটি আসে।’ [11] [12] [পৃষ্ঠা ৭৬]

(১৩) ‘এই বছর, বানু ফাযারাহ গোত্রের [ঘাতাফান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত] প্রতিনিধি দলটি আসে। তাদের লোক সংখ্যা ছিল মোটামুটি দশ জন। খারিজা বিন হিসন ছিল তাদের একজন।

(১৪) ‘আবু জাফর আল-তাবারী: এই বছর, সাদাকা (al-Sadaqat) বাধ্যতামূলক করা হয় ও আল্লাহর নবী তা সংগ্রহের জন্য তাঁর প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেন। এই বছর নিম্নের আয়াত-টি অবতীর্ণ হয় [পৃষ্ঠা ৭৯]:

“তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে।” [কুরআন: ৯:১০৩]

(১৫) ‘এই বছর, থালাবা বিন মুনকিধের প্রতিনিধি দলটি আসে [তাদের সাথে ছিল চার জন লোক]।’ [13]

(১৬) ‘এই বছর, সা’দ হুদায়মের [বানু কুতলাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত] প্রতিনিধি দলটি আগমন করে।’ [পৃষ্ঠা ৭৯]

(১৭) ‘এই বছর, আবু বকর তার লোকজনদের সাথে হজব্রত পালন করেন [জিলহজ মাস]। আবু বকর ৩০০জন লোক ও (কুরবানির জন্য) পাঁচটি উট নিয়ে মদিনা থেকে রওনা হোন, আর আল্লাহর নবী (কুরবানির জন্য) প্রেরণ করেন ২০টি উট। আবদুর রহমান বিন আউফ ও হজব্রত পালন করেন ও কুরবানি দেন। আবু বকর রওনা হওয়ার পর পরই আল্লাহর নবী আলীকে প্রেরণ করেন। সে আল-আরজ (al-‘Arj) নামক স্থানে তার নাগাল ধরে ও কুরবানির দিনে আল-আকাবা (al-‘Aqabah) নামক স্থানে সে সম্পর্কচ্ছেদের বিধানটি (‘আল-বারাহ’) পড়ে শোনায়।’ [পৃষ্ঠা ৭৭] [বিস্তারিত:’সুরা তাওবাহ] [14] [15] [16] [17]

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

হিজরি ৯ সালে (২০শে এপ্রিল, ৬৩০ সাল – ৮ই এপ্রিল, ৬৩১ সাল) সংঘটিত এই সমস্ত ঘটনা প্রবাহের বিশদ ও বিস্তারিত আলোচনা, কুরআন ও ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসে মুসলিম ঐতিহাসিকদের ‘সিরাত ও হাদিস’ গ্রন্থের বর্ণনার আলোকে পরবর্তী অধ্যায়-গুলোতে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হবে।

[ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে ইবনে ইশাকের বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদ-টি সংযুক্ত করছি:

The Narrative of Ibn Ishaq: [1]

‘When the apostle arrived (at Medina) after his departure from al-Ta’if Bujayr b. zuhayr b. Abu Sulma wrote to his brother Ka`b telling him that the apostle had killed some of the men in Mecca who had satirized and insulted him and that the Quraysh poets who were left – Ibn al-Ziba`ra and Hubayra b. Abu Wahb -had fled in all directions. ‘If you have any use for your life then come quickly to the apostle, for he does not kill anyone who comes to him in repentance. If you do not do that, then get to some safe place’. —

When Ka`b received the missive he was deeply distressed and anxious for his life. His enemies in the neighbourhood spread alarming reports about him saying that he was as good as slain. Finding no way out he wrote his ode in which he praised the apostle and mentioned his fear and the slanderous reports of his enemies.

Then he set out for Medina and stayed with a man of Juhayna whom he knew, according to my information. He took him to the apostle when he was praying morning prayers, and he prayed with him. The man pointed out the apostle to him and told him to go and ask for his life. He got up and went and sat by the apostle and placed his hand in his, the apostle not knowing who he was. He said `O apostle Ka`b b. Zuhayr has come to ask security from you as a repentant Muslim. Would you accept him as such if he came to you?’ When the apostle said that he would, he confessed that he was Ka`b b. Zuhayr.

