ভালোবাসার বলিদান

শুরুটা ফেসবুক থেকে…. ১ টা পোষ্টে অনেকে অনেক কমেন্ট করেছিলো বাট ১ টা কমেন্ট মেয়েটার কিছুতেই পছন্দ ছিলোনা… কমেন্টের রিপ্লে দিতে দিতে ১ রকম ঝগড়ার মতো তৈরি হলো… ছেলেটা বললো এটা তো পাবলিক প্লেস আমরা চাইলে ঝগড়াটা ইনবক্সেও করতে পারি… মেয়েটাও রাজি হয়ে গেলে… তারপর থেকে চললো ইনবক্সে তর্ক বিতর্ক, তুইতাকারি।ঝগড়ার কথা গুলা ছিলো পাল্টাপাল্টি জবাব… ছেলেটা যদি বলে তোর স্বভাব ডাইনির মতো… মেয়েটা বলে আমি যদি ডাইনি হই তবে তুই ১ বান্দর 😡
এভাবে চলতে থাকলো ২ দিন… ছেলেটা বললো এরকম ১ টা কথা নিয়ে ঝগড়া করে লাভ নাই আমরা টপিকটা বাদ দিতে তো পারি। মেয়েটাও হ্যা মিলালো… তবে শর্ত আছে যা কথা হবে তুই করেই বলবো… ছেলেটাও রাজি হয়ে গেলো….।
মেয়েটির আইডির নাম ছিলো #নিঝুম_নদি আর ছেলেটার #নেক্সট_লিডার।তাদের ঝগড়া কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধুত্বে রুপ নিলো…কার বাসা কোথায়…নাম কি কে কি করে… এগুলা পর্ব শেষে ছেলেটা আইডি ফেক কি না জানার জন্য বললো তোর ১ টা ছবি দিবি দেখবো?
মেয়েটাও কেনো জানি রাজি হয়ে গেলো। ছবি দেখেই ছেলেটির কেনো জানি মেয়েটার প্রতি দূর্বলতা কাজ করতে শুরু করলো….ছেলেটি বললো চাওয়া মাত্রই ছবি দেওয়াটা কি ঠিক হলো? যদি আমি না হয়ে অন্য কেউ হলে তো ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে পারতো। এরকম ভুল আর করবি না…..। মেয়েটি বুঝলো বন্ধুত্ব করার মতো ১জন তো পেয়েছি যাক ভালোই হলো….. এভাবে তাদের মিষ্টি খুনশুটি চলতো দিন রাত ধরে…..। ফোন নাম্বার ও আদান প্রাদান হয়েছিলো।প্রতিদিন নিয়ম করে ফোন দিতো ছেলেটি বিশেষ করে তার যখন মন খারাপ থাকতো তখন। ছেলেটির জিবনের এমন কোন কথা নাই যে সে মেয়েটিকে বলেনি। তবে মেয়েটি সবসময় ছেলেটিকে রাগানোর চেষ্টা করতো। তারকথা কেনো জানি মেয়েটা বিশ্বাস করতে চাইতো না….. মাঝখানে রাগারাগি করে বেশ কয়েকবার তাদের কথা বলা বন্ধ থাকতো। তারপরে আবার চলতো স্বাভাবিক নিয়মেই।শিতের দিনে হঠাৎ করে ছেলেটি বলে উঠলো তোর সাথে আমি দেখা করতে চাই… মেয়েটি বললো সময় করে ১ দিন আমাদের এলাকার স্টেশনে আসিস দেখা করবো… যেই কথা সেই কাজ ২ বন্ধুকে সাথে করে চলে গেলো ছেলেটি দেখা করতে… হিজাব পড়া আর মুখ ঢাকা ছিলো মেয়েটির… রিকুয়েস্ট করাতে মুখ খুলে দিলো… ছেলেটি ১ম দেখেই ভালোবেসে ফেললো কিন্তু প্রকাশ করলো না। বাসা পর্যন্ত রিক্সাতে করে এগিয়ে দিয়ে আসলো… রিক্সাতে বসে তাদের অনেক খুনসুটি চললো। তাদের সম্পর্কটা ফ্রেন্ড থেকে বেষ্টফ্রেন্ডে রুপান্তরিত হলো।…এভাবে বছর খানেক কথা হলো কয়েকবার দেখা হলো…. এবার মেয়েটির বাসা থেকে বিয়ের জন্য ছেলে দেখা হচ্ছে বলে ছেলেটিকে জানাতে থাকলো… ২ জন দুজনাকেই পছন্দ করে বাট কেউ কাউকে ক্লিয়ার করে বলতে পারেনা। ছেলেটি ভাবে আমার সাথে বিয়ে না হোক তাতে কোনো সমস্যা নাই তবে তাকে অন্য কারো বিছানাতে আমি দেখতে পারবো না। ১ দিন ছেলেটা তার বাবা মায়ের কাছে মেয়েটির কথা বলে। ছবি দেখায়,এমনকি ১ দিন দেখাও করিয়ে দেয়।বাসা থেকে মেয়েটিকে কেউ পছন্দ করে না।