`Asim b. `Umar b. Qatada told me that one of the Ansar leapt upon him asking to be allowed to behead the enemy of God, but the apostle told him to let him alone because he had come repentant breaking away from his past. Ka`b was angry at this tribe of the Ansar because of what this man had done and moreover the men of the Muhajirin spoke only well of him. In his ode which he recited when he came to the apostle. —‘

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: পৃষ্ঠা: ৫৯৭-৫৯৮
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] আল-তাবারী: ভলুউম ৯:
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21294&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] কুরআনের উদ্ধৃতি ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কর্তৃক বিতরণকৃত তরজমা থেকে নেয়া। অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। http://www.quraanshareef.org/ কুরআনের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ: https://quran.com/

[4] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৩০০:
বানু আসাদ গোত্র- ‘উত্তর আরবীয় এক উপজাতি, যারা মদিনা থেকে ফোরাত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ আরব অঞ্চলে বসবাস করতো।’

[5] আল-ওয়াকিদি- ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৯৮১, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৮১
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-+Rizwi+Faizer,+Amal+Ismail+and+Abdul+Kader+Tayob&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjo7JHd7JLeAhUkp1kKHTmLBGcQ6AEIKzAB#v=onepage&q&f=false

[6] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৩০২: বালি গোত্র – ‘মূলত দক্ষিণ আরবে বসবাস-কারী কুদাহ (Quḍāʿah) গোত্রের একটি শাখা।‘
[7] Ibid আল-ওয়াকিদি- ভলুম ৩, পৃষ্ঠা ৯৮৪-৯৯৯, ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪৮২-৪৮৫

[8] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৪৬৪: এই প্রতিনিধি দলে ছিল ৮০ জনেরও অধিক লোক।
[9] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫০১: ‘হিমায়ের’ – হিমায়ের’ ছিল সর্বশেষ প্রাচীন দক্ষিণ-পশ্চিম আরবীয় রাজ্যগুলির মধ্যে একটি, যা মুসলমানদের বিজয়ের পূর্বে ইয়েমেন-কে শাসন করতো। তারা দাবি করতো যে তারা কাহতানি বংশোদ্ভূত।’
[10] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫০২: ‘ধু রুইয়ান’ – ‘এটি দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের একটি জেলা ও গোত্র উভয়েরই নাম।’
[11] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫২৫: আল মিকদাদ বিন আমর – ‘তিনি ছিলেন দক্ষিণ আরব থেকে আগত এক বাহরানী ও তিনি ছিলেন বদর যুদ্ধের একমাত্র (কিংবা দুজনের একজন) মুসলিম ঘোড়সওয়ার। তিনি ছিলেন প্রথম সাত জন ধর্মান্তরিত ব্যক্তির একজন ও যাকে প্রথম চার গুরুত্বপূর্ণ শিয়া সমর্থকদের একজন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি হিজরি ৩৩ সালে (৬৫৩-৬৫৪ সাল) মৃত্যুবরণ করেন।’
[12] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫২৬: বানু আল বাক্কা গোত্র – বানু আমির গোত্রের এক উপগোত্র।
[13] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫৫৩: তাদের সাথে ছিল চার জন লোক।
[14] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫২৯: আবদুর রহমান বিন আউফ ছিলেন বানু যুহরাহ গোত্রের এক বিশিষ্ট কুরাইশ, যিনি ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হোন। ওসমান-কে খলিফা নিযুক্তির ব্যাপারে তিনি ছিলেন মূল ভূমিকায়। তিনি ৬৫২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।,
[15] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫৩০: আল-আরজ: মদিনার অদূরে মক্কা যাওয়ার পথের একটি গ্রাম।
[16] Ibid আল-তাবারী নোট নম্বর ৫৩২: আল-আকাবা: মক্কা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান, যেখানে তীর্থযাত্রীরা নুড়ি-পাথর নিক্ষেপ করেন।
[17] বিস্তারিত: ‘সুরা তাওবাহ: চূড়ান্ত নির্দেশ-‘তাদের’ হত্যা কর!’
https://istishon.blog/node/27916

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 1 =