এভাবে কিছুদিন চলার পরে তারা ২ জনে সিদ্ধান্ত নেয় বাসা থেকে পালিয়ে বিয়ে করবে…. ঢাকাতে চলে আসে ২ জনে। বিয়ে করে উঠে ছোট্ট ১ টা ঘরে। পরিবারে কেউ তার সাথে কোন যোগাযোগ করে নি রাগ করে। ছেলটি ভেবেছিলো কোন ১ দিন সব ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিনের মধ্যে ছেলেটা ১ শপিং মলে সেলস ম্যানের কাজ পেয়ে যায়। টুনাটুনির সংসার ভালোই চলছিলো। ৫/৬ মাস পরের ঘটনা। মেয়েটার শহরের হাওয়া গায়ে লাগে। তার চলাফেরাতে পরিবর্তন দেখতে পায় ছেলেটা। মেয়েটার চাহিদা দিন দিন বাড়তে থাকে। প্রায় দিনি ঝগড়া লাগে তাদের,😔 এমন সময় তাদের জিবনে ৩য় ব্যাক্তির আগমন ঘটে। ১দিন শুক্রবারে লান্সের সময় শপিংমলের ম্যানেজার বললো চলো আজ তোমার বাসাতে লান্স করবো। ছেলেটি ১ম না করেও পারলো না। ১ রকম বাধ্য হয়েই নিয়ে গেলো। মেয়েটি রুমে যা ছিলো তা দিয়েই সন্মান করে দিলো।বাট ম্যানেজারের চাহনি আর কথা বার্তা তার বউয়ের প্রতি যেমন ছিলো ছেলেটার পছন্দ হচ্ছিলোনা। এভাবে কেটে গেলো কয়েক মাস। ম্যানেজার মাঝে মধ্যে ছেলেটা না থাকলে মেয়েটির সাথে দেখা করতে যেতো দামি দামি গিফট নিয়ে। ছেলেটির ইচ্ছা থাকলেও বলতে পারতো না কিছু। সংসারে কলহের সৃস্টি হবে বলে মুখ বন্ধ করে থাকতো আর ভাবতো বিয়েটা করে আমি কোনো ভুল করলাম নাতো 😔।
ছেলেটাকে ১ দিন ম্যানেজার কিছু কাজ দিয়ে শহরের বাহিরে পাঠালো… বাসা থেকে বউকে বলে চলে গেলো কাজ টা করার জন্য। কিছুক্ষন পরে দরকারি ১ টা কাগজের কথা মনে পড়লে ছেলেটি ফেরত এসে তার বউকে ম্যানেজারের সাথে আপত্তিকর অবস্থাতে দেখতে পায়। সে তার চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না। মনে হচ্ছিলো যেনো পুরো পৃথিবি তার মাথায় ভেঙ্গে পড়তেছে….।সে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো ম্যানেজার আর তার বউয়ের কার্যকালাপ দেখে।ম্যানেজার সেখান থেকে চলে গেলে মেয়েটা ছেলেটার কাছে ১ বারের জন্য ক্ষমা করে দিতে বলে।২য় বার এরকম ভুল হবে বলে পা ধরে ক্ষামা চায়।ছেলেটি সবকিছু ভুলে ভালোবাসার কথা ভেবে ক্ষমা করে দেয়। কিন্তু ছেলেটার মনে ভিতরে অনেক প্রশ্ন বাসা বাধতে থাকে। পরিবারে কথা না ভেবে সবার অমতে বিয়ে করে আজ তার এ পরিনিতি। সে পারছেনা তার বুকের কষ্টটা কারো কাছে শেয়ার করতে। অজানা যন্ত্রনা তার বুকটারে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে… ইচ্ছা না থাকা সর্তেও ছেলেটি হাসি মুখে কথা বলে…স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে।
প্রায় মাসখানেক পরে কাজ থেকে এসে রাতে দেখে তার বউ রুমে নাই। এদিকে ম্যানেজার ২ দিনের ছুটিতে… বউয়ের ফোন বন্ধ…. রুমে কিছু গহনা ছিলো সেগুলাও নাই। বুঝতে বাকি রইলো না তার বউ তার থেকে দুরে বহু দুরে চলে গেছে…. চাইলেও তাকে আর ফিরাতে পারবেনা।
রুমে ভিতরে ভালো করে লক্ষ করে দেখলো ১টা সাদা কাগজ তাতে কিছু লেখা আছে…..
লেখাটা এরকম।
জানি তুই এখন চিঠিটা পেয়ে গেছিস…. তোকে ভালো আমি কোনদিনি বাসিনি। এটা আমার ১ টা প্রতিশোধ ছিলো। তুমি ১ম দিনে আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছিলি আমি তার প্রতিশোধ নিলাম। আমাকে খুজে লাভ নাই…. আমি চলে গেলাম তোর কাছ থেকে অনেক দুরে… আর আমাকে অপমান করার শাস্তিটাও দিয়ে গেলাম। অভিনয় আমি ১ম দিন থেকেই করেছিলাম কিন্তু তুই বুঝিস নি। এটা তোর বোকামি আমার কিছু করার নাই। তোর মতো ১ টা গরিব গাধাকে আমি যে এতদিন সহ্য করেছি এটাই অনেক কিছু।আরো অনেক লেখা ছিলো ছেলেটা পুরোটা পড়তে পারলো না তার চোখের পানিতে কাগজ ভিজে গেলো। কাগজটা বুকে ধরে ১ প্রকার চিৎকার করে বলে উঠলো…. হে খোদা কেনো এরকম ছলনাময়িকে পাঠালে আমার জিবনে…. কি এমন অপরাধ ছিলো আমার… ভালোবাসাটা কি আমার অপরাধ? জবাব দাও খোদা জবাব দাও…….যাকে আমি মন প্রান দিয়ে ভালো বাসলাম, যার সাথে জিবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত কাটানোর আশা করেছিলাম সে কিনা আমার সাথে প্রতারনা করলো…..?আমি আর কি নিয়ে বেচে থাকবো এ দুনিয়াতে?
আশেপাশে মানুষজন ভিড় করাতে ছেলেটি স্বাভাবিক হলো। রাত তখন গভির… ফোনটা হাতে নিয়ে ১ টা sms করলো তার বউয়ের নাম্বারে… ভালো থেকো তুমি, তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই নেই কোন ঘৃনাবোধ। কারন যাকে মন থেকে ভালোবাসা যায় তাকে অপবাদ দেওয়া যায় না। আমার ভালোবাসা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তোমাকে আমি ওপারে চাই। বিদায় বন্ধু বিদায় 😪
ছেলেটা গভির চিন্তাতে আছে বার বার করে আজ মায়ের মুখটা ভিষন ভাবে দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে…. ইচ্ছা হচ্ছে মায়ের কোলে মাথা রেখে শান্তি ঘুমাতে…. ভাবতে ভাবতে প্রায় সকাল। ফজরের আজান হচ্ছে মসজিদে… শেষবারে মতো নামাজ পড়ে আল্লার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলো……।রুমের আলনাতে থাকা ১ ওড়না দেখতে পেলো যেটা সে তার বউকে ১টা জামার সাথে কিনে দিয়েছিলো ১ম বেতন পেয়ে।সেটা হাতে নিয়ে ১ মাথা ফাস বানালো আর আরেক মাথা বেধে দিলো ফ্যানের সাথে। খাটের ওপরে বসে আছে ফোনটা হাতে নিয়ে। মায়ের নাম্বারটা নিয়ে ফোন দিলো…শেষ বারের মতো মায়ের কন্ঠটা শুনার জন্য কিন্তু ফোন বন্ধ ছিলো…অঝরে কাদতে শুরু করলো আর বললো মা পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও আমি হেরে গেলাম মিথ্যে ভালোবাসার কাছে…।
ঝুলে পড়লো তার তার বউকে কিনে দেওয়া ওড়নাটাতে…. ফাস লাগার পরেও ততোটা যন্ত্রনা হচ্ছিলোনা যতোটা যন্ত্রনা তার বুকের ভিতরে ছিলো….
😭(-নিষিদ্ধ করা হোক অভিনয় যুক্ত ভালোবাসা
-নয়তো পাপ মুক্ত করে দেওয়া হোক আত্মহত্যা)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